বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।” জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম নারীদের মর্যাদা ও অবদান এভাবেই তুলে ধরেছেন। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নারীদের ভূমিকা থাকবে পুরুষের সমানই। নারী ভোটার পুরুষের প্রায় সমান। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন। তার মধ্যে নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হজার ৫২৪ জন। এই ৬ কোটিরও বেশি ভোটার যেন নিরাপদে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারে এ ব্যবস্থা করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন ও সরকারের।

ইতোমধ্যে ভোটের প্রচারণায় নারী কর্মীদের উপর প্রতিপক্ষের হামলার অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে। এমন কী এসব বিষয় নিয়ে নির্বাচন কমিশনেও অভিযোগে দেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন আপাতত আশ্বাস দিলেও নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে কি ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা ভোটের দিন পরিলক্ষিত হবে। তবে নির্বাচন কমিশনের তথ্যে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে মোট প্রায় ৯ লাখ ৩৯ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এর মধ্যে নারী সদস্যদের অংশগ্রহণও রয়েছে উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে আনসার বাহিনীর নারী সদস্যের সংখ্যা থাকবে বেশি। ভোটের দিন প্রতিটি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে মোট ১০ জন আনসার সদস্যের মধ্যে ৪ জন নারী আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। সে হিসেবে সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, শুধুমাত্র লাঠিধারী আনসার হিসেবেই প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার এর বেশি নারী সদস্য মোতায়েন থাকবেন। আর পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর মধ্যে মোট এক লাখ ৫০ হাজার পুলিশ সদস্যের একটি বড় অংশ নারী পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং মোবাইল টিমে দায়িত্ব পালন করবেন। অপরদিকে এক লাখের বেশি সংখ্যক সেনা সদস্য ও ৩৭ হাজার বিজিবি সদস্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। তাদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী সদস্য মাঠ পর্যায়ে ও কন্ট্রোল রুমে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ৫জন সশস্ত্র সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। তার মধ্যে ২ জন পুলিশ ও ৩ জন আনসার। এর আগে ১ জন স্বশস্ত্র পুলিশ দায়িত্ব পালন করতো। তবে এবার এ সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। তবু নারীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থেকেই যায়।

গত ১ ফেব্রুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ থেকে নির্বাচন কমিশনে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। তাতে বেশকিছু হামলার ঘটনা তুলে ধরে কতিপয় সুপারিশ করা হয়েছে। স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, গণতন্ত্রের প্রধান সৌন্দর্য হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভয়হীন চিত্তে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গন নারীদের জন্য এক বিভীষিকাময় অঙ্গন। বিশেষ করে নির্বাচনের প্রাক্কালে মাঠপর্যায়ে জামায়াতে ইসলামী এবং ১১ দলীয় জোটের নারী কর্মীদের ওপর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে পরিকল্পিত ও পৈশাচিক হামলার উৎসব চলছে, তা কেবল মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনই নয়, বরং আমাদের জাতীয় রাজনীতির জন্য কলঙ্কজনক।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যমতে, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, মিছিল, পোস্টার লাগানো, প্রচারণা সভা ও ভোট চাওয়ার সময় নারীরা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, হুমকি, ইভটিজিং এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার মতো ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

নির্যাতনের ঘটনা উল্লেখ করে স্মারকলিপিতে বলা হয়, নারীর নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্যতম পূর্বশর্ত। নির্বাচনকালীন এ ধরনের সহিংসতা ও নিপীড়ন শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনই নয়, বরং নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা, অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ এবং নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে সরাসরি বাধাগ্রস্ত করে। এমতাবস্থায় ইসি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের সুপারিশে বলা হয়েছে- নির্বাচন প্রচারণাকালে নারী কর্মী, প্রার্থী ও ভোটারদের প্রতি যেকোনো ধরনের সহিংসতা, হয়রানি ও হুমকিকে আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান কার্যকর করতে হবে। নির্বাচনকালীন নারী নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দিতে হবে। প্রত্যেক এলাকায় নারী প্রার্থী ও প্রচারকর্মীদের জন্য বিশেষ পুলিশ টহল, মোবাইল টিম ও নিরাপত্তা প্রটোকল চালু করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের অধীনে একটি পৃথক নারী-সংবেদনশীল হেল্পলাইন, অভিযোগ ডেস্ক ও অনলাইন অভিযোগ প্ল্যাটফর্ম চালু করে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো প্রার্থীর সমর্থক বা কর্মীর দ্বারা নারী নিপীড়নের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে দায়ী করে সতর্কতা, জরিমানা বা প্রার্থিতা বাতিলের বিধান কার্যকর করতে হবে। নারী নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশ বা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। হিজাব, পোশাক, লিঙ্গ বা ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, হুমকি ও অপমানকে নির্বাচন আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। যেসব এলাকায় নারীকর্মীদের ওপর বারবার হামলার ঘটনা ঘটছে, সেসব এলাকা ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করে সেখানে অতিরিক্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে একটি ‘নারী-সহিংসতামুক্ত নির্বাচন’ নীতিগত ঘোষণা দিয়ে সকল প্রার্থী ও দলের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকার গ্রহণ করতে হবে।

ভোট একটি সার্বজনীন ও মৌলিক রাজনৈতিক অধিকার। দেশের প্রতিটি নাগরিক শান্তিপূর্ণ ও স্বাধীনভাবে যেকোনো প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে এবং নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। এই সাংবিধানিক অধিকারে বাধা প্রদান গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুতর হুমকি এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিপন্থী। জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে সারাদেশে অবাধ ও নিরাপদ প্রচারণার পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের সময়োপযোগী, কার্যকর ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। গণতন্ত্রের সূর্য যেন সহিংসতার মেঘে ঢাকা না পড়ে সেই প্রত্যাশায় কমিশনের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ কামনা করা হয়। নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে দেশে একটি ভীতিহীন ও মর্যাদাপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত নারীদের উপর হামলার কিছু ঘটনা উল্লেখ করা হলো:

ভোলার লালমোহন উপজেলা (রায়চাঁদ বাজার এলাকা) ৯ জানুয়ারি ২০২৬ : নির্বাচন প্রচারণার অংশ হিসেবে নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি ভোটার সংযোগ কার্যক্রম চালানোর সময় মৌখিক হয়রানি ও বাধার মুখে পড়েন। পরবর্তীতে স্থানীয় বাজার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সংঘর্ষ শুরু হয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও শারীরিক হামলায় অন্তত ১৫ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা (চর মানিকা ইউনিয়ন) : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ : এক নারী প্রচারকর্মী প্রতিপক্ষ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর শারীরিক হামলা চালানো ঠেকাতে এগিয়ে এলে তার ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা কন্যাকেও পেটে লাথি মারা হয়। মা ও মেয়ে দুজনেই গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। ঘটনাটি নির্বাচনকালীন নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

নাটোর-২ (সদর) আসন, চাটনি ইউনিয়ন, ২২ জানুয়ারি ২০২৬ : নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনেই নারী কর্মীদের পথরোধ করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। তাদের প্রচার কার্যক্রম জোরপূর্বক বন্ধ করতে বাধ্য করা হয়। পরে ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণের হুমকি দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

মেহেরপুর সদর, গহরপুর গ্রাম, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ : দুপুরের দিকে নারী প্রচারকর্মীরা বাড়ি বাড়ি ভোট চাইতে গেলে তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। এতে তারা কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হন। নারী কর্মীদের রক্ষায় এগিয়ে এলে কয়েকজন পুরুষ কর্মীর ওপর হামলা চালানো হয়। এলাকাবাসী জানান, একই এলাকায় আগেও এমন বাধার ঘটনা ঘটেছে।

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা (যশোর-২ আসন), ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ : কীর্তিপুর গ্রামে নারী প্রচারকর্মীদের একটি দলের ওপর দলবদ্ধ হামলা চালানো হয়। তাদের মারধর করা হয় এবং মোবাইল ফোন ভাঙচুর করা হয়। নগদ অর্থসহ ব্যক্তিগত ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় সেখানে নারী কর্মীদের প্রচারণা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

যশোর সদর (যশোর-৩ আসন) ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ : একই দিনে যশোর সদরের বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিতভাবে ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হয়। নারী কর্মীদের নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশ না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। এতে প্রচারণা দৃশ্যত কমে যায়। প্রশাসন অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়নি।

লালমনিরহাট জেলা- হাতীবান্ধা উপজেলা, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ : নারী প্রচারকর্মীদের হিজাব খুলে ফেলার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে এবং অন্তত ২০ জন আহত হন। বাড়িঘর ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা-আলমডাঙ্গা উপজেলা (যুগীরহুদা ও খাদিমপুর) : ২৫-২৬ জানুয়ারি ২০২৬: ক. যুগীরহুদা গ্রামে নারী কর্মীদের হয়রানি থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। লাঠি ও পাথর নিক্ষেপে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হন। পরদিন খাদিমপুরেও একই ধরনের বাধা ও মৌখিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাৎক্ষণিক কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

কুমিল্লা ৮ আসনের ঝলম ইউনিয়নের ডেওয়াতলী গ্রামে জামায়াতের মহিলা কর্মীদের উপর অতর্কিত আক্রমণ করে যুবদলের সন্ত্রাসী জিয়াউল হক ও তার দলবল। দুজন মহিলা এ আক্রমণের ভিডিও রেকর্ড করায় তাদেরকে হেনস্তা করে ও মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলে।

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬: এক ছাত্রনেতা হিজাব পরিহিত নারী প্রচারকর্মীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকা মহানগর কদমতলী (ওয়ার্ড নং ৫২), ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ : নারী নেত্রী কাজী মারিয়া ইসলাম বেবী নির্বাচনী প্রচারণার সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন। মাথায় গভীর জখম হলে তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনাটি রাজধানীর নারী প্রচারকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

কুষ্টিয়া জেলা, কুষ্টিয়া- ৩ আসন, আইলচারা ইউনিয়ন, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ : নারী প্রচারকর্মী ও এক প্রার্থীর মাকে প্রকাশ্যে বাধা দেওয়া হয়। তাদের লিফলেট ও ব্যক্তিগত ব্যাগ জব্দ করা হয় এবং অপমানজনক ভাষায় হেয় করা হয়। ঘটনাটি দিনের আলোতে ঘটলেও কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিকার দেখা যায়নি। এতে বয়স্ক ও নারী কর্মীদের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়ে।

টাঙ্গাইল-২ আসন, গোপালপুর উপজেলা, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ : টাঙ্গাইল-২, গোপালপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় জামায়াতের নারী কর্মী ও সমর্থকদের পতাকা, ব্যানারসহ প্রচারণা কার্যক্রমে বাধা দেওয়া ও হয়রানি করা হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয় সুতি নয়াপাড়া এলাকায় ঘটে, যেখানে এই নারীদের কোনো সভা বা প্রচার কাজ করতে দেওয়া হয়নি। পরে এই ঘটনায় গোপালপুর থানা পুলিশ একটি মামলা করেছে এবং নারী কর্মীদের নিরাপত্তা ও অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। এছাড়াও সারাদেশে অহরহ নির্বাচনী প্রচরণায় বাধা, হুমকি ও হয়রানির ঘটনা ঘটছে।

উল্লেখিত ঘটনায় নারী ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে। নারী ভোটাররা কেন্দ্রে যাওয়ার পথে যাতে কোন দুষ্কৃতিকারীর বাধার মুখে না পড়েন সে বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে। স্ট্রাইকিং ফোর্স এ বিষয়ে নিরাপত্তার কাজে ভালো ভূমিকা রাখতে পারে। আবার কেন্দ্র প্রবেশের পর নারীদের লাইনে যাতে নারী নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের ভোট কক্ষ দেখিয়ে দিতে পারে এবং ভোটার নাম্বার সংগ্রহে সহযোগিতা করতে পারে। এরপর কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের পর এজেন্টরা যাতে কোন নারী ভোটারকে অযথা হয়রানি না করে এ বিষয়ে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তারা নারী ভোটারদের সহযোগিতা করতে পারে। কোন নারী ভোটার যদি রাস্তায় নিরাপদ মনে না করে তাহলে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহায়তা নিতে হবে এবং তারাও তাকে নিরাপদে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেন। এভাবে প্রত্যেকে নারী ভোটারদের প্রতি বিশেষ নিরাপত্তা দিয়ে তাদেরকে ভোট প্রদানে সহযোগিতা করলে নির্বাচনটি একটি উৎসবমূখর পরিবেশে পরিণত হবে। নির্বাচনে ভোটের হারও বেড়ে যাবে। নারী ভোটারগণের উপস্থিতিই নির্বাচনকে উৎসবমূখর করতে মুখ্য ভূমিকা রাখবে। এজন্য সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃংখলা বাহিনীকে নারী ভোটারদের প্রতি বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

লেখক : সদস্য সচিব, জার্নালিস্ট কমিউনিটি অব বাংলাদেশ।