অল্প সময়ের ব্যবধানে মুসলিম বিশ্বে বেশ কয়েকজন নেতাকে শহীদ হতে হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী, সন্দেহজনক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইবরাহীম রাইসী, হামাসের প্রধান ইসমাঈল হানিয়া ও ইয়াহইয়া সিনওয়ার, হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নসরুল্লাহ প্রমুখ। ইসরাইলের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যারা ছিলেন, একেকজন সিংহপুরুষ। আল্লাহ তাআলা তাঁদের শাহাদাত কবুল করুন। তাঁদের উত্তরসূিরদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে অটল থাকতে হবে এবং তাঁরা অটল আছেনও, আলহামদুলিল্লাহ। আজ মুসলিম বিশ্বকে নানান দিক থেকে অগ্রসর হতে হবে।
২. প্রযুক্তিগত দিক থেকে মুসলিম বিশ্বকে আরও যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। ধ্বংসাত্মক প্রযুক্তিগুলোকে প্রতিরোধ করার উপায় অবশ্যই দাঁড় করাতে হবে। যুদ্ধের প্রয়োজনে যথাযথ সামরিক শক্তি অর্জন ছাড়া মুসলিম বিশ্বের পক্ষে শত্রুদের অন্যায় প্রতিরোধ করা কঠিন। আজ পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকায় সেখানে কেউ পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগের কথা সহজে ভাবতে পারে না। সামরিক প্রযুক্তির পাশাপাশি মুসলিম দেশগুলোর উচিত নিজস্ব প্রযুক্তি উন্নয়ন করা বিশেষ করে অও, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সাইবার সিকিউরিটি এবং প্রতিরক্ষা-বিশেষায়িত প্রযুক্তি যেমন ড্রোন। এক্ষেত্রে বর্তমানে তার্কি অনেকটা এগিয়েছে; বাকি দেশগুলোকেও এদিকে নজর দিতে হবে।
৩. একইসঙ্গে বিশ্বরাজনীতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মুসলিম বিশ্বের নিজেদের মধ্যে বন্ধন দৃঢ় করার কোনো বিকল্প নেই। আরব দেশগুলো সবই মুসলিম দেশ। অথচ সেখানে অদ্ভুত সব কূটনীতি লক্ষ্য করা যায়। ইসলামের শত্রু দখলদার ইসরাইলে এবং তাদের দোসররা এখানে যুগের পর যুগ বিভাজন তৈরি করে রেখেছে। অথচ এ দেশগুলো যদি নিজেদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারত, তাহলে চিত্র আজ বদলে যেত। এখানে আল্লাহর খাঁটি কিছু বান্দাকে নেতৃত্বের জন্য এগিয়ে আসতে হবে।
৪. অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক শক্তি বৃদ্ধি করাও মুসলিম বিশ্বের জন্য আরেকটি জরুরি প্রয়োজন। ইরান-এর বিরুদ্ধে যুগের পর যুগ অবরোধ দিয়ে রাখা হয়েছে। তারপরও ইরান টিকে থাকার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। যখনই কোনো দেশের ওপর পরাশক্তিগুলো প্রভাব বিস্তার করতে চায়, তখনই তারা অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে উদ্যত হয়। এ অর্থনৈতিক পরাশক্তি হয়ে ওঠা দরকার মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর মধ্য থেকে—যারা মানবতার জন্য ইনসাফ কায়েম করতে সক্ষম।
নেতৃবৃন্দের শাহাদাতের পরেও তাঁদের উত্তরসূরিরা হাল ধরছেন-এটি আমাদের জন্য স্ট্রেন্থ। “ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায় হার কারবালা কে বাদ”-আল্লামা ইকবাল-এর এই অমর বাণীর সত্যতা আমরা ইতিহাসের পরতে পরতে দেখেছি। নতুন নেতৃত্ব আজ যে সাহস দেখিয়েছেন, তাতে নতুন করে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। তবে আরও বেশি স্ট্রেন্থ হবে, যদি আমরা সন্ত্রাসীদের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে নেতৃবৃন্দকে সুরক্ষা দিতে পারি। আজ আমাদের প্রত্যেক মুসলিম ভাই-বোনকে আল্লাহর দেয়া সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে যোগ্যতাসম্পন্ন হওয়া এবং সে যোগ্যতাগুলোকে একসূতোয় গেঁথে উম্মাহর শক্তি সমৃদ্ধ করার বিকল্প নেই। আল্লাহ তাআলা মুসলিম বিশ্বকে শক্তিশালী করুন। আমাদেরকে পুরো বিশ্বের মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে মানবতার কল্যাণে ভূমিকা রাখার তাওফিক দিন। আমীন।
লেখক: প্রকৌশলী ও প্রাবন্ধিক