মাহবুবুল হক
অধ্যাপক মুহাম্মাদ সিরাজ উদ্দীন আপন মহলে বাঙলা একাডেমি সিরাজ উদ্দিন বা সিরাজ ভাই হিসেবে পরিচিত ছিলেন। লক্ষ্মীপুর জেলার ফরাসগঞ্জে ১৯৪৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। মেঘনা নদীর গর্ভে তাদের পৈত্রিক নিবাস বিলীন হয়ে গেলে কমলনগর থানার চর জাঙ্গালিয়া গ্রামে তার পূর্বপুরুষ বসতি স্থাপন করেন। ঢাকা শহরে তিনি নিউ পল্টন লেন, আজিমপুরে বসবাস করতেন। তার পিতা ও মাতার নাম যথাক্রমে মরহুম আবদুল গনি সওদাগর ও মরহুমা শরিয়াতুন্নেছা। শৈশবে তিনি চর লরেন্স প্রাইমারী স্কুল ও বীজিরহাট মিল্লাত একাডেমীতে লেখাপড়া করেন। ১৯৬২ সালে লক্ষ্মীপুর সামাদ একাডেমি থেকে এসএসসি, ১৯৬৪ নোয়াখালীর চৌমুহনী কলেজ থেকে এইচএসসি, ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ অনার্স এবং ১৯৬৮ সালে এমএ পাস করেন। একই বছরে তিনি বাংলা একাডেমির গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন। ২০০৩ সালে বাংলা একাডেমির পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। ২০০৪ সালে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বাংলা বিভাগে চেয়ারম্যান পদে যোগদান করেন। ২০১৪ সাল থেকে সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির ইসলামি স্টাডিজ বিভাগ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে অধ্যাপনা করেছেন।
বিটিভি, আরটিভি, এনটিভি, বৈশাখী, বাংলাভিশন, দিগন্ত টিভি, ইসলামী টিভি, চ্যানেল ওয়ান ও যমুনা টিভিসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন চ্যানেলে ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, দর্শন ও জীবন বিধান ইত্যাদি বিষয়ের ওপর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তার আলোচনা চলতে থাকে। তিনি দীনি এলেম-এর অধিকারি সাধক পণ্ডিত ও আধুনিক শিক্ষিত মননশীল লেখক। দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ইসলামি জ্ঞানের চাহিদার ব্যাপারে তিনি সম্যক অবহিত ছিলেন। কুরআন ও হাদিসের বিশুদ্ধ সনদের ভিত্তিতে মানুষের দুনিয়ার শান্তি ও আখেরাতের মুক্তির জন্য প্রায় ৫৫ বছর ধরে গবেষণা করেছেন। কুরআন ও হাদিসের মর্ম উপলব্ধির জন্য তিনি জীবনভর মানুষকে দাওয়াত দিয়েছেন এবং জান্নাতমুখী আমলের বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। লেখক হিসেবে তার রচনার পরিমণ্ডল ধর্ম, সমাজ, সাহিত্য, ইতিহাস ও লোক সংস্কৃতি। তার লেখা ছিলো তথ্যনির্ভর, সহজবোধ্য, সুখপাঠ্য এবং আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের জন্য অপরিহার্য। তার রচিত গবেষণা গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে নিয়ামুল কুরআন ও হাদিস, মৃত্যুর আগে-পরে, কিয়ামত, হাসর, জান্নাত-জাহান্নাম, বাংলাদেশের লোক ধাঁধাঁ, দুনিয়া ও আখিরাত, কিছু ইসলামি দোয়া ও ওয়াযাইফ, মাতাপিতা ও সন্তান।
তার সম্পাদিক গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক গ্রন্থবর্ষ স্মারকগ্রন্থ ও জসীম উদ্দীন স্মারকগ্রন্থ। তার অপ্রকাশিত গবেষণা গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে আল্লাহ আমাদের জীবনে-মরণে, কুরআন পরিচয়, সুরা আন-নামলের বিষয় বৈচিত্র, রাসূল (সা.) ব্যবহারিক জীবন, চল যাই নবীর পথে, বাংলাদেশের লোক প্রবাদ, বাংলা ও বাঙ্গালী জাতির ইতিহাস। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত তার অসংখ্য উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধের মধ্যে রয়েছে মানব প্রজনন, মানব শিশুর ক্রমবিকাশ, দারিদ্র বিমোচন, বাংলা সাহিত্যে ব্যবহৃত ভাষা, মৃত্যু, শিশুর জীবনে মাতৃদুগ্ধের ভূমিকা, নোয়াখালী লোকছড়া, আমাদের সামাজিক অবক্ষয় ও তার প্রতিকার, সানাউল্লাহ নূরীর জীবন ও সাহিত্যকর্ম, রামগতির জনজীবন ও সাহিত্য ইত্যাদি।
তিনি মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে পরকালের পথে পা বাড়িয়েছেন ৩০ নভেম্বর ২০২৫ রোববারে। তিনি দীর্ঘদিন নানা অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত থাকলেও একেবারে বা কখনও একেবারে শয্যাসায়ী হননি। কর্মচঞ্চল ছিলো তার জীবন। প্রতিদিন ফজর সালাতের পর ধানমণ্ডি লেকে এসে বন্ধুদের সাথে শরীর চর্চা করতেন। শরীর চর্চা শেষ হলে বন্ধুদের দীনের কথা শোনাতেন এবং সবাইকে নিয়ে পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে সবার জন্য দোয়া করতেন। বলতে গেলে শরীর চর্চায় যারা অংশগ্রহণ করতেন তারা সবাই ছিলে তার ছাত্রসম। ইন্তিকালের দিনেও তিনি ব্যায়াম বা শরীর চর্চা সেরে বাসায় এসে নাতনিকে নিয়ে প্রতিদিনের মতো মাদরাসায় গমন করেন এবং সময়মত ফিরে এসে প্রাত্যহিক কাজ শেষে বিশ্রামে যান। এরমধ্যেই তার ইন্তিকাল হয়ে যায়। সময়টা ছিলে মাত্র আধাঘণ্টার। পরবর্তীতে মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবদুর রাজ্জাক সাহেব বলেছেন প্রতিদিনের মতো এদিনেও তিনি নাতনিকে ক্লাশে বসিয়ে দিয়ে আমাদের সাথে কথাবার্তা বলেছেন। দীনের দাওয়াতই ছিলো তার কাছে মূখ্য। এরমধ্যে দেশ ও জাতির কথাও আসতো। বয়োজ্যেষ্ঠ ও গুণীজন হিসেবে আমরা তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতাম এবং আমাদের ব্যবহারিক জীবনে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতাম। মৃত্যুর দিনও আমরা কথা বলেছি। একসাথে চা-নাস্তা খেয়েছি। সেদিনও বেশ হাসিখুশী ছিলেন। দুপুর ১২-৩০ মিনিটের দিকে তিনি নাতিনকে নিয়ে বাসায় গেলেন। ২-৩০ মি. খবর এলো তিনি ইন্তিকাল করেছেন। কী বিস্ময়কর এবং অভূতপূর্ব মৃত্যু। মৃত্যুকালে কাউকে তিনি কষ্ট দেননি। বিশ্রামের মধ্যেই ইন্তিকাল করেছেন। আমার মনে আছে জানাযার সময় সবাই বলাবলী করেছিলেন এটা এক কল্যাণময় ইন্তিকাল। ঘরের সবাই ছিলো কিন্তু কেউ টের পায়নি। এ ধরনের ব্যতিক্রম খুব বেশী একটা দেখা যায় না। কেউ কেউ বলছিলেন ধার্মিক ও দাওয়াতি ব্যক্তি ছিলেন বলেই এটা ছিলো তার জন্য মহান আল্লাহর তরফ থেকে একটা বড় ধরনের নিয়ামত ও রহমত।
তার সাথে আমার পরিচয় একটা ছোটখাট গল্পের মতো। দীর্ঘ করবোনা তবু দু’কথা না বললে স্বস্তিও পাবো না। ১৯৬৯ সালে গ্রাজুয়েশনের পরীক্ষা দিয়ে মাত্র একটু নিঃশ্বাস নিচ্ছি। হঠাৎ ঢাকা থেকে আমি যে ছাত্র সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম তার সভাপতি দিনাজপুরে এসে হাজির হলেন। বললেন, ‘আমরা আল্লাহর রহমতে একটা দৈনিক পত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছি। তোমাকে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার জন্য খুব তাড়াতাড়ি ঢাকায় আসতে হবে। তোমার এখন দু’টি কাজ। তোমার পরিবর্তে অন্য কোনো যোগ্য ভাইকে জেলা সভাপতি করা এবং এই নাও ১০ টাকার টিকেট এগুলো বিক্রি করে পত্রিকার তহবিল সমৃদ্ধ করা। পরীক্ষা দেয়ার সাথে সাথে সংবাদপত্রের চাকরি পেয়ে যাব একথা কোনোদিন ভাবিনি। তবে সাংবাদিকতা করবো সে ভাবনা তো পূর্ব থেকেই ছিলো। আমার পূর্বে যিনি জেলা সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তিনি এক বছর আগেই পড়াশোনা ও সাহিত্যকর্ম করার জন্য ঢাকায় চলে গিয়েছিলেন। তাঁর মতো আমারও যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু সে পরিকল্পনা ঘরে এসে প্রবেশ করবে এ অলৌকিক বিষয়টি ভাবনায় ছিলো না। ভাবনায় ছিলো সানাউল্লাহ আখুঞ্জী তাঁর বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ‘মুক্তবুদ্ধি সাহিত্য সংঘ’ নামে যে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন আমি গিয়ে সেখানেই যোগ দিব এবং চাকরি ও পড়াশোনার বিষয়ে মগ্ন হবো।
যাহোক সম্ভবত মাসখানিকের মধ্যেই সব কাজ গুটিয়ে আম্মাজানের কাছ থেকে ১০০ টাকা নিয়ে দিনাজপুর রেলস্টেশন-এ এসে ঢাকার টিকিট করছি। হঠাৎ দেখি আমার ক্লাসমেট ও বন্ধু হাবিবুর রহমান বলছে দোস্ত আমিও তোমার সাথে যাব। বললাম সে কি করে সম্ভব। আমি তো গিয়ে উঠবো সানাউল্লাহর রেস্টহাউজে। তুমি ওঠবে কোথায়। বলল, আল্লাহই ব্যবস্থা করবেন। আমি আমার বন্ধুকে বাস্তবতা বোঝানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু কোনো লাভ হলো না। তার কাছে কোনো টাকা-পয়সাও ছিলো না। আমি ঢাকা যাচ্ছি এ খবর পেয়েই স্টেশনে দৌড় দিয়েছে। অগত্যা আর কী করা বন্ধুকে নিয়েই রওয়ানা দিলাম। ভোরে ফুলবাড়িয়া ইস্টিশনে এসে পৌঁছলাম। দার্শনিক সানাউল্লাহ আখুঞ্জী, আহলে হাদিস হাবিবুরকে দেখে খুশী হলো। পরে যখন জানলো তখন খুব চিন্তায় পড়ে গেল। যাহোক, রাতে হাবিবুর রহমানের জায়গা হলো সানাউল্লাহ আখুঞ্জীর বেডে আর আমার জায়গা হলো বাংলা একাডেমির সিরাজউদ্দীন ভাই-এর বেডে। এর আগে ডাবলিং করার কোনো অভিজ্ঞতা ছিলো না। সানাউল্লাহ আখুঞ্জীর সঙ্গে সিরাজউদ্দীন সাহেবের সম্পর্ক ছিলো মধুর। সে সুবাদে আমার রাত কাটানোর জায়গা হয়েছিলো এভাবে। ডাবলিং করার কোনো বিধি ছিলো না। রেস্ট হাউজে দু’জনের জন্য দু’টি বেড পেতে সানাউল্লাহ আখুঞ্জীর বেশ বেগ পেতে হয়েছিলো। মনে হয় ৩/৪ দিন আমরা এভাবেই কাটিয়েছি। রেস্ট হাউজ ম্যানেজারকে সামলিয়েছিলেন সিরাজউদ্দীন ভাই। সে বড় ভাই তূল্য ব্যক্তির কথাই এখানে বলছি। সে সময় থেকে ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত আমাদের সম্পর্ক ছিলো চীনের প্রাচীরের মতো। এ ৫৬ বছরে আমি সিরাজ ভাইকে কখনও কখনও ভুলে থাকলেও তিনি কখনও আমাকে ভুলে থাকেননি। সব সময় নিজস্ব পরিমণ্ডলে যখনই সুযোগ পেয়েছেন আমাকে উচ্চকিত করার প্রবল প্রচেষ্টা করেছেন। আমি যা নই তাই বলেছেন। আমার সমস্ত কাজকে সমর্থন করেছেন। কখনও বিরোধীতা করেননি। সব সময় আমাকে এবং আমার কাজকে পরামর্শ ও উপদেশ দিয়ে সমুজ্জ্বল করেছেন। কারো জীবনে এমন ভালবাসা পাওয়া, এমন সমর্থন পাওয়া সত্যিকার অর্থে একটা বিরল ঘটনা।
একটা হাসির কথা বলি। হঠাৎ একদিন মনে হলো অসুস্থ সিরাজভাইয়ের বেডে একদিন গিয়ে থেকে আসি। আর আমার স্বভাবতো হলো যে চিন্তা সে কাজ (ভালমন্দ বিচার ছাড়া)। জীবনসঙ্গীকে বুঝিয়ে শুনিয়ে রাত প্রায় ১১টার দিকে সিরাজভাইর বাসায় গিয়ে হাজির হয়ে গেলাম। তখন তিনি বিপত্নীক, মেয়ে শ্বশুর বাড়িতে। বাসায় দুই ছেলে। বললাম, আপনাকে দেখতে এসেছি। শুনলাম আপনি সারারাত ঘুমোতে পারেন না। ইবাদত বন্দিগিও পূর্বের মতো করতে পারছেন না। লেখালেখিও শারীরিক কারণে বন্ধ হয়ে আছে। ভাবলাম রেস্টহাউজের মতো আপনার পাশে শুয়ে দেশ ও জাতির কথা আলাপ করি। সিরাজভাই বেশ কষ্ট করে শয্যায় উঠে বসলেন। আমার সঙ্গে হাত মেলালেন। খুব খুশী হলেন। সারারাত ধরে আমরা রাজ্যের গল্প করলাম। সকালে আমি চলে এলাম। পরদিন শুনলাম তিনি অনেক সুস্থ হয়ে গেছেন। সবই মহান আল্লাহর রহমত ও নেয়ামত।
মাঠে বন্ধুদের নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যা হতো। আমি এ ধরনের অসুস্থ বন্ধুদের বলতাম। সিরাজভাইকে নিয়ে বাসায় দোয়া পড়ান। বা তাঁর পরামর্শ উপদেশ গ্রহণ করেন। অনেকেই আমার পরামর্শ শুনেছেন এবং লাভবান হয়েছেন। মনে হতো তিনি মানবজীবনের বিশেষ করে সাংসারিক জীবনের সকল সমস্যার সমাধান জানতেন। মানুষ তাঁর কাছ থেকে এক তরফা ভাল উপদেশ ও পরামর্শ পেতেন।
বাংলা একাডেমির তরুণ কবি সাহিত্যিকদের প্রশিক্ষণে যারা অংশগ্রহণ করেছে তাঁরা জানেন। দাড়িওয়ালা অধ্যাপক সিরাজউদ্দীন বাংলাভাষা ও সাহিত্যকে কত প্রবলভাবে সমুজ্জ্বল করতে পারতেন, তা তারা আমার চেয়ে অনেক ভালো জানেন।
আমরা উদ্যোগ নিয়ে তাঁকে মিডিয়াতে এনেছিলাম। প্রথমে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘জীবনের আলো’ অনুষ্ঠানে। তারপর অন্য এক ডজন প্রাইভেট টেলিভিশনে। সব সময় তিনি যে কোনো বিষয়ে বাজিমাত করতে পারতেন। বিশেষ করে সাহিত্য সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, যাপিতজীবন, ইতিহাস, স্বাধীনতা ধর্ম বিষয়ে। মিডিয়ায় কখনও কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না তাঁকে ফোন করে বললাম সিরাজভাই চলে আসেন। দ্বিরূক্তি না করেই চলে আসতেন। আমি তখন আরটিভিতে কাজ করি। বক্তার অভাবে অস্বস্তি ফিল করছিলাম। ভাবলাম তিনি চলে এলেন। বললেন, বিষয় কী? বললাম, ইসলামে স্বাস্থ্য পরিচর্যা। দেখলাম ওনার কোনো দ্বিধা নেই। হরহর করে বলতে লাগলেন। সেদিন খুব বিস্মিত হয়েছিলাম। এ ধরনের আরও দু’জন ছিলেন। যারা অবশ্য সিরাজ ভাই-এর মুরুব্বী। একজন দার্শনিক দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ। অন্যজন বিশ্ব বিখ্যাত বাগ্মী জাতীয় অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান।
ইসলামী বিষয়ে কোনো ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও তিনি বিশ্ববিদ্যালয় লেবেলে ইসলামী স্টাডিজ পড়াতেন। পড়াতেন তো না সাগরে সন্তোরণ করতেন। এমন একজন মানুষকে হারিয়ে সত্যি আমরা এখন দারুন শূন্যতায় ভুগছি। দোয়া করি মহান আল্লাহ তাঁকে যেন নেয়ামতের চাদর দিয়ে জড়িয়ে রাখেন।
লেখক : গবেষক ও কলামিষ্ট।