জসিম উদ্দিন মনছুরি
মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় উপমহাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব প্রায় দু’শত বছরের জন্য অস্তমিত হয়। ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে বাংলার সর্বশেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে আমাদের ভাগ্যে নেমে আসে পরাধীনতার চরম গ্লানি। বিভিন্ন চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আমরা পেয়েছি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্যের প্রতিবাদে ১৯৭১ সালে এ দেশের মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে। স্বাধীনতার পর দেশের জনগণ আশা করেছিল তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। ফিরে পাবে প্রকৃত স্বাধীনতা। কথা বলার স্বাধীনতা, চলাফেরার স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকারের স্বাধীনতা। কিন্তু দুর্ভাগা জাতির ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সরকার বিভিন্ন এজেন্ডা নিয়ে শাসকের নামে শোষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। শাসক হয়ে এসে নিজেদের আখের গুছিয়ে জনগণকে আশাহত ও ভাগ্যাহত করেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে জনগণ চরমভাবে নির্যাতিত, নিপীড়িত হয়েছে ও স্বাধীনতা বিসর্জিত হয়েছে। বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের আমলে অলিখিতভাবে দেশ কারাগারে পরিণত হয়। কথা বলার স্বাধীনতা, চলাফেরার স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার। অধিকার আদায়ের সোচ্চার হয় ছাত্রজনতা। গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের পতন হলে জনগণ আশার আলো দেখতে পায়। ১৫০০ জন ছাত্র-জনতার শাহাদাত বরণ, ৫০ সহস্রাধিক আহত কিংবা পঙ্গুক্ত বরণের মধ্য দিয়ে জনগণের বিজয় অর্জিত হয়। ৫ আগস্ট ২০২৪ সাল নতুন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। পরিবর্তনের অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে নোবেল জয়ী ড.মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ৮ আগস্ট ২০২৪ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান এজেন্ডা ছিল সংস্কার, গণহত্যার বিচার ও নির্বাচন। সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে গঠিত হয় জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশন। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সাত সদস্যবিশিষ্ট কমিশন যা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক ছয়টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা ও গ্রহণের জন্য গঠিত হয়। কমিশনের সভাপতি হন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সহ-সভাপতি নিযুক্ত হন ড. আলী রিয়াজ।
রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর ঐক্যমত্য কমিশন জুলাই সনদ এর বেশ কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে ঐক্যমত্যে পৌঁছান। দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ১৬৬টি মূল প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে ঐক্যমত্য কমিশন। প্রথম পর্যায়ে, কমিশন ৩৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সাথে আলাদাভাবে বৈঠক করে এবং পরে ২০টি অমীমাংসিত মৌলিক প্রস্তাব নিয়ে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা শুরু করে। ৬২টি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছে রাজনৈতিক দলগুলো, যার বেশিরভাগই বিচার বিভাগ, সংস্কার কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে। পাশাপাশি জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ছয়টি প্রস্তাব। সংবিধান সংস্কার কমিশন ১৮টি প্রস্তাব জমা দেয়, যার মধ্যে একটি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে, যা ৩০টি দলের সমর্থন পেলেও এর কাঠামো নিয়ে মতবিরোধের কারণে অমীমাংসিত থেকে যায়। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ১১টি সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের একটি ঐকমত্যভিত্তিক রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যে তিন দফায় মোট ৭২ দিন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ চালায়।
প্রথম ধাপে উত্থাপিত ১৬৬টি বিষয়ের মধ্যে ৬৪টিতে ঐকমত্য গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে ২৮ দফা প্রতিশ্রুতিসংবলিত “জুলাই সনদ ২০২৫”-এর ভিত্তি নির্ধারণ করে। খসড়া ভাষ্য ২৮ জুলাই চূড়ান্ত করে দলগুলোর কাছে মতামতের জন্য পাঠানো হয়, আগস্ট-সেপ্টেম্বর জুড়ে বাস্তবায়নপদ্ধতি নিয়ে সংলাপের পর ১১ সেপ্টেম্বর খসড়া চূড়ান্ত হয় এবং ১৪-১৫ অক্টোবর চূড়ান্ত অনুলিপি দলগুলোর নিকট প্রেরিত হয়। সনদটিতে রাষ্ট্র কাঠামো, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ-সংক্রান্ত সংস্কার অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত থাকে। পরে ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ২৫টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি সনদে স্বাক্ষর করেন। আমন্ত্রিতদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও কিছু বাম দল সই করা থেকে বিরত থাকে। স্বাক্ষর-পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিতে গণভোটসহ বিকল্প পদ্ধতির বিষয়টি কমিশনে বিবেচিত হয়।
বাংলাদেশ গঠিত হওয়ার পর থেকে এই পর্যন্ত তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণভোটে হ্যাঁ না পদ্ধতির ব্যালেটের মাধ্যমে জনগণের মতামত জানতে চাওয়া হয়। বাংলাদেশে প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭৭ সালের ৩০ মে মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনকাজের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য। ভোটের মাধ্যমে দেশের জনগণের কাছে জানতে চাওয়া হয় রাষ্ট্রপতি এবং তার নীতি ও কর্মসূচির প্রতি তারা আস্থা রাখেন কি না? ১৯৭৭ সালের ২২ এপ্রিল গণভোটের ঘোষণা দেন জিয়াউর রহমান। দ্বিতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৫ সালের ২১ মার্চ। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নীতি ও কর্মসূচির বৈধতা যাচাইয়ের জন্য। আস্থা থাকলে জেনারেল এরশাদের ছবিসহ ‘হ্যাঁ’ বাক্সে এবং আস্থা না থাকলে ‘না’ বাক্সে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। গণআন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। এরপর পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয় বিএনপি। ১৬ বছরের রাষ্ট্রপতিশাসিত শাসন থেকে প্রধানমন্ত্রীশাসিত সংসদীয় পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট সংসদে বিল পাস হয়। সংবিধানে দ্বাদশ সংশোধনীর ওই বিলে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দেবেন কি না, তা নির্ধারণে ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তৃতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের হলে দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তারা সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করলে গণভোটের বিষয়টি সামনে আসে। রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠকে জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কারের বৈধতা নিশ্চিত করতে গণভোটের প্রস্তাব দেয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এর খসড়ায় বলা হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে এই আদেশ এবং এর তফসিলে সন্নিবেশিত জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত অংশ গণভোটে উপস্থাপন করা হবে। গণভোটের ব্যালটে প্রশ্ন থাকবে, আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং এর তফসিল-১ এ সন্নিবেশিত সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করিতেছেন? ভোটারদের এই প্রশ্নের উত্তরে ব্যালট পেপারে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে নির্ধারিত বাক্সে প্রদান করতে হবে। তফসিল-১-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, কমিশনের আলোচনায় নেওয়া সংবিধানের ৪৮টি সংশোধন প্রস্তাব। তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ২৭০ দিবসের মধ্যে যদি সংস্কার সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে গণভোটে অনুমোদিত সংবিধান সংস্কার বিলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একসাথে চারটি বিষয়ে উপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
যেই বিষয়গুলো ভোটারের কাছ থেকে জানতে চাওয়া হবে হ্যাঁ অথবা না এর মাধ্যমে তা হলো: ১. নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে ২. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে ৩. সংসদে নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে ৪. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে। গণভোটের দিন এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে সাধারণ মানুষ তাদের মতামত জানাবেন। গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ সূচক হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই প্রতিনিধিগণ একইসাথে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া, পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হতে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে। সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। যার মেয়াদ হবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।”জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামা অনুসারে সংবিধানে জুলাই জাতীয় সনদ অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’
হ্যাঁ ও না ভোট বিষয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো দুই ধারায় বিভক্ত হয়ে গেছেন। বিএনপি’র নেতৃত্বে একটি জোট। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে আট দলীয় ইসলামী জোট। ৮ দলীয় ইসলামী জোট মাঠে ময়দানে বিভিন্ন সমাবেশের মধ্য দিয়ে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকেই বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন জোট না ভোটের পক্ষেই প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের ফলে নতুন বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়েছে। নতুন বাংলাদেশে জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে জাতির আকাক্সক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। স্বাধীনতার বিগত ৫৪ বছরে যত রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এসেছে তারা রাষ্ট্র কাঠামো শাসন ব্যবস্থায় তেমন একটা পরিবর্তন আনেননি। নিজেদের স্বার্থে বার বার ক্ষমতায় এসে জনগণের অধিকার খর্ব করেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছে মূলত ন্যায়, সমঅধিকার ও গণতন্ত্র পুণপ্রতিষ্ঠার জন্য । জুলাই সনদ যেহেতু জাতির আশা-আকাক্সক্ষার বাতিঘর। জুলাই সনদ বাস্তবায়িত না হলে জাতি যে স্বপ্ন নিয়ে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার পতন করেছে সেই স্বপ্ন বিফলে যাবে। জনগণের প্রত্যাশা গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হবে। গণভোটে যদি হ্যাঁ জয়যুক্ত না হয় তাহলে জাতির ভাগ্যে সেই পুরাতন হতাশা, বাকস্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার, প্রচলিত ধারায় থেকে যাবে। যেহেতু জুলাই সনদের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হওয়ার কথা । তারই প্রেক্ষিতে জুলাই সনদ আমাদের গর্বের ও অহংকারের প্রতীক। জনগণ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে জুলাই সনদকে সাদরে গ্রহণ করার জন্য। জুলাই সনদ আমাদের আকাক্সক্ষার, গর্বের ও জাতিসত্তার পরিচয়। আশা করি আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সময় গণভোটও জয়যুক্ত হবে এবং জনগণের বিজয় সুনিশ্চিত হবে। জুলাই সনদের বিজয় মানে জনগণের বিজয়। জনগণের বিজয় মানে গণতন্ত্রের বিজয়। যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটিয়েছেন তা জাতি কৃতজ্ঞতার সহিত আজন্ম স্মরণ করবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হোক এটা দেশের ১৮ কোটি জনগণের প্রত্যাশা ও বহুল প্রতীক্ষিত বিষয়। জুলাই সনদের বিজয়ের মাধ্যমে আমাদের জাতিসত্তা অটুট ও অক্ষুন্ন থাকুক।
লেখক : কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।