জাতীয় পার্টি বাংলাদেশের রাজনীতির এক অশুভ চরিত্র। দলটির নামের সাথে স্বৈরাচার তকমা লেগেই আছে যা এখনো তারা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। উল্টো বিগত সাড়ে ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে তাদের নাম আরো একবার কলংকিত হয়েছে। ’৯৬ সালের নির্বাচনের পরেও জাতীয় পার্টির তৎকালীন মহাসচিব আনোয়ার হোসেইন মনজু সাহেব আওয়ামী সরকারে যোগ দেন এবং যোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। ঘটনা পরিক্রমায় এরশাদ সাহেবের সাথে আনোয়ার হোসেন মনজুর দূরত্ব সৃষ্টি হয়। পরবর্তী বছরগুলোতে জাতীয় পার্টি বহুবার ভেঙেছে। কিন্তু প্রথমবার জাতীয় পার্টির ভাঙনের সূচনা হয় আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদেই।

চারদলীয় জোট গঠনের সূচনালগ্নে জাতীয় পার্টি সেখানে শরীক ছিলেন। অনেকগুলো বৈঠক ও সমাবেশেও সে সময়ের জাতীয় পার্টি বিএনপি-জামায়াতের সাথে অংশ নিয়েছিল। কিন্তু পরে চার দলের সাথে থাকেনি এরশাদের জাতীয় পার্টি। নাজিউর রহমান মনজুর নেতৃত্বে একটি ফ্যাকশন এ জোটে থেকে যায় এবং তারাই ২০০১ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়। এরপর থেকে আরো বহুবার জাতীয় পার্টি ভেঙেছে। জীবিত থাকলেও এরশাদ সাহেব সে ভাঙনগুলো ঠেকাতে পারেননি। নিয়মিত বিরতিতেই দলটির মহাসচিব থেকে শুরু করে প্রেসিডিয়াম মেম্বারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একজনকে মহাসচিব ঘোষণা করে আবার দিনকয়েকের ব্যবধানে তাকে সরিয়েও দেয়া হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ এসব সংকট নিয়ে জাতীয় পার্টিকে বারবার পরিহাসের শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু মহাজোটের অংশ হওয়ার পর থেকে বিতর্ক যেন দলটির পিছুই ছাড়ছে না। বিরোধী দল হয়েছে আবার মন্ত্রীত্বও নিয়েছেন। ২০১৪ সাল পর্যন্ত জিএম কাদের ও আনিসুল ইসলাম মাহমুদ মন্ত্রী ছিলেন। মুজিবুল হক চুন্নুরাও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। বিশ্বের ইতিহাসে একইসাথে বিরোধী দল ও সরকারে থাকার ঘটনা নজিরবিহীন। মহাজোটের আমলে জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব নিয়েও হাস্যরসাত্মক অনেক ঘটনা ঘটেছিল। বেগম রওশন এরশাদ আর জিএম কাদেরের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধও ছিল ওপেন সিক্রেট। নেতারা একবার রওশন এরশাদের পেছনে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন আরেকবার জিএম কাদেরের পেছনে। কাদের সাহেব কাউকে বহিষ্কার করলেই তার ঠাঁই মিলতো রওশন বলয়ে আবার বিপরীতও ঘটেছিল একাধিকবার। এরশাদপুত্র সাদ এরশাদকে এমপি বানানো নিয়েও ভাবী-দেবরের দ্বন্দ্ব দৃশ্যমান হয়েছিল। সব কিছুর পর তারা এক ধরনের আপসে পৌঁছেছিলেন। রওশন এরশাদকে বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। মূলত আওয়ামী লীগ রিমোট কন্ট্রোল দিয়েই এই দলটির যাবতীয় গতিবিধি ও নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করতো।

আবার ফ্যাসিবাদী আমলে নির্বাচনে যাওয়া নিয়েও জাতীয় পার্টির নাটক ছিল দেখার মতো। ২০১৪ সালে এরশাদ সাহেবের নির্বাচনে যাওয়া নিয়ে নাটক, সুজাতা সিংয়ের সাথে সাক্ষাৎ ও সিএমএইচ গমন সবটুকুই জাতীয় পার্টির বিতর্কিত রাজনৈতিক ইতিহাসের অংশ। ২০১৮ সালের রাতের ভোট আয়োজনেও জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করেছে। ২০২৪ সালের আমি ডামি নির্বাচনে অনেক নাটকীয়তার পর জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নেয়। ভারত থেকে ফিরে এসে জিএম কাদের নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। তিনি পরিষ্কার বলেছিলেন, “ভারতের অনেকের সাথে বৈঠক হয়েছে, অনেক কথাও হয়েছে। তবে সেগুলো এখন কিছুই প্রকাশ করা যাবে না।” তার সেই কথা সে সময় ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিল। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের হস্তক্ষেপের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি প্রকাশ্যে এসেছে জাতীয় পার্টির মাধ্যমেই। তাদের দলের সিদ্ধান্ত দেশে বা দৃশ্যমান নেতৃত্বের মাধ্যমে নেয়া হতো না বলেই অনেকে মনে করেন।

যদিও ভারতের প্রেসক্রিপশনে জিএম কাদের নির্বাচনে অংশ নেন তথাপি সে নির্বাচনে তিনি নিজ প্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল টাকা নিয়ে মনোনয়ন দিয়েছেন বলে জানা যায়। নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ভরাডুবি হলে বিক্ষুব্ধ প্রার্থীরা এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন। তারা জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে অনাস্থাও আনেন। জিএম কাদের দলকে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারে শেষমেষ দলের সিনিয়র সব নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেন। তুলনামূলক জুনিয়র একজনকে দলের মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেন।

২০২৪ সালের নির্বাচনের পর আরেকটি চমকপ্রদ ঘটনা ঘটেছিল। জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের এতটা লেজুড়বৃত্তি করার পরও নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হয়। অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, নির্বাচনে জাতীয় পার্টির চেয়ে স্বতন্ত্র বিজয়ী প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হয়ে যায়। তখন একবার কথা উঠেছিল সংসদে বিরোধী দল কারা হবে বা বিরোধীদলীয় নেতার আসনে কে বসবেন? তখন স্বতন্ত্র প্রার্থীদের একটি জোট করে তাদের পক্ষ থেকে একজনকে বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ার কথাও উঠেছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা সে যাত্রায় জাতীয় পার্টির মুখ রক্ষা করেন। জাতীয় পার্টির সদস্য সংখ্যা কম হওয়ার পরও একক দল হিসেবে বেশি সিট পাওয়ায় জাতীয় পার্টিকেই সে যাত্রায় আবারো ‍গৃহপালিত বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেয়া হয়।

আওয়ামী লীগের পতনের পর জাতীয় পার্টি রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার ‍সুযোগ পায়নি। সরকারের কোনো সংলাপেও দাওয়াত পায়নি। কিন্তু কোনো এক রহস্যময় কারণে জাতীয় পার্টির ব্যাপারে সরকারের অনেকের মধ্যে জাতীয় পার্টির ব্যাপারে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যাচ্ছে। গণপরিষদের নুরকে ভয়াবহভাবে পেটানো হয়েছিল জাতীয় পার্টির অফিসের সামনে বিক্ষোভ করার কারণেই। আজ পর্যন্ত সেদিন পুলিশের এ্যাকশনের কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া গেল না।

সর্বশেষ প্রেস সচিবের কথায়ও জাতীয় পার্টির নির্বাচনে গ্রীন সিগনাল দেয়ার একটি আভাস পাওয়া গেল। গত শুক্রবার মাগুরায় একটি অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নত্তোরে জাতীয় পার্টির নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘জাতীয় পার্টি সম্পর্কে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। তাঁরা নির্বাচন করতে চাইলে, সেটি তাঁদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।” অর্থাৎ তার কথায় বোঝা যায় যদি জাতীয় পার্টি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে অন্তর্বর্তী সরকার তাদের বাধা দেবে না। যদি শেষ পর্যন্ত তেমনটাই হয়, তাহলে তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে খুবই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কারণ অনেকদিন ধরেই বাজারে এ কথা চালু ছিল যে, আওয়ামী লীগ নির্বাচন করতে না পারলে আওয়ামী লীগ এমনকী প্রতিবেশি দেশের চাওয়াই এই যে, জাতীয় পার্টি অন্তত নির্বাচনে যাক। তাহলে আওয়ামী লীগের ভোটের বড়ো অংশ জাতীয় পার্টি পাবে।

বাংলাদেশের রাজনীতির বড়ো সংকট হলো, এখানে সব কিছুই আছে নীতি নেই। নতুবা বিগত সাড়ে ১৫ বছর প্রত্যক্ষভাবে ফ্যাসিবাদকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করে টিকিয়ে রাখার পরও জাতীয় পার্টি বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচনায় থাকতে পারতো না। অথচ এখন মনে হচ্ছে, শুধু আলোচনায় থাকাই নয়, তারা হয়তো সামনের নির্বাচনে অংশ নেয়ারও সুযোগ পাবে।

এখনো পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা ৮ দলীয় জোট জাতীয় পার্টির বিষয়ে খুব সরব ও স্পষ্ট ভূমিকা নিয়েছে। তারা যে ৫ দফা নিয়ে আন্দোলন করছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিভাগীয় মহাসমাবেশগুলো করছে তার অন্যতম একটি দাবিই হলো, ফ্যাসিবাদের অন্যতম সহযোগী জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করতে হবে। জুলাই অভ্যুত্থানের দেড় বছর পর এসে এ বিষয়ে কোনো দল বা জোটের দাবি তোলার প্রয়োজন পড়ছে এটাই অত্যন্ত দুঃখজনক। কারণ অভ্যুত্থানের পরপরই সরকারের তরফ থেকে জাতীয় পার্টির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা উচিত ছিল। যে গ্রাউন্ডে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম তারা নিষিদ্ধ করেছেন তা যদি ভ্যালিড হয় তাহলে একই গ্রাউন্ডে জাতীয় পার্টি কীভাবে রাজনীতি করার সুযোগ পায়?

জাতীয় পার্টির অন্যতম বড় সমালোচনা হলো, এটি অবস্থানহীন একটি দল। এরা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে যেকোনো পক্ষের সঙ্গেই জোট করতে পারে। কখনো সরকারে, কখনো বিরোধী দলে,কখনো দুটো ভূমিকাই একসঙ্গে পালন করেছে। সবচেয়ে ন্যক্কারজনক হলো, একই সংসদে “সরকার” ও “বিরোধী দল”Ñদুই ভূমিকাই এই দলটি পালন করায় দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো বিকৃত হয়েছে। এ কারণে দলটিকে অনেকে “রাজনৈতিক পোষ্যবাহিনী” বা “টেইল-এন্ডার পার্টি” বলে সমালোচনা করেন। বহু বিশ্লেষক এমনও মনে করেন যে শাসকদলের কৌশলে জাতীয় পার্টির অস্তিত্ব ব্যবহার করা হয়। প্রকৃত যারা বিরোধী দল হতে পারতো বিশেষ করে বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যান্য ইসলামিক দলগুলোকে দুর্বল রাখার জন্য এবং আন্তর্জাতিক মহলে লোক দেখানো বিরোধী দল” বানিয়ে রেখে নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দেখাতে জাতীয় পার্টিকে বারবার ব্যবহার করা হয়েছে আর দলটিও সানন্দে সেভাবেই ব্যবহৃত হয়েছে। এ ধরনের ভূমিকা যদি কোনো দল পালন করে তাহলে সার্বিকভাবে দেশের রাজনীতিই ক্ষতিগ্রস্ত হয় আর এমনটাই আমরা বিগত সাড়ে ১৫ বছরে ফ্যাসিবাদী আমলে নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি।

আরেকটি দুঃখজনক বাস্তবতা হলো বিএনপির ভূমিকা। বিএনপি শুরু থেকেই জুলাই অভ্যুত্থানের অনেকগুলো স্পিরিটের সাথেই সম্পৃক্ত থাকতে পারেনি। জাতীয় পার্টির ব্যাপারেও তারা নমনীয়তা দেখিয়েছে। তারা যদি জামায়াত ও সমমনা ইসলামী দলগুলোর মতো জাতীয় পার্টির বিষয়ে স্পষ্ট একটি সিদ্ধান্ত নিতেন তাহলে জাতীয় পার্টি এখনো বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থাকতে পারতো না। কিন্তু যেমনটা একটু আগেই লিখলাম- আমাদের রাজনীতিতে সবসময়ই নীতি ও নৈতিকতা অবহেলিত হয়েছে। গুরুত্ব পেয়েছে ভোটের হিসেব নিকেষ।

অনেকেই সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামপন্থীদের পক্ষে ক্রমবর্ধমান জনসমর্থন লক্ষ্য করছেন। আওয়ামী লীগ বিহীন বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের এ উত্থানে অনেকেরই গাত্রদাহ হচ্ছে। তারা সরাসরি বিষয়টি প্রতিরোধ করতে না পেরে বরং ভিন্ন কৌশলে অগ্রসর হতে চাইছে। আর সম্ভাব্য সে কৌশলটিই হলো জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া। অপরদিকে ভোটের সমীকরণও আছে। ধারণা করা হচ্ছে, উত্তরবঙ্গে ইসলামপন্থীদের ভোট এবার বেশি। উত্তরবঙ্গের ৩৩টি আসনের অধিকাংশই ইসলামপন্থীদের পকেটে যাবে বলেও আশা করা হচ্ছে। আর উত্তরবঙ্গে জাতীয় পার্টির এক সময়ে একটি ভালো অবস্থান ছিল। যদিও সে অবস্থান এখন আর নেই। তারপরও তারা ভোটের ময়দানে প্রভাব রাখতে পারে এবং তাতে ইসলামপন্থীদের ভোট কমে আসবে। আর দেশজুড়েই যদি আওয়ামী লীগ তার কর্মীদের জাতীয় পার্টিকে ভোট দেয়ার ম্যাসেজ দেয় তাহলে ভোটের হিসেবে একটি ভিন্ন সমীকরণ চলে আসতে পারে। যদিও কোনো কিছুই এখনো চূড়ান্ত নয়। তারপরও কেউ কেউ হয়তো ইসলামপন্থীদের ঠেকানোর জন্য জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দলেও আনতে চাইবেন। সেক্ষেত্রে বিএনপিকে ক্ষমতায় আর জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দলে রাখার ছক কষেও তারা এগুতে পারেন।

নির্বাচন বা রাজনীতিতে অন্য অনেক সমীকরণ বড়ো হয়ে যায় এটাই স্বাভাবিক। তারপরও নীতি নির্ধারকদের কাছ থেকে মানুষ কিছুটা নীতি ও নৈতিকতার বহিঃপ্রকাশ আশা করে। এত বড়ো একটি অভ্যুত্থান হয়ে গেলো মাত্র দেড় বছর আগে যেখানে দু’হাজারের মতো ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন, ২০ হাজারের বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। অসংখ্য মানুষ এখনো পঙ্গু ও অন্ধ হয়ে দিনযাপন করছেন তাদের সাথে বেঈমানী করা অন্তত অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে কারোই কাম্য হওয়া উচিত নয়। এ অভ্যুত্থান হয়েছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। ফ্যাসিবাদকে যারা টিকিয়ে রেখেছিল, শক্তিশালী করেছিল, ফ্যাসিবাদের অধীনে হওয়া বিতর্কিত নির্বাচনগুলোতে অংশ নিয়ে যারা ফ্যাসিবাদকে বৈধতা দিয়েছিল, তাদেরকে জনগণের ম্যান্ডেট দেয়ার নাটক সাজিয়েছিল-সে সহযোগীরা অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ পাবে এবং অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রথম নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে তা হয়তো অনেকের কাছেই প্রত্যাশিত ছিল না। তবে নীতিহীন রাজনীতিতে কোনো কিছুই শেষ নয়। কোনো অবস্থানই চূড়ান্ত নয়। আবারও যেন তাই প্রমাণ হলো।

ফ্যাসিবাদের অবসান হোক, তাদের সহযোগীরা চিহ্নিত হোক। রাজনীতিতে নীতি, নৈতিকতা প্রতিষ্ঠিত হোক। নিছক ভোটের জন্য, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কিংবা প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার জন্য হাজারো শহীদ ও গাজীদের সাথে আমরা যেন বেঈমানি না করি।