সামিয়া জামান

ডিজিটাল যুগে ভুয়া তথ্যের মনস্তত্ত্ব বলতে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মিডিয়ায় ছড়ানো ভুল তথ্যকে বিশ্বাস করা ও শেয়ার করার পিছনে মানুষের মানসিক ও চিন্তাগত প্রক্রিয়াকে বোঝায়। এ মনস্তত্ত্বের ফলে মানুষ সহজে ডিজিটাল দুনিয়ার অনেক কিছু বিশ্বাস করে যা আসলে সত্য নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বয়সের সাথে এ বিশ্বাসপ্রবণতার ভিন্নতা রয়েছে। যেমন: শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে এ বিশ্বাসপ্রবণতা তরুণদের থেকে কিছুটা বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি এবং ফ্রান্সের গ্রনব্লা আল্পস ইউনিভার্সিটির গবেষক দল সর্বশেষ মার্কিন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২০২০ সালের আগস্ট থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত আড়াই হাজারের বেশি গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজ বিশ্লেষণ করেছে। তাঁরা দেখলেন, যে পেজগুলো থেকে বেশি ভুয়া তথ্য শেয়ার করা হয়, সেগুলোতে লাইক, শেয়ার ও কমেন্টের পরিমাণ অনেক বেশি।

কেবল ফেসবুক নয়, টুইটারেও সত্যের চেয়ে মিথ্যার প্রসার কয়েক গুণ। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) একদল গবেষক টুইটারে শেয়ার হওয়া এক লাখের বেশি সংবাদ বিশ্লেষণ করে লিখলেন, ‘তথ্যের সব শ্রেণিতে সত্যের চেয়ে মিথ্যাচারের বিস্তার বেশি দ্রুত, বেশি গভীরে এবং বেশি বিস্তৃত।’

ভুয়া তথ্য মানুষ কেন বিশ্বাস করে বা মিস ইনফরমেশন ইফেক্ট কেন ঘটে তার পেছনে বিভিন্নরকম থিওরি আছে। এ রকম একটি ধারণা হচ্ছে, মূল ঘটনার তথ্য ও ভুল তথ্যগুলো স্মৃতিতে একত্রিত হয়ে বসে যায়। আরেকটি থিওরি হচ্ছে, বিভ্রান্তিকর তথ্যগুলো মূল ঘটনার স্মৃতিকে প্রতিস্থাপন করে। আবার, বিভ্রান্তিকর তথ্য যেহেতু মূল ঘটনার পরে স্মৃতিতে আসে, এটা তুলনামূলক নতুন স্মৃতি। তাই এ স্মৃতিটি পুনরুদ্ধার করাও তুলনামূলক সহজ। আরেকটি সম্ভাবনা হচ্ছে, মূল ঘটনার প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন ক্ষুদ্র তথ্য স্মৃতিতে একসাথে বসতে পারে না। তাই যখন বিভ্রান্তিকর বা ভুল তথ্য সামনে আসে, সেগুলো এই মূল ঘটনার তথ্যের ফাঁকে বসে পূর্ণাঙ্গ স্মৃতি গঠন করে। এভাবে, সঠিক ও ভুল তথ্য একত্রে স্মৃতিতে গেঁথে যায়।

এছাড়া নিজের বিশ্বাসের সাথে মিললে দ্রুত মেনে নেয়া, বারবার সামনে আসলে আবার অনেকে শেয়ার দিলে সত্যি মনে হয়। এর থেকে পরিত্রাণের জন্য সোর্স যাচাই করুন যেমন: ইউআরএল, লেখক ও প্রকাশের তারিখ দেখুন। পাশাপাশি ক্রোস চেক করুন- একাধিক স্বাধীন সাইটে একই বিষয়ে আর্টিকেল পড়ুন ও নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করুন। দেশের এখন প্রায় ১১ কোটির বেশি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। সুতরাং এই বিপুল সংখ্যক জনসংখ্যা ভুয়া তথ্যে বিভ্রান্ত হলে নেতিবাচক বিভিন্ন পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে তাই আসুন আমরা সচেতন হই।

লেখক : শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।