আগের সপ্তাহে লিখেছিলাম পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের চক্রান্তে ভেনিজুয়েলার সাম্প্রতিক পট পরিবর্তন নিয়ে। লেখার শেষাংশে বলেছিলাম, পরের লেখায় ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করবো। প্রকৃতপক্ষে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে একটি দেশের সরকারকে ফেলে দিয়ে পুতুল সরকার বসানোর এ কৌশল পরাশক্তিদের জন্য নতুন কিছু নয়। ইরাকে যখন মার্কিন-বৃটিশ বাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হলো; কারণ হিসেবে তখন বলা হয়েছিল যে, ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র বা উইপন অব ম্যাস ডেসট্রাকশন রয়েছে। অভিযান শেষ হলো। সাদ্দামের পতন হলো। তাকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হলো। এরপর কেটে গেছে দু যুগেরও বেশি সময়। ইরাক থেকে তথাকথিত সে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের ছিটেফোঁটাও পাওয়া গেল না। মাঝখান থেকে দেশটা ছাড়খাড় হয়ে গেল। জাতিগত বিভাজন আর মার্কিন ঘাঁটিগুলোর চাপে প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ ইরাক এখন ধুঁকে ধুঁকে কাঁদছে।

এবার ভেনিজুয়েলায় যা ঘটে গেলো; আরেকটু ভিন্নভাবে তবে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল ইরানেও। এটি ১৯৫১ সালের কথা। ইরানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন মোহাম্মাদ মোসাদ্দেক। তার একটিই কথা ছিল। ইরানের তেল ইরানের হাতেই থাকবে। তার এ কথা সাধারণ ইরানীদেরকে ভীষণভাবে আন্দোলিত করে। অন্যদিকে বৃটিশরা ক্ষেপে যায়। কারণ এর আগে ৪০টি বছর ধরে একটি প্রক্রিয়া চলে আসছিল। আর তাহলো বৃটিশরা ইরানের তেল ব্যবসার ৮৫% লাভ নিয়ে চলে যেতো। তাই মোসাদ্দেকের কথায় বৃটেনের ব্যবসা ও মুনাফা উপার্জনের ক্ষেত্রে ধস নামার শংকা তৈরি হয়।

তেল থেকে অনেক লাভ হলেও তা বৃটিশরা নিয়ে চলে যাওয়ার কারণে ইরানের সাধারণ মানুষ দরিদ্রই থেকে যাচ্ছিল যুগের পর যুগ। মোসাদ্দেক এ সংকট উত্তরণে পার্লামেন্টে জ্বালাময়ি ভাষণ দেন। ইরানের তেলক্ষেত্রগুলোর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে আইন পাস করেন। তেলকূপগুলোতে বৃটিশ পতাকা নামিয়ে ইরানের পতাকা ওড়ানো হয়। এভাবে মোসাদ্দেকের হাত ধরেই ইরানে তেলের জাতীয়করণ শুরু হয়। ইরানের লাখো কোটি মানুষ মোসাদ্দেকের এই সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে উৎসব পালন করতে শুরু করে। খোদ টাইম ম্যাগাজিনও মোহাম্মাদ মোসাদ্দেককে নিয়ে কভার স্টোরি করে। তাকে ম্যান অব দ্য ইয়ার হিসেবে চিত্রায়িত করে। বৃটিশরা এসব দৃশ্য দেখে উম্মাদ প্রায় হয়ে যায়। লাভজনক খাত থেকে অর্থ আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃটিশদের বিলিয়ন ডলার লস হতে থাকে।

কী করবে বুঝতে না পেরে বৃটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই সিক্স এর কর্মকর্তারা ছুটে যায় আমেরিকায়। তারা মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করে। মোসাদ্দেক সম্বন্ধে ভুল তথ্য দেয়। এমআইসিক্স তাদেরকে জানায়, মোসাদ্দেক গোপনে কম্যুনিস্ট হয়ে গেছেন এবং কম্যুনিজমের মাধ্যমেই দেশ চালাচ্ছেন। প্রথম দিকে সিআইএ এগুলো বিশ্বাস করেনি। কিন্তু দু’বছর পর ১৯৫৩ সালে তারা মোসাদ্দেকের বিরুদ্ধে বৃটিশদের মিথ্যাচার বিশ্বাস করেন। এরপর একটি অপারেশন শুরু হয় যার নাম ছিল অপারেশন এজাক্স। অপারেশনের আওতায় একজন স্পাইকে ইরানে পাঠানো হয়। সাথে দেয়া হয় এক মিলিয়ন ডলার পরিমাণ অর্থ। ঐ টাকা দিয়ে প্রাথমিকভাবে সে স্পাই ইরানের জেনারেলদের কিনে ফেলেন। তারপর সাধারণ মানুষদের উত্তেজিত করেন। আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো হয়। নানা ধরনের পেপার, প্যামফ্লেট বের করে মোসাদ্দেকের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালানো হয়। একটি পর্যায়ে সেনাবাহিনী ট্যাংক নিযে মোসাদ্দেকের প্রাসাদ ঘিরে ফেলে।

মোসাদ্দেক যে জেনারেলদের বিশ্বাস করেছিলেন তাদের হাতেই তিনি বন্দী হন। ১৯ দিনের একটি রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানে ইরানের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা ধসে যায়। এমআই সিক্স ও সিআইএ মিলে তাদের পছন্দের সহচর ইরানের শাহকে আবারও ক্ষমতায় নিয়ে আসে। আবারও ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ বিদেশিদের হাতেই চলে যায়। মোসাদ্দেককে গৃহবন্দী করা হয়। গৃহবন্দী অবস্থায় থাকতে থাকতেই ১৪ বছর পর ১৯৬৭ সালে তিনি অনেকটা অসহায় অবস্থায় মারা যান। কিন্তু মোসাদ্দেক মারা গেলেও তার চেতনা মারা যায়নি। তারই পশ্চিমা বিদ্বেষী ও ইরানের জাতীয়তাবাদ ইস্যুর ওপর ভর করেই দেশটিতে ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লব সংঘটিত হয়। ২০১৩ সালে এসে সিআইএ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে তারা মোসাদ্দেককে ভুল বুঝেছিলেন এবং তারাই পরিকল্পিতভাবে ১৯৫৯ সালের অভ্যুত্থানটি পরিচালনা করেছিলেন।

আজও ইরানের লোকেরা মোহাম্মাদ মোসাদ্দেককে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। তেহরানের মিউজিয়ামের একটি কর্ণারে মোসাদ্দেকের অনেক স্মৃতিচিহ্ন রাখা আছে সাথে আছে তার কিছু স্মরণীয় উক্তি। এর মধ্যে একটি উক্তি খুবই পরিচিত। তিনি বলেছিলেন, “আমরা যদি আমাদের তেলের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারি, তাহলে আমরা কখনোই সত্যিকারের স্বাধীনতা উপভোগ করতে পারবো না । “যে গণতান্ত্রিক ইরানকে একটি সময় আমেরিকা নিজেদের স্বার্থে ধ্বংস করেছিল, সে ইরান এখন আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সবচেয়ে বড়ো প্রতীকী রাষ্ট্র হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এটিই ইতিহাসের অনিবার্য পরিণতি।

পরাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আরেকটি নিন্দনীয় কৌশলেও এগুচ্ছে। তাহলো, তারা টার্গেটকৃত দেশের নেতাকে হটিয়ে দিয়ে তাদের পছন্দসই কাউকে এনে বসাতে চায়। ভেনিজুয়েলার ক্ষেত্রে তাদের চয়েজ ছিল মারিও করোনা মাচাদো-যিনি প্রচন্ডভাবে ইসরাইলের সমর্থক এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার বিরোধী। এর পুরস্কার হিসেবে মারিওকে নোবেল পুরস্কারেও ভুষিত করা হয়েছে। ইরানের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দ আছে আর তিনি হলেন রেজা শাহ পাহলভী জুনিয়র। ১৯৭৯ সালে শাহ’র রাজতান্ত্রিক শাসনের পতন হয় ইরানের ইসলামিক বিপ্লবের ফলশ্রুতিতে। এরপর থেকে শাহ পরিবার ইরানে আর ঢুকতে পারেনি। বরং রেজা শাহ জুনিয়র ও তার পরিবার আমেরিকা ও ইসরাইলের ছায়াতেই দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন। তিনি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে বসবাস করেন বলে জানা যায়। ইরানের বাইরে থেকেই তিনি নিজেকে “ইরানের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের কণ্ঠস্বর” হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও পশ্চিমা গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তিনি ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার সমালোচনাও করে থাকেন। অন্যদিকে, ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বৈরিতার প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনে প্রায়ই “রেজিম চেঞ্জ” বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের নানা ধারণা আলোচিত হয়। এ আলোচনায় রেজা শাহ জুনিয়রকে কখনো কখনো একটি “পরিচিত ও পশ্চিমাপন্থী মুখ” হিসেবে তুলে ধরা হয় কেননা তিনি পশ্চিমা মূল্যবোধ, বিশেষ করে ধর্মনিরপেক্ষতা, নারী অধিকার ও উদার গণতন্ত্রের কথা বলেন। তাছাড়া ইসরাইল ও কিছু ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে তার প্রকাশ্য যোগাযোগ ও সফরও পশ্চিমা সমর্থনের ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হয়।

তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো-ইরানের জনগণের মধ্যে রেজা শাহ জুনিয়রের গ্রহণযোগ্যতা কতটা? এখানেই তার বড় দুর্বলতা। কারণ ইরানের একটি বড় অংশ এখনো শাহ শাসনামলের দমন-পীড়ন, সাভাক (গোপন পুলিশ), রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং পশ্চিমা নির্ভরশীলতার স্মৃতি ভুলে যায়নি। ফলে “শাহ পরিবারের উত্তরাধিকার” অনেকের কাছেই নেতিবাচক। এর কারণও আছে। রেজা শাহ জুনিয়র চার দশকের বেশি সময় ধরে ইরানের বাইরে। দেশের ভেতরের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে তার সরাসরি সংযোগ খুব সীমিত। এতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার একটি দৃশ্যমান দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ইরানের ভেতরের বিরোধী শক্তিগুলো-সংস্কারপন্থী, প্রজাতন্ত্রবাদী, বামপন্থী, কুর্দি ও অন্যান্য জাতিগত আন্দোলন-অনেকাংশেই রাজতন্ত্রে ফেরার বিরোধী। তারা শাহ পরিবারের নেতৃত্বকে নিজেদের সংগ্রামের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে বিবেচনা করে না। এ কারণে বিশ্লেষকদের বড় অংশ মনে করেন-শুধু পশ্চিমা সমর্থন দিয়ে ইরানের মতো একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন টেকসই করা কঠিন।

ইরানের রাজনৈতিক পরিবর্তন যদি আসে, তা সম্ভবত দেশের ভেতরের গণআন্দোলন ও অভ্যন্তরীণ শক্তির মধ্য দিয়েই আসবে, কোনো নির্বাসিত ব্যক্তিকে বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে নয়। এ কারণে এবার ইরানে যে বিক্ষোভ হলো বা এখনো কিছু শহরে হচ্ছে তা মূলত সহিংস দাঙায় পরিণত হয়েছে এবং এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি মদদ রয়েছে আর ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্টদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। এবারের বিক্ষোভে সরকারের পরিবর্তন না হলেও ছোট ছোট শিশুসহ অসংখ্য বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। ফলে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির জেরে এ বিক্ষোভে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহি:প্রকাশ হওয়ার কথা থাকলেও বিক্ষোভটি দাঙায় রূপ নেয়ায় সে আশঙ্কা অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়েছে। তাছাড়া ইরানের মানুষ জানেন, বর্তমান রেজিমের যদি পতনও হয় তারপরও আমেরিকার মদদে পুতুল সরকার আসলে তাদের ভাগ্য আরো দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে যেমনটা হয়েছে ইরাক কিংবা লিবিয়ার বেলায়। এবারের বিক্ষোভে ইসরাইলের পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়টিও ওপেন সিক্রেট। পশ্চিমা যত দেশে বিক্ষোভ হয়েছে এর প্রায় সবকটাতেই ইসরাইলের পতাকা নিয়ে বিক্ষোভকারীদের মিছিল করতে দেখা গেছে। এতে করেই চলমান আন্দোলনের ভবিষ্যৎ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ১৩ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত ১২ দিনের ইসরাইল-ইরান যুদ্ধের সময়টিতেও রেজা শাহ জুনিয়রকে ঘিরে যে সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গিয়েছিল, তা মূলত মিডিয়া এবং কূটনৈতিক পরিসরেই সীমাবদ্ধ ছিল। তিনি পশ্চিমা গণমাধ্যমে একাধিক সাক্ষাৎকার দেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানি জনগণকে উদ্দেশ করে বার্তা দেন এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতনের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে নিজেকে একটি বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন। পশ্চিমা কিছু সংবাদমাধ্যম ও থিঙ্কট্যাংকে তাকে “যুদ্ধ-পরবর্তী ইরানের সম্ভাব্য মুখ” হিসেবেও আলোচনায় আনা হয়। এতে মনে হয়েছিল সংঘাতকে ঘিরে তাকে সামনে এনে রাজনৈতিক সুযোগ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে।

তবে বাস্তবে তার কোনো ফল দেখা যায়নি। ইরানের ভেতরে জনগণ তার আহ্বানে সাড়া দেয়নি। উল্লেখযোগ্য কোনো গণসমাবেশ, স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীর ভাঙন ঘটেনি। রাষ্ট্রীয় কাঠামোও অটুট ছিল; সামরিক বাহিনী, বিপ্লবী গার্ড এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা যুদ্ধ সত্ত্বেও স্থিতিশীল থাকায় বাইরে থেকে নেতৃত্ব চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়নি। তদুপরি, ইরানের ভেতরের বিরোধী গোষ্ঠীগুলো রেজা শাহ জুনিয়রের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়নি। অনেক বিরোধী কর্মী প্রকাশ্যেই রাজতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের পক্ষে নয় এবং পশ্চিমা সমর্থিত কোনো প্রকল্পে অংশ নিতে চায়নি।

রেজা শাহকে পুনর্বাসিত করার পশ্চিমা চক্রান্ত বারবার ব্যর্থ হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো নির্বাসিত এ ব্যক্তির সক্রিয়তা মূলত মিডিয়া বুদবুদেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়। এক্স (টুইটার), ইউটিউব এবং পশ্চিমা টেলিভিশনে তার উপস্থিতি অনেক বেশি লক্ষ্য করা গেলেও ইরানের সাধারণ জনগোষ্ঠীতে এর প্রতিফলন ছিল প্রায় শূন্য। যুদ্ধ বা আন্তর্জাতিক সংকট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘রেজিম চেঞ্জ’ ঘটায় না এবং নির্বাসিত কোনো ব্যক্তির উচ্চকণ্ঠ প্রচারণা জনগণের সংগঠিত সমর্থনের বিকল্প হতে পারে না। জনগণের সঙ্গে গভীর ও জৈব সংযোগ ছাড়া কেবল আন্তর্জাতিক সমর্থন ও মিডিয়া উপস্থিতি দিয়ে ইরানের ক্ষমতার কাঠামো বদলানো প্রায় অসম্ভব। পশ্চিমা অবরোধ ও চক্রান্তের মুখে ইরান এখনো টিকে আছে। তবে সামনের দিনগুলোতে ইরানকে আগের তুলনায় আরো বেশি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে-আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় এমনটাই প্রতীয়মাণ হচ্ছে।