ডেভিড হার্স্ট

ইরান দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে এবং এক ব্যক্তির অহংকার, আরেকজনের ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে পরিচালিত যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কোনও স্পষ্ট কৌশল দেখা যাচ্ছে না। গত ২ মার্চ নিউইয়র্কে বিক্ষোভকালে একজন বিক্ষোভকারীর গায়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ছবি সম্বলিত টি-শার্ট (অ্যাডাম/ এএফপি)

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি এলন মাস্কের এআই প্ল্যাটফর্ম গ্রোক কে কাকে বেশি বিভ্রান্ত করেছে বোঝা মুশকিল। মাস্কের গ্রোক প্ল্যাটফর্ম ভুলভাবে দাবি করে যে গ্ল্যাসগোতে অগ্নিকাণ্ডের ফুটেজ তেল আবিবের একটি ঘটনার সাথে সম্পর্কিত। আসলে এটি ইরানে তেলক্ষেত্রে অগ্নিকাণ্ডের একটি ভিডিওকে ২০১৭ সালেলস অ্যাঞ্জেলেসের কাছে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের সাথে গুলিয়ে ফেলে।

এদিকে, আমেরিকা ইরান আক্রমণ করার পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় অসংখ্য পোস্টের এক উজ্জ্বল ধারায়, ট্রাম্প বিভিন্নভাবে ইরানে গণ-অভ্যুত্থানের ডাক দেন, দেশটিকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহবান জানান, দাবি করে যে, তিনি ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচনের সাথে সরাসরি জড়িত থাকবেন, তিনি বলেন যে, ইরানকে পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। তিনি নিজের লক্ষ্যের তালিকা আরও বিস্তৃত করারও প্রতিশ্রুতি দেন।

তবে তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পোস্টে ট্রাম্প ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডকে “ইরানি জনগণের জন্য তাদের দেশ ফিরে পাওয়ার একমাত্র সেরা সুযোগ” বলে অভিহিত করেন। কিন্তু তার কথিত এই সুযোগ ইরানি জনগণ নেয়নি। বরং অব্যাহত বোমা হামলার মধ্যেই খামেনির মৃত্যুতে শোক পালনের জন্য হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।

এর পাশাপাশি, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ড, যা আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা- ট্রাম্প এবং অভিযানের “স্বপ্নদ্রষ্টা” ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উদ্দেশ্যের একেবারে বিপরীত পরিণাম বয়ে আনতে পারে।

ইরানের রেডলাইন : ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান হুমকির মুখোমুখি হলে জাতীয় বিদ্রোহ দমনে যথেষ্ট সক্ষম। তবু খামেনি একজন বাস্তববাদী ছিলেন। তার শাসনামলে, ইরান তার শীর্ষ জেনারেল এবং পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের কোনও জবাব দেয়নি; এর অর্থ হলো, তিনি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ঘটনাটির ওখানেই ইতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে জবাব দেওয়ায় বিরত থাকেন।

খামেনীর অধীনে, ইরান তার রেডলাইন সব সময় মেনে চলেছে। যেমন, তার উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের উপর আক্রমণ বা হরমুজ প্রণালী বন্ধ না করা। তবে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা ঘটিয়েছে ইরানের কিছু প্রক্সি মিলিশিয়া গ্রুপ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ২০১৯ সালে ইরাক থেকে ড্রোন হামলা চালিয়ে পূর্ব সৌদি আরবের আবকাইক এবং খুরাইস তেল স্থাপনায় আক্রমণ, যার ফলে আরামকোর দৈনিক উৎপাদন সাময়িকভাবে অর্ধেকে নেমে যায়। কিন্তু এর দায় অস্পষ্ট ছিল এবং অস্বীকার করার মতো একটি উপাদান ছিল।ইয়েমেনের হুথিরা দায় স্বীকার করেছিল।

বাগদাদের বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করে, তখন ইরান তার উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের উপর আক্রমণ করেনি; এমনকি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের অভিষেকের পর বিপ্লবী গার্ডের গেস্ট হাউসে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াহ যখন নিহত হন; অথবা গত বছর ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরাইল যখন বেশ কয়েকজন সিনিয়র সামরিক কমান্ডারকে হত্যা করে, তখনও ইরান তার উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের উপর আক্রমণ করেনি।

প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি আজারবাইজানে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ঘটনায়ও ইরান কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। কিন্তু বিষয়টি এখন ভিন্ন রূপ নিয়েছে, কারণ ইরানের অতীত ও বর্তমান নেতাদের হত্যা করাই এখন ইসরাইলের ঘোষিত নীতি।

খামেনি ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন, যা তার প্রতিক্রিয়াকেও ওজনদার করেছিল। খামেনি ছিলেন অটল ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ। মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রতি তার প্রায়শ উদ্ধৃত মন্তব্য ছিল এরকম : “আমার মতো কোনও মানুষ তোমাদের মতো লোকদের প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার করে না।”

তবে তিনি এর ঝুঁকি হিসাব করেছিলেন এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। সোলাইমানি হত্যার প্রতিক্রিয়ায়, ইরান ইরাকে অবস্থিত দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, কিন্তু ইরাকি সরকারকে জানিয়েছিল যে তারা কোন ঘাঁটিতে আক্রমণ করতে চলেছে। ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালে ইসরাইলে হামলার পর হিজবুল্লাহ এবং ইরান উভয়েই হামাসের সাথে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। আর ইরান তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্পের সাথে দুবার আলোচনার চেষ্টা করেছিল। এসবই খামেনির কারণে ঘটে।

প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির আমল কিন্তু এমন ছিল না। বিপ্লব যখন তুঙ্গে, তখন ৫২ জন আমেরিকানকে ৪৪৪ দিন ধরে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। এটি ঘটে ওয়াশিংটন ক্ষমতাচ্যুত ইরানের শাহকে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার প্রতিবাদে।

যখন সাদ্দাম হোসেনের শ্রেষ্ঠতর সেনাবাহিনী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সমর্থন এবং উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলির অর্থায়নে ইরানে আক্রমণ করে, তখন খোমেনি ইরানকে রক্ষা করার জন্য নিয়মিত সেনাবাহিনীর উপর নির্ভর করতে পারেননি।

তিনি বিপ্লব রক্ষা করা এবং ইরানের বিদ্যমান বাহিনীর পাশাপাশি প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য গঠিত ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের (IRGC) ওপর আস্থা রাখেন। সাদ্দাম যখন আক্রমণ করেন তখন ইরানের কোনও প্রকৃত সেনাবাহিনী ছিল না। এটি হয়েছে আট বছর পর যুদ্ধ শেষ হলে; ইরান-ইরাক যুদ্ধ আইআরজিসিকে একটি ভয়ংকর রণশক্তিতে পরিণত করে।

বিপ্লবী চেতনা : খামেনীর মৃত্যু হয়তো বেশ ভালোভাবেই একটি পরিবর্তন এনেছে; ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিপ্লবী চেতনাকে হত্যা তো দূরের কথা, বরং এটি হয়তো বিপ্লবের চেতনার পুনরুজ্জীবন ঘটিয়েছে।

যুদ্ধের ১০ দিনের মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে, উপসাগর বরাবর তেল ও গ্যাস উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে এবং ১৯৭৩ সালের তেল সংকটের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি তীব্র বৈশ্বিক তেল সংকট তৈরি করেছে। তেলের ক্ষতি দাঁড়িয়েছে প্রতিদিন ২০ মিলিয়ন ব্যারেল - ১৯৭৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তেল সরবরাহ যতবার বন্ধ হয়েছে সেগুলোর মোট পরিমাণের সমান।

কাতারে ১১০০ কোটি (১.১ বিলিয়ন) ডলারের প্রারম্ভিক সতর্কতা রেডার সিস্টেমের মারাত্মক ক্ষতি করেছে ইরান, যা এই অঞ্চলের প্রতিটি থাড লঞ্চার এবং প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি পরিচালনার জন্য অপরিহার্য। যুক্তরাষ্ট্র এখন দক্ষিণ কোরিয়ায় স্থাপিত প্যাট্রিয়ট সিস্টেমগুলির যন্ত্রপাতি খুলে এনে কাতারের রেডার সিস্টেম প্রতিস্থাপনে বাধ্য হচ্ছে।

এই অঞ্চলের চৌদ্দটি দেশ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, যার মধ্যে সাইপ্রাস এবং আরও তিনটি ইউরোপীয় শক্তি, নরওয়ে, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সও আছে। এসব দেশের বিমান ঘাঁটি বা দূতাবাসে আক্রমণ করা হয়েছে।

খামেনির মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় সাক্ষাতকারে ইরানের যুদ্ধকালীন নেতা আলী লারিজানি যে অঙ্গীকার ঘোষণা করেছিলেন, ইরান তা পূরণ করছে। লারিজানি বলেছিলেন, “আমরা তাদের হৃদয় জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেব। আমরা ইহুদিবাদী অপরাধী এবং নির্লজ্জ আমেরিকানদেরকে তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত হতে বাধ্য করব।”

ইরান ৮৬ বছর বয়সী এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত সর্বোচ্চ নেতার জায়গায় তার ৫৬ বছর বয়সী ছেলেকে বসিয়েছে, যিনি একজন নীতিনিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব এবং আইআরজিসির সাথে যার রয়েছে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক।

আইআরজিসির স্বেচ্ছাসেবা-সংশ্লিষ্ট একটি দলের অংশ হিসেবে, নতুন ইরানী নেতা মোজতবা দেশের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ রাখতেন। তবে আজকের সময় পর্যন্ত মোজতবা পর্দার আড়ালে থেকেই তার রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছিলেন।

আক্রান্ত হবার দশ দিন পরও, ইরান এই যুদ্ধকে কেবল একটি আঞ্চলিক সংকট নয়, বরং একটি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, মার্কিন-ইসরাইলী আক্রমণের মাধ্যমে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু ইরানি শাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় ক্ষোভ উস্কে দেওয়ার যে চেষ্টা করছিলেন তার উল্টোটা ঘটেছে। সরকারের প্রতি ইরানি জনগণের দেশপ্রেমসঞ্জাত সমর্থন আরও বেড়েছে।

Listen to this voice: Abdolkarim Soroush is a prominent Iranian philosopher and intellectual, an early supporter of the 1979 Islamic revolution who became one of its sharpest critics, and a leading advocate for religious reform. He has argued that Islamic law is not immutable but subject to interpretation, a stance that led to his exile from Iran

এই কণ্ঠস্বরটি শুনুন: আব্দুল করিম সোরুশ একজন বিশিষ্ট ইরানি দার্শনিক ও বুদ্ধিজীবী। প্রাথমিকভাবে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের সমর্থক তিনি। পরে বিপ্লবের অন্যতম কঠোর সমালোচক এবং ধর্মীয় সংস্কারের পক্ষে শীর্ষস্থানীয় সমর্থক হয়ে ওঠেন। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, ইসলামী আইন অপরিবর্তনীয় নয় বরং ইজতেহাদসাপেক্ষ। এই অবস্থানের কারণে তিনি ইরান থেকে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন।

সেই তিনি, আব্দুল করিম সোরুশ বলছেন : “আমাদের সামরিক বাহিনী বিশ্বাস ও সাহসের সাথে লড়াই করছে এবং জনগণকেও এই আত্মত্যাগী সৈনিকদের সাহায্যে যতটা সম্ভব এগিয়ে যেতে হবে।

“আকাশ থেকে এই কালো মেঘ সরে যাবে, কিন্তু এর লজ্জা তাদের কপালে থাকবে যারা স্বদেশের বিশ্বাসঘাতকদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। আজ, নিরপেক্ষতা বোকামি এবং বিবেকের অভাব ছাড়া আর কিছুই নয়; একটি ক্ষুদ্র সংখ্যালঘুর কোলাহলের বিপরীতে, ইরানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ আক্রমণকারীদের হাত কেটে ফেলার দাবি জানায়।”

ট্রাম্প, যার “সহজাত প্রবৃত্তি” তাকে আলোচনার মাঝখানে ইরানে আক্রমণে ঠেলে দিয়েছিল, তিনি এখন প্রতিদিন একেকটি নতুন নীতিসম্পর্কিত বক্তব্য নিয়ে পাগলের মত ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আগে স্থল সেনা পাঠানোর বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করার পর, তিনি এখন এই ধারণায় গুরুতর আগ্রহী বলে জানা গেছে।

বুদবুদ ফেটে গেছে : প্রতিদিন যতই যাচ্ছে, সংকটের তীব্রতা ততই বাড়ছে। ফ্রান্স ফ্রিগেট পাঠাচ্ছে। ব্রিটেন একটি বিমানবাহী রণতরী প্রস্তুত করছে। এর কোনও পরিকল্পনাও করা হয়নি; এটি কেবল শেষ মুহূর্তের একটি লড়াই।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলী বোমারু বিমানের প্রতিদিনের বোমাবর্ষণে ইরান মারাত্মকভাবে বিক্ষত হচ্ছে, কিন্তু তারা পঙ্গু হয়নি। বরং তারা দেখিয়েছে, তারা প্রতিরোধ করতে এবং একইভাবে জবাব দিতে পারে।

তারা উপসাগরীয় দেশগুলিকে ঘিরে থাকা নিরাপত্তা এবং সম্পদের বুদবুদ ভেঙে দিয়েছে এবং পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধের ঝুঁকি তাদের সামনে তুলে ধরেছে, যা অতীতে প্রায়শই তাদের উপর প্রভাব ফেলেনি বা তাদের জীবনযাত্রায় কোনও পরিবর্তন আনেনি।

এর শেষ কীভাবে হবে? ধীরে ধীরে, তেল ও আর্থিক বাজার গ্রাসকারী অস্থিরতার চাপ তৈরি হবে, যা ট্রাম্পকে ব্যর্থ যুদ্ধের দীর্ঘ ইতিহাসে আমেরিকার সবচেয়ে খারাপ সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে বাধ্য করবে।

ইতিমধ্যেই শেষ তারিখের জন্য চাপ বাড়ছে। ইসরাইলী সাংবাদিক রোনেন বার্গেন তার এক নিরাপত্তা সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন: “আমরা ইতিমধ্যেই এক বিপর্যয়ের মধ্যে আছি।” “সাধারণত যুদ্ধে লক্ষ্য থাকে এবং শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয় তাদের অর্জন অনুসারে অথবা তাদের সীমার প্রয়োজনীয়তা অনুসারে যা যুদ্ধবিরতির জন্য শত্রুর সাথে আলোচনায় নির্ধারিত হয়। কারণ এ যুদ্ধের কোনও স্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়নি।”

বাজারের অস্থিরতা ট্রাম্পের জন্য শুভ লক্ষণ নয়। তিনি এমন পেসিডেন্ট নন যিনি ওয়াল স্ট্রিট যা বলে তা উপেক্ষা করেন, বিশেষ করে যখন মাত্র ২০ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক তার পক্ষে এবং তিনি নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখোমুখি।

এই যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হলে, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের চ্যানেলগুলি রক্ষা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বা সম্ভবত দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রণালী দখল করতে হবে-এবং তারা এটি করতে পারে কেবল স্থলভাগে সৈন্য মোতায়েন করেই। এর কোনটিই দ্রুত করা সম্ভব নয়।

যদি ট্রাম্প পিছু হটেন, তাহলে তার নিজের উত্তরাধিকারের ধারা ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে এবং ইসরাইলের আঞ্চলিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার নেতানিয়াহুর ধর্মতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গিকে পথের ওপরেই থামিয়ে দেবেন। ভবিষ্যতে কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট আর ইসরাইলের সাথে গাঁটছড়া বেঁধে একই উদ্যানের পথে হাঁটবেন না।

জেতার জন্য ট্রাম্পের দরকার ইরানকে বিধ্বস্ত করার-এবং দ্রুতই। তেমন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, বরং দেশটির টিকে থাকার কৌশল কাজ করছে বলে মনে হয়। কিন্তু ইতিমধ্যে, এই যুদ্ধ দেশগুলিকে ধ্বংস করে, তেলক্ষেত্র ধ্বংস করে, উপসাগরীয় সম্পদ পুড়িয়ে এবং হাজার হাজার নিরীহ বেসামরিক মানুষকে হত্যা করে আরও ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

একজনের অহংকার, অন্যজনের মৌলবাদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকা ইউরোপের নপুংসকতার জন্য এই অঞ্চলটি এই চড়া মূল্য দিচ্ছে। ব্যর্থ এবং হতাশ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু বর্তমানে এই গ্রহের সবচেয়ে বিপজ্জনক দুই ব্যক্তি।

লেখক : মিডল ইস্ট আই-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান সম্পাদক, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে আন্তর্জাতিক ভাষ্যকার, বক্তা এবং সৌদি আরব বিশ্লেষক।

মিডল ইস্ট আই-তে (১০ মার্চ ২০২৬ প্রকাশিত নিবন্ধ; সামান্য সংক্ষেপিত। তরজমা : মুজতাহিদ ফারুকী