দেশ নামক বৃক্ষের শাখা-প্রশাখা অনেক। তবে রাজনৈতিক শাখাটার গুরুত্ব বেশি। এই শাখাটির হাঁকডাক ও বেশ শোনা যায়। এই বৃক্ষের সাংস্কৃতিক শাখাটির গুরুত্বও কম নয়। কিন্তু এই শাখাটি এখন নানা সমস্যায় আক্রান্ত। পরগাছারা এখানে এসে ভিড় করেছে। শাখাটি নিজের মতো বিকশিত হতে পারছে না। পরগাছাদের চাপে সাংস্কৃতিক শাখাটি নিজের বৈশিষ্ট্য এবং সৌন্দর্য হারাতে বসেছে। বিষয়টিকে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন হিসেবেও অভিহিত করা যায়। পরগাছারা নানা কৌশলে অগ্রসর হচ্ছে। বিভ্রান্তি ছড়ানো তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তারা আলোচনায়,বয়ানে এবং নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষকে বোঝাতে চাইছে যে, বিনোদন-সংস্কৃতিই হলো আসল সংস্কৃতি, কারণ এই সংস্কৃতি আমাদের আনন্দ দেয়। তারা আরো বলেন, সংস্কৃতিমনা মানুষ হতে হলে আমাদের অনেক উদার হতে হবে, বাইরের বিষয়গুলোকে সহজে গ্রহণ করতে হবে। এই বয়ান দীর্ঘদিনের, তাদের বিনোদন সংস্কৃতি আগ্রাসনও বেশ পুরনো। এমন বিভ্রান্তিমূলক তৎপরতার আসল লক্ষ্য হলো, দেশের মানুষকে তার নিজস্ব আদর্শ ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন করা। অথচ জ্ঞানবান মানুষ জানেন যে, সংস্কৃতির সাথে জড়িয়ে আছে মানুষের জীবনদর্শন, বোধ-বিশ^াস ও আকাক্সক্ষা। আর এখানে এই বিষয়টিও স্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন যে, বিনোদন-সংস্কৃতি মানুষের সাংস্কৃতিক জীবনের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। সাংস্কৃতিক জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে ধর্মীয় আচার-আচরণ,বিয়েশাদী, খাদ্যাভাস, আয়-ব্যয়, বণ্টন, হালাল-হারামসহ আরো বহু বিষয়। বলা যায়, যাপিত জীবনের বিচিত্র সম্পর্কসূত্রে জীবনদর্শনের রূপময় প্রকাশই হলো মানুষের পূর্ণাঙ্গ সংস্কৃতি। তাই গান-বাজনা ও নাটক-সিনেমার যে বিনোদন-সংস্কৃতি তা কখনো মানুষের পূর্ণাঙ্গ সংস্কৃতি নয়। অথচ তথাকথিত সংস্কৃতি সেবিরা এ বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। তাদের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নিজেদের পছন্দের গান, নাটক ও সিনেমা পরিবেশন করে ভিন্ন একটি ভুবন রচনার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। যার সাথে বাংলাদেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর বোধ-বিশ^াস ও আশা-আকাক্সক্ষার কোনো মিল নেই। অথচ শিল্পকলায় পারঙ্গম হিওয়ায় তারা দীর্ঘদিন ধরেই মানুষকে বিভ্রান্ত করার এবং মোহগ্রস্ত রাখার সুযোগ নিয়েছে। তবে ধর্ম-দর্শনে বিশ^াসী মানুষকে কিছু সময় বিভ্রান্তি করা গেলেও তাকে পুরো গ্রাস করা যায় না। এক সময় সে নিজের পথ খুঁজে পায়। এমনকি সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের সাথে যুক্ত পরগাছাদের মধ্যেও বিবেকের দংশন লক্ষ্য করা যায়। কেউ কেউ যৌক্তিক পথ বেছে নিতেও সক্ষম হয়।
সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ‘প্রগতিশীলতার’ সাইনবোর্ড ব্যবহার করে দীর্ঘকালী ধরে ভারতীয় ন্যারেটিভ ও ইসলামোফোবিয়া ছড়ানোর সাথে যুক্ত ‘বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী’ এখন অস্তিত্ব সংকটের মুখে। চলতি বছরের ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসে মানবাতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্যারিকেচাড়[ প্রদর্শন কেন্দ্র করে সংগঠনটির ভেতরের দ্বন্দ্ব তীব্র হয়েছে। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে শত শত শিক্ষার্থী, শিশু ও শ্রমজীবী মানুষকে হত্যার পরও উদীচীর ভেতরে থাকা একদল বামপন্থীর ‘হাসিনা-তোষণ’ এবং জনগণের আকাক্সক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় সংগঠনটি এখন খ--বিখ- হয়ে পতনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৬৮ সালে সত্যেন সেন ও রণেশ দাশগুপ্তের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত উদীচী শুরু থেকেই প্রগতিশীলতার কথা বললেও অনেকের মতে এটি মূলত বাংলাদেশে ভারতীয় সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের একটি ‘সফট পাওয়ার’ হিসেবে কাজ করে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত ১৬ বছরের আওয়ামী দুশাসনের সময় উদীচী কখনোই সাধারণ মানুষের ভোটাধিকারের পক্ষ কিংবা রাষ্ট্রীয় ও দলীয় জুলুমের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলেনি। বরং ‘অসাম্প্রদায়িকতা’র দোহাই দিয়ে তারা এমন এক ধরনের বামপন্থা চর্চা করেছে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত করেছে এবং দিল্লির প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ‘ইসলমোফোবিয়া’ বা ইসলামভীতি ছড়াতে সহায়তা করেছে। বিশ্লেষকরা বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকার যখন হাজারো ছাত্র-জনতাকে নির্বিচারে হত্যা করেছিল, তখন উদীচীর একটি বড় অংশ রহস্যজনকভাবে নীরব ছিল। এই বামপন্থীরা জুলাই গণহত্যার ভয়াবহতাকে ছোট করে দেখতে চায়। তাদের কাছে হাসিনার ‘সেক্যুলার’ ইমেজটি এতই প্রিয়, হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া পরিবর্তনকেও তারা ‘সাম্প্রদায়িক উত্থান’ হিসেবে চিত্রায়িত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এটি তাদের পক্ষপাতদুষ্ট ও গণবেিরাধী চরিত্রের নগ্ন বহিপ্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় উদীচীর মধ্যে ভাঙনের সুর লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
গত ২৫ মার্চ রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকায় উদীচীর একটি অংশ চিত্র প্রদর্শনী ও পথনাটকের পায়োজন করে। সেখানে ভারতের পলাতক শেখ হাসিনার দানবীয় রূপ ফুটিয়ে তুলে রাজনৈতিক ক্যারিকেচার প্রদর্শন করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থাননের সময়কার দমন-পীড়ন এবং শেখ হাসিনার ১৬ বছরের গুম-খুনের প্রতীকী উপস্থাপন ছিল এ ক্যারিকেচারের মূল উপজীব্য।
এ প্রদর্শনীর পর ‘হাসিনাপন্থী’ বামপন্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখায়। ফেসবুকে একজন লিখেন ‘... এক সময় এই মিছিলের সাথী ছিলাম... ... তাদের না থাকুক, আমার তো লজ্জা-শরম আছে!’ প্রাবন্ধিক ও ছড়াকার অজয় দাশগুপ্ত তার ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘... হায়রে সোনার উদীচী!’ উপলব্ধি করা যায় উদীচীর অনেকেই এখন ভারতের প্রেসক্রিপশনে চলতে চায় না। চলতি বছরের ২৮ মার্চ উদীচীর প্রতিষ্ঠাতা সত্যেন সেনের ১১৯তম জন্মবার্ষিকী পালনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির বিভক্তি চূড়ান্ত রূপ নেয়। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মাহমুদ সেলিম ও অমিত রঞ্জনদের নেতৃত্বাধীন অংশটি সমাবেশ করে। একই সময় প্রেসক্লাবের উল্টো দিকে সচিবালয় মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পৃথক কর্মসূচি পালন করে হাবিবুল আলম ও জামসেদ আনোয়ার তপনের নেতৃত্বাধীন অংশটি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের ‘সাংস্কৃতিক উইং’ হিসেবে পরিচিত সংগঠনটি এখন নিজের ভারেই ভেঙে পড়ছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের মানুষ আর কোনো আমদানি করা সংস্কৃতি বা ইসলামোফোবিক রাজনীতি গ্রহণ করবে না। উদীচীর এই ভাঙন আসলে তাদের দীর্ঘদিনের গণবিরোধী তৎপরতার অনিবার্য পরিণতি।
বাংলাদেশে গণবিরোধী সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের আরো রূপ আছে। এ প্রসঙ্গে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র কথা উল্লেখ করা যায়। এবার এ ব্যাপারে একটি স্মার্ট বিবৃতিতে আমরা লক্ষ্য করেছি পত্রিকার পাতায়। হেফাজতে ইসলামের বিবৃতিটি আমাদের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। বুধবার বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আচরিত ধর্মীয় ঐতিহ্য ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’কে পহেলা বৈশাখের মতো জাতীয় উৎসবে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ওপর চাপানো যাবে না। এমন কিছু করার চেষ্টা হলে জুলাইয়ের ছাত্র-জনতাকে নিয়ে হিন্দুত্ববাদী সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে প্রতিহত করা হবে। বিবৃতির বক্তব্য খুবই স্পষ্ট। এখানে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় ঐতিহ্যের সাথে জড়িত একটি বিষয়। সম্প্রদায় বিশেষের এমন একটি বিষয়কে পহেলা বৈশাখের মতো একটি জাতীয় উৎসবের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। বিবেচনার বিষয় হলো, কোন চেতনা থেকে এমন বিবৃতি প্রদান করা হলো? এখানে কি কোনো সাম্প্রদায়িক চেতনা কাজ করেছে, নাকি ভিন্ন সম্প্রদায়ের সাম্প্রদায়িক আগ্রাসনমূলক চাতুর্যের বিরুদ্ধে কথা বলা হয়েছে? কোনো বিষয়ের সাথে যখন ‘মঙ্গল’ শব্দ যুক্ত করা হয়, তখন সেখানে আসলে বিশেষ বিশ^াস তথা জীবনদর্শনকে যুক্ত করা হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রার যে রূপ আমরা দেখেছি, সেখানে একটি চিত্র আছে। ময়ূর, পেঁচাসহ বিভিন্ন পশু-পাখির মুখোশ পরে যে শোভাযাত্রা, তার বার্তা কী? বিশেষ ধর্মের মানুষ এই শোভাযাত্রায় ‘মঙ্গল’ খুঁজে পেতে পারেন তাদের বিশেষ বিশ^াসের কারণে। কিন্তু দেশের সিংহভাগ মুসলিম জনতা এখানে কোনো মঙ্গল খুঁজে পান না, বরং বিশেষ ঘরানার মিছিলের সাথে ‘মঙ্গল’ যুক্ত করায় তা তাদের বিবেচনায় একটি গর্হিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তাই ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ তাদের পছন্দের বিষয় নয়। আর সমাজবিজ্ঞান তাদের আর একটি বার্তা দেয়, সেটি হলো ‘টোটেম বিশ^াসের’ বার্তা। অজ্ঞতার যুগে পিছিয়ে পড়া মানুষ বিশ^াস করতো, বিশেষ বিশেষ পশু-পাখি তাদের মঙ্গল-অমঙ্গল সাধনে সক্ষম। তাই তারা ওইসব পশু-পাখিদের সম্মান করতো, পূজা করতো। তাদের মুখোশ ধারণ করাও তাদের কাছে ছিল পুণ্যের কাজ। মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রবক্তারা কি পিছিয়েপড়া ওইসব মানুষদের টোটেম বিশ^াস ও সংস্কৃতির প্রতি আস্থা রাখেন? কিন্তু দেশের মানুষ তো এগিয়ে যেতে চায়, প্রগতির সড়কে হাঁটতে চায়। পিছিয়ে পড়ে থাকার মধ্যে তো কোনো মঙ্গল নেই। এই বিষয়টিও মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রবক্তারা ভেবে দেখতে পারেন।
হেফাজতের বিবৃতিতে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সংস্কৃতিমন্ত্রীর বক্তব্যে আসন্ন পহেলা বৈশাখে সর্বজনগ্রাহ্য ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’র পরিবর্তে পরিত্যক্ত সাম্প্রদায়িক ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আয়োজনের কৌশলী প্রচেষ্টা ফুটে উঠেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে উপস্থাপিত তার বক্তব্য সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় উসকানিমূলক বলে আমরা মনে করি। এছাড়া ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ ও ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র মধ্যে পার্থক্য নেই বলে তার দাবিটিও অজ্ঞতাপ্রসূত ও বিভ্রান্তিকর। বিবৃতিতে বলা হয়, শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে দেশব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আচরিত ধর্মীয় ঐতিহ্য ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’কে পহেলা বৈশাখের মতো জাতীয় উৎসবে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমনাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করলে ওলামায়ে কেরাম চুপ করে বসে থাকবেন না। বিবৃতিতে একটি তথ্যযুক্ত করে বলা হয়, ১৯৮৯ সালে ঢাবি চারুকলা বিভাগের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখে সর্বপ্রথম আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। তখন এর নাম ছিল ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’।
কিন্তু ১৯৯৬ সালে ভারতের পুতুল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার বছরে এদেশের হিন্দুত্ববাদী কালচারাল সেক্যুলার ফ্যাসিস্টরা পহেলা বৈশাখ উদযাপনে পূর্বের ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নাম পাল্টে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ রেখে হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির ভুয়া দাবি প্রতিষ্ঠিত করে। হেফাজতে ইসলামের বিবৃতিতে যেসব বিষয় উঠে এসেছে তা বিবেচনার দাবি রাখে। এখানে যুিক্ত আছে, তথ্য আছে এবং একটি জাতীয় উৎসবকে যেভাবে দেখা উচিত তেমন দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় আছে। আশা করি সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বিষয়টি উপলব্ধি করবেন এবং আনন্দ শোভাযাত্রার পক্ষেই মত দেবেন। তবে এর বিপরীতে গিয়ে তিনি যদি সাম্প্রদায়িক আগ্রাসনের চাতুর্যকে গ্রহণ করেন, তাহলে মন্ত্রীর যে পদমর্যাদা তার অবমাননা হবে। এতে দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ হবে, যা দেশের জন্য এবং দেশের সাংস্কৃতিক পরিবেশের জন্যও কল্যাণকর বলে প্রতীয়মান হবে না। চাপে পড়ে মন্ত্রীমহোদয় ‘মঙ্গল শোবাযাত্রায়’ যাননি, অন্য পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি এবার নাম দিয়েছেন ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা।’