আগামী ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থী আছেন ১ হাজার ৭৩২ জন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ২৪৯ জন। প্রত্যেক দল নিজ নিজ দলের প্রতীক নিয়ে ভোট করলেও মূলত দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে প্রতিদ্ব›দ্বিতা করছেন তারা। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন দশদলীয় জোট ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন কয়েকটি দল। প্রত্যেক দল ও প্রার্থীকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে হবে অন্যথায় জরিমানাসহ প্রার্থিতাও বাতিল হতে পারে। এবারের প্রচারণায় বেশকিছু নতুন নিয়ম কানুন এসেছে। পোস্টার নেই। ব্যানার ও লিফলেট তৈরি করা যাবে। ডিজিটাল বিলবোর্ডও তৈরি করা যাবে। তবে এসবেরও নিয়ম ও সাইজ রয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধিমালায় এসব বিষয় উল্লেখ করা আছে। প্রত্যেক প্রার্থী তার নির্বাচনী প্রচারণায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরকে এসব আচরণবিধি সর্ম্পকে অবহিত করতে হবে। এমন কী প্রত্যেকের কাছে এ বিধিটি রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’, এ সংশোধিত এ বিধিমালায় ৩১টি বিধি ও দু’টি তফসিল রয়েছে। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা নির্বাচনের সময় কী কী করতে পারবেন, আর কী কী করতে পারবেন নাÑসেসব বিষয় এ বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচন-পূর্ব সময়ে (তফসিল ঘোষণার দিন থেকে নির্বাচনের ফল গেজেটে প্রকাশ পর্যন্ত) নির্বাচনী এলাকায় বসবাসকারী কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা অন্যত্র অবস্থিত কোনো প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রকার চাঁদা, অনুদান বা উপহার প্রদান করতে বা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিতে পারবেন না। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন থেকে সংবর্ধনা গ্রহণ করতে পারবেন না। এছাড়া, কোনো প্রার্থী নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব বা উন্নয়ন তহবিলভুক্ত কোনো প্রকল্পের অনুমোদন, ঘোষণা, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কিংবা ফলক উন্মোচন করতে পারবেন না। সরকারি ডাক-বাংলো, রেস্ট হাউজ, সার্কিট হাউজ বা কোনো সরকারি কার্যালয় নির্বাচনী প্রচারের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। বিধি-৬-এ বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণায় সকল প্রার্থী সমান সুযোগ পাবেন। তবে কেউ প্রতিপক্ষের জনসভা, শোভাযাত্রা বা প্রচারণায় বাধা দিতে বা ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারবেন না। নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগে রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রচারণার কর্মসূচি জমা দিতে হবে। একই স্থানে ও একই সময়ে একাধিক দল বা প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা কর্মসূচির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা সমন্বয় করবে। কোনো প্রার্থী জনসভা করতে চাইলে প্রস্তাবিত সভার কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা পূর্বে জনসভার স্থান ও সময় সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ কর্তৃপক্ষ উক্ত স্থানে চলাচল ও আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করবে। জনগণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো স্থান, সড়ক, মহাসড়ক ও জনপথে জনসভা, পথসভা কিংবা কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ করা যাবে না। এছাড়া, কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদেশে কোনো প্রকার জনসভা, পথসভা, সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠান বা কোনো প্রকার প্রচার-প্রচারণা করতে পারবেন না।

বিধি-৭-এ উল্লেখ রয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো প্রকার পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। প্রচারণায় পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর অপচনশীল দ্রব্য যেমন : রেক্সিন, পলিথিন, প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি কোনো প্রচারপত্র, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন ও ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না। একই সঙ্গে ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুনে পলিথিনের আবরণ ব্যবহার করা যাবে না। কোনো প্রার্থী কিংবা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় অবস্থিত কোনো দালান, দেওয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি, সরকারি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের স্থাপনাসমূহ এবং বাস, ট্রাক, ট্রেন, স্টিমার, লঞ্চ, রিকশা, অটোরিকশা, লেগুনা, ট্যাক্সি, বেবিটেক্সি বা অন্য কোনো যানবাহনে কোনো প্রকার লিফলেট বা হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন সাঁটাইতে পারবেন না। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ডের উপর অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ড টাঙানো যাবে না। এছাড়া, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ডের কোনো প্রকার ক্ষতিসাধন তথা বিকৃতি বা বিনষ্ট করা যাবে না। ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যতীত নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার্য ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন সাদা-কালো রঙের হতে হবে।

ব্যানারের দৈর্ঘ্য ১০ ফুট এবং প্রস্থ ৪ ফুটের বেশি হওয়া যাবে না। লিফলেট বা হ্যান্ডবিল এর সাইজের (৮.২৭ ইঞ্চি ী ১১.৬৯ ইঞ্চি) চেয়ে বড় করা যাবে না। ফেস্টুনের দৈর্ঘ্য হবে সর্বোচ্চ ২৪ ইঞ্চি এবং প্রস্থ হবে সর্বোচ্চ ১৮ ইঞ্চি। ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুনে প্রতীক, নিজের ছবি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দলীয় প্রধানের ছবি ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তির ছবি বা প্রতীক ছাপানো যাবে না। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ভোটার স্লিপ বিতরণ করতে পারবেন, তবে তাতে প্রার্থীর নাম, ছবি, পদের নাম, প্রতীক কিংবা ভোট প্রার্থনা-সংক্রান্ত কোনো কিছু উল্লেখ করা যাবে না। বিধি-৮ নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো বাস, ট্রাক, নৌযান, মোটরসাইকেল কিংবা অন্য কোনো যান্ত্রিক বাহন সহকারে কোনো মিছিল, জনসভা কিংবা কোনোরূপ শোডাউন করা যাবে না। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে যানবাহন সহকারে কিংবা যানবাহন ব্যতীত কোনো ধরনের মশাল মিছিল করা যাবে না। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ও কোনো প্রকার মিছিল কিংবা শোডাউন করা যাবে না। এছাড়া, নির্বাচনী প্রচারণা এবং ভোটগ্রহণের সময় কোনো প্রকার ড্রোন, কোয়াডকপ্টার বা এরূপ যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।

রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোনয়নপত্র দাখিল বা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার সময় কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি দেওয়ালে লিখে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন না (বিধি-১১)। এছাড়া, নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতীক হিসেবে জীবন্ত প্রাণী ব্যবহার করা যাবে না (বিধি-১২)।

নির্বাচনী প্রচারণার জন্য কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো গেট বা তোরণ নির্মাণ করতে পারবে না। চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী কোনো সামগ্রী স্থাপন বা কোনো স্থাপনা নির্মাণ করাও যাবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় কেউ ৪০০ বর্গফুটের অধিক স্থান নিয়ে কোনো প্যান্ডেল তৈরি করতে পারবেন না। প্রচারণার অংশ হিসেবে কোনো প্রকার আলোকসজ্জাও করা যাবে না। বিধিমালায় নির্বাচনী বিলবোর্ডের পরিমাপও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। বিলবোর্ডের দৈর্ঘ্য হবে সর্বোচ্চ ১৬ ফুট ও প্রস্থ সর্বোচ্চ ৯ ফুট। বিলবোর্ড স্থাপনের ক্ষেত্রে বিধিমালায় দুটি শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম শর্ত অনুযায়ী, সংসদীয় আসনের প্রত্যেক ইউনিয়ন বা পৌরসভা অথবা মেট্রোপলিটন এলাকার ক্ষেত্রে প্রত্যেক ওয়ার্ডে একটির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে না। দ্বিতীয় শর্তে বলা হয়েছে, সমগ্র নির্বাচনী এলাকায় ২০টির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে না (বিধি-১৪)। উল্লেখ্য, কোনো সংসদীয় আসনের ইউনিয়ন বা পৌরসভা অথবা মেট্রোপলিটন এলাকার ওয়ার্ড-সংখ্যা ২০টির বেশি হলে প্রথম শর্ত অনুযায়ী সেই সংসদীয় আসনে ২০টির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে।

কোনো নির্বাচনী এলাকার একক কোনো জনসভায় একইসঙ্গে ৩টির বেশি মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করা যাবে না। তবে সাধারণ প্রচারণায় মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় মাইক বা শব্দের মাত্রা বর্ধনকারী অন্যান্য যন্ত্রের ব্যবহার দুপুর ২টা হতে রাত ৮টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। নির্বাচনী প্রচারকার্যে ব্যবহৃত মাইক বা শব্দ বর্ধনকারী যন্ত্রের শব্দের মানমাত্রা ৬০ ডেসিবেলের অধিক হওয়া যাবে না। ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহ পূর্বে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার শুরু করা যাবে না। এছাড়া, ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পূর্বে নির্বাচনী প্রচারণা সমাপ্ত করতে হবে (বিধি-১৮)। ভোটগ্রহণ সমাপ্তির পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনী এলাকায় ব্যবহৃত নিজ নিজ প্রচারণা সামগ্রী প্রার্থীকে নিজ দায়িত্বে অপসারণ করতে হবে (বিধি-১৯)।

সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগণ তাদের সরকারি কর্মসূচির সঙ্গে কোনো নির্বাচনী কর্মসূচি বা কর্মকাণ্ড যোগ করতে পারবেন না। সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের তালিকায় এবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যগণকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে তাঁরা কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী কাজে সরকারি প্রচারযন্ত্রের ব্যবহার, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীগণকে ব্যবহার বা কোনোরূপ সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না (বিধি-২১)।

কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এ নির্ধারিত ব্যয়সীমা অতিক্রম করতে পারবেন না। নির্বাচনী ব্যয় রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা এবং প্রার্থীর ক্ষেত্রে ২০ হাজার টাকার ঊর্ধ্বে হলে তা বাধ্যতামূলকভাবে ব্যাংকিং মাধ্যমে সম্পাদন করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা বাবদ ব্যয়সমূহ প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়সীমার অন্তর্ভুক্ত হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণায় বিদেশি অর্থায়নে বিজ্ঞাপন প্রদান বা প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না (বিধি-২২)। ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট, পোলিং এজেন্ট, নির্বাচনী পর্যবেক্ষক, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত ব্যক্তিবর্গ এবং ভোটারদের প্রবেশাধিকার থাকবে। ভোট প্রদানের উদ্দেশ্য ব্যতীত কোনো রাজনৈতিক দলের বা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মীগণ ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশ বা ঘুরাঘুরি করতে পারবেন না (বিধি-২৩)। প্রতীক বরাদ্দের পর পারস্পারিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনী প্রচারণার উদ্দেশ্যে রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসার একই মঞ্চে সকল প্রার্থীদের উপস্থিতিতে তাঁদের নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ এবং আচরণবিধি প্রতিপালনের ঘোষণা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।

সম্প্রতি আচরণবিধিতে আরো কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, নির্বাচনী আচরণবিধির সংশোধনী প্রকাশ: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, এর ধারা ৯১(খ) তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, নির্বাচন কমিশন ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ এর কিছু বিষয় সংশোধন করেছে। বিদ্যমান বিধিমালার বিধি ৪-এর উপ-বিধি (৩) তে উল্লেখ আছে যে ‘কোনো প্রার্থী নির্বাচন পূর্ব সময়ে কোনো সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব বা উন্নয়ন তহবিলভুক্ত কোনো প্রকল্পের অনুমোদন, ঘোষণা বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কিংবা ফলক উন্মোচন করা যাইবে না।’ নতুন সংশোধনীতে এখানে ‘করা যাইবে না’ শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘করিতে পারিবেন না’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে। সেইসঙ্গে, বিধি ৬-এর (আ) দফা (খ) এর পরিবর্তে ‘নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পূর্বে রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী কর্তৃক যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট নির্বাচনী প্রচারণা কর্মসূচির প্রস্তাব প্রদান করিতে হইবে এবং একই স্থানে ও একই সময়ে একাধিক দল বা প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা কর্মসূচির ক্ষেত্রে, প্রয়োজনে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উহার সমন্বয় করিবে’Ñদফাটি প্রতিস্থাপিত হবে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী জনসভা করতে চাইলে প্রস্তাবিত সভার কমপক্ষে চব্বিশ ঘণ্টা আগে জনসভার স্থান এবং সময় সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে এবং পুলিশ কর্তৃপক্ষ উক্ত স্থানে চলাচল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সেসঙ্গে এ সংশোধনী অনুযায়ী কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ড এর ওপর অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ড টাঙানো যাবে না এবং উক্ত ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ড এর কোনো প্রকার ক্ষতিসাধন তথা বিকৃতি বা বিনষ্ট করা যাবে না। এতে আরো বলা হয়েছে, সংসদীয় আসনের প্রত্যেক ইউনিয়ন বা পৌরসভা বা মেট্রোপলিটন এলাকার ক্ষেত্রে ওয়ার্ড প্রতি একটি অথবা সমগ্র নির্বাচনী এলাকায় ২০টির অতিরিক্ত বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে না। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো নির্বাচনী এলাকার একক কোনো জনসভায় একই সঙ্গে তিনটির অধিক মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সাধারণ প্রচারণার জন্য ব্যবহূত মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে না।

‘কর্মী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে দায় প্রার্থীদের’ : কর্মীরা যদি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে, তবে তার দায় প্রার্থীদের ওপরই বর্তাবে। তাই প্রার্থীদের নিজ নিজ কর্মীদের আচরণবিধি সম্পর্কে অবগত করতে হবে। নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা কেবল নিষেধাজ্ঞা-সক্রান্ত কোনো তালিকা নয়; এটি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আরও শালীন ও দায়িত্বশীল করার একটি প্রয়াস। নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও আধুনিক করতে এতে বেশ কিছু নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংযোজন করা হয়েছে। এসব বিষয় সকল দল ও প্রার্থী মেনে চললেই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করা সম্ভব হবে। অন্যথায় নানা ধরনের বিশৃংখলা সৃষ্টি হতে পারে। আইন অনুযায়ী দল ও প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

লেখক: সদস্য সচিব, জার্নালিস্ট কমিউনিটি অব বাংলাদেশ।