রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা গাম্বিয়ার মামলাটির পূর্ণাঙ্গ ১২ জানুয়ারি শুরু হয়েছে। এতে আফ্রিকার দেশটি অভিযোগ করেছে, রোহিঙ্গাদের নির্মূল করার লক্ষ্যে তাঁদের জীবনকে বিভীষিকাময় করে তুলেছে মিয়ানমার। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া ২০১৯ সালে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলাটি করে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট বিশ্ব মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সৃষ্ট বিশাল এক মানবিক সংকট প্রত্যক্ষ করে। সহিংস হামলার শিকার হয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসে, যাদের গ্রামগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়। বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ ও বিভিন্ন কমিউনিটির উদার সমর্থন এবং সরকারের সহযোগিতার ফলে তারা আসার সুযোগ লাভ করে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছিল। এরপর বহুজাতিক সহায়তা প্রচেষ্টার কারণে একটি মারাত্মক মানবিক সংকট এড়ানো সম্ভব হয়েছিল। ৮ বছর পার হয়েছে। হয়নি গণহত্যার বিচার, আর তাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি মোটেই অগ্রসর হয়নি। ২০১৭ সালের পর থেকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে, রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির (এএ) ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে নতুন করে আরও প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে।

বিশ্ব থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন মিয়ানমার। দীর্ঘ সময় দেশটি সামরিক শাসনে থেকেছে, এখনো আছে। সর্বশেষ ২০২১ সালে একটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। ডিসেম্বরে নির্বাচনের নামে আরেকটি নাটক মঞ্চায়নের আয়োজন করেছে বর্তমান জান্তা সরকার। ২১ সালে উৎখাত হওয়া সরকার প্রধান এনএলডি নেত্রী অং সান সুচি এখনো কারাগারে। এ দলের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে একটি প্রবাসী সরকার। মূলত, দেশটি এখন তিনটি প্রশাসনের হাতে ন্যস্ত। জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণ অর্ধেকেরও কম অংশ। রোহিঙ্গারা মুসলিম পরিচয়ে শত শত বছর ধরে মিয়ানমারের প্রধানত আরাকান অঞ্চলে বসবাস করে আসছে। অতীতে তারা দেশটির সরকারী কাজেও অংশ নিয়েছে। উগ্র বৌদ্ধ নিয়ন্ত্রিত ও দীর্ঘ সেনা শাসনে থাকা মিয়ানমার তাদের অবস্থা ধীরে ধীরে খারাপ হতে থাকে। পরে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের সাথে উপরোক্ত ধারাবাহিক ঘটনাগুলো ঘটে। বলা যায়, এ সংকট শুধু একটি মানবিক বিপর্যয় নয়; এর আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতা, বিচার এবং ন্যায়ের দাবি বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও মানবাধিকারগত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। রোহিঙ্গাদের ভাগ্য দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভূখণ্ডের সঙ্গে জড়িত, সরকার সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও শরণার্থীদের খাদ্য, আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা প্রদানের জন্য জাতিংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) সহযোগিতায় জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান বা যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা চালু করে।

২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর একটি বিপর্যস্ত দেশকে স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে বাংলাদেশে দায়িত্বে আসেন নোবেল বিজয়ী মহম্মদ ইউনূস এবং তাঁর নেতৃত্বে নতুন অন্তর্বর্তী সরকার। যা রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের সরকার প্রধান জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি সাত-দফা পরিকল্পনা উন্মোচন করেন, যার মূল লক্ষ্য ছিল: রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের একটি বাস্তবিক রোডম্যাপ প্রস্তুত করা। দাতাদের অব্যাহত সমর্থন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মির কাছে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও জীবিকা নিশ্চিত করার আহ্বান, রোহিঙ্গাদের সাথে গঠনমূলক সংলাপ ও অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আসিয়ানসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা, গণহত্যার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক আদালতে জবাবদিহিতা ত্বরান্বিত করা। এ ছাড়া তিনি দাতাদের ও মানবিক অংশীদারদের অব্যাহত সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। কারণ, দাতাদের বাজেট কমানোর ফলে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের জীবন মানে ব্যাপক অবনতির সৃষ্টি হয়। এর প্রেক্ষাপটে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকাকে জোরদার করে, নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সমাধানের জন্য সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণের আহবান জানান। কারণ, রোহিঙ্গা শরনার্থীদের জন্য গত বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় দাতা সংস্থা তহবিল কমানোর ঘোষণা দেয়। এ কারণে অন্তর্বর্তী সরকার এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। রোহিঙ্গা সঙ্কটকে বিশ্ব-সম্প্রদায়ের কাছে আরো জোরালোভাবে তুলে ধরতে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হয় তিন দিনের আন্তর্জাতিক সংলাপ। হাসিনা সরকারের আমলে নানা কারণে বিষয়টি শেষ দিকে কম গুরুত্ব পায়। ফলে অনেকে ভুলেই যায় রোহিঙ্গা শরনার্থীদের বিষয়টি। শরনার্থী সংখ্যা এখন ১২ লাখ অতিক্রম করেছে, যা নিয়ে বাংলাদেশ হিমসিম খাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা সঙ্কট সমাধানে জাতিসংঘ মহাসচিবকে এনে গত বছর মার্চে বিষয়টির উপর গুরুত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করেন। মহাসচিব খাদ্য সহায়তা কমানোকে একটি ‘অপরাধ’ বলে বিবেচনা করে তা বাড়াতে কাজ করার জোরালো আশ্বাস দেন।

এবার মামলা প্রসঙ্গ : মামলাটির শুনানি বিশেষ কারণে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, গত এক দশকের বেশি সময়ে জাতিগত নিধনের অভিযোগে প্রথম মামলা হিসেবে এটি প্রথম পূর্ণাঙ্গ শুনানি । তাই এ মামলার রায়ের প্রভাব শুধু মিয়ানমারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং অন্যান্য দেশের ওপরও পড়তে পারে। গাম্বিয়ার আইন ও বিচারমন্ত্রী দাউদা জ্যালো ১২ জানুয়ারি শুনানিতে বলেন, রোহিঙ্গারা ‘সহজ-সরল মানুষ। তাঁরা শান্তি ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন কাটানোর স্বপ্ন দেখতেন। ধ্বংস করার জন্য তাঁদের নিশানা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার গাম্বিয়ার মামলায় সরাসরি পক্ষে লড়ছে না। তবে নৈতিক, রাজনৈতিক সমর্থন প্রদান করেছে। ২০১৯ সালে মামলাটি করার পর প্রাথমিক শুনানিতেই মিয়ানমার সব অভিযোগ অস্বীকার করে। মামলার অভিযোগে গাম্বিয়া বলেছিল, মিয়ানমার নিজেদের রাখাইন রাজ্যের প্রত্যন্ত পশ্চিমাঞ্চলের প্রধানত মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন চালিয়েছে। জাতিসংঘের দলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সামরিক অভিযানে ‘জাতিগত নিধনের মতো ঘটনা’ ঘটেছে।

গাম্বিয়াকে আইসিজেতে মামলা করতে ৫৭ দেশের জোট ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) সহযোগিতা করেছে। প্রাথমিক শুনানিতে অংশ নিয়ে মিয়ানমারের তৎকালীন নেত্রী অং সান সু চি গাম্বিয়ার জাতিগত নিধনের অভিযোগকে ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আইসিজে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অর্ন্তর্বতী আদেশ জারি করেন। ২০২২ সালের জুলাইয়ে জাতিসংঘের শীর্ষ আদালতটি মিয়ানমারের ‘প্রাথমিক আপত্তি’ খারিজ করে দেন। চলমান শুনানি ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৪ কার্যদিবস চলবে। এতে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের কথা শোনা হবে। রয়টার্স জানায়, আইসিজেতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধনের অভিযোগসংক্রান্ত শুনানি শুরু হওয়ার পর মোনাইরা (ছদ্মনাম) বলেন, আমার চোখের সামনেই শিশুদের আগুনে ছুড়ে ফেলা হয়েছিল। অবশেষে আমার মনে হচ্ছে, আমাদের কথা শোনা হচ্ছে। আর আমাদের সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য ভালো কিছু ঘটতে যাচ্ছে। তিনি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনীর চালানো নির্মম দমন-পীড়নে বেঁচে যাওয়া মানুষদের একজন। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যখন রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে তথাকথিত ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ চালায়, তখন এ রোহিঙ্গা নারীকে নিজের বাড়ি ছেড়ে পালাতে হয়েছিল। মোনাইরা বলেন, সে সহিংসতার সময় তাঁর ভাইকে সেনাসদস্যরা ধরে নিয়ে যায়, গুলি করে হত্যা করে ও তাঁর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেনাসদস্যদের হাতে তিনি নিজেও ধর্ষণের শিকার হন। শুনানির শুরুতে গাম্বিয়ার আইন ও বিচারমন্ত্রী দাউদা জ্যালো আদালতকে বলেন, এ মামলা আন্তর্জাতিক আইনের দুর্বোধ্য তাত্ত্বিক বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বাস্তব মানুষ, বাস্তব গল্প ও একটি বাস্তব মানবগোষ্ঠীকে ঘিরে মামলাটি করা হয়েছে।

রয়টার্স আরো জানিয়েছে, এক দশকেরও বেশি সময় পর এটিই প্রথম কোনও গণহত্যা মামলা, যেটির পূর্ণাঙ্গ শুনানি হবে আইসিজেতে। এ মামলাকে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এ মামলার রায় শুধু মিয়ানমারের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থার প্রধান নিকোলাস কুমজিয়ান বলেছে, এ মামলায় গণহত্যার সংজ্ঞা কী, কীভাবে তা প্রমাণ করা যায় এবং কীভাবে এর প্রতিকার নিশ্চিত করা যায়, এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করবে।

এ মামলা ১৯৪৮ সালের গণহত্যা সনদের আওতায় আনা হয়েছে। নাৎসি হলোকাস্টের পর এই সনদ প্রণীত হয়। এতে গণহত্যাকে এমন কর্মকাণ্ড হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য কোনও জাতি, জাতিগত, বর্ণগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করা। রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা নিকোলাস কৌজিমান রয়টার্সকে বলেন, ‘গণহত্যার প্রকৃত সংজ্ঞা কী, কীভাবে গণহত্যা সম্পর্কিত অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করা যায় এবং কীভাবে এ ধরনের অপরাধের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায় এসবের নিষ্পত্তিতে এ মামলা একটি নজির হয়ে থাকবে।”বিশ্লেষকরা বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি মানবিক ও আন্তর্জাতিক আইনগত কালক্ষেপণ নয়; বরং এটি আধুনিক বিশ্বে ন্যায়ের, মানবাধিকার ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের বৃহত্তর পরীক্ষণ। গাম্বিয়ার মামলা আইসিজে ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও অপরাধী কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতার সত্যিকার পরীক্ষা চলছে।

এদিকে এ মামলার দিকে মিয়ানমানের দৃষ্টি নেই। সেখানে নির্বাচনের নামে চলছে প্রহসন। জানা যায়, দ্বিতীয় ধাপের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। এ ধাপে সেনাবাহিনী-সমর্থিত রাজনৈতিক দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) এগিয়ে গেছে। ২৮ ডিসেম্বর প্রথম পর্যায়ের ওই ভোট হয়। ৩৩০ সদস্যের নিম্নকক্ষে দুই ধাপের ফলাফল মিলিয়ে দলটি ১৮২টি আসনে জয়ের পথে রয়েছে, যা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসনের চেয়েও বেশি। আগামী ২৫ জানুয়ারি তৃতীয় তথা চূড়ান্ত ধাপের ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর এ প্রথম মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তার দলকে অংশ নিতে দেয়া হয়নি। তবে বিরোধী দল ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো এ নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলে আখ্যায়িত করেছে। আগামী মার্চে সংসদ অধিবেশন শুরু হবে এবং এপ্রিলে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

নির্বাচনের মধ্যেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি চলছে। নামে মাত্র নির্বাচনে কারা অংশ নিচ্ছে? বলা হচ্ছে ৫৭টি দল অংশ নিচ্ছে, তার মধ্যে মাত্র ছয়টি দল দেশজুড়ে প্রার্থী দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, অং সান সু চির দল এনএলডিকে নির্বাচনের বাইরে রেখে এই ভোট আয়োজন মিয়ানমারের রাজনৈতিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে। কী করছে সুচির দল? ১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত সর্বশেষ অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়া সদস্যরা ১৬ এপ্রিল ২০২১ একটি প্রবাসী সরকার গঠন করে। যার নাম জাতীয় ঐক্য সরকার। জাতীয় ঐক্য সরকারের নেতৃত্বে রয়েছে অং সান সুচি। যদিও এর তেমন কার্যকারিতা নেই।

বিশ্লেষকরা তাকিয়ে আছেন এ মামলার পরবর্তী শুনানি ও তার পরবর্তী বিবরণীর দিকে। তারা আশা করছেন, সেখানে ইতিবাচক রায় এলে একটি বাস্তবভিত্তিক সমাধানের দিকে অগ্রসর হলেও হতে পারে। তবে অনেক বিশ্লেষক এমনটা আশা করেন না। কারণ, তারা মনে করেন মুসলিম বিশ্ব আন্তরিকভাবে বিষয়টি না চাইলে এবং বিশ্ব মোড়লরা এর প্রতি দৃষ্টি না দিলে ভাল কিছু আশা করা যায় না। আর রোহিঙ্গা শরনার্থীদের সাহায্য বৃদ্ধি ও তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ মামলাটির গুরুত্বও অনেক। গাম্বিয়ার এ সংগ্রামকে অবশ্যই সাধুবাদ দিতেই হবে।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক।