পৃথিবীতে সময়ের বিবর্তনে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচিত হয়। সমাজ গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক পরিমন্ডলেও এমন কিছু ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটে, যা পৃথিবীতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে। মানুষ নিজ ইচ্ছায় জন্মগ্রহণ করতে পারে না। কোথায় কোন দেশে কোন যুগে কে জন্ম গ্রহণ করবে তা নির্ধারিত হয়ে থাকে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে। পৃথিবীর কিছু মানুষকে সৃষ্টিকর্তা বিশেষ গুণাবলি দিয়ে সৃষ্টি করেন। একেক জন মানুষকে আল্লাহ তায়ালা একেক ধরনের মানবিক গুণে গুণান্বিত করে সৃষ্টি করেছেন। কাউকে তিনি জ্ঞানী বানিয়েছেন, কাউকে সুবক্তার গুণাবলি দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন, কাউকে প্রশাসনিক গুণাবলি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। আবার কাউকে জাতি গঠনের যোগ্য রাজনীতিবিদ হিসেবে এবং রাষ্ট্রের অপশাসকের বিপরীতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য “রাষ্ট্রীয় চেঞ্জমেকার” হিসেবে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমনই একজন চেঞ্জমেকারের আবির্ভাব ঘটেছে, যিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছেন। একটি আদর্শ রাষ্ট্র গঠনে জনগণ তাকে ‘রাষ্ট্রীয় চেঞ্জমেকার’ ভাবতে শুরু করেছেন। তিনি হচ্ছেন-বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও মানবিক নেতৃত্ব ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার রূপকার ও অন্যতম পুরোধা দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপহীন নেতা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সুযোগ্য আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
মানুষের জন্মগত অধিকারের গ্যারান্টি নিজ নিজ দেশের সর্বোচ্চ আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। আমাদের সংবিধানও তার ব্যতিক্রম নয়। যা ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, এলাকা, ভাষা সবকিছুর উর্ধ্বে। মানুষ কেবল মানুষ হওয়ার কারণে এ মর্যাদা পেয়ে থাকেন। এজন্য মৌলিক অধিকারের ধরণ ও বৈশিষ্ট্য সুস্পষ্ট করতে গিয়ে বিচারপতি জ্যাকসন বলেন, “কোনো ব্যক্তির জীবন, মালিকানার স্বাধীনতা, বক্তৃতা-বিবৃতি ও লেখনির স্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতা, পছন্দের স্বাধীনতা, নিজের মতামত ব্যক্ত করার স্বাধীনতা, ভালো-মন্দ বুঝার এবং সে অনুযায়ী বিবেক-বিবেচনা কাজে লাগানোর স্বাধীনতা, ইবাদত-বন্দেগী ও সমাবেশের স্বাধীনতা সংরক্ষিত। কিন্তু ক্ষমতার লোভে শাসক গোষ্ঠী মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করেছে বিভিন্ন সময়ে। মানুষ যখন ক্ষমতার জন্য প্রবলভাবে আকাক্সক্ষী হয়, তখন তার আচরণে বড় ধরণের পঁচন ধরে’। কথাটি বলেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও সংবিধান প্রণেতা থমাস জেফারসন। চার্লস মন্তেস্কু বলেছেন-“তার চেয়ে বড় স্বৈরাচার আর কেউ নেই, যা আইনের ঢালের আড়ালে এবং ন্যায়বিচারের নামে চালিয়ে দেয়া হয়। যেখানে আইনের শাসন নেই, জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ সেখানে মানুষের মৌলিক অধিকার বলতে কিছুই থাকে না। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এদেশে দুর্নীতির প্রাধান্য সমাজ ও রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অভিশাপ। এমনকি দুর্নীতি মানব জীবনের অনুষঙ্গ প্লাটফর্মে পরিণত হয়ে গেছে। মিথ্যাকে বারবার সত্য বললে মানুষ সেটাকে সত্য বলে মনে করে, সত্য হিসেবে সমাজে সেটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। একইভাব আমরা এখন এমন একটি দেশের নাগরিক যেখানে মানুষ দুর্নীতি করতে করতে তা স্বাভাবিক সত্যে পরিণত হয়ে গেছে। দুর্নীতিবাজরা মনে করে ‘দুর্নীতি’ সমাজ ও রাষ্ট্রের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা এবং মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষার্থে ইউরোপীয় কনভেনশন কর্তৃক মানবাধিকার রক্ষার জন্য মানবাধিকার বিষয়ক ইউরোপীয় আদালত গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ এ সমস্ত সংস্থার স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র হলেও বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি এখন দুর্নীতির মতো নাজুক অবস্থায়। গণতন্ত্রের ছদ্মবেশে শাসক গোষ্ঠী যখন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আর সামাল দিতে পারে না, তখনই ফ্যাসিবাদের প্লাটফর্মে আশ্রয় নেয়। বিশ্বে ফ্যাসিবাদের প্লাটফর্মের দুই মহানায়ক সম্পর্কে আমরা সকলেই জানি। একজন ইতালির বেনিতো মুসোলিনি এবং অপরজন জার্মানির এ্যাডলফ হিটলার। তারা শোষিত শ্রেণির আন্দোলন দমনে ফ্যাসিবাদের আশ্রয় নেয়। এ কাজে তারা প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে রাষ্ট্রযন্ত্র ও তাদের রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে। তারা ফ্যাসিবাদী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে ক্ষমতা হয়তো প্রলম্বিত করতে পেরেছে, কিন্তু জনগণের মধ্যে বিষবাষ্প ছড়িয়ে নিজেদের পতন ত্বরান্বিত করেছে। তাদের দু’জনেরই পরিণতি অত্যন্ত খারাপ ছিল, যা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পৃথিবীতে একনায়কতন্ত্রের শাসন সবচেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর! কারণ শাসক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীবিশেষ যখন শাসিতের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে একচ্ছত্রভাবে শাসন কাজ চালিয়ে যায় সেখানে অনায়াসে একনায়কতন্ত্রের জন্ম হয়। বাংলাদেশ সম্পর্কে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলো বরাবরই বলেছে, এখানে গণতন্ত্রের পোশাকে এক ব্যক্তির শাসনই অধিকাংশ সময় বিদ্যমান ছিল। সামরিক শাসনও বিদ্যমান ছিল। এরশাদ সামরিক পোশাকে ক্ষমতা দখলের পর স্বৈরশাসন ও ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল। শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের লেবাসে একনায়কতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল। জনগণের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতনের স্ট্রিম রোলার চালিয়েছে ১৬ টি বছর। তার শাসনামলে রাষ্ট্রের প্রতিটি সেক্টরে গড়ে উঠেছিল দুর্নীতির সীমাহীন বিস্তার। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার লক্ষ্যই ছিল প্রতিপক্ষের ওপর বিশেষ করে জামায়াত-শিবিরের ওপর অমানবিক নিষ্পেষণ চালিয়ে জব্দ করে রাখা। আর এর মধ্য দিয়ে দেশ, জনগণ, আলেম সমাজ, ইসলাম ও ইসলামী রাজনীতির কবর রচনা করা। কিন্তু সময়ের বিবর্তনের ফলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রসমাজ ও জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শাসকের কবর রচিত হয়েছে।
হিটলারের সীমাহীন অত্যাচরের কথা কারো অজানা নেই। হিটলার তার আত্মজীবনী গ্রন্থে লিখেছেন, “ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কাল্পনিক ইস্যু বানিয়ে শত্রুর সৃষ্টি করতে হবে। এতে করে জনগণ ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়বে এবং তাদের দাসত্বে পরিণত করা সহজ হবে”। শেখ হাসিনা হিটলারের সেই পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। অর্নেস্ট বেন বলেছেন, “বিপদ অন্বেষণ করার কৌশলই হচ্ছে-”রাজনীতি”। বিপদ থাকুক আর না থাকুক কৃত্রিমভাবে তা প্রদর্শন করার নামই রাজনীতি। শেখ হাসিনা সেটি করে দেখিয়েছে। বর্তমানে অসুস্থ রাজনীতি গোটা জাতির জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে। এ নীতির পরিবর্তন বা চেঞ্জ অনিবার্য। আওয়ামী লীগের নোংরা রাজনীতির সর্বশেষ স্বীকার বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের পরিচিত মুখ সত্য ও ন্যায়ের অকুতোভয় বীর সেনাপতি বাংলাদেশের জনগণের মানবিক নেতা হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংগ্রামী আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি ইতোমধ্যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয় রাজনীতির “চেঞ্জমেকার” হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। জনগণের প্রতি তার ভালোবাসা ও মমত্ববোধ এবং অবহেলিত নারী সমাজের প্রতি তার যে ইতিবাচক দর্শন তা আগামী দিনে বাংলাদেশকে একটি উন্নত “নতুন বাংলাদেশ” প্রতিষ্ঠার বুদ্ধিদীপ্ত পরিকল্পনা এবং ন্যায়বিচার ও ইনসাফ কায়েমের রূপকার হিসেবে ‘পলিসি সামিটের’ মতো জনপ্রিয় ও ব্যতিক্রমধর্মী স্মার্ট অনুষ্ঠানের আয়োজন করার মাধ্যমে ব্যাপক সুনাম ও খ্যাতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।
এক সময় সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর যুগপৎ আন্দোলনের সময় ১০ দফার কর্মসূচি ঘোষণার কয়েক ঘন্টার মধ্যে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার শেখ হাসিনা মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবে খ্যাত, মানবিক সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা, বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের ডাইনামিক নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে একটি মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে। জাতীয় এ শীর্ষ নেতাকে ২ দফায় ৮ দিনের রিমান্ডে নিয়ে প্রমাণ করে আওয়ামী লীগের নগ্ন রাজনৈতিক ঘৃণ্য সংস্কৃতির অশুভ বহি:প্রকাশ। অত্যন্ত নাটকীয় বিষয় হচ্ছে-প্রথমে সরকার এমন একজন সৎ ও মানবিক নেতাকে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আটক করে বলে দাবি করলেও পরবর্তীতে কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে স্বীকার করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করে। মুলত জঙ্গিবাদের জিগির তুলে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকার দাদাবাবুদের সহানুভূতি নিয়ে ক্ষমতাকে আরো দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছিল। অথচ জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদকে জামায়াত কখনো বিশ্বাস করে না। জামায়াত মনে করে উগ্রগোষ্ঠী ইসলামের নামে যেভাবে নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে ইসলামের শিক্ষা ও মূলনীতি এসব ঘৃণ্য অপকর্মকে প্রত্যাখ্যান করে থাকে। সমাজে ও রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা ও মব সৃষ্টিকারী এসব কর্মকাণ্ডকে আল-কুরআনে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সুতরাং একথা পরিষ্কার যে, জামায়াত কোনো জঙ্গিবাদ ও বিশৃঙ্খলায় বিশ্বাস করে না। শান্তি ও সুশৃঙ্খল সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক অনন্য নাম। এদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, পেশাগত ও জাতীয় রাজনৈতিক জীবনে তিনি সততা, যোগ্যতা, মেধা ও মননশীলতার স্বাক্ষর রেখেছেন প্রতিটা ক্ষেত্রে। বন্যা, ঘুর্নিঝড়, অগ্নিকান্ডের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। দেশের প্রতিটি দুর্যোগপূর্ণ মুহুর্তে মানবতার পাশে দাঁড়ানোর জন্য যিনি সবার আগে ছুটে যান, তিনি হলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর জননেতা ডা. শফিকুর রহমান। তার দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের অবদান হিসেবে সম্প্রতি দেশের জনগণ কুমিল্লার এক জনসভায় তাকে “দেশনেতা” উপাধিতে ভূষিত করেছেন। জাতির এ সাহসী সন্তান ও প্রতিভাবান রাজনীতিবিদ ১৯৮৩ সালে সিলেট মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের পর চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি মানবতার কল্যাণে রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করেন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ডা. শফিকুর রহমান জাসদ ছাত্রলীগের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। উল্লেখ্য যে, ১৯৭৩ সালে তিনি জাসদ ছাত্রলীগে যোগদান করেন। কিন্তু সেখানে মানব রচিত মতবাদের চর্চা ছাড়া আদর্শিক কোনো চর্চা না থাকার কারণে ১৯৭৭ সালে দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়দীপ্ত কাফেলা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগদান করেন। ছাত্র জীবন সমাপ্তির পর তিনি বৃহত্তর ইসলামী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন এবং তৃণমূল পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পর আমিরে জামায়াত নির্বাচিত হন। দেশনেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রখ্যাত রাজনীতিবিদই নন, তিনি একজন খ্যাতিমান সমাজ সেবক, বলিষ্ঠ সংগঠক এবং সফল উদ্যোক্তা। তিনি সিলেটে অবস্থিত একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তিনি এটি পরিচালনা করে আসছেন।
২০২২ সালের ১৮ নভেম্বর ২০২৩-২০২৫ এবং ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২০২৬-২০২৮ কার্যকালের জন্য তিনি আমীরে জামায়াত হিসেবে ২য় ও ৩য় বারের মতো নির্বাচিত হন এবং শপথ গ্রহণ করেন। অদ্যবধি তিনি এ দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছেন। জনসমর্থনের দিক থেকেও জামায়াতে ইসলামী এখন দেশের সর্ববৃহৎ ইসলামী শক্তি এবং বর্তমানে দু’টি প্রধান রাজনৈতিক দলের অন্যতম। তৃণমুল থেকে উঠে আসা দ্বীনের এ নিবেদিত প্রাণ মানুষটি এ দেশের জনগণের নিকট খুবই পরিচিত।
ব্যক্তি জীবনে তিনি যেমন বিনয়ী, অল্পে-তুষ্ট, পরপোকারী, সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে সকলের হৃদয়ে আস্থার জায়গা করে নিয়েছেন আপন মহিমায়, তেমনি রাজনৈতিক পরিমন্ডলে দক্ষ, প্রাজ্ঞ ও বৈদগ্ধ্য মানুষ হিসেবে তার বিকল্প নেই। দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দেশের গঠনমূলক পরিবর্তন ও ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে তার সূক্ষ্ণ পরিকল্পনার রূপরেখা ঘোষণার কারণে তিনি ইতোমধ্যে দেশবাসীর নিকট “রাষ্ট্রীয় চেঞ্জমেকার” হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানিকে তিনি মনেপ্রাণে ঘৃণা করেন।
দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি যখন প্রায় জিরোর কোটায় তখন তার বক্তব্যের সাবলীল ও হৃদয়গ্রাহী ভাষা মজলুম জনতার হৃদয়ে আশার আলো সঞ্চারিত করেছে। তার বক্তব্যে গোটা দুনিয়ার মজলুম বঞ্চিত, শোষিতদের পক্ষে বলিষ্ঠ সাহসীপূর্ণ উচ্চারণ আমরা দেখতে পাই। মানুষের প্রতি স্নেহ-মমতা ও ভালোবাসাকে যেন তিনি শিশু, তরুণ, বৃদ্ধ ও মা-বোন সকলের মাঝে সম্প্রসারিত করেছেন অবলিলাক্রমে। অথচ একটি কুচক্রী মহল সম্প্রতি তার টুইটার হ্যাকড করে নারীদের সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য পোস্ট করে তাকে হেয় করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। এতে করে পরিষ্কার বুঝ যায়, ঐ কুচক্রী মহল কর্তৃক ডা. শফিকুর রহমানের জনপ্রিয়তায় ক্ষিপ্ত হয়ে এমন নোংরামি কাজ করেছেন। আমাদের প্রিয় জন্মভূমি আজ এক কঠিন সংকটের মুখে নিমজ্জিত। দেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত কোনো সরকার না থাকায় গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ভূলুন্ঠিত হচ্ছে। তবে শীঘ্রই দেশের শান্তিপ্রিয় জনগণ গণতান্ত্রিক ধারায় উত্তীর্ণ হবে এবং এর দাঁত ভাঙা জবাব দেবে।
এমতাবস্থায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের হত্যার মাধ্যমে যেসব অশুভ রাজনীতির ডামাডোল চলছে তার পরিবর্তন ঘটিয়ে একটি দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে জনগণের নিরাপত্তা, সার্বিক উন্নয়ন, শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বিবেচনা করে ডা. শফিকুর রহমানের মতো মানবিক, ডাইনামিক ও চেঞ্জমেকার রাষ্ট্রনায়কের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামীকে নির্বাচিত করে ক্ষমতায় পাঠানো দেশে ও প্রবাসে অবস্থানরত ভোটাদের অপরিহার্য কর্তব্য বলে দেশবাসী মনে করে।
লেখক : শিক্ষাবিদ গবেষক ও কলামিস্ট।