হারুন আর রশিদ

আর্থিক আইনে ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অসাবধানতা, দুর্নীতি বা লুটের কারণে ক্ষতি হলে তার দায় গ্রাহক বা আমানতকারীরা বহন করবে না। বরং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তা ব্যক্তি, পরিচালক বা কর্তৃপক্ষকেই দায়ভার নিতে হবে। এ বিধান স্পষ্টতরভাবে সাধারণ ও শরীয়াহহ আইনেও আছে। পাঁচটি ইসলামী শরীয়াহহ ব্যাংকসমূহ শরীয়াহহ বোর্ডকে পাশ কাটিয়ে আমানতকারীদের দু’বছরের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে শরিয়া কাউন্সিল বা বোর্ডের মতামত নেয়া হয়নি বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকিং সেক্টরে বিশেষজ্ঞগণও বলেছেন এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং শরীয়াহ পরিপন্থী। অভিজ্ঞজনরা মনে করেন আমানতকালীন সময়ে ব্যাংকের সংকট ছিলো না, পরবর্তীকালে ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও লুটের কারণে ক্ষতি হলে তার দায় গ্রাহক বা আমানতকারীরা বহন করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। বরং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষকেই দায়ভার নিতে হবে এবং ক্ষতিপূরণ দিতে তারা বাধ্য থাকিবে।

সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংকের দু’বছরের মুনাফা কাটার (Hair Cut) সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকাররাও বেকায়দায় পড়েছেন। প্রতিদিনই মার্জার হওয়া পাঁচটি ব্যাংকে ভিড় করছেন অসন্তুষ্ট গ্রাহকরা, যারা ব্যাংকারদের কাছে এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চাইছেন। সাধারণ ও স্থায়ী ডিপোজিট হোল্ডাররা বলছেন টাকা লুট করেছে এস আলম ও নজরুল ইসলাম মজুমদার। আর এ লুটের সাথে সহযোগিতা করেছেন কিছু সুবিধাভোগী ব্যাংক কর্মকর্তা। লুটপাটের কারণে ব্যাংকগুলো আজ রুগ্ন অবস্থায় পড়েছে এবং তারল্য সংকটে ভুগছে। লুটের দায় কেন গ্রাহকদের নিতে হবে। এটা প্রাতিষ্ঠানিক কর্পোরেট বিধিমালা বা কোন আইনে আছে কি ? খারাপ ঋণ ও গ্রাহক সেবার মান এবং পর্যাপ্ত মূলধন কেন কমে যাচ্ছিল এসব ব্যাপারে গ্রাহকরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে যৌক্তিক কারণ জানতে চায়। ব্যাংকের সবচেয়ে সহযোগী যোদ্ধা যারা তাদের উপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক কেন চড়াও হয়েছেন এটা সচেতন জনগোষ্ঠীও জানতেও আগ্রহী। এটা দারুণভাবে সচেতন মানুষকে আহত করে। সুবিধাভোগী, মধ্যস্বত্বভোগী ব্যাংকাররা গ্রাহকদের এ কঠিন প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারছে না। এ কারণে ভুক্তভোগী আমানতকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে লাগাতার মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন বিগত ১ মাস ধরে। তাদের লাগাতার কর্মসূচির এক কপি স্মারকলিপি ও দাবি দাওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গভর্নরের বরাবরে প্রতিদিন প্রদান করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সব আমানত হিসাব পুর্নগণনা করা হবে ২৮ ডিসেম্বর বিদ্যমান স্থিতির ভিত্তিতে। ভয়াবহ দিক হলো ১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ২ বছরের সময় কালে আমানতের ওপর কোনো মুনাফা গণনা করা হবে না, উপরন্তু আমানতের উপর ‘হেয়ার কাট’ প্রযোজ্য হবে এবং সেই অনুযায়ী চূড়ান্ত স্থিতি নির্ধারণ করা হবে। ব্ংালাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক রেজুলেশন বিভাগ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের শরিয়া বোর্ডের সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাঁচটি ইসলামি ব্যাংকের ওপর যে নিরীক্ষা করা হয়েছে সে প্রতিবেদনগুলো চাওয়া হয়েছে। বোর্ড বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। উল্লেখ্য একীভূত হয়ে যাওয়া পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীরা দু’বছরের পুরো মুনাফা পেতে চান। এটা তাদের যৌক্তিক দাবি। মেয়াদি আমানতের বিপরীতে ৯ থেকে ১২ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়ার কথা বলে ব্যাংকগুলোর শাখা ব্যবস্থাপক গ্রাহকদের আকৃষ্ট করেছে, পাশাপাশি আমানতের সুরক্ষার কথাও বলেছে। শরীয়াহ ব্যাংকগুলো পীড়াপীড়ি করে চটকদার কথা বলে এবং অগ্রীম উচ্চতর হারে (১১%-১২%) লভ্যাংশ দেওয়া হবে যা শরীয়াহ আইনের বিধিমালা লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে। এজন্য তো গ্রাহক দায়ী নয়। এজন্য পুরোপুরি দায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কারণ তারা তাদের সুসজ্জিত অডিট টীম দ্বারা সার্বক্ষণিক সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কতৃপক্ষের কর্মকাণ্ড তদারকি বা নজরদারি করতে পারতেন, যেটা ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর এখন করছেন। অবস্থাদৃষ্টে ওলট-পালট করে মা দে লুটেপুটে খাই। সুযোগ একবার সৃষ্টি হয়ে গেলে যা হয় ব্যাংকিং খাতে তাই ঘটেছে।

বিগত ১৭ বছরে ব্যাংকিং খাত থেকে ২৫০ বিলিয়ন ডলার পাচার ও লুটপাট হয়েছে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অজানা থাকার কথা নয়। তাদের সহযোগিতায় ব্যাংকে অর্থ কেলেঙ্কারির যে ভয়াবহ ধস নেমেছে সেন্ট্রাল ব্যাংক তার দায় এড়াতে পারবে না। দোষী ব্যক্তিদের অনেকেই ব্যাংকে বহাল তবিয়তে এখনো আছেন। এসব ঘটনা ধারাবাহিক ভাবে কাগজে উঠেছে। ২৫ জানুয়ারী ২৬ আমি মতিঝিল গিয়ে খুব কাছ থেকে দেখছিলাম এবং তাদের কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনছিলাম। কিছু দিন আগে গুলশান ১ নাভানা টাওয়ারে এক্সিম ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি দিয়েছিল আমানতকারীরা। এতে আমানতকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। মুখে স্লোগান ছিল ‘হেয়ার কাট মানি না মানব না’ ‘রাস্তায় কি কেউ আছে, আছে আমানতকারী আমানতকারী’ ‘আমরা আছি রাস্তায় ওরা আছে আলিশান গাড়িতে’ এটা হতে পারেনা পারেনা’। লুট করেছে চোরেরা ভুগবে কেন গ্রাহকরা, জনগণের টাকা লুন্ঠনকারীদের বিচার চাই বিচার চাই’। চোর বাটপারদের ‘এই বাংলায় ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই’ ইত্যাদি নানা স্লোগানে মুখরিত মতিঝিল অফিস পাড়া। গণমাধ্যম সাংবাদিক ভাইরাও এসেছিল মতিঝিলে। তারা সাক্ষাৎকার নিয়েছিল গ্রাহকদের। গ্রাহকেরা প্রতি দিনই পাঁচটি ব্যাংকের (সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক) শাখায় গিয়ে মুনাফাসহ মূল টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি করছেন। নিজেদের ভুলের খেসারত পাঁচটি ব্যাংক ইতোমধ্যে বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংককেও জানিয়েছে। ব্যাংকগুলো হচ্ছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। এ পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক নামে নতুন সরকারি ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। এর আগে ১৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের এক নির্দেশনায় বলা হয় সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ইসলামি ব্যাংকের আমানতকারীরা ২০২৪-২০২৫, এই দুই বছরে তাঁদের জমাকৃত আমানতের বিপরীতে কোনো মুনাফা নিতে পারবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একই সিদ্ধান্তের পর ১৮/০১/২৬ রোববার গুলশানের নাভানা টাওয়ারের সামনে অবস্থান নেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা। তারা অবিলম্বে স্থায়ী আমানতকারীদের মুনাফাসহ পুরো টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানান।

এর পাশাপাশি গত দু’বছরের মুনাফা কর্তন করার মতো সরকারি সিদ্ধান্ত না মানার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন তারা। একজন ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারী বলেছেন হাজারো কোটি টাকা ঝণ দিয়েছেন আপনারা, সেগুলো এখন খারাপ ঋণ। আদায় হবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তার খেসারত দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমাদের ওপর এই দায় চাপাচ্ছেন কেন? বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে কাউন্টারে দাঁড়িয়ে আমরা টাকা পেয়েছি, তাহলে এখন কেন পাবনা? পাঁচটি ব্যাংকের সবধরনের অনলাইন কার্যক্রম দ্রুত চালু করার দাবি জানান আন্দোলনরত আমানতকারীরা। আবারও বলছি একীভূত পাঁচ ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত শরীয়াহ আইন পরিপন্থী। আমানতকারীদের হিসাব থেকে দুই বছরের মুনাফা কাটার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক তা শরীয়াহ আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে জানিয়েছেন শরীয়াহ আইন বিশেষজ্ঞরা। এ ধরণের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শরীয়াহ বোর্ডের মতামত বা অনুমতি নেওয়া হয়নি। (সূত্র : গণমাধ্যম ২৬-০১-২৬)।

আন্দোলনকারীদের মধ্যে একজন বলেছেন ৫ আগষ্টের আগে তারা স্বাভাবিকভাবেই ব্যাংকে লেনদেন করতে পারতেন। কিন্তু এখন টাকা তুলতে সমস্যায় পড়ছেন। কিছুদিন আগে আশা করেছিলাম একীভূত হওয়ার পর লেনদেন আরো সহজ হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বরং এখন টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু কারেন্ট ও সেভিংস একাউন্ট হোল্ডারদের সীমিত টাকা দিচ্ছেন। ফিক্সড ডিপোজিট হোল্ডারদের শাখা ব্যবস্থাপকরা তাচ্ছিল্য করে বলছেন আপনারা টাকা পাবেন না, নাতি-পুতিরা পাবে। আজ নিজের টাকা তুলতে গিয়ে অসম্মানজনক কথা শুনতে হচ্ছে। আর ব্যাংক লুঠেরারা আরামে বিদেশে বেগম পাড়া (কানাডা), সাহেব পাড়ায় (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) জনগণের টাকা চুরি করে বিলাসী জীবন যাপন করছে। এ হলো বাংলাদেশের যাপিত জীবন। এ দুঃখ ঢাকি কিভাবে। প্রশ্ন বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্ণরের বক্তব্যেও শুধু কি বিভ্রান্ত ছড়ানো? কারণ তিনি একেক সময় একেক রকম কথা বলছেন। মধ্যভিত্ত গ্রাহকদের কথা তিনি মোটেই ভাবছেন না। গ্রাহকদের মধ্যে অনেকে ক্যান্সার ও ডাইবেটিসের পেসেন্ট আছে। নিয়মিত চেক-আপ ও ডাইলাসিসের টাকা যোগাড় করা তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারের ভরনপোষণ করাও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারে জিনিসপত্রের অগ্নিমূল্য। এই মূহুর্তে সরকারের মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের যন্ত্রণাদায়ক কষ্ট লাঘব করার জন্য তাদের পাশে এসে দাঁড়ানো উচিত ছিল। কারণ তারা অপরাধ করেনি বরং ব্যাংকে অর্থ লগ্নি করে কর্মকর্তা কর্মচারীদের স্থায়ীভাবে অন্নসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন।

প্রতিবছর সার্ভিস সার্জ, ইনকাম ট্যাক্স, আবগারি শুল্কসহ মোটা অংকের টাকা বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রতিবছর দিয়ে থাকেন, আছে যাতায়াত ভাড়া, এরপর শুধু তাদের আসল টাকাটাই থাকে। যেখানে মধ্যবিত্ত আমানতকারীরাই ব্যাংকগুলোর কাঠামোগত চালিকাশক্তি কিন্তু সরকার হুটহাট সিদ্ধান্ত নিয়ে গ্রাহকদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেওয়া সঠিক হয়নি। ব্যাংক লুন্ঠনকারীরা পালিয়েছে কিন্তু তাদের সম্পত্তি তো আছে। সেগুলো বাজেয়াপ্ত করুন এবং তা বিক্রি করে নিরীহ গ্রাহকদের মুনাফাসহ মূল টাকা ফেরত দিন। আর এটাই সমাধানের একমাত্র পথ বলে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা মনে করেন। প্রায় এক কোটি মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের জীবনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেওয়া অদূরদর্শি চিন্তার ধারক ও বাহক বলা যায়। কিছুদিন আগে গবর্নর বলেছিলেন বাংলাদেশে ৬২টি ব্যাংক যা বিশ্বে কোথাও নেই, এটা নজিরবিহীন ঘটনা। রয়েছে কয়েক হাজার শাখা-প্রশাখা, আছে এজেন্ট ব্যাংক, সাব ব্রাঞ্চ, এটিএম বুথ, রকেট ব্যাংকিং আরো অনেক কিছু। একই এলাকায় একই নামে একাধিক ব্যাংকের শাখা অফিস গড়ে উঠেছে।তিনি বলেছেন বাংলাদেশের মতো ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে ১৫ টি ব্যাংকই যথেষ্ট। আমি বিশ্বের বহু দেশে ভ্রমন করার সুযোগ হয়েছে কিন্তু কোথাও এতো ব্যাংক দেখিনি। গভর্নরের এই চিন্তাশীল বক্তব্যের সাথে আমরা একমত। আপনি আর্থিক খাত বিশেষ করে ব্যাংক ও পুঁজি বাজারে শৃঙ্খলা ফিরে আনুন তাহলে চোর ডাকতরা দেশ ছেড়ে পালাবে। এই দুটি জায়গা সংস্কার করুন তাহলে দেশ সচ্ছল হবে, মানুষ ভালো থাকবে। আমরা লক্ষ্য করছি যারা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ব্যাংকগুলো ধ্বংস করেছে ১৭ বছর ধরে, তারা শাস্তির বাইরে থেকে যাচ্ছে। আগে অনেক গ্রাহক প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা তুলতে পারতেন সেটা বর্তমানে পাঁচটি ব্যাংক ছাড়াও আরও কিছু ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় টাকা তোলা সম্ভব হচ্ছে না। আরও লক্ষ্যনীয় যে যেসমস্ত ব্যাংক সুদ বা মুনাফার হার বেশি বুঝতে হবে ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে ভুগছে। আর যে সমস্ত ব্যাংকে সুদ বা মুনাফার হার কম উদাহরণ স্বরুপ, ইবিএল, ব্র্যাক, সিটি ও ডাচ ব্যাংলা ব্যাংক। ব্যাংক খাত জরিপে দেখা গেছে ৪/৫টি ব্যাংকে ১ থেকে ১০ কোটি টাকা চাইবা মাত্র নগদ উত্তোলন করার সুযোগ আছে। সেবার মান, মোবাইল ব্যাংকিং, অন লাইন ব্যাংকিং, রেমিট্যান্স আদায় এবং ভাল ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা থাকায় প্রায় তিন দশক জনগণের কাছে ব্যাংকগুলো আস্থার সংকটে পড়েনি। ঋণের আদায়ও ভাল। আমরা চাই এ ধরনের ফাইন্যান্সিয়াল সাপোর্ট ব্যাংকে গড়ে উঠুক। দেশের পত্রিকায় এসব তথ্য নিয়মিত উঠছে। তারপরও কেন বাংলাদেশ ব্যাংক দীর্ঘ সময় ধরে দূর্বল ও সবল ব্যাংকগুলি শনাক্ত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। সেন্ট্রাল ব্যাংক ইনভেস্টিগেশন এবং মনিটরিং সিস্টেমের দায় এড়াতে পারবে না।

সেন্ট্রাল ব্যাংকের দায়িত্বশীল ভুমিকা পালনে ব্যর্থ হওয়ার কারণে মধ্যবিত্ত সমাজ বর্তমানে ব্যাংকে টাকা রাখতে ভয় পাচ্ছে। এর যথেষ্ট কারণও আছে। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ সম্প্রতি নিজের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পেতে গিয়ে নানা জটিলতার মুখে পড়ছেন মধ্যবিত্ত আমানতকারীরা। ডিপিএস টাকা নিয়েও নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে। এতে গ্রাহকদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা বলছে আমরা পারছিনা কারও কাছে হাত পাততে কারণ আমরা মধ্যবিত্ত সমাজ। আমাদের গায়ে সিল মেরে দেওয়ার কারণে জনজীবন তথা শিক্ষা, চিকিৎসা, খাদ্য, বাসস্থান আর্থিক খাতসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। এটাই বাস্তবতা। শেষে বলবো আমানতকারীরা বিনা দোষে তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে মোটেও ছাড় দেবেন না। দুই বছরের মুনাফাসহ মূল টাকা ফেরত চান খুব অল্প সময়ের মধ্যেই, এটাই তাদের ন্যায্য দাবি। এটাই মনে হয় সমাধানের পথ।

লেখক : গ্রন্থকার ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক।