সেপ্টেম্বরে থাইল্যান্ডে পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রার শাসন অবসানের পর যে আশংকা করা হয়েছিল শেষে তিন মাসের মাথায় সেটাই ঘটলো। দু’যুগেরও বেশি সময় ধরে থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা পরিবার। তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রার ক্ষমতাচ্যুতির মধ্য দিয়ে সে পরিবারের শাসনের অবসান ঘটে। এরপর জোড়াতালি দিয়ে সরকার চালানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেটা স্থায়ী হবে না বলে শংকা প্রকাশ করেছিলেন বিশ্লেষকরা। শেষে সেটাই সত্যি হলো। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে নির্বাচন কি দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে?
একদিকে ক্ষমতাসীন জোটের রাজনৈতিক দলগুলোর বোঝা পড়ার অভাব ও অন্যদিকে কম্বোডিয়ার সাথে সীমান্তে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলা নতুন সংঘর্ষের পর ১২ ডিসেম্বর পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়েছে থাইল্যান্ড সরকার। এখন দেশটি নতুন নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। থাইল্যান্ডের নির্বাচন কাউন্সিল ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে সাধারণ নির্বাচনের অনুমোদন দিয়েছে। এমপি প্রার্থীদের আবেদন ২৭-৩১ ডিসেম্বর গ্রহণ করা হবে।
দলীয় তালিকাভুক্ত প্রার্থী এবং প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীর তালিকার আবেদন ২৮-৩১ ডিসেম্বর গ্রহণ করা হবে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলমের অনুরোধে থাই রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন সংসদ ভেঙে দেন। অনুতিন আনুষ্ঠানিকভাবে ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচনের অনুরোধ করার পর রাজা প্রতিনিধি পরিষদ ভেঙে দেওয়ার একটি রাজকীয় ডিক্রি জারি করেন। এবার নতুন নিয়ম করা হয়েছে দলগুলোকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে হবে। সব দলই সে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর।
থাইল্যান্ডের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে গড়ে উঠেছিল থাকসিন সিনাওয়াত্রা পরিবারটি। তিনি ক্ষমতায় থাকাকালে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।
স্থিতিশীল সরকার আসবে কিনা সে প্রশ্ন আসার কারণ থাইল্যান্ডের সদ্য ভেঙ্গে দেয়া সংসদ ২০২৩ সালের মে মাসের সাধারণ নির্বাচনের পর গঠিত হয়। এরপর তিন দফা সরকার পরিবর্তন হয়েছে। নতুন নির্বাচনে কোন দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সংকট থেকেই যাবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার কী কারণ? উত্তরটা দিয়েছেন তিন মাসের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন নিজেই। আনুতিন চার্নভিরাকুল জানিয়েছেন, তিন মাস আগে তার সংখ্যালঘু সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আসছে। এখন ‘উপযুক্ত সমাধান হলো সংসদ ভেঙে দেয়া। যা হবে জনগণের কাছে রাজনৈতিক ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়ার একটি উপায়।’
বিবিসির বিশ্লেষক বলছেন, ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিক হওয়া আনুতিন ২০২৩ সালের আগস্টের পর থেকে থাইল্যান্ডের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী। সেপ্টেম্বর মাসে তিনি যখন ক্ষমতায় আসেন তখনই জানুয়ারির শেষ নাগাদ সংসদ ভেঙে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অনাস্থা ভোটের মুখে তিনি নির্বাচনের সময় আরো এগিয়ে আনলেন তিনি। গত মাসে দক্ষিণ থাইল্যান্ডের ভয়াবহ বন্যা মোকাবেলায় ব্যর্থতার কারণে আনুতিন ও তার ভূমজাইথাই পার্টি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল। ওই বন্যায় অন্তত ১৭৬ জনের মৃত্যু হয় । এদিকে কম্বোডিয়ার সাথে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সংঘর্ষের মধ্যেই সংসদ ভেঙে দেয়ার এ সিদ্ধান্ত এলো। এবারের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
থাইল্যান্ডের রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের অনুমোদিত ডিক্রিতে আনুতিন লিখেছেন, ‘এ সরকার দেশের সামনে আসা জরুরি সমস্যা দ্রুত সমাধানে জনপ্রশাসনের সব ধরনের উপায় প্রয়োগ করেছে। কিন্তু দেশ চালাতে স্থিতিশীলতা প্রয়োজন।’ তিনি আরো লিখেছেন, ‘সংখ্যালঘু সরকার হিসেবে জটিল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাথে মিলিয়ে এটি ধারাবাহিক, কার্যকর ও স্থিতিশীল জনপ্রশাসন পরিচালনা করতে সক্ষম হয়নি।’ আনুতিনের প্রধানমন্ত্রিত্বকে সমর্থন দেয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সবচেয়ে বড় যুবসমর্থিত, প্রগতিশীল দল পিপল’স পার্টি তার পাশ থেকে সরে যাবার পরই সংসদ ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত এলো।
মতাদর্শিক দিক দিয়ে পিপল’স পার্টি আর বাস্তববাদী, রক্ষণশীল ভূমজাইথাই পার্টির অবস্থান দুই বিপরীত মেরুতে। বিরোধী জোটের এ সমর্থন ছিল শর্তসাপেক্ষ। অন্যান্য দাবির পাশাপাশি তারা চাইছিল আনুতিন যেন সামরিক বাহিনী প্রণীত সংবিধানের সংস্কার শুরু করেন এবং চার মাসের মধ্যে সংসদ ভেঙে দেন। পিপল’স পার্টির এখন অভিযোগ, ভূমজাইথাই সে চুক্তি রক্ষা করেননি। থাই গণমাধ্যম জানিয়েছে, তারা সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেয়ার পরিকল্পনা করেছিল। এর আগেই ‘জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ দেখাতে’ প্রধানমন্ত্রীকে সংসদ ভেঙে দিতে আহ্বানও জানিয়েছিল দলটি।
গত এক বছর ধরে থাইল্যান্ডে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলমান। এ সময়ে দু’জন প্রধানমন্ত্রীকে পদচ্যুতও করেছে আদালত। নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে আনুতিনের পূর্বসূরি পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে অপসারণ করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ফাঁস হওয়া এক ফোন কলে কম্বোডিয়ার সাবেক নেতা হুন সেনকে তিনি ‘চাচা’ বলে সম্বোধন ও থাই সেনাবাহিনীর সমালোচনা করেছিলেন। তার আগের নেতা স্রেত্তা থাভিসিনকেও নৈতিকতা লঙ্ঘনের দায়ে বরখাস্ত করা হয়। থাভিসিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তার মন্ত্রিসভায় এমন একজন সাবেক আইনজীবীকে নিয়োগ দিয়েছিলেন যিনি একসময় জেলে ছিলেন। দেশটিতে সাংবিধানিক আদালত খুব পাওয়ারফুল বডি। তাদের হাত থেকে নিস্তার পায় না কেউ। দেখা যাচ্ছে রাজনৈতিক সংকট পিছু ছাড়ছে না দেশটির । তা না হলে কেন ঘন ঘন সরকারের বিদায় হচ্ছে, স্তিতিশীল কোন সরকার আসছে না।
মূলত ব্যবসায়ী হলেও এশিয়ার মোটামুক্তি শক্ত অর্থনীতি থাইল্যান্ডের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে গড়ে উঠেছিল থাকসিন সিনাওয়াত্রা পরিবারটি। তিনি ক্ষমতায় থাকাকালে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। ফলে এ দেশে তার একটি ভাল ইমেজ গড়ে ওঠে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষও তার সস্পর্কে আগ্রহী ছিলেন। পরে অবশ্য সরকারগুলোর সাথে এ হৃদ্যতা তেমনটা থাকেনি।
২০০১ সালে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন পেতংতার্ন সিনওয়াত্রার বাবা থাকসিন সিনওয়াত্রা। তার নীতি ও অর্থনৈতিক প্রজ্ঞার কারণেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে ওঠেন থাকসিন। তিনি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নয়নমূলক কর্মসূচি চালু করেন। এ নীতি সাধারণ জনগণের মধ্যে তার বিশাল সমর্থন তৈরি করে।
২০০৫ সালে আবারও ক্ষমতায় এসেছিলেন থাকসিন। সে বছর চমকপ্রদ জয় লাভ করেন থাকসিন। যা তাকে প্রায় অবাধ ক্ষমতা দেয়। কিন্তু এ ক্ষমতা সমানভাবে বিতর্কও বয়ে আনে। তাকে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে অভিযুক্ত করেন বিরোধীরা। ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।
অতীতে বারবার দেখা গেছে এ ক্যু দেতা। থাই রাজনীতিতে সামরিক বাহিনির একটি বড় প্রভাব আছে। সেটা আবার প্রমাণ হয়েছিল সেবার। এ অভ্যুত্থান শুধু রাজনৈতিক দৃশ্যপটই পরিবর্তন করে না, বরং থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ২০০৮ সালে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে যান থাকসিন। কিন্তু সিনাওয়াত্রা বংশের উত্তরসূরিরা বিভিন্নভাবে ঘুরে ফিরে থাই রাজনীতিতে এসেছেন। পরবর্তীতে ২০১১ সালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন থাকসিনের বোন ইংলাক। রাজনৈতিক নেতা হিসাবে ইংলাক বড় ভাইয়ের ছায়া থেকে মুক্ত হতে পারেননি। তিনি থাকসিনকে প্রত্যাবর্তনের জন্য একটি সাধারণ ক্ষমা বিল পাশ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। তিনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে বোঝাপড়ার মাধ্যমে থাকসিনকে দেশে ফেরাতে চেষ্টা করেন। তবে এ পদক্ষেপই তার কাল হয়ে দাঁড়ায়।
২০১৪ সালে আদালতের রায়ের মাধ্যমে ইংলাকের প্রধানমন্ত্রিত্ব বাতিল করা হয়। কয়েক সপ্তাহ পরে সামরিক বাহিনী তার প্রশাসনের বাকি অংশকেও বিলুপ্ত ঘোষণা করে। এরপর ২০২৩ সালে থাই ক্ষমতার লাগাম ধরতে রাজনীতিতে পা রাখেন থাকসিন সিনাওয়াত্রার কনিষ্ঠ সন্তান পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মাত্র এক বছরের মাথায় ক্ষমতা হারান তিনিও। কম্বোডিয়ার সাবেক নেতার সঙ্গে তার একটি ফোনকলের রেকর্ড ফাঁস হওয়ায় মাত্র এক বছরের মধ্যেই ক্ষমতা হারান তিনি. যে কথা শুরতেই বলেছি। যদিও নতুন নির্বাচনই সংকটের স্বাভাবিক সমাধান ছিল, কিন্তু পেতংতাণেৃর দল ফিউ থাই পার্টি তা চায়নি। কারণ, দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে থাইল্যান্ডের অপ্রতিরোধ্য নির্বাচনী শক্তি হিসেবে আধিপত্য বিস্তার করা ফিউ থাইয়ের লক্ষ্য ছিল। যদিও সে ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব ছিল বলে বিশ্লেষকরা মনে করেছেন।
থাইল্যান্ডের জাতীয় আইনসভা দু’টি কক্ষে বিভক্ত - সিনেট বা উচ্চকক্ষ এবং প্রতিনিধিসভা বা নিম্নকক্ষ। উচ্চকক্ষের সদস্যসংখ্যা ১৫০; এদের মধ্যে ৭৬ জন জনগণের সরাসরি ভোটে প্রতি প্রদেশ থেকে ১ জন করে নির্বাচিত হয়ে আসেন। বাকী ৭৪ জন সিনেট সদস্য নির্বাচন কমিশনের তৈরি করা একটি তালিকা থেকে বিচারক ও ঊর্ধ্বতন অফিসারদের দ্বারা বাছাই হন। নিম্নকক্ষে ৪৮০ জন সদস্য এবং এদের মধ্যে ৪০০ জন থাইল্যান্ডের বিভিন্ন জেলা ও নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। বাকীদেরকে বিভিন্ন দলের তৈরি করা তালিকা থেকে আনুপাতিক হারে বাছাই করা হয়। দেখা যাচ্ছে দেশটিকে ফার্স্ট পাস্ট দি পোস্ট (এফপিটিপি) ও প্রোপোরশনাল রিপ্রিজেন্টেশন (পিআর) দুটিরই বিধান রয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রস্থুতি চলছে। ব্যাংকক পোস্ট জানায়, ভুমজাইথাই (বিজেটি) নেতা সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বলেছেন যে নির্বাচনের পরে তিনি যে কোনও দলের সাথে কাজ করবেন যারা জাতির স্বার্থে অবদান রাখতে আগ্রহী, তিনি বলেছেন যে যেকোনো ধরণের রাজনৈতিক সহযোগিতা অবশ্যই সমগ্র দেশের জন্য উপকারী হতে হবে।
থাকসিন সিনাওয়াত্রার দল ফিউ থাই পার্টি নিশ্চিত করেছে যে তাদের তিনজন প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীকে দলীয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যদিও তাদের চূড়ান্ত তালিকা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। পার্টির মহাসচিব প্রসার্ট চান্টারুয়াংথং সোমবার বলেছেন যে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার করার সাথে সাথে, ৫০০ জন সংসদীয় প্রার্থীর নাম বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে, যার মধ্যে তিনজন প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী - ইয়োদচানান ওংসাওয়াত, জুলাপুন আমোরনভিভাত এবং সুরিয়া জুংরুংগ্রেয়াংকিতও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এর মধ্যে ইয়োদচাচান সাবেক প্রধানমন্ত্রী সোমচাই ওংসাওয়াতের পুত্র । সোমচাই থাকসিন সিনাওয়াত্রার ব্রাদার ইন ল। তিনি সিনাওয়াত্রার ক্ষমতাচ্যূতির পর প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। এছাড়া পিপলস পার্টিও আছে প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
এতসব প্রস্তুতি একদিকে চলমান। কিন্তু থাই-কম্বোডিয়া সীসান্তে উত্তেজনা এখনো কমেনি। ব্যাংকক পোস্ট আরো জানাচ্ছে, মঙ্গলবারও থাই ভূখণ্ডে কম্বোডিয়ার আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে, যদিও উভয় দেশই বুধবার দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু হওয়ার আশা করছে। থাই প্রতিরক্ষা মুখপাত্র র্যাডম সুরসান্ত কংসিরি মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন যে সোমবার বারবার আক্রমণের পর কম্বোডিয়া মঙ্গলবার সকালে থাইল্যান্ডে তাদের গোলাবর্ষণ পুনরায় শুরু করে।প্রতিদিন বিকেলের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন যে সোমবার সকাল ১১.৩০ টার দিকে সা কায়েওর তা ফ্রায়া জেলার থাই সামরিক অবস্থানগুলিতে কম্বোডিয়ার ভারী গোলাবর্ষণে একজন থাই সৈন্য নিহত হয়। বুধবার থেকে চলা যুদ্ধবিরতি আলোচনা সফল হলে হয়তো নতুন কোন বার্তা পেতে পারে দেশটি।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক।