ইরানে মার্কিন হামলা কি আসন্ন এমন আলোচনা কয়েক সপ্তাহ ধরেই চলমান। বিশ্লেষকরা এ নিয়ে নানা পর্যালোচনা বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এরই মাঝে নতুন একটা খবর হলো কাতার, তুরস্ক, মিসর ও ওমানের মধ্যস্থতায় শুক্রবার গত ৬ ফেব্রুয়ারি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। সম্ভাব্য এ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে আলোচনার স্থান ওমানও হতে পারে । ইরান আলোচনার স্থান তুরস্ক থেকে ওমানে সরাতে এবং বিষয়বস্তুও কেবল পারমাণবিক ইস্যুতে সীমিত রাখার দাবি তুলেছে বলে জানাচ্ছে আঞ্চলিক এক সূত্র।

দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনার পর পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। আল-জাজিরা ও রয়টার্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পরমাণু আলোচনা পুনরুজ্জীবনের জন্য আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে তেহরান।

ইরান ইসরাইল যুদ্ধ এবং এর পর সে যুদ্ধে আমেরিকার জড়িয়ে পড়াসহ নানান ঘটনা পরম্পরার পর বর্তমান নতুন যুদ্ধবস্থা তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালের ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ বারো দিন ধরে চলে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ইরানকে তার পারমাণবিক অ-প্রচার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করেছে বলে ঘোষণা করার পরের দিন ১৩ জুন ২০২৫ ইসরাইলের হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হয়। আর ২২ জুন অনেক উত্তেজনার পরে ইসরাইলের সাথে যোগ দেয় আমেরিকা। ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে মার্কিন বাহিনী ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় ফোরদো, ইসফাহান, নাতাঞ্জ স্থাপনায় “অত্যন্ত সফল আক্রমণ” করে এবং ভারী সুরক্ষিত ফোর্ডো পারমাণবিক স্থাপনার “পতন” হয়েছে। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয় যে এই হামলায় আংশিক ক্ষতি হয়েছে, হামলার আগেই পারমাণবিক উপাদান সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ইরান ইসরাইলে পাল্টা হামলা চালিয়ে ইহুদী রাষ্ট্রটির ব্যাপক ধ্বংস সাধানে সক্ষম হয়। ১২ দিন যুদ্ধ চলার পর শেষে ক্ষান্ত হয় এই সংঘাত।

সম্প্রতি ইরানে ব্যাপক সরকার বিরোধী বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে আর তাতে আমেরিকান ইন্ধন ছিল বলে ইরানের অভিযোগ। এছাড়া ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার হামলা ও দেশটির প্রেসিডেন্টকে ধরে নিয়ে যাওয়ার মতো বিশ্ব কাঁপানো ঘটনাও ঘটেছে। তখন থেকেই জল্পনা-কল্পনা চলছিল যে ইরানেও অনরূপ হামলা চালাতে পারে আমেরিকা। ইরানী কোন নেতা বিশেষ করে প্রধান ধর্মীয় নেতা খামেনিকে এভাবে ধরে নিয়ে যাবে কি না সে রকম জল্পনা কল্পনাও চলে বিশ্লেষকদের মধ্যে। ইরান প্রস্তুত, পাল্টা হামলার জন্যও তৈরি সে কথাও জানান দেয় দেশটির নেতারা। তার পর নতুন এই ডেভেলপমেন্ট। আর তাতে আমেরিকার একটি নরম সুর লক্ষণীয়।

কী বলছেন ট্রাম্প? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে উপসাগরে উত্তেজনা কমানোর জন্য ইরানের সাথে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, এমনকি মার্কিন সেনাবাহিনী আরব সাগরে তাদের বিমানবাহী জাহাজের কাছে আসা একটি ইরানি ড্রোনকে গুলী করে ভূপাতিত করার ঘোষণা দেওয়ার পরেও। ট্রাম্প মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন যে ওয়াশিংটন “এখনই” ইরানের সাথে আলোচনা করছে, তবে আলোচনা কোথায় হচ্ছে তা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আলোচনা চলছে। তারা কিছু করতে চায় এবং আমরা দেখব কিছু করা হচ্ছে কিনা। কিছুক্ষণ আগে তাদের কিছু করার সুযোগ ছিল, কিন্তু তা কার্যকর হয়নি এবং আমরা ‘মিডনাইট হ্যামার’ করেছি, আমার মনে হয় না তারা আবারও এমনটি ঘটতে চায়। তিনি গত জুনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার কথা উল্লেখ করে এ কথা বলেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট কী বলছেন? প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্ভাব্য পারমাণবিক আলোচনা দেশের ‘জাতীয় স্বার্থের’ কাঠামোর মধ্যেই এগোবে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান বলেন, হুমকি ও অযৌক্তিক প্রত্যাশা থেকে মুক্ত উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে ন্যায়সঙ্গত ও সমতাভিত্তিক আলোচনার পথে এগোনোর জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।

বিশ্লেষকেরা কী বলছেন? তারা বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের প্রভাব মূলত হামলার ধরণ, স্কেল এবং লক্ষ্যবস্তুর উপর নির্ভর করবে, যা ইরানে, সমগ্র অঞ্চলে এবং বিশ্বব্যাপী একটি গুরুতর সংকট তৈরি করতে পারে।

জানা গেছে, কাতার, তুরস্ক, মিসর ও ওমানের মধ্যস্থতায় গত ৬ ফেব্রুয়ারি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। সম্ভাব্য এ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রস্তাবিত বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন সময়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যখন তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয় পক্ষই সরাসরি সামরিক সংঘাতের পথ থেকে সরে আসার বার্তা দিচ্ছে। উল্লেখ্য, গত জুনে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল।

ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এ আলোচনা নিয়ে মিশ্র অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আলোচনার নির্দেশ দিলেও দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এখনো কঠোর অবস্থানে অটল রয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে ইরানের ওপর কোনো ধরনের হামলা হলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নেবে। অন্যদিকে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ মঙ্গলবার ইসরাইল সফর করেন। যেখানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর বৈঠক করেন। সব মিলিয়ে শুক্রবারের সম্ভাব্য বৈঠকটি মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আগের খবরে বলা হয়, ইরানে প্রাণঘাতী দমন পীড়নের পর সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের উসকে দিতে লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক হামলার বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছেন ট্রাম্প এমন তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে : এ সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে একটি মার্কিন রণতরী ও সহায়ক যুদ্ধজাহাজ পৌঁছানোয় অঞ্চলটিতে ওয়াশিংটনের সামরিক সক্ষমতা বেড়েছে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হামলা হলে তা গত জুনে তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো হামলার চেয়েও বড় হবে।

ইরানের প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক অবস্থান : সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। একই সঙ্গে তারা কূটনৈতিক যোগাযোগও খোলা রাখছে বলে জানা গেছে। এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বলেন, পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে আলোচনায় তেহরান প্রস্তুত, তবে উসকানি দেওয়া হলে তারা ‘আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তভাবে’ আত্মরক্ষা করবে।

হামলায় সরকার পতনের প্রশ্নে সংশয় : ইসরাইলী কর্মকর্তারা মনে করেন, শুধু বিমান হামলা দিয়ে ইরানে সরকার পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র- ইসরাইল সমন্বয়ে যুক্ত এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সরালেও শাসনব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে পড়বে না; দ্রুতই নতুন নেতৃত্ব উঠে আসবে। মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নেও বলা হয়েছে, বিক্ষোভ ও অর্থনৈতিক সংকটে সরকার দুর্বল হলেও এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

৮৬ বছর বয়সি খামেনি জনসমক্ষে উপস্থিতি কমিয়ে দিলেও যুদ্ধ, পারমাণবিক নীতি ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা তার হাতেই রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ-এর হিসাবে, ইরানে সাম্প্রতিক এ বিক্ষোভে ইরানে ৫ হাজার ৯৩৭ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২১৪ জন নিরাপত্তা সদস্য। ইরানি সরকারের হিসাব অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৭।

উপসাগরীয় দেশগুলো কী করছে? উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলো আশঙ্কা করছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হলে ইয়েমেনে ইরানপন্থি গোষ্ঠীর মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা হতে পারে। সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও মিশর নাকি ওয়াশিংটনকে এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং তাদের আকাশসীমা ও ভূখন্ড ব্যবহারের অনুমতি দেবে না বলে জানিয়েছে। এক আরব কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ট্রিগার টানতে পারে, কিন্তু এর পরিণতি আমাদেরই বয়ে নিতে হবে।’

সমুদ্রের নিচে ইরানের বিশাল ‘মিসাইল সিটি’ : মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হওয়ার মাঝেই সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে রাখা নিজেদের বিশাল মিসাইল সুড়ঙ্গ বা আন্ডারগ্রাউন্ড মিসাইল সিটির দৃশ্য প্রকাশ্যে এনেছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সমুদ্রপৃষ্ঠের অনেক গভীরে তৈরি করা এসব সুড়ঙ্গে শত শত ক্রুজ মিসাইল যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ শাখার কমান্ডার আলীরেজা তাঙসিরি এই সুড়ঙ্গ থেকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরানের ওপর কোনো আঘাত এলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী আর কারও জন্য নিরাপদ থাকবে না। ইরানি নৌ কমান্ডারের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা দ্রুতই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দু’দেশের পাল্টাপাল্টি অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। একদিকে সমুদ্রের নিচ থেকে ইরানের মিসাইল সুড়ঙ্গের হুমকি, অন্যদিকে সমুদ্রের বুক চিরে ধেয়ে আসা মার্কিন নৌবহরের হুঙ্কার সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন বারুদে ঠাসা। বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলো নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি প্রয়োগ করলেও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন নিশ্চিত নয়। কারণ, ইরান এমন কোনো ভঙ্গুর রাষ্ট্র নয় যে দ্রুত ভেঙে পড়বে। ৯৩ মিলিয়ন জনসংখ্যা এবং শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় সক্ষমতাসম্পন্ন দেশটির একটি স্তরীভূত নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং এমন সব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা সংকট মোকাবিলায় বেশ সক্ষম। ৪৭ বছরের শাসনামলে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানি সমাজে গভীরভাবে প্রোথিত। তাছাড়া নেতৃত্বের যে কোনো পরিবর্তনে সবকিছু রাতারাতি বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিজেও এটি স্বীকার করেছেন; গত ২৮ জানুয়ারি আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, সরকার পতন হলে কী ঘটবে, তার ‘কোনো সহজ উত্তর নেই’।

সরকার পরিবর্তন হোক বা না হোক, যে কোনো মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ বৈশ্বিক পারমাণবিক বিস্তারের ক্ষেত্রে গভীর প্রভাব ফেলে। ইরানের প্রান্তিক রাষ্ট্র বা থ্রেশহোল্ড স্তরে থাকা ছিল একটি কৌশলগত সংযমের বিষয়; কিন্তু ২০২৫ সালের জুনে যখন ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালাল, তখন সে হামলা এবং ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি এই স্পষ্ট বার্তা দিল যে, প্রান্তিক স্তরে অবস্থানের বিষয়টি নিরাপত্তার কোনো নির্ভরযোগ্য গ্যারান্টি দেয় না। সব কিছু মিলিয়ে আগামী কয়েক দিনের আলোচনার দিকেই এখন সবার দৃষ্টি।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক।