জসিম উদ্দিন মনছুরি
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সাড়ে পনেরো বছর শাসনামলের দুর্নীতির আমলনামা একে একে বেরিয়ে আসছে। সততার আড়ালে দুর্নীতির পাহাড়ে চাপা পড়েছে সততার দাঁড় করা বয়ান। সীমাহীন নৈরাজ্য, দুর্নীতি, অর্থপাচার, হত্যা, গুম ও স্বেচ্ছাচারিতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে সংগঠিত দুর্নীতির চিত্র একে একে উন্মোচিত হচ্ছে। সর্বশেষ পহেলা ডিসেম্বর ঢাকার বিশেষ দায়রা জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম শেখ পরিবারের বিরুদ্ধে চতুর্থ দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, তার বোন শেখ রেহানাকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ব্রিটিশ এমপি শেখ হাসিনার ভাগ্নে টিউলিপ সিদ্দিককে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। দুর্নীতির অপরাধে বিগত জানুয়ারি মাসে করা ছয়টি মামলায় এ পর্যন্ত চারটি মামলার রায় হলো। এর আগে ২৭ নভেম্বর তিনটি মামলার রায়ে শেখ হাসিনাকে ৭ বছর করে ২১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয় । একই মামলায় শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও তার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক। চতুর্থ মামলায় আসামী ছিল ১৪ জন। পরে চার্জসিটভুক্ত করে আরও তিনজনসহ মোট ১৭ জনকে আসামী করে আদালতে অভিযোগ দাখিল করা হয়। ১ ডিসেম্বরের মামলার রায়ে শেখ পরিবারের আরো বেশ কয়েকজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন শেখ হাসিনা,তার বোন শেখ রেহানা, ভাগ্নি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক,ভাগ্নি আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী ও ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি। ছয়টি দুর্নীতি মামলার মধ্যে এ পর্যন্ত চারটির রায় হয়েছে। চতুর্থ মামলার রায়ে প্রত্যেককে এক লক্ষ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।অনাদায়ে আরও ছয় মাসের জেলের কথা বলা হয়েছে। পূর্বাচল নতুন শহরে ৬০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অপরাধে এই মামলাগুলি করা হয়েছে। শেখ পরিবারের সদস্যরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে দশ কাঠা করে ছয়টি প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। যদিও তারা প্লট বরাদ্দের উপযোগী ছিলেন না। শেখ হাসিনার ভাগ্নি শেখ রেহানার মেয়ে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এসব প্লট ভাগিয়ে নিতে সহযোগিতা করায় তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের আদালতে কোন ব্রিটিশ এমপিকে সাজা দেওয়ার ঘটনা এই প্রথম ঘটলো। এছাড়া উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ মামলায় শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা ও তার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক ছাড়া সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, গণপূর্ত মন্ত্রনালয়, রাজউক ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৪ জন কর্মকর্তাকে সাজা দেওয়া হয়। ১ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক মো. রবিউল আলম দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় এই রায় দেন।
ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে দুদকের করা মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন আদালত।ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনার স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। এই তালিকায় নাম আসে টিউলিপ সিদ্দিকীরও। ডেভেলপারের কাছ থেকে লন্ডনে ৭ লাখ পাউন্ড দামের একটি ফ্ল্যাট ‘উপহার’ পাওয়ার খবর নিয়ে সমালোচনার মধ্যে গত জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যে সিটি মিনিস্টারের পদ থেকে ইস্তফা দেন টিউলিপ সিদ্দিক।এর আগে আওয়ামী লীগের পতনের পরপর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগেও টিউলিপের নাম আসে। বিষয়টি নিয়ে সে সময় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়। এরপর টিউলিপ ও তার বোনের পাওয়া ‘উপহারের’ ফ্ল্যাট নিয়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা।মা-বাবার কাছ থেকে পাওয়া গুলশানের একটি ফ্ল্যাট টিউলিপ সিদ্দিক তার বোন রূপন্তীকে ২০১৫ সালে হস্তান্তর করেন। তবে সেই হস্তান্তরে যে নোটারি ব্যবহার করা হয় তা তদন্তে ‘ভুয়া’ প্রমাণিত হওয়ার কথা বলেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গত বছরের মাঝামাঝিতে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যে সরকার গঠন করে লেবার পার্টি, যাতে আর্থিক সেবা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান টানা চারবারের এমপি টিউলিপ সিদ্দিক।বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা ও শফিক সিদ্দিকীর মেয়ে টিউলিপ প্রথমবার এমপি হন ২০১৫ সালে। পরে ২০১৭ ও ২০১৯ সালেও পুনঃনির্বাচিত হন।এর আগে ১৭ই নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গণহত্যা নির্দেশ দাতা হিসেবে প্রমাণিত হওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড তার প্রভাবশালী মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। এবার ছয়টি দুর্নীতি মামলার মধ্যে চারটির রায় হলো।তারা বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও গরীব দেখিয়ে অসৎ উদ্দেশে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নং রাস্তার ৬টি প্লট শেখ হাসিনাসহ তার পরিবারের সদস্যদের নামে বরাদ্দ নেন।
নিজের নামে প্লট বরাদ্দ না থাকলেও যে কারণে যুক্তরাজ্যের সাবেক সিটি মিনিস্টারে টিউলিপকে আসামী করা হয়েছে চার্জশিটে তার কারণ উল্লেখ করেছে দুদক। এতে বলা হয়েছে, ‘উৎস হতে প্রাপ্ত তথ্যাদি পর্যালোচনায় জানা যায় যে, আসামী টিউলিপ যখন জানতে পারেন যে, তার খালা আসামী শেখ হাসিনা ক্ষমতা ব্যবহার করে তার নামে, তার ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদের নামে পূর্বাচল নতুন শহরে প্রত্যেকে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নিচ্ছেন। তখন তিনি যুক্তরাজ্যের বৃটিশ পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে দায়িত্বপালনকালে একইসাথে তার মা শেখ রেহানা , বোন আজমিনা সিদ্দিক ও ভাই রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের নামে একই প্রকল্পে প্লট বরাদ্দের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তার বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে খালা শেখ হাসিনার উপর চাপ প্রয়োগ ও প্রভাব বিস্তার করেন।’
উল্লেখ্য যে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৬১/১৬৩/১৬৪/৪০৯/১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারার অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু আসামীরা পলাতক থাকায় এবং তারা নিজেদের আইনজীবী নিয়োগ না করায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তারা কোন আইনজীবী পাননি। এক কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিচারক বলেন ফৌজদারী মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ধারা না আসায় তারা সরকারের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা পাওয়ার যোগ্য নয়। যেহেতু উক্ত মামলায় একজন ছাড়া বাকি সবাই পলাতক রয়েছেন। পলাতক থাকায় তাদের অবর্তমানে বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকে এবং সর্বশেষ রায় ঘোষিত হলো। এরই মাঝে পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দলগতভাবে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা পেয়েছে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন। তারা বলছে, এ ঘটনার মূল সমন্বয়কারী ছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস। পুরো ঘটনাটি সংঘটিত করার ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিল। এ ছাড়া এই ঘটনায় ভারতেরও সম্পৃক্ততা পেয়েছে কমিশন। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের (বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি) সদর দপ্তরে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ১১ মাস ধরে তদন্ত করে প্রতিবেদন তৈরি করে এই কমিশন।তদন্ত কমিশন ৩০ নভেম্বর অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। এ সময় সেখানে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজ ও স্বরাষ্ট্রসচিব নাসিমুল গনি উপস্থিত ছিলেন।সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের প্রধান আ ল ম ফজলুর রহমান এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার নাম জানান। তাঁরা হলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিদেশে পলাতক শেখ ফজলে নূর তাপস, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মির্জা আজম, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন।এর বাইরে শেখ হাসিনার সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদ ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) মোল্লা ফজলে আকবর।ফজলুর রহমান বলেন, তদন্তে বিডিআর হত্যাকাণ্ডে বহিঃশক্তির সরাসরি সম্পৃক্ততা ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সরাসরি জড়িত থাকার শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া গেছে।তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের রক্ষা করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সরাসরি ভূমিকা রেখেছে। তারা ২০-২৫ জনের একটি মিছিল নিয়ে পিলখানায় ঢুকেছে এবং বের হওয়ার সময় সেই মিছিলে দুই শতাধিক মানুষ ছিল। যা ছিল অপরাধীদের বের করে নিয়ে আসার একটি প্ল্যান।হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগের নেতারা কীভাবে সমন্বয় করেছেন-এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনপ্রধান বলেন, ‘এটা এক দিনে হয়নি, দীর্ঘ সময় ধরে হয়েছে। যেমন তাপস মসজিদে বসে মিটিং করেছে। বিভিন্ন ট্রেনিং গ্রাউন্ডে বসে মিটিং হয়েছে। একটা দীর্ঘ সময় ধরে ষড়যন্ত্রগুলো হয়েছে। সর্বশেষ এই হত্যাকাণ্ডটা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি সংঘটিত করার ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিল। কমিশনের সভাপতি আ ল ম ফজলুর রহমান বলেন, ওই ঘটনার সময় ৯২১ জনের মতো ভারতীয় বাংলাদেশে এসেছিল। তার মধ্যে ৬৭ জনের মতো লোকের কোনো হিসাব মিলছে না। তারা কোন দিক দিয়ে বের হয়ে গেছে, এটা ঠিক বলা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘এই ব্যাপারেও আমরা সরকারকে সুপারিশ করেছি ওই ব্যক্তিরা কোথায়, কেন আসলো; সেটা খুঁজে বের করার জন্য। এ বিষয়ে ভারতের কাছে জানতে চাওয়ার জন্য আমরা সরকারকে পরামর্শ দিয়েছি।’এভাবে দিন যত গড়াবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির ফর্দ হয়তো ততই বেরিয়ে আসবে।
বিগত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেকে সৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দম্ভ করতেন। কিন্তু শেখ পরিবারের সদস্যদের ক্ষমতার অপব্যবহারে এভাবে দুর্নীতির খতিয়ান দীর্ঘ হবে তা ছিল কল্পণাতীত। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গণহত্যা করে প্রায় ১৫০০ জন ছাত্র জনতাকে হত্যা, এছাড়া খুন,গুম,অর্থপাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে যথেচ্ছা দুর্নীতির মাধ্যমে দেশকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছিলেন শেখ পরিবারের সদস্যরা। আশার বিষয় হলো মানবতা বিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ দুর্নীতি মামলার চারটিতে শেখ হাসিনার ২৬ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। আশা করি অতি দ্রুত সময়ে বিডিআর হত্যাকাণ্ডেরও সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচার সম্পন্ন হবে। জাতির প্রত্যাশা যত দ্রুত সম্ভব স্বৈরাচারী বিগত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যাবতীয় দুর্নীতি, গণহত্যা, খুন, গুম সর্বোপরি নৃশংস বিডিয়ার হত্যাকাণ্ডের বিচার ত্বরান্বিত হবে।
লেখক : কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।