বৃটেনের খ্যাতনামা লেখক, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও শিক্ষাবিদ লর্ড থমাস বেবিংটন মেকলে তৎকালীন ভারতবর্ষের নৃ-গোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক পড়াশোনা ও গবেষণার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি বৃটিশ শিক্ষাব্যবস্থাকে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ শিক্ষাব্যবস্থা এবং ইংরেজি ভাষাকে শ্রেষ্ঠ ভাষা বলে গণ্য করতেন। বৃটিশ শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালে মেকলে ১৮৬৫ সালে ভারতবর্ষে আধুনিক ইয়রেজি শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করেন এবং ইংরেজি ভাষার প্রসার ঘটান। তিনি পার্লামেন্টে ভারতীয় শিক্ষাপদ্ধতি পেশ করতে তার সূচনা বক্তব্যে ভারতীয় বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন। বাঙালি চরিত্রের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘মহিষের যথা শৃঙ্গ মৌমাছির যথা হুল ব্যাঘ্রের যথা থাবা নারীর যথা সৌন্দর্য বাঙালি জাতির তদ্রƒপ প্রবঞ্চনা। বড় বড় প্রতিজ্ঞা তথা প্রতিশ্রুতি মোলায়েম অজুহাত, অবস্থাগত মিথ্যা প্রমাণাদির বিশদ উপস্থাপনা, ছল চাতুরি, মিথ্যা শপথ, মিথ্যা সাক্ষ্যদান, জালিয়াতি এইগুলো হচ্ছে নিম্ন গাঙ্গেয় উপত্যকার বাসিন্দাদের আত্মরক্ষা এবং আক্রমণের চিরন্তন অস্ত্র।’
প্রস্তাবনা বক্তব্যে মেকলের মন্তব্যটি আপাত দৃষ্টিতে কঠোর মনে হলেও তার ডায়াগনৌসিস এর যথার্থতা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। এতদঞ্চলের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী বিশেষ করে আদর্শহীন নৈতিক ভ্রষ্টাচারে দুষ্ট অনেক রাজনৈতিক নেতাকর্মী অতীতে এবং বর্তমানে তাদের আচার-আচরণে উপরোক্ত বৈশিষ্ট্য ধারণের প্রমাণ দিয়েছেন এবং দিচ্ছেন।
এখন নির্বাচন প্রসঙ্গে আসি। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই বাংলাদেশ ভূখণ্ডে সংসদ নির্বাচনের ইতিহাস জানতে আগ্রহী হতে পারেন। ১৯৪৭ সালের ভারতীয় স্বাধীনতা অনুযায়ী পাকিস্তানে একটি কেন্দ্রীয় আইনসভা এবং তার প্রত্যেক প্রদেশে একটি করে প্রাদেশিক আইনসভা ছিল। পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৫১ সালে পূর্ববাংলা বা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিল। কিন্তু নানা অজুহাতে তা বিলম্বিত হয় এবং এ অবস্থায় ১৯৪৬ সালে বৃটিশ শাসনের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন অনুযায়ী প্রাদেশিক আইনসভা সক্রিয় ছিল। ১৯৫৪ সালের ৩ মার্চ পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক আইন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রাপ্ত বয়স্কের ভোটাধিকার ভিত্তিতে তা অনুষ্ঠিত হলেও তখন পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু ছিল। প্রাদেশিক পরিষদের মোট আসন সংখ্যা ছিল ৩০৯। এর মধ্যে ২৩৭টি আসন মুসলমানদের জন্য এবং ৬০টি আসন অমুসলিমদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। বাকী ১২টি আসনের মধ্যে ৯টি মুসলিম, ১টি বর্ণ হিন্দু এবং ২টি তফসীল হিন্দু মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়। চুয়ান্ন সালে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে যুক্তফ্রন্ট নামে একটি জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে। যুক্তফ্রন্টের অন্তর্ভুক্ত দলগুলোর মধ্যে ছিল : ১. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ, ২. শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক পার্টি (কেএসপি), ৩. মাওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বে নেজামে ইসলাম পার্টি, ৪. হাজী দানেশের নেতৃত্বাধীন গণতন্ত্রী দল এবং ৫. প্রিন্সিপাল আবুল কাশেমের নেতৃত্বাধীন খেলাফতে রব্বানী পার্টি। যুক্তফ্রন্টের মূল নেতৃত্বে ছিলেন শেরেবাংলা একে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম এবং মাওলানা আতাহার আলী। এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ ও যুক্তফ্রন্টসহ অন্যান্য দলের প্রাপ্ত ফলাফল ছিল নিম্নরূপ :
মোট আসন : মুসলিম আসনÑ ২৩৭। অমুসলিম আসন-৭২। দলীয় ভিত্তিতে প্রাপ্ত ফলাফল : যুক্তফ্রন্ট-২২৩, মুসলিম লীগ-১০, নির্দলীয়-৩, খেলাফত রব্বানী পার্টি-১।
অমুসলিম আসন-৭২। কংগ্রেস-২৪, তফসিলী ফেডারেশন-২৭, যুক্তফ্রন্ট-১৩, খৃস্টান-১, বৌদ্ধ-২, কম্যুনিস্ট পার্টি-৪, নির্দলীয়-১।
১৯৫৪ সালের পর ১৯৬০ সালের আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের সময় ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ সূচক ভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং আস্থা ভোটে জয়ী হয়ে জেনারেল আইয়ুব খান দুটি কাজ করেন। প্রথমটি হচ্ছে মৌলিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং দ্বিতীয়টি গভর্নর জাকির হোসেনের স্থলে পূর্ব পাকিস্তানে লে. জেনারেল আজম খানকে গভর্নর নিয়োগ। এরপর ১৯৬২ সালে পূর্ব পাকিস্তন প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং এবডোর (Election Bodis Disqualification order) কারণে আওয়ামী লীগ নেতারা এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। এ নির্বাচনে জামায়াতের চারজন নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ সালে মৌলিক গণতন্ত্রের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। আইয়ুব খানের পাশাপাশি ফাতেমা জিন্নাহ এতে অংশগ্রহণ করেন এবং আইয়ুব খান বিজয়ী হন। ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনে আইয়ুবের পতনের পর জেনারেল ইয়াহইয়া খান সামরিক শাসন জারি করেন এবং তারই আমলে ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ ও ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ সময়ে নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত এলাকায় নির্বাচন স্থগিত রাখা হয় এবং পরে ১৭ জানুয়ারি জাতীয় পরিষদে ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে সারা পাকিস্তানে ৩১৩টি মহিলা আসনসহ ৩১৩টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসন এবং পিপলস পার্টি পায় ৮৮টি আসন। আওয়ামী লীগ পশ্চিম পাকিস্তানে কোনো আসন পায়নি, আবার জুলফিকার আলী ভুট্টোর দল ও পূর্ব পাকিস্তানে কোনো আসন পায়নি। পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টির জনাব নূরুল আমিন ও চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়ও নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন।
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৯৩টি, জাসদ ১টি, জাতীয় লীগ ১টি ও ৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হন। নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ছিল। ১৯৭৫ সালের আগস্ট বিপ্লবের পর জেনারেল জিয়ার আমলে ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ২য় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহিলাসহ বিএনপি ২৩৭টি, আওয়ামী লীগ (মালেক) ১৪টি, মুসলিম লীগ ১৪টি, জাসদ ৮টি, আইডিএল ব্যানারে জামায়াত ৬টি, আওয়ামী লীগ (মিজান) ২টি, জাতীয় লীগ ২টি, গণফ্রন্ট ২টি এবং স্বতন্ত্রসহ অন্যান্য দল ২০টি আসন পায়। এ নির্বাচনে ব্যাপক প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ছিল। তৃতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ১৯৮৬ সালে ৭ মে জেনারেল এরশাদের আমলে। এ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ১৮৩টি, আওয়ামী লীগ ৭৬টি, জামায়াত ১০টি, স্বতন্ত্র ৩টি আসন বাদে অন্যান্য ৮টি দল ২৮টি আসন পায়। এ নির্বাচনেও ব্যাপক কারচুপি হয় বলে জানা যায়। ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ চতুর্থ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে জাতীয় পার্টি মহিলা আসনসহ ১৮৩টি, সম্মিলিত বিরোধীদল ১৯টি, স্বতন্ত্র ২৫টি, ফ্রিডম পার্টি ২টি এবং জাসদ (সিরাজ) ৩টি আসন পায়।
এ নির্বাচনও কারচুপির নির্বাচন ছিল। নব্বই-এর গণঅভ্যুত্থানে এরশাদের পতনের পর বিচারপতি সাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় সংসদের নির্চান অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৭৬টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে। এ নির্বাচনের ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি ১৪০টি আসন পায়, আওয়ামী লীগ ৮৮টি, জাতীয় পার্টি ৩৫টি, জামায়াত ১৮টি এবং অন্যান্য ৯টি দল বাকী আসন লাভ করে। বিএনপি প্রাপ্ত আসন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না। আওয়ামী লীগ, জামায়াত, বাকশাল ও অন্যান্য দলগুলোর সহযোগিতায় সরকার গঠনের ব্যাপক প্রচেষ্টা চালায়; তারা এমনকি জামায়াতকে প্রস্তাবিত সরকারের ৬টি মন্ত্রীর পদ দেয়ারও প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু জামায়াত তা গ্রহণ করেনি বরং কোনও রকম পদ গ্রহণ ছাড়াই বিএনপিকে সমর্থন জানায় এবং বিএনপি জামায়াতের সহযোগিতায় সরকার গঠন করে। এ সরকারে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এ সময়ে নির্বাচনকালীন কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থার আন্দোলন দানা বেঁধে ওঠে। প্রথম রাজী না হলেও বেগম জিয়া শেষ পর্যন্ত এ পদ্ধতি মেনে নেন।
এ অবস্থায় ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি প্রায় সবকটি আসনই লাভ করে। এদের মধ্যে বিএনপি’র ৪৯ জন প্রার্থীই বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। নির্বাচনের ভিত্তিতে গঠিত নতুন বিএনপি সরকার সংবিধানে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থার সংযোজন করেন। এ বছরই অর্থাৎ ১৯৯৬ সালের ১২ জুন ৭ম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগ ১৪৬ আসন বিএনপি ১১৬, জাতীয় পার্টি ৩২ ও জামায়াত ৩টি আসন পায়। বাকী ৩টি আসন পায় যথাক্রমে জাসদ, ইসলামী ঐক্যজোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে এবং পাঁচ বছর পর নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি ১৯৩টি আসন, আওয়ামী লীগ ৬২টি আসন, জামায়াত ১৭টি, জাতীয় পার্টির তিনটি গ্রুপ মিলে ১৯টি এবং বাকী আসনগুলো স্বতন্ত্রসহ অন্যান্য ছোট ছোট দলের ভাগে পড়ে। এ সময়ে ৪ দলীয় জোট সরকার গঠন করে। বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রী হন এবং জোট সরকারে জামায়াতের ২ জন মন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তারা মন্ত্রণালয় পরিচালনায় সততা, নিষ্ঠা, যোগ্যতা ও দক্ষতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপক করেন। ২০০৭ সালের ২১ জানুয়ারি নবম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিল কিন্তু সারাদেশে আওয়ামী লীগের ব্যাপক তাণ্ডব, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে শেখ হাসিনার নির্দেশে লগি-বৈঠা দিয়ে জামায়াত-শিবির কর্মীদের হত্যার প্রেক্ষাপটে জেনারেল মঈনের নেতৃত্বে সেনা সমর্থিত কেয়ারটেকার সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। শেখ হাসিনা এ সরকারকে তাদের আন্দোলনের ফসল হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আলোকে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। লন্ডনের খ্যাতনামা সাময়িকী দি ইকনমিস্টের ভাষায় ভারত প্রদত্ত বস্তা বস্তা টাকা ও ভারতসহ বিশ্ব মোড়লদের ব্যাপক সমর্থন এবং প্রভাবে এ নির্বাচনের ফলাফল নির্ণিত হয়। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে কেয়ারটেকার পদ্ধতি বাতিল করে দেন। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে ভোটারবিহীন নির্বাচনের প্রহসনের মাধ্যমে ক্ষমতার চূড়ায় উঠে দুনিয়ার নিকৃষ্টতম স্বৈরশাসকে পরিণত হন।
তিনি বাংলাদেশকে ভারতের করদ রাজ্যে পরিণত করেন এবং চব্বিশের গণআন্দোলনে বাড়াভাত টেবিলে রেখে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। যে অত্যাচার, নিপীড়ন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজি ও প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের গুম, খুন ও অবিচারের জন্য তিনি ও তার দলের নেতারা নিন্দিত হয়েছেন। সে একই তৎপরতায় অধুনা আরেকটি দলকে লিপ্ত হতে দেখা যায়। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন ও গণভোট দেশে সুশাসন ও সৎ লোকের শাসন প্রতিষ্ঠার সর্বশেষ সুযোগ বলে আমি মনে করি। রাজনৈতিক শিষ্টাচার জনকল্যাণ ও দেশ প্রেমের নিরিখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এখন মানুষের অন্তরে জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছে। এ অবস্থায় আসন্ন ভোটে জামায়াত ও তার জোটের পক্ষে রায় দেয়া হলে মুসলমান-অমুসলমান নির্বিশেষে সকলের আমানত রক্ষা হবে বলে দেশবাসী মনে করেন।