হাবিবা খাতুন

পড়ন্ত দুপুর; যেন বিকেল ছুঁইছুঁই।

‘ইতিহাস পাল্টাবে’, ‘বাংলা ব্লকেড’ আচমকা এমন শব্দ ও কথাগুলো শুনে যেন বুকের ধমনীতে কাঁপুনি ধরে যায়। উত্তেজনার আবেশে ফেটে পড়ছে জনতা। একে অপরকে জানিয়ে দিচ্ছে -‘কাল থেকে বাংলা ব্লকেড’ শুরু হতে যাচ্ছে। এ আন্দোলন জাতির ইতিহাস পাল্টে দেবে। ১৭ বছরের স্বৈরাচারী সরকারের শিকড় সমূলে উপড়ে ফেলার তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছে একদল দামাল তরুণেরা। এটা কোন রোবটিক গেমস্ বা নতুন খেলার নাম নয়। এটা বৈষম্যের বিরুদ্ধে তীব্র লড়াই। এটা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের লড়াই চব্বিশের জুলাইয়ে মূলত আন্দোলন শুরু হয় কোটা পদ্ধতির বিরুদ্ধে।

সরকারি চাকরিতে অবমূল্যায়িত হচ্ছিল এ দেশের মেধাবী ছাত্র-সমাজ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরী থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের উত্তাপ সারাদেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, ১৪ তারিখ স্বৈরাচারী ও খুনি হাসিনা আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলায় আন্দোলন তীব্র গতিতে রূপ বদলায়। সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ফুঁসে ওঠে। দীর্ঘ ১৭টি বছরের জুলুম নিপীড়নে অতিষ্ঠ জাতি যেন ঘুম থেকে জেগে ওঠে। মুক্তি চায় জুলুমশাহীর জুলুম থেকে । সারাদেশের রাজপথ ও ক্যাম্পাস প্রকম্পিত হয় ‘তুমি কে, আমি কে? রাজাকার, রাজাকার’ স্লোগানে। এই এক স্লোগানেই ধসে পড়ে জাতির ঘাড়ে চেপে বসা জালিমের তখতে তাউস । ১৬ জুলাই রংপুরের আবু সাঈদ শহীদ হয়। দু’হাত প্রসারিত করে এক অকুতোভয় দুঃসাহসী দেশপ্রেমিক বীর দাঁড়িয়ে যায় অন্যায়ের প্রতিবাদী সিংহ শাবক রূপে । তার চেতিয়ে দেওয়া বুকে গুলী চালাতে হাত কাঁপেনি ক্ষমতালোভী কাপুরুষ বাহিনীর। আরও শহীদ হয় ফয়সাল , মুগ্ধ, ওয়াসিমসহ অসংখ্য নাম না জানা বীর।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর নেমে আসে জুলুম-নির্যাতনের নির্মম স্ট্রিম রোলার। আন্দোলন এবার আর শুধু ছাত্র আন্দোলনে আটকে থাকেনা । রূপ নেয় গণমানুষের আন্দোলনে। হেলিকপ্টার থেকে গুলী ছোঁড়া হয় বাসার ছাদে। অত্যাধুনিক স্নাইপার ব্যবহার করে ব্যালকনি ও খোলা জানালা লক্ষ্য করে গুলী ছুঁড়ে হত্যা করা হয় অবুঝ শিশুদের।

দেশে এতদিন এক অদ্ভুত নীরবতা ভর করেছিল। মানুষগুলো যেন নীরব রোবটে পরিণত হয়েছিল। ঘুরতো, খেত, কাজ করত আর ঘুমাতো। বলিষ্ঠ ভাষায় সত্য উচ্চারণের কণ্ঠ স্তিমিত হয়েছিল। সত্য সব সময় সব ব্যবস্থার জন্যই চরম হুমকির। এ জন্যই বুঝি নিজের অস্তিত্ব রক্ষার্থেই সত্যের সাথে মিথ্যার সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠে। কারণ সত্য বলা মানুষগুলোর জায়গা হতো জেলখানায় নতুবা নির্মম নিষ্ঠুরতায় ঘেরা ‘আয়নাঘর’ এ।

সত্য বলার কারণেই আজও ফেরেনি কত মায়ের আদরের সন্তান,কারো স্বামী, আবার কারো অতিপ্রিয় বাবা। প্রতিবাদী মানুষগুলোর নির্মম পরিণতি কাউকে প্রতিবাদ করা তো দূরের কথা মুখ খুলে কথা বলার অধিকার পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছিল। তারা যেন ভাষাহীন বাকপ্রতিবন্ধী হয়ে প্রতীক্ষায় ছিল একটি বিস্ফোরণের। শব্দমালার পাহাড় ধ্বসিয়ে দেওয়ার বিস্ফোরণ। যে বিস্ফোরণে জেগে উঠবে মৃত পায় আগ্নেয়গিরি, আর দিকবিদিকে বিচ্ছুরিত হবে তার লাভা।

আমাদের কাছে জুলাই এলো সেই লাভার জ্বলন্ত স্ফুলিঙ্গ হয়ে। জাগিয়ে দিল মৃতপ্রায় আগ্নেয়গিরিকে। চারিদিকে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ল জুলাই আন্দোলন। সচল হলো শব্দ আর সরব হলো নগর , বন্দর আর গ্রামের মানুষ। সত্য যেন ছিটকে পড়ল চারিদিকে। জীবনের মায়া তুচ্ছ করে রক্তের রঙে লেখা হলো গ্রাফিতি। ফ্যাসিস্টের অন্তিম বার্তা গ্রাফিতি হয়ে ছেয়ে গেল নগর, বন্দর আর অলিগলির দেয়ালগুলোতে।

ইতিহাসের সবগুলো দিনই কি ক্যালেন্ডারের পাতায় লেখা থাকে ? কিছু দিন লেখা হয় রক্তের অক্ষরে মানুষের হৃদয়ে, আবার কিছু দিন লেখা হয় অশ্রুতে , রক্তে এবং সংগ্রামের অমর স্মৃতির ডায়েরীতে। একটি জাতির ইতিহাসে এমন অনেক স্মৃতিকাতর মুহূর্তের জন্ম হয় যা প্রচলিত নিয়মের হিসাব ভেঙে ফেলে। দিন তারিখ তখন কেবলই একটি সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনা, তা হয়ে ওঠে জাতীয় ইস্যু বা অনুভূতি। ‘৩৬ জুলাই’ সেই অনুভূতির রূপক। জনরোষের বাঁধ ভাঙা তীব্র জোয়ারে ক্যালেন্ডারের পাতায় ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় ‘বিদ্রোহী জুলাই’।জুলাই গড়িয়ে চলে রক্তস্নাত বাংলার ক্যালেন্ডারের সীমারেখা ভেদ করে, ৩৬ শে জুলাইয়ে এসে থমকে দাঁড়ায়। প্রতিটি গণআন্দোলনের মূল চালিকা শক্তি হলো সাধারণ জনতার অংশগ্রহণ। যখনই এই শক্তিগুলোর অনুভূতি একত্রিত হয় তখনই ইতিহাসের পাতায় জন্ম হয় নতুন কোন ‘সৃষ্টির’। ‘জুলাই’! শব্দটা স্রেফ একটা মাসের নাম নয়, এটা দীপ্তিময় এক আবেগের নাম। শব্দটার চারপাশ জুড়ে আছে একই সাথে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের মতো উত্থান-পতনের স্মৃতিময় কথামালা।

১৬ জুলাই আবু সাঈদ সহ ছয়জনের শহীদ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় আন্দোলন স্ফুলিঙ্গের মতো তীব্রতর হয়। ১৭ তারিখ হাজারো বাধা উপেক্ষা করে ঢাবি ক্যাম্পাসে প্রতিকী কফিন নিয়ে গায়েবানা জানাযা ও কফিন মিছিল করা হয়। পুলিশি হামলায় অনেকেই আহত হয়। রক্তের প্লাবন পেরিয়ে আন্দোলন আর কোটা আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। রংপুরের আবু সাঈদ, ঢাকার মুগ্ধ আর ইয়ামিনদের জীবন ও তপ্ত লহুর বিনিময়েই অর্জিত হয়েছে আজকের স্বস্তির নিঃশ্বাস।

১৮ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিরোধ দিবস। আন্দোলন থমকে দাঁড়াতে গিয়ে ও সেদিন দ্বিগুণ গতিতে দূর্বার হয়ে ফিরে আসে। চতুর্দিক থেকে যেন ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে এলো ফিনিক্স পাখি। আর আন্দোলনে এলো নতুন মাত্রা। সারা দেশে একযোগে আন্দোলন চলতে থাকে। ১৮ জুলাই আহত আর নিহতের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। কত মায়ের বুকের মানিক যে সেদিন হারিয়ে গেলো তার খোঁজ ও হয়তো জানা হলো না কারো।

১৯ জুলাই, ৯ দফার ঘোষণা আসে। যা হাসিনার ফ্যাসিবাদী কাঠামোতে কাঁপন ধরায় । আর এ ৯ দফার মাধ্যমেই সরকার পতনের চূড়ান্ত ঘন্টা বেজে ওঠে। সেদিন রাতেই নাহিদ ইসলামকে গুম করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় পুলিশি চাপে আন্দোলনকারীরা সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আপ্রাণ চেষ্টা করে আন্দোলনের মূল কারিগররা আন্দোলন প্রত্যাহার নাটকের যবনিকা টানেন। ফলে আন্দোলন আবারও চাঙ্গা হয়ে ওঠে। নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় জনতা। অসংখ্য শহীদের বীরত্ব গাথা ও সাহসিকতার গল্পে ভরা আমাদের জুলাইয়ের পাতা।

প্রাণের মায়া তুচ্ছ করে শিশু, তরুণ ও অভিভাবকদের রাস্তায় নেমে আসাটাই ছিল জুলাই গণঅভ্যূত্থানের ‘গণ’ হয়ে ওঠার পেছনের অন্যতম নিয়ামক। জনরোষে পড়ে সরকার শহীদদের জন্য রাষ্ট্রীয় শোক পালনের অংশ হিসেবে কালো পতাকা উত্তোলনের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সরকারের কর্মসূচিকে জনগণ ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করে। ৩০ জুলাই ২০২৪, সোস্যাল মিডিয়ায় লাল রং ছড়িয়ে পড়ে। আহত ও শহীদদের রক্ত স্রোত যেন বহতা নদীর মত গণমানুষের ফেসবুক আইডি রাঙিয়ে আন্দোলনে নতুন মাত্রা এনে দেয়।

সাধারণ জনগণ জুলাইয়ের সেই আগুনঝরা দিনগুলোতে রাস্তায় নেমে এসেছিল স্বাধিকার আন্দোলনের অংশ হতে। জুলাই শুধু ছাত্রদের আন্দোলন ছিল না কিংবা জুলাই শুধু ছাত্রদের মাধ্যমে অর্জিত হয়নি । জুলাইকে বুকে ধারণ করেছিল দেশের প্রতিটি আপামর জনসাধারণ। দেশের আপামর জনতা আজ শৃংখল ভেঙেছে। মুক্ত স্বাধীনভাবে চিন্তা করার সুযোগ পেয়েছে।

সকল ভয়কে দু’পায়ে দলে মুক্তির আলোর দিকে পঙ্গপালের মতো ছুটে চলেছে। নির্মম নিষ্ঠুর হায়েনার ফ্যাসিবাদী রাজত্বের পতন তরান্বিত করতেই তারা মরণ পণ করেছে। জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে আন্দোলনের মাঠে লড়ে গেছে জনতা। এই দাবি আদায়ের প্রতিবাদী আন্দোলনে যাত্রাবাড়ী, মিরপুর, উত্তরা, রামপুরা সহ সমগ্র ঢাকা শহর যেন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। উত্তাল হয়ে ওঠে সারা বাংলাদেশ। ছাত্র জনতার রাজপথে অবস্থান, ফ্যাসিস্ট বাহিনীর সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া যেন নিত্যদিনের ঘটনায় রূপ নেয়।

কিছুক্ষণ পরপরই যেন আহত ও শহীদের মিছিলে যোগ হয় নতুন নতুন সাথীরা। বুলেটের আঘাতে ঝাঁজরা নিথর দেহ রাস্তায় পড়ে থাকাটাই ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। জুলাই বিপ্লবটা মূলত ছিল ৩৬ দিনের। মহান রবের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে মাত্র ৩৬ দিনেই জুলুমশাহীর শক্তিধর বাহিনীর লজ্জাজনক পরাজয় আর খুনী হাসিনার পাপের রাজত্ব ধ্বংস হয়ে যায়।

দুনিয়া কাঁপানো আগস্ট জুলাইয়ের সেই ৩৬ দিনে গোটা পৃথিবী যেন স্থির হয়ে তাকিয়ে ছিল বাংলাদেশের দামাল ছেলেদের আন্দোলনের পর্যবেক্ষক হয়ে। ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনা দীর্ঘ দেড় দশক দেশের নিরীহ জনতার ঘাড়ে চেপে দুঃশাসনের রাজত্ব কায়েম করেছিল। দূর্বার আন্দোলনে কাঁপন ধরে খুনির প্রাসাদে।

সারা দুনিয়ার মানুষ দেখেছে সাধারণ নিরস্ত্র মানুষের সাহসী হয়ে উঠার গল্প । দেখেছে কিভাবে খুনির পেটুয়া আর অনুগত বাহিনীর দম্ভচূর্ণ করে বুলেট বোমা উপেক্ষা করে বিজয় ছিনিয়ে আনতে হয় ।

জুলাই বিপ্লবে প্রায় ২০০০ মানুষ শাহাদাত বরণ করেছেন এ তালিকায় ১৩৫ জন শিশু ও ১১ জন নারীও রয়েছে। এ বিপ্লব কারো একার নয়। দানবীয় ফ্যাসিস্ট এর বিরুদ্ধে আগুন ঝরা স্লোগান আর বজ্র মুষ্টি হাতে রাজপথে নেমেছিল শিশু, কিশোর, তরুণ সহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষ।

এভাবেই ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে ৩১ জুলাই ২০২৪ পেরিয়ে গেলেও জুলাই শেষ হয় না। জুলাই এবার জায়গা করে নেয় ক্যালেন্ডারের ছিন্ন পাতায়-

চলতে থাকে ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫...। চলে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’, ‘রিমেমবারিং আওয়ার হিরোজ’ আর ৯ দফা ১দফা হয়ে ওঠা, অবশেষে এলো সেই কাক্সিক্ষত ‘৩৬’।

৫ আগস্ট অর্থাৎ ৩৬ জুলাই সকালটাও বেশ থমথমে ও মেঘলা ছিল। হঠাৎ করেই বৃষ্টি যেন বদর বিজয়ের সেই পূর্বক্ষণ। কে জানতো আমাদের জন্য এত আলো ঝলমলে দুপুর আসবে। নেট অফ সবাই আতঙ্কিত।

ভয়ে অনেকেই বের হতে পারছে না। হঠাৎ করে ঘোষণা এলো -’পরশু নয় আগামী কালই ‘লং মার্চ ফর ঢাকা’। অর্থাৎ ৬ তারিখ না ৫ তারিখেই। অনেকেই ভয় দেখাচ্ছে রাক্ষসী ডাইনিটা আজ গণহত্যা চালাবে। গুলীর আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। পুরো রাস্তা খালি একটা মানুষও নেই, নেই কোন যানবাহন, শুনশান নিরব পরিবেশ। বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে পেটুয়া, দালাল আর খুনি হাসিনার অনুগত যৌথ বাহিনী।

ছাত্র জনতা অলি গলিতে সমবেত হয়ে সুযোগের অপেক্ষা করছে। হাজার হাজার নারী পুরুষ মোক্ষম সময়ের জন্য বসে আছে। সুযোগ পেলেই শাহবাগের মূল রাস্তায় উঠে আসবে। রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতিতে জনতা রাস্তার মধ্যে জোহর নামাজ আদায় করেছে। হঠাৎ করে চতুর্দিক থেকে বাঁধ ভাঙা জোয়ারের মতোই জনতার ঢল ছুটে এল গণভবন অভিমুখে এ জনতাকে রুখে সাধ্য কার। আজ তারা রাক্ষসী- ডাইনি বধ করে দেশকে এনে দেবে আজাদী।

সাহস সে তো সংক্রামক ব্যাধি। চতুর্দিক থেকে নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে প্রকম্পিত হলো রাজপথ। হাজারো বাধার সম্মুখীন হলেও সেদিন জনতা ছিল বড়ো বেশিই বেপরোয়া। সবাই মুক্তি চায়, মুক্ত বাতাসে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বাঁচতে চায়। জনতার সাহসী বিপ্লবের কাছে মাথা নত করতে বাধ্য হয় খুনি হাসিনার ফ্যাসিস্ট বাহিনী। ৩৬ শে জুলাই গণভবন বিজয় হয় আর পালিয়ে যায় খুনি ডাইনিটা। মুক্ত হয় দেশ আর বুক ভরে স্বস্তির নিশ্বাস নেয় দেশবাসী। গণভবনের বড় মাঠটায় মহান রবের সিজদায় লুটিয়ে পড়ে মুক্তিকামী জনতা। সিজদাতুস শোকরে চোখের পানি ফেলে মহান রবের শুকরিয়া আদায় করে। এদিন বাংলাদেশের মাটি এক কুৎসিত শকুনের কালোথাবা মুক্ত হয়। আর কখনো ফিরে না আসুক দেশের আকাশে কোন কালো মেঘ ও শকুনের কাল।

ভাল থাক আমার, আপনার, আমাদের প্রিয় স্বদেশর ভূমি।