চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারি শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে দেশবাসি স্বস্তি লাভ করে। এর আগে বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর দেশে জগদ্দল পাথরের মতো জনগণের উপর চেপে বসেছিল। আওয়ামী লীগ আমলে ব্যাপক দলীয়করণ ও আত্মীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। বিগত সরকারের আমলে সবচেয়ে বিতর্কিত এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর মাধ্যমে লুন্ঠনতন্ত্র চালু করা হয়েছিল। এমনকি একজন বিতর্কিত ব্যবসায়ী, যার নাম উচ্চারিত হলেই শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির দুঃসহ স্মৃতি মনের কোনে জেগে উঠে তাকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। এরা পরিকল্পিতভাবে দেশের অর্থনীতি, বিশেষ করে ব্যাংকিং সেক্টরকে ধ্বংস করে দেয়া হয়। বিগত সরকারের দুর্নীতির কৌশল ছিল উন্নয়নের নামে জনগণের চোখে ধুলো দিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুন্ঠন করা এবং বিদেশে পাচার করা। তারা অতি উন্নয়নের নামে অতি দুর্নীতিতে লিপ্ত ছিল। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-নেত্রীরা দেশের সম্পদ লুটে নিয়ে বিদেশে পাচার করেছে। আর বিদেশে অর্থ পাচারের নিরাপদ পন্থা হিসেবে তারা ব্যাংকিং সেক্টরকে ব্যবহার করতো। ওয়াশিংটন ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইনটিগ্রিটি (জিএফআই) তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিল, বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে প্রতি বছর ৬৪ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়। পণ্য আমদানিকালে ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার করা হতো।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পণ্য আমদানি খাতে অর্থ ব্যয়ের হার অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। অর্থনীতিবিদদের অনেকেই বলেন, বর্তমানে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের চাঙ্গাভাব অনেকটাই কমে গেছে। বিশেষ করে পণ্য আমদানিতে মন্থরতা দেখা দিয়েছে। অর্থনীতিবিদদের এ মন্তব্য পুরোপুরি সত্যি নয়। কারণ বাংলাদেশের পণ্য আমদানির পরিমাণ আগের মতোই আছে। তবে অর্থ পাচার আগের তুলনায় অনেকটাই কমে গেছে। ফলে আমদানি খাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের পরিমাণও কমেছে। অর্থ পাচার কমে যাবার প্রভাব অন্যান্য খাতেও পড়েছে। সর্বশেষ ব্যক্তি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। ব্যক্তি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধির হার দেখে অনুমান করা যায় দেশের অর্থনীতি কেমন অবস্থায় আছে। বিগত সরকার আমলে এক মুদ্রানীতিতে ব্যক্তি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৪ দশমিক ১ শতাংশ। কিন্তু বাস্তবে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ। অথচ একই সময়ে শিল্পে ব্যবহার্য ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানি কমেছিল ৭৬ শতাংশ, কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি কমেছিল ১৪ শতাংশ করে।
তাহলে ব্যক্তি খাতে উৎপাদনকার্যে দেয়া বিপুল পরিমাণ ব্যাংক ঋণের অর্থ কোথায় গেল? নিশ্চিতভাবেই এ অর্থ নানা প্রক্রিয়ায় ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হয়ে বাজারে চলে এসেছিল এবং এর বিরাট অংশই বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। বিদেশে পাচার হয়েছে বলেই আমদানি ব্যয় এতটা বেশি ছিল। বর্তমানে আমদানি ব্যয় অনেকটাই কমে এসেছে। এটা আমদানি মন্দার কারণে হয়েছে তা পুরোপুরি সত্যি নয়। এটা হবার পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে বিদেশি অর্থ পাচার কমে যাওয়া। এখনো বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে তবে তা তুলনামূলক কম পরিমাণে। আগে যারা সরকারি আশ্রয়-প্রশয়ে বিদেশি অর্থ পাচার করতেন এখন তারা দৃশ্যান্তরে চলে গেছেন। কেউ বা জেলে আটক আছেন। কেউ বা পালিয়ে আছেন। তারা আর আগের মতো অর্থ পাচার করতে পারছেন না। এখন যেটা আমদানি ব্যয় সেটাই প্রকৃত আমদানি ব্যয়। রপ্তানি খাতে মোটামুটি চাঙ্গাভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর কারণ হচ্ছে বিগত সরকারের আমলে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ১১০ টাকা ফিক্সড করে রাখার ফলে পণ্য রপ্তানিকারকগণ তাদের রপ্তানি আয়ের পুরোটা দেশে আনতেন না। রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যেতে পারে।
বর্তমানে পণ্য আমদানি খাতে যে ব্যয় হচ্ছে তা যৌক্তিক হলেও আমাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য খুবই সম্ভাবনাময়। কিন্তু কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে সে সম্ভাবনাকে আমরা পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারছি না। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চলছে কোন ধরনের কার্যকর পরিকল্পনা ছাড়াই। ফলে এ খাতের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। যে কোনো দেশের বৈদেশিক মুদ্রাা অর্জনের প্রধান খাত হচ্ছে পণ্য রপ্তানি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান সূত্র হচ্ছে বৈদেশিক বাণিজ্য। যদিও বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে যে অর্থ প্রতি বছর অর্জিত হয় তার একটি বড় অংশই কাঁচামাল, ক্যাপিটাল মেশিনারিজ ও মধ্যবর্তী পণ্য আমদানিতে পুনরায় বিদেশে চলে যায়। বিশ্বের যেসব দেশ রপ্তানি আয়ের মাধ্যমে কাক্সিক্ষত মাত্রায় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে চায় তাদের মূল লক্ষ্য থাকে কিভাবে রপ্তানি পণ্য তালিকায় নতুন নতুন এবং স্থানীয় কাঁচামাল নির্ভর পণ্য স্থান দেয়া যায়। নতুন নতুন পণ্য রপ্তানি করা গেলে উদ্দিষ্ট গন্তব্যে সংশ্লিষ্ট পণ্যের চাহিদা সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। কিন্তু বাংলাদেশের রপ্তানি কার্যক্রম সামান্য কিছু পণ্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে। নতুন একজন উদ্যোক্তা কোন শিল্প-কারখানা স্থাপন করতে চাইলে প্রথমেই তৈরি পোশাক কারখানা স্থাপনের কথা বিবেচনা করে। অথচ তৈরি পোশাকের চেয়ে সম্ভাবনাময় অনেক পণ্য আছে যেগুলো স্থানীয় কাঁচামাল নির্ভর এবং অধিক মূল্য সংযোজনকারি। কিন্তু সেদিকে আমাদের কোন মনোযোগ নেই।
রাষ্ট্রীয়ভাবেও এ ব্যাপারে কিছু করা হচ্ছে না। স্থানীয় কাঁচামাল নির্ভর পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির উদ্যোগ নেয়া হলে তা অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। কোন দেশে পণ্য রপ্তানি করতে চাইলে সে দেশের বাজারে সংশ্লিষ্ট পণ্যের চাহিদা এবং উপযোগিতা বৃদ্ধি করতে হয়। এ জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য রপ্তানির ব্যবস্থা করতে হয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, যে দেশের বাজারে আমরা পণ্য রপ্তানি করতে যাচ্ছি সে দেশের বাজার আগে থেকেই অন্য দেশের বাজারে অন্য দেশের পণ্যের উপস্থিতি রয়েছে। একজন ভোক্তা চাইবে তুলনামূলক কম মূল্যে, গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য পেতে। এটা না করা গেলে সেই বাজারে সংশ্লিষ্ট পণ্যের চাহিদা সৃষ্টি করা যাবে না। বাংলাদেশ নানাভাবে বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিধি এবং গন্তব্য সম্প্রসারণের চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে অর্জনের হার খুব একটা সন্তোষজনক নয়। কারণ আমরা একই ধরনের পণ্য নিয়ে দিনের পর দিন রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টায় রত আছি। বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য তালিকার ৮৪ শতাংশ জুড়ে আছে তৈরি পোশাক। বিশ্বের খুব কম দেশই আছে যারা এভাবে একটি মাত্র পণ্যের উপর নির্ভর করে তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনা করছে।
প্রাপ্ত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে বাংলাদেশ মোট ১১ হাজার ৪০১ কোটি মার্কিন ডলারের বৈদেশিক বাণিজ্য করেছে। এর মধ্যে আমদানি করা হয়েছে ৬ হাজার ৭৪৪ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য। আর রপ্তানি করা হয়েছে ৪ হাজার ৬৫৭ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য। অর্থাৎ বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৭ কোটি মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে বাংলাদেশ মোট ৬ হাজার ৫১৪ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানির বিপরীতে রপ্তানি করেছিল ৪ হাজার ২৯৬ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য। বাংলাদেশ ১২২টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে এগিয়েছে এবং ১০৪টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে পিছিয়ে পড়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ মোট ২২৬টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পাদন করেছে। বাংলাদেশ এতগুলো দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করলে ৬/৭টি দেশে রপ্তানি হয় বাংলাদেশের সর্বাধিক পণ্য। আবার একইভাবে ৬/৭টি দেশ থেকে আসে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ আমাদনি পণ্য। আমদানি-রপ্তানির এ বৈসাদৃশ্য বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি বড় দুর্বলতা। বাংলাদেশ যেসব দেশ থেকে বেশি পরিমাণে পণ্য আমদানি করে সে সব দেশে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির পরিমাণ খুবই সীমিত। আবার যে সব দেশে বাংলাদেশ বেশি পরিমাণে পণ্য রপ্তানি করে সে সব দেশে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ খুবই কম। বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গত ৫ মাসে বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে মোট ৮৭৬ কেআট মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। এর বিপরীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট থেকে বাংলাদেশ ২৫০ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অনুকূলে উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় ৬২৬ কোটি মার্কিন ডলার। অন্যদিকে একই সময়ে জার্মানি থেকে বাংলাদেশ ৮২ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানির বিপরীতে ৫৩২ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশ দু’টির মধ্যে সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অনুকূলে উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার। অন্যদিকে বাংলাদেশ চীন থেকে আমদানি করে ২ হাজার ৬১ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য। এর বিপরীতে বাংলাদেশ চীনে রপ্তানি করে ৭৪ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য। ফলে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৮৭ কোটি মার্কিন ডলার। একইভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশ আমদানি করে ৯৬৮ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য। আর ভারতে রপ্তানি করা হয় ১৮২ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য। ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিকূলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৮৬ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা রপ্তানি পণ্য এবং গন্তব্যের ভিন্নমুখিতা সৃষ্টিতে ব্যর্থতা।
জাতিসঙ্ঘের একটি শক্তিশালি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে গেছে। তারা বাংলাদেশের অর্থনীতির সক্ষমতা এবং দুর্বলতাগুলো প্রত্যক্ষ করেছেন। এ প্রতিনিধিদলের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই জাতিসঙ্ঘ সিদ্ধান্ত নেবে আগামী বছর থেকে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের চূড়ান্ত তালিকায় স্থান দেয়া হবে কি না? বাংলাদেশ যদি উন্নয়নশীল দেশের চূড়ান্ত তালিকায় স্থান লাভ করে তাহলে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চল থেকে রপ্তানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পাওয়া সব সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে। এতে প্রতি বছর ৭ থেকে ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি হবে। আমরা কি এই বিপুল পরিমাণ ক্ষতি পুষিয়ে উঠার জন্য কোন বিকল্প চিন্তা-ভাবনা করছি?
আগামীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিশেষ করে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মারাত্মক সমস্যায় পড়তে যাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্য জরুরি ভিত্তিতে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। প্রথমেই আমাদের বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিতে হবে। স্থানীয় কাঁচামাল নির্ভর পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি পণ্য তালিকায় যুক্ত করার চেষ্টা চালাতে হবে। দ্বিপাক্ষিক চুক্তিভুক্ত দেশের ভোক্তাদের চাহিদার প্রতি দৃষ্টি রেখে পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির ব্যবস্থা করতে হবে। যেমন চীন তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। আমরা যদি তৈরি পোশাক নিয়ে চীনের অভ্যন্তরীণ বাজার দখল করতে চাই তাহলে সেটা কোন দিনই সম্ভব হবে না। তারপর কিছুটা বাজার হয়তো দখল করা যাবে যদি আমরা চীনা উৎপাদকদের চেয়ে তুলনামূলক কম মূল্যে গুনগত মানসম্পন্ন তৈরি পোশাক রপ্তানি করতে পারি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কারো দয়ার উপর নির্ভর করে বিকশিত হয় না। এখানে ধর্মীয় বাধনও কোন কাজে আসে না। ধর্মীয় সাযুজ্য যদি বাণিজ্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতো তাহলে সৌদি আরবসহ মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের রপ্তানি পণ্যের সবচেয়ে বেশি উপস্থিতি প্রত্যক্ষ করা যেতো। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারগুলো চীন এবং ভারতের পণ্যে পরিপূর্ণ। রপ্তানিকৃত দেশের স্থানীয় ভোক্তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে এমন পণ্য রপ্তানির ব্যবস্থা করতে হবে।
আগামীতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে চলেছে। সে অবস্থা মোকাবেলার জন্য আমাদের এখনই জরুরি ভিত্তিতে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
লেখক : সাবেক ব্যাংকার।