মোহাম্মাদ ওয়ালিউদ্দিন তানভীর

এ মুহূর্তে বাংলাদেশের রাজনীতি এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে প্রকাশ্য সংঘাত কম হলেও ভেতরে ভেতরে এক ধরনের নীরব উত্তেজনা কাজ করছে। দৃশ্যমান বিতর্কের আড়ালে একটি মৌলিক প্রশ্ন ধীরে ধীরে সামনে উঠে আসছে-ভবিষ্যতের রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের স্থান কোথায় হবে? এটি কেবল একটি দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা নয়; বরং রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্মৃতি, জবাবদিহিতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার প্রকৃতি নিয়ে এক গভীর বিতর্ক। যে দলটি একসময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার উত্তরাধিকার, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিল, সে দলকে কি বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পূর্ণভাবে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাবে, নাকি ইতিহাসের জটিলতা স্বীকার করে তাকে নতুন বাস্তবতার মধ্যে পুনর্নির্ধারণ করা হবে- এ প্রশ্নই এখন নীরবে দেশের রাজনৈতিক কথোপকথনকে প্রভাবিত করছে। গণতন্ত্রের ইতিহাস বলছে, শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তিগুলো খুব কমই পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়; তারা বদলে যায়, পুনর্গঠিত হয় এবং কোনো না কোনোভাবে আবার ফিরে আসার পথ খোঁজে। তাই আওয়ামী লীগকে ঘিরে বিতর্কটি শেষ পর্যন্ত একটি বড় প্রশ্নে এসে দাঁড়ায়-বাংলাদেশ কি প্রতিশোধের রাজনীতি বেছে নেবে, নাকি কঠিন অতীতের মুখোমুখি হয়ে একটি পরিণত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্মাণ করবে।

ইতিহাস কখনোই বাংলাদেশের রাজনীতিকে “শেষ অধ্যায়” লিখতে দেয় না। ইতিহাসের দিকে তাকালে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়- বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো বড় রাজনৈতিক শক্তির উত্থান বা পতন কখনোই সরলরৈখিক নয়। ক্ষমতার পরিবর্তন, সামাজিক বাস্তবতা এবং রাজনৈতিক সুযোগ-সব মিলিয়ে দলগুলোর অবস্থান বদলে যায়। স্বাধীনতার আগে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিতে মুসলিম লীগ ছিল ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা একটি প্রভাবশালী শক্তি। পাকিস্তান আন্দোলনের উত্তরাধিকার, প্রশাসনিক প্রভাব এবং সংগঠনের বিস্তার তাদের দীর্ঘদিন রাজনীতির মূলধারায় রেখেছিল। কিন্তু ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে তাদের অবস্থান সেই ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়। নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর জনমতের বড় অংশ মুসলিম লীগকে অতীতের রাজনীতির প্রতীক হিসেবে দেখতে শুরু করে। ফলে খুব দ্রুত তাদের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা কমে যায় এবং সংগঠনগত শক্তিও ভেঙে পড়তে থাকে।

স্বাধীনতার পর মুসলিম লীগের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল-নতুন বাস্তবতার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়া। সে সময় অনেক নেতা দেশ ছেড়ে চলে যান, কেউ গ্রেফতার হন, আবার কেউ ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে নতুন ক্ষমতার বলয়ের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করেন। কিন্তু সংগঠিতভাবে দলকে পুনর্গঠন করার দৃঢ় প্রচেষ্টা খুব একটা দেখা যায়নি। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে তারা কার্যত রাজনীতির প্রান্তে চলে যায়। একটি রাজনৈতিক দল যখন জনভিত্তি, ভাষা এবং নেতৃত্বের নতুন কাঠামো তৈরি করতে ব্যর্থ হয়, তখন তার অস্তিত্ব ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে। মুসলিম লীগের ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটেছিল। তারা নতুন প্রজন্মের কাছে নিজেদের প্রাসঙ্গিক করে তুলতে পারেনি।

১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন একটি বাস্তবতা তৈরি হয়। ক্ষমতার কাঠামো বদলাতে থাকে এবং নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম সামনে আসে। জিয়াউর রহমান বহুদলীয় রাজনীতির জন্য পরিসর তৈরি করলে মুসলিম লীগের অনেক নেতা সেই নতুন কাঠামোর ভেতরে প্রবেশ করেন। কিন্তু তারা আলাদা দল হিসেবে নিজেদের পুনর্গঠনের চেষ্টা না করে ধীরে ধীরে অন্য রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে মিশে যেতে থাকেন। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মুসলিম লীগের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় আরও ক্ষীণ হয়ে যায়। ইতিহাসে এমন ঘটনা নতুন নয়—কখনো কখনো একটি দল পরাজয়ের কারণে নয়, বরং নিজেদের সংগঠন ধরে রাখতে না পারার কারণে রাজনীতির মানচিত্র থেকে হারিয়ে যায়।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী একেবারে ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেছিল। স্বাধীনতার পর দলটি নিষিদ্ধ হয় এবং তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। অনেক নেতা বিদেশে চলে যান, কেউ আত্মগোপনে থাকেন, আবার অনেকে প্রকাশ্যে রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হন। উপরিভাগ থেকে দেখলে মনে হতে পারত দলটি শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবে তারা সংগঠন ধরে রাখার দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়। প্রকাশ্যে কার্যক্রম সীমিত হলেও সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা চলতে থাকে। তাদের লক্ষ্য তখন ক্ষমতায় যাওয়া নয়; বরং রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা প্রায়ই বলেন, কিছু সময় আসে যখন একটি দলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো টিকে থাকা। জামায়াত সে বাস্তবতাকে বুঝেছিল। জিয়াউর রহমান যখন ধীরে ধীরে রাজনৈতিক পরিসর খুলে দেন, তখন তারা সরাসরি নিজেদের নামে রাজনীতিতে ফিরতে পারেনি। ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ নামের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তারা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। এটি ছিল একটি কৌশলগত অভিযোজন—রাজনীতির মাঠে থাকা, কিন্তু পরিবেশের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সংঘর্ষে না যাওয়া। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে তারা আবার নিজেদের পরিচয়ে রাজনীতিতে ফিরে আসে।

এ দুটি অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য একটি বড় শিক্ষা বহন করে। কোনো দল বিপর্যয়ের মুখে পড়লে তার ভবিষ্যৎ নির্ভর করে শুধু জনপ্রিয়তার ওপর নয়; নির্ভর করে সংগঠনের স্থায়িত্ব, নেতৃত্বের কৌশল এবং সময়ের সঙ্গে অভিযোজনের সক্ষমতার ওপর। কেউ ইতিহাসে মিলিয়ে যায়, কেউ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে আবার ফিরে আসে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস তাই আমাদের মনে করিয়ে দেয়—রাজনীতির মঞ্চে চূড়ান্ত বিদায় খুব কমই ঘটে; বরং ঘটে রূপান্তর, পুনর্গঠন এবং নতুন করে ফিরে আসার দীর্ঘ প্রক্রিয়া।

আজকের বাস্তবতায় এসে প্রশ্নটি আবার সামনে এসেছে-আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কী? দলটি কি আগের মতো নিজেদের পরিচয় নিয়ে ফিরে আসবে, নাকি অন্য কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যে নতুন রূপ নেবে? এ প্রশ্নগুলো অনেকেই এড়িয়ে যান, কারণ এতে আবেগ জড়িত। কিন্তু বাস্তবতা হলো-এ প্রশ্ন না করলে বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ বোঝা সম্ভব নয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগ পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়নি। নির্বাচনের পর বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় পর্যায়ে তাদের কিছু কার্যক্রম আবার দেখা যাচ্ছে। কোথাও দলীয় অফিস খোলা হচ্ছে, কোথাও অনলাইনে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চলছে, কোথাও আবার পুরোনো নেটওয়ার্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। এটি খুব বড় কিছু না হলেও একটি বিষয় পরিষ্কার করে-রাজনৈতিক সংগঠন একদিনে শেষ হয়ে যায় না।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নেতৃত্বের অবস্থান। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বড় অংশ এখন দেশের বাইরে। কেউ ভারতে, কেউ যুক্তরাজ্যে, কেউ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তারা হয়তো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন, নতুন রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে ভাবছেন। কিন্তু বড় প্রশ্ন হলো-শেখ হাসিনা কি আবার বাংলাদেশের সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরবেন? এবং যদি ফিরতেও চান, রাজনৈতিক বাস্তবতা কি তা সহজ করবে?

তবে নেতৃত্বের প্রশ্নের বাইরেও একটি বিষয় আরও গুরুত্বপূর্ণ-ভোটাররা কোথায় যাবে। আওয়ামী লীগের একটি স্থায়ী সমর্থকগোষ্ঠী আছে। তারা কি বিএনপির দিকে যাবে? নতুন কোনো রাজনৈতিক শক্তি তৈরি করবে? নাকি আপাতত রাজনীতি থেকে দূরে থাকবে? এই প্রশ্নগুলো শুধু দলীয় রাজনীতির প্রশ্ন নয়; এ বিতর্কগুলো আসলে ক্ষমতার দৈনন্দিন লড়াইয়ের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বিন্যাস নির্ধারণের প্রশ্ন।

এখানে আরেকটি বাস্তবতা সামনে আসে-জবাবদিহি। জুলাই অভ্যুথানের সময় আওয়ামী লীগের গণহত্যার ঘটনাগুলো নিয়ে দেশের একটি বড় অংশ বিচার এবং দায়বদ্ধতার দাবি তুলছে। অনেকেই মনে করেন কিছু রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকার বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু একই সঙ্গে আরেকটি বিষয়ও মাথায় রাখতে হবেÑএকটি বড় দলের হাজার হাজার সাধারণ কর্মী আছে যারা হয়তো শুধু রাজনীতি করেছে, কিন্তু অপরাধে জড়িত নয়। তাদের সম্পূর্ণভাবে রাজনীতির বাইরে ঠেলে দিলে তা ভবিষ্যতে আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

আজকের বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের সামনে সবচেয়ে বড় সংকট সম্ভবত আইনি বা সাংগঠনিক নয়—বরং নৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পর যে অভিযোগ, ক্ষোভ এবং বিতর্ক জমা হয়েছে, সেগুলো শুধু আদালত বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় মিটে যায় না। জনতার আদালত অনেক বেশি কঠিন। অনেক সাধারণ মানুষের মনে এখন একটি মৌলিক প্রশ্ন ঘুরছে: একটি রাজনৈতিক দল কি অতীতের কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো স্পষ্ট আত্মসমালোচনা ছাড়াই আবার নতুন করে রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারে? ইতিহাস বলে, রাজনৈতিক দলগুলো ভুল করে, সংকটে পড়ে, আবার ফিরে আসে-কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তন সাধারণত ঘটে আত্মসমালোচনা, নেতৃত্বের পরিবর্তন বা অন্তত ভাষার পরিবর্তনের মাধ্যমে। সে প্রক্রিয়া ছাড়া জনবিশ্বাস পুনর্গঠন করা কঠিন।

এ সংকটকে আরও গভীর করেছে হাসিনাসহ দলের কিছু পলাতক বা প্রবাসী নেতাদের বক্তব্য। জনমনে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে অনেকেই আশা করেছিল সংযত ভাষা, অনুশোচনার ইঙ্গিত কিংবা অন্তত বাস্তবতার স্বীকৃতি। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে যে ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, তাতে অনেকের কাছে মনে হয়েছে-দলটি এখনো বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়ায়নি; বরং নিজের তৈরি এক ধরনের ভ্রমের জগতে অবস্থান করছে। আত্মসমালোচনা সেখানে এখনো বহু দূরের বিষয়। রাজনীতিতে ভাষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংকটের সময় নেতৃত্ব যদি সাধারণ মানুষের আবেগ এবং আনুভূতিকে অস্বীকার করে বা অবজ্ঞার সুরে কথা বলে, তাহলে জনগণের সাথে দূরত্ব আরও বাড়ে। ফলে আওয়ামী লীগের জন্য মূল প্রশ্ন এখন শুধু সংগঠন টিকিয়ে রাখা নয়; বরং জাতির সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা-কীভাবে তারা নিজেদের অতীতকে ব্যাখ্যা করবে এবং ভবিষ্যতের জন্য কী প্রতিশ্রুতি দেবে।

এ প্রেক্ষাপটে বিএনপির সামনে একটি কৌশলগত দ্বিধা তৈরি হয়েছে। তারা কি এমন একটি রাজনীতি গড়তে চাইবে যেখানে প্রতিপক্ষকে পুরোপুরি বাইরে রাখা হবে, নাকি এমন একটি কাঠামো তৈরি করবে যেখানে প্রতিযোগিতা থাকবে কিন্তু অতীতের প্রশ্নগুলোরও জবাব দিতে হবে? এ প্রশ্নটি কেবল রাজনৈতিক কৌশলের বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শনের প্রশ্ন। কারণ একটি সরকার যখন ক্ষমতায় থাকে, তখন তার সিদ্ধান্ত শুধু বর্তমানের রাজনীতিকেই নয়, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকেও প্রভাবিত করে।

সব মিলিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট-আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা আসলে একটি বড় জাতীয় প্রশ্নের অংশ। এটি কেবল একটি দলের টিকে থাকা বা হারিয়ে যাওয়ার গল্প নয়; বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার পুনর্গঠনের প্রশ্ন। ইতিহাস আমাদের দেখায়, রাজনীতিতে শূন্যতা খুব কম সময় থাকে। একটি শক্তি দুর্বল হলে অন্য শক্তি সে জায়গা পূরণ করে। কিন্তু সে পরিবর্তন কীভাবে ঘটবেÑ সংঘাতের মাধ্যমে, নাকি একটি নতুন রাজনৈতিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে-সেটিই মূল বিষয়।

বাংলাদেশের সামনে তাই প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হলো ভারসাম্য খুঁজে পাওয়া। প্রতিশোধের রাজনীতি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা আনে না, আবার জবাবদিহিহীন রাজনীতিও গণতন্ত্রকে দুর্বল করে। এ দুইয়ের মাঝখানে একটি বাস্তবসম্মত পথ খুঁজে বের করতে হবে-যেখানে আইনের শাসন থাকবে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে এবং জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের সুযোগও থাকবে। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি খুবই সরল কিন্তু গভীর: বাংলাদেশ কি এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারবে যেখানে বিচার থাকবে কিন্তু প্রতিহিংসা নয়, প্রতিযোগিতা থাকবে কিন্তু ধ্বংসের রাজনীতি নয়? আগামী দশকে দেশের রাজনীতির চরিত্র অনেকটাই নির্ভর করবে এই প্রশ্নের উত্তরের ওপর।

লেখক : প্রাবন্ধিক।