প্রফেসর তোহুর আহমদ হিলালী

পাইকারি মার্কেট হিসেবে কাওরান বাজারের নামডাক রয়েছে এবং সেখানে ব্যাপক চাঁদাবাজির কথাও জানা যায়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা গেছে, সম্প্রতি ঢাকা-১২ আসনের নবনির্বাচিত এমপি জনাব সাইফুল আলম খান মিলন কাওরান বাজার ব্যবসায়ীদের সাথে বসে আলোচনার ভিত্তিতে পণ্যের দাম বৃদ্ধি নয় বরং লাভ কমিয়ে প্রতিটি দ্রব্যের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন। অভিনন্দন এমপি মহোদয় ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে। আমরা বিশ্বাস করি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও আলোচনার মাধ্যমে অধিকাংশ সমস্যার সমাধান সম্ভব। ইতোপূর্বে এমপি মহোদয় চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তাঁর পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলেছেন। বাজার ও পথেঘাটে চাঁদাবাজি বন্ধ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্রব্যমূল্য কমবে ইনশা-আল্লাহ।

সরকার গঠনের স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিএনপি নিজ দলের লোকজনকে বিভিন্ন স্থানে বসাচ্ছেন। অতীত সরকারের মতো নির্লজ্জ দলীয়করণের মাধ্যমে সমাজে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। জুলাই বিপ্লবের ছাত্র-জনতার আকাক্সক্ষা ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা (We want Justice) । সিটি কর্পোরেশনে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ মোটেই কাম্য নয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত করার ঘোষণার সাথে সাথে এমন আচরণ ঠিক হলো না। নির্বাচন বিলম্ব হলে যারা আছেন তারা থাকতে পারেন বা পরিবর্তন করে সরকারি কর্মকর্তা নতুনভাবে দেয়া যেতে পারে। দলীয় প্রশাসক নিয়োগের ফলে এসব প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় কার্যালয়ে রূপ নেবে এবং দুর্নীতি ব্যাপক প্রসার লাভ করবে। রাজনীতিতে স্বচ্ছতা না আনলে জনরোষ সৃষ্টি হয়। আমরা চাই একটি নির্বাচিত সরকার তার মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ করুক এবং একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারা দেশে বিরাজ করুক। এ ব্যাপারে সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই ভূমিকা রয়েছে। গণরায় বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য অপরিহার্য। এটা না করলে গণতান্ত্রিক যাত্রা ব্যাহত হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান অঙ্গীকারাবদ্ধ। না মানলে ছাত্র-জনতা আবার ফুঁসে উঠবে। আল্লাহ তায়ালা সবার মাঝে উপলব্ধি দান করুন।

লেখক : প্রবীণ শিক্ষাবিদ।