থাইল্যান্ডে নির্বাচনী ফলাফলের বার্তা

নানা রাজনৈতিক টানাপড়েন ও ঘটন-অঘটনের পর ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হলো এশিয়ার অন্যতম সেরা অর্থনৈতিক শক্তি থাইল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচন। বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও জাপানে কাছাকাছি সময়ে অনুষ্ঠিত তিনটি নির্বাচনের দিকে দৃষ্টি বিশ্ববাসীর। এরমধ্যে জাপান ও থাইল্যান্ডে নির্বাচন শেষ হয়েছে। আমরা দৃষ্টি দেব থাইল্যান্ডের দিকে। দেশটিতে রাজনৈতিক সংকট লেগেই আছে। আর কোন সরকারই টেকসই হচ্ছিল না বছরের পর বছর ধরে। দু’যুগেরও বেশি সময় ধরে থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা পরিবার। তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রার ক্ষমতাচ্যুতির মধ্য দিয়ে সে পরিবারের শাসনের অবসান ঘটে গত বছরের সেপ্টেম্বরে। এরপর জোড়াতালি দিয়ে সরকার চালানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেটা স্থায়ী হবে না বলে শংকা প্রকাশ করেছিলেন বিশ্লেষকরা। কিন্তু আদালতের নির্দেশে পেতংতার্নকে সরে যেতে হয়। ক্ষমতায় আসেন জোটসঙ্গী ভূমজাত থাই পার্টির নেতা আনুতিন। নির্বাচন না দিয়ে দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি চেষ্টা চালান আনুতিন। কিন্তু না তাকে নতুন নির্বাচনের দিকেই যেতে হয়। ২০২৩ সালের মে মাসের সাধারণ নির্বাচনের পর গঠিত হয় একটি জোট সরকার। এরপর তিন দফা সরকার পরিবর্তন হয়েছে। ২০২৬ সালে নতুন নির্বাচনে কোন দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সংকট থেকেই যাবে বলে বিশ্লেষকরা বলেছিলেন। সেটাই কি হতে যাচ্ছে? এমনটা ভাবছেন অনেকে।

কেন সংকট? একদিকে ক্ষমতাসীন জোটের রাজনৈতিক দলগুলোর বোঝাপড়ার অভাব ও অন্যদিকে কম্বোডিয়ার সাথে সীমান্তে সংঘর্ষের পর গত বছরের ১২ ডিসেম্বর পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়েছিলেন আনুতিন চার্নাভিরাকুল। থাইল্যান্ডের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে গড়ে উঠেছিল থাকসিন সিনাওয়াত্রা পরিবারটি। তিনি ক্ষমতায় থাকাকালে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। গত ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তার দল ফেউ থাই পার্টি খুবই বাজে ফল করেছে। ২০২৩ সালের নির্বাচনে ১৪১ আসন পাওয়া ফেউ থাই নির্বাচনে মাত্র ৭৪ টি আসন পেতে যাচ্ছে। বিগত পার্লামেন্টের চেয়ে আসন কমেছে ৬৭ টি। বলতে গেলে ক্ষমতার বলয় থেকে দলটি হারিয়ে গেলটি।

পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার কী কারণ? উত্তরটা দিয়েছিলেন তিন মাসের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন নিজেই। আনুতিন চার্নভিরাকুল জানিয়েছিলেন, তিন মাস আগে তার সংখ্যালঘু সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আসছিল। ‘উপযুক্ত সমাধান হলো সংসদ ভেঙে দেয়া। ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিক হওয়া আনুতিন ২০২৩ সালের আগস্টের পর থেকে থাইল্যান্ডের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী। সেপ্টেম্বর মাসে তিনি যখন ক্ষমতায় আসেন তখনই জানুয়ারির শেষ নাগাদ সংসদ ভেঙে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এ নির্বাচন আহ্বানকে এক রকম জুয়া খেলার সাথেই তুলনা করেছেন বিশ্লেষকরা। তিনি ফিরে আসতে পারবেন কি না সে প্রশ্ন ছিল। তবে তিনি সে খেলায় সফল হয়েছেন বলেই মনে করা যায়। যদিও এখনো তাকে সরকার গঠনে বাইরে হাত পাততেই হবে। তার সাফল্য হচ্ছে তিনি ২০২৩ সালে নির্বাচনে যে দল মাত্র ৭১ আসন পেয়েছিল সেখান থেকে তিনি সংখ্যাটিকে ১৯৪ এ নিতে পেরেছেন। বেড়েছে ১২২ টি আসন। তবে সংখ্যা গরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ২৫১ আসনের চেয়ে তা অনেক দূরে।

আনুতিনের প্রধানমন্ত্রিত্বকে সমর্থন দেয়া সবচেয়ে বড় যুবসমর্থিত, প্রগতিশীল দল পিপল’স পার্টি তার পাশ থেকে সরে যাবার পরই সংসদ ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত আসে। বিভিন্ন জনমত জরীপে বলা হয়েছিল পিপলস পার্টি গত নির্বাচনের চেয়ে এবার অনেক ভাল করবে, এক নম্বরে থাকবে। কিন্তু সেটা হয়নি। বরং তারা ২০২৩ থেকেও ৩৩টি আসন কম পেয়েছে, নেমে গেছে ১১৮ তে। সরকার গঠনে দলটির কার্যকারিতা থাকবে না বলেই মনে করেন বিশ্লেষকেরা। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল আসতে এখনো বেশ সময় লাগবে। ৯৪ শতাংশ ভোট গননা শেষে দাঁড়ায় এই হিসাব।

মতাদর্শিক দিক দিয়ে পিপল’স পার্টি আর বাস্তববাদী, রক্ষণশীল ভূমজাইথাই পার্টির অবস্থান দুই বিপরীত মেরুতে। বিরোধী জোটের এ সমর্থন ছিল শর্তসাপেক্ষ। অন্যান্য দাবির পাশাপাশি তারা চাইছিল আনুতিন যেন সামরিক বাহিনী প্রণীত সংবিধানের সংস্কার শুরু করেন এবং চার মাসের মধ্যে সংসদ ভেঙে দেন। পিপল’স পার্টির অভিযোগ, ভূমজাইথাই সে চুক্তি রক্ষা করেনি। তারা সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেয়ার পরিকল্পনা করেছিল। এর আগেই প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভেঙে দেয়ার আহ্বান জানান। তাদের দাবি মতে সংবিধান প্রশ্নে গণভোটও হয়েছে।

থাইল্যান্ডের জাতীয় আইনসভা একটি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা- যার একটি সিনেট এবং অন্যটি প্রতিনিধি পরিষদ। সম্মিলিতভাবে পরিষদের ৭০০ সদস্য রয়েছে, যার মধ্যে ৫০০ জন সরাসরি সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হন (নিম্নকক্ষে ৫০০ জন এমপি)। অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে সিনেটের ২০০ জন সদস্যই পরোক্ষভাবে প্রার্থীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হন। থাইল্যান্ডের বেশিরভাগ নির্বাচন ফার্স্ট পাস্ট দি পোস্ট ( এফপিটিপি) পদ্ধতি অনুসরণ করে নির্বাচিত হন। যা প্রতিনিধি পরিষদের ৪০০ সদস্যের নির্বাচনে ব্যবহৃত হয়। বাকি ১০০ সদস্য দলীয় তালিকার আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। দেখা যাচ্ছে দেশটিকে ফার্স্ট পাস্ট দি পোস্ট ও প্রোপোরশনাল রিপ্রিজেন্টেশন (পিআর) দুটিরই বিধান রয়েছে। আর সরকার গঠনে প্রয়োজন হয় ২৫১ আসন।

কেমন হবে নতুন সরকার? জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া ভূমযাই থাই নেতা আনুতিন মুখ বন্ধ রেখেছেন। পুনঃগণনার দাবি বৃদ্ধির সাথে সাথে তিনি সংযমের আহ্বান জানিয়েছেন ১১ ফেব্রুয়ারি। কয়েকটি আসনে ভোট পুনঃগনণার দাবি জানিয়েছে একাধিক দল। এ লেখার সময় পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন ৯৪ শতাংশ ভোট গননা শেষ করেছে। ভোট পুন গণনা ও বাকি ফল দিতে অর্থাৎ আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করতে আরো কয়েক দিন সময় লাগবে। সব প্রক্রিয়া শেষে করে নতুন সরকার এপ্রিলের আগে হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী আনুতিন বলেছেন যে, জোট আলোচনা আনুস্ঠানিক ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। পুনঃগণনার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ এড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি এবং বলেছেন যে কোনও পুনঃগণনার সিদ্ধান্ত ইসির নিয়ম মেনে হবে। আনুষ্ঠানিক ফলাফল না আসা পর্যন্ত জোট আলোচনা স্থগিত থাকবে। ভুমজাইথাই নেতা আনুতিন চার্নভিরাকুল পরবর্তী জোট সরকারের জন্য কোনও সূত্র নিয়ে আলোচনা করতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, বলেছেন যে তিনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্পষ্ট, নিশ্চিত আসন সংখ্যা দেখতে চান।

জানা গেছে, তিনি ইতিমধ্যেই একটি জোট গঠনের জন্য নির্দিষ্ট কিছু দলের কথা মাথায় রেখেছেন বলে ধারণা। এ ব্যাপারে এ প্রশ্নে আনুতিন বলেন, তিনি প্রথমে প্রতিটি দলের জন্য নিশ্চিত পরিসংখ্যান দেখতে চান। সরকার গঠনের পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাওয়া হলে, অনুতিন বলেন, তিনি স্পষ্ট ধারণা রাখার চেষ্টা করছেন কারণ, তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে এখনও দেশ পরিচালনা করতে হবে। তিনি বলেন যে তিনি কেবল জোটের পাটিগণিতের উপর মনোযোগ দিয়ে তার সমস্ত সময় ব্যয় করতে পারবেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, দক্ষিণ সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলিতে এখনও সময়ে সময়ে ঘটনা ঘটছে।

ফলে কী পরিবর্তন হয়েছে? থাইল্যান্ডের নির্বাচনে যেমনটা ধারণা করা হয়েছিল ফল রকমই হয়নি। তবে আগের চেয়ে বেশী আসন পেয়েছে তত্তাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের দল ভূমজাইথাই পার্টি। যদিও নির্বাচনের আগে প্রকাশিত বেশিরভাগ জরিপে বলা হচ্ছিলো, সংস্কারপন্থি পিপলস পার্টি এগিয়ে থাকবে। কিন্তু ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, তা হয়নি। দলটি প্রথম হয়নি, ছিটকে গেছে দ্বিতীয় স্থানে। রয়টার্স বলছে, থাইল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ভূমজাইথাই পার্টি একটি নির্ণায়ক বিজয় অর্জন করেছে, প্রগতিশীল এবং জনপ্রিয় দলগুলিকে পরাজিত করে নেতা অনুতিন চার্নভিরাকুলকে ২০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী পদে ফিরে আসার দৌড়ে দাঁড় করিয়েছে। প্রাথমিক ভোট গণনায় ভুমজাইথাই উল্লেখযোগ্য লিড ধরে রেখেছে। দলটি দক্ষিণে প্রসারিত হয়েছে এবং ভোট সমৃদ্ধ উত্তর-পূর্বে আসন দখল করেছে, যা প্রায় দু’দশক ধরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিনাওয়াত্রা পরিবারের ফিউ থাইয়ের দখলে ছিল। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, ৯৪% ভোটকেন্দ্র থেকে ভুমজাইথাইয়ের ৫০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে প্রায় ১৯৪টি লাভ করে, যা ২০১৯ এবং ২০২৩ সালের নির্বাচনে যথাক্রমে ৫১ এবং ৭১ আসনের চেয়ে অনেক বেশি। রাজধানী ব্যাংককে পরিষ্কার জয় সত্ত্বেও পিপলস পার্টি তাদের সবচেয়ে খারাপ নির্বাচনী পারফরম্যান্সে ১১৮টি আসন নিয়ে দ্বিতীয় ¯’ানে এবং ফিউ থাই ৭৪টি আসন নিয়ে তৃতীয় ¯’ানে রয়েছে।

আনুতিন সহজেই জোট গঠন করতে পারেন? এ প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে। কারণ ভূমজাইথাইয়ের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাব রয়েছে, তবে তাদের ১৯৪টি আসন মিঃ আনুতিনকে দর কষাকষির প্রচুর ক্ষমতা দিয়েছে। পিপলস পার্টি বলেছে তারা কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী জোট গঠন করবে না। বড় তিনটি দল ছাড়াও প্রায় এক ডজন ছোট দল ১১৭টি আসন জিততে চলেছে, যার মধ্যে ক্ল্যাথাম ৫৮টি আসন এবং পালং প্রচারথ ৫টি আসন পায়। মি. অনুতিনের সংখ্যালঘু সরকারের অংশ হিসেবে এই দুটি জোট বা দলই তাকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিতে পারে। ক্লাথাম একেবারে নতুন দল, কিন্তু তারা চতুর্থ স্থান দখল করে ভাল অবস্থানে রয়েছে।

ফেউ থাই-ভুমজাইথাই জোটও সম্ভব কি না সে প্রশ্নও আছে। যদিও গত বছর প্রাক্তন এ শাসক দল ফেউ থাইয়ের জোট ত্যাগ করার পর মি. অনুতিন পূর্বসূরি পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে আদালতের বরখাস্তের পর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য এর বিরুদ্ধে কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। রক্ষণশীল এবং রাজতন্ত্রবাদীদের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের কারণে মি. আনুতিন দলত্যাগী এবং অনেক ছোট দলকে আকর্ষণ করতে প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে।

অনুতিনের অধীনে কি রাজনৈতিক ¯ি’তিশীলতা সম্ভব? এটা একটা কঠিন প্রশ্ন বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। ভুমজাইথাইয়ের জয়ের আকার ক্ষমতাকে সুসংহত করে, যাতে মি. আনুতিন থাইল্যান্ডের ¯’বির অর্থনীতি পরিচালনা করতে পারেন এবং বৃহৎ ব্যবসায়িক গোষ্ঠী এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেন। এটা হলে উন্নত শাসনব্যব¯’া আনতে সক্ষম হবেন। আর মি. আনুতিন সম্ভবত থাইল্যান্ডের প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান এবং সামরিক বাহিনী দ্বারা সমর্থিত হবেন, যারা দীর্ঘ ক্ষমতার লড়াইয়ের মূল নায়ক, যা পিপলস পার্টির দুই প্রগতিশীল অগ্রদূতকে ব্যর্থ করেছিল এবং অভ্যুত্থান এবং আদালতের রায়ে ছয় জন জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রীর পতন ঘটিয়েছিল, যার মধ্যে শিনাওয়াত্রা পরিবারের সদস্য বা সমর্থিত ছিল।

কখন সরকার গঠন করা যেতে পারে? নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ফলাফল অনুমোদিত হওয়ার ১৫ দিন পর সংসদকে স্পিকার নির্বাচন করতে এবং নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করতে হবে। তবে এ জন্য ৬০ দিন সময় পাবেন। ২৫ টিরও বেশি আসনের যেকোনো দল সংসদে ভোটের জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী মনোনীত করতে পারে, তবে এ ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বীকে মন্ত্রিসভা গঠনের আগে ৫০০ জন আইন প্রণেতার অর্ধেকেরও বেশি সমর্থন পেতে হবে। যদি ভোট ব্যর্থ হয়, তাহলে সংসদ পুনরায় আহ্বান করতে হবে এবং প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়াটি পুনরাবৃত্তি করতে হবে। ভূমজাইথাইয়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন যে তিনি আশা করেছিলেন এপ্রিলের শেষ নাগাদ একটি নতুন প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। ফলে এ বিয়য়ে ধারণা পেতে কিছু সময়ের প্রয়োজন হবে।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক।