মুন্সী আবু আহনাফ

২০২৬ সালের নির্বাচনটি বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য, গণতন্ত্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের মাঠে বর্তমানে জামায়াতে ইসলামী বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বিভিন্ন জনমত জরিপ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন জুলুম নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর এবারের নির্বাচনে তারা অন্যতম শক্তিশালী প্রতিযোগী। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বিএনপির “জোটসঙ্গী” হিসেবে পরিচিতি থাকলেও, এবারের নির্বাচনে জামায়াত একক শক্তি হিসেবে এবং একটি পৃথক জোটের নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে। এদিকে রাজনীতিতে ‘জনপ্রিয়তা’ এবং ‘ভোটের ফলাফল’ সবসময় এক সুতোয় গাঁথা থাকে না; অনেক সময় কৌশলী ভুল বা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস বড় জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিএনপির অনেক নেতাকর্মীই মনে করছেন আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় এবং বিভিন্ন জরিপে এগিয়ে থাকায় তারা অনায়াসেই ক্ষমতায় চলে আসবে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান থেকে শুরু করে সাধারণ নেতাকর্মীদেরও ওভার-কনফিডেন্স। তারা ৯৫% নিশ্চিত ২২০ এর বেশি আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসছে বিএনপি। আর জামায়াত বিএনপির এই আত্মতুষ্টিকে কাজে লাগিয়ে নিঃশব্দে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছে এবং ডোর টু ডোর ভোটারদের কাছে যাচ্ছে জামায়াতের নেতাকর্মীরা। জামায়াত এখন আর ছোট কোনো দল নয়; তারা এখন নির্বাচনের অন্যতম “ফ্রন্ট-রানার”। এবারের নির্বাচনটি মূলত বিএনপি বনাম জামায়াত এই দ্বিমুখী লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। এই লেখায় বিএনপির ওভার-কনফিডেন্স ও তারেক রহমানের এম্বারেসিং বক্তব্য কিভাবে পরাজয়ের কারণ হতে পারে এবং জামায়াতের নিঃশব্দে ব্যালট বিজয় হতে পারে তা আমরা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করবো।

এক. জামায়াত বর্তমানে নীরব কিন্তু গোছানো এবং কৌশলী প্রচারণা চালাচ্ছে। জামায়াত ইলেকশনকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি নিয়েছে ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনকালেই। আর ৫ আগস্টের জুলাই বিপ্লবের পর গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে জামায়াত নীরবে সামাজিক কাজ করে যাচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াত-ছাত্রশিবিরের দেশি-বিদেশি রিসার্চ এবং এনালাইসিসে বিশাল একটা টিম কাজ করে। দেশী-বিদেশী যত রিসার্চার, এনালিস্ট, স্ট্রাটেজিস্ট আছে সবাইকে জামায়াত এক টেবিলে নিয়ে এসে কাজ করেছে ৫ আগস্টের পর থেকে। সারাদেশের সংসদীয় আসনগুলো নিয়ে একাধিক দেশি-বিদেশি নামী-দামী গবেষণা প্রতিষ্ঠান দিয়ে জরিপ করেছে, নিজেদের প্রকৃত অবস্থান জানার জন্য। ফলে, জামায়াতের যত ডিসিশন, ইলেকশন ক্যাম্পেইন স্ট্রাটেজি সবই ডেটা ড্রিভেন এবং এই এনালাইসিস টিমের রেজাল্টের উপর ভিত্তি করে।

দুই. ৫ আগস্টের পরে বিএনপির ধারণা ছিলো তারা ভূমিধস বিজয় পাবে। যেহেতু বড় একটি দল, আওয়ামীলীগ নেই। ফলে, বিএনপি ছাড়া আর কোনো অপশন দেশের মানুষের কাছে নেই। এইটা সত্য। কিন্তু, সেটা ৫ আগস্টের পর এক/দেড় মাসের মত সত্য ছিলো। এরপর থেকে জনমত ভাগ হতে শুরু করেছে। বিএনপির সবচেয়ে বড় ভুল ছিলো জনমতের সেই শিফটকে বুঝে তারা কোনো স্ট্রাটেজি নেয়নি। তারা সেই আগের মতই ওভার কনফিডেন্ট থেকেছে। বিএনপির হুঁশ ফিরেছে ইলেকশনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে। মাস দুয়েক আগে থেকে তারা তাদের ক্যাম্পেইন শুরু করেছে অনলাইন এবং অফলাইনে। কিন্তু গিয়ে দেখে জামায়াত ভোটের মাঠে প্রচারণায় অনেক দূর এগিয়ে। তারপরও বিএনপি এইজ গ্রুপ ভিত্তিক এবং ডেমোগ্রাফি ভিত্তিক ক্যাম্পেইন ডিজাইন করেনি। আর রেগুলার বেইসিসে জনমত যাচাই করে জনমত কোনদিকে শিফট হচ্ছে, সেটা কীভাবে ঠেকানো যায়, সেরকম রিসার্চ এবং এনালাইসিসও তারা করেনি। ছাত্রসংসদে ছাত্রদলের পরাজয়ের সবচেয়ে বড় কারণ তাদের ভালো রিসার্চার এবং এনালিস্ট গ্রুপ না থাকা এবং ছাত্রদের পালস বুঝে কাজ না করা। কিন্তু, ওভার কনফিডেন্সের কারণে তারা ছাত্রসংসদে হারার পরও তাদের ভুল শোধরায়নি। তারা ভেবেছে শুধুমাত্র রেটরিকের উপর ভর করে তারা জিতে যাবে।

তিন. জামায়াতের আরেকটা ভালো দিক হলো এত এত মার খেয়েও তারা পাল্টা মার দেয়নি। বাংলাদেশের মানুষ জালিমকে পছন্দ করে না, মজলুমের পক্ষে থাকে। বিএনপি সারা দেশে শতাধিক স্থানে জামায়াতের নির্বাচনী নারী প্রচার কর্মীদের উপরে হামলা-নির্যাতন করেছে, বোরকা খুলে ফেলেছে, শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করে লাথি মেরেছে। তারপরও জামায়াত মিডিয়া ও নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেওয়া ছাড়া প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বিএনপির উপরে হামলা করেনি। এমনকি শেরপুরে জামায়াত নেতাকে প্রকাশ্যে বিএনপির নেতাকর্মীরা হত্যা করলেও জামায়াত প্রতিশোধ নিতে বিএনপির উপরে হামলা করেনি। বিএনপি গত দেড় বছরে নিজেদের জালিম ইমেজ এস্টাবলিশ করেছে খুন-ধর্ষণ করে এবং সীমাহীন চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মামলা বাণিজ্য, দখলদারি আর নারীর প্রতি সহিংসতা করেছে ধারাবাহিক ভাবে। ফলে, জামায়াতকে আলাদা করে কষ্ট করতে হয়নি কারা জালিম আর কারা মজলুম এই ন্যারেটিভ তৈরি করতে। বিএনপির স্ট্র‍্যাটেজিস্টে দেখা যাচ্ছে এইসব খুনী, ঋণখেলাপী, ধর্ষক আর চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। বরং বিএনপিকে এই ব্যাপারে উদাসীন দেখা গেছে। এটার কারণ ওভার কনফিডেন্স। তারা ধরেই নিয়েছে তারা জিতবেই, তারা ধরে নিয়েছে বহুবছর ধরে তারা রাজনীতি করছে, তারা অনেকবার ক্ষমতায় এসেছে, বিপরীতে জামায়াত কখনোই সরকার ক্ষমতায় যায়নি, তাই এখানে তেমন কোনো প্রতিযোগিতাই হবে না। অথচ, ফরেন মিডিয়া আর ফরেন রিসার্চাররা বাংলাদেশে না থেকেই বুঝতে পারছে, জামায়াত এই ইলেকশনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ব্যালেট বিপ্লব ঘটাবে। বিএনপি এই ইলেকশনে ফেইল করবে ওভার-কনফিডেন্সে থেকে দলীয় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে।

চার. তৃণমূল পর্যায়ে সহিংসতার কারণে বিএনপির নেতিবাচক ভাবমূর্তি ও টিআইবির প্রতিবেদন ভোটের হিসাব পাল্টে দিতে পারে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৭ মাসে দেশে মোট ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৫৫০টি বা ৯১ দশমিক ৭ শতাংশ ঘটনায় বিএনপির সম্পৃক্ততা ছিল। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যে বিএনপির সম্পৃক্ততা ছিল ৫৫০টিতে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫ আগস্ট থেকে বিএনপির মধ্যে অন্তঃকোন্দল ও সহিংসতা অব্যাহত ছিল। এসব ঘটনায় মোট ১৫৮ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৭ হাজার ৮২ জন।

পাঁচ. তরুণ ও নতুন প্রজন্মের ভোটারদের প্রত্যাশা এবং শক্তিশালী বিকল্প শক্তির উত্থান (জাতীয় নাগরিক পার্টি/ছাত্র নেতৃত্ব)। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের বিশাল এক তরুণ গোষ্ঠী রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন চায়। তারা কেবল ক্ষমতার রদবদল নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কার ও স্বচ্ছতা দেখতে আগ্রহী। বিএনপি যদি এই তরুণ প্রজন্মের জন্য যুগোপযোগী বা নতুন কোনো ভিশন (Vision) দিতে ব্যর্থ হয়, তবে নতুন ভোটারদের সমর্থন তারা হারাবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা ছাত্র নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীগুলো (যেমন: জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি) যদি স্বতন্ত্র শক্তি হিসেবে নির্বাচনে জামায়াতের সাথে জোটবদ্ধ হওয়ার কারণে বিএনপির ভোটব্যাংকে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে। মানুষ যখন প্রথাগত দলগুলোর বাইরে “নতুন কিছু” খুঁজবে, তখন বিএনপি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

​ছয়. মনোনয়ন বাণিজ্য বা যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে ব্যর্থতার কারণে বিএনপির অভ্যন্তরে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে ৭৯টি আসনে ৯২জন। অনেক জায়গায় দলের মূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় তা সরাসরি প্রতিপক্ষ জামায়াত জোটকে সুবিধা করে দেবে। আওয়ামী লীগের সমর্থকদের একটি বড় অংশের ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভোট কোন দিকে যাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদি আওয়ামী লীগের সেই বৃহৎ ভোটব্যাংক কোনো বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে বা জামায়াতের দিকে ঝুঁকে যায়, তবে বিএনপি সংকটে পড়বে। এছাড়াও তারেক রহমানের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচনার ঝড় তুলেছে। যেমন: মা আয়েশা (রা.) নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিল উষ্ট্রের যুদ্ধ। তাছাড়াও ফরিদপুরে সয়াবিন চাষ, কুমিল্লায় ইপিজেড স্থাপন, চট্টগ্রাম কে বাণিজ্যিক রাজধানীকরণ, যশোরে বন্ধ চিনিকল চালু, নীলফামারিতে মেডিকেল কলেজ সহ সামগ্রিক কিছু বক্তব্য বেশ সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে। তারেক রহমান একটি বড় রাজনৈতিক দলের প্রধান, উনার বক্তব্য হবে তথ্যবহুল ও সামঞ্জস্যপূর্ণ, জাতি উনার কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। তাঁর বক্তব্য ভোটের মাঠে বেশ প্রভাব পড়বে।

সাত. জনমত জরিপে বিএনপির সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপ দেখাচ্ছে যে জামায়াত তাদের পূর্বের ৪-৫% ভোটব্যাংক থেকে অভাবনীয় উন্নতি করেছে: আইআইএলডি (IILD) ও প্রথম আলোর রিপোর্ট: জানুয়ারি ২০২৬-এর জরিপ অনুযায়ী, বিএনপির সমর্থন যেখানে ৩৪.৭%, সেখানে জামায়াতের সমর্থন ৩৩.৬%। অর্থাৎ দুই দলের মধ্যে ব্যবধান মাত্র ১ শতাংশের কিছু বেশি। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামী ভোটের মাঠে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিওয়াইসিএল (BYLC) সমীক্ষা জরিপ বলছে, আওয়ামী লীগের একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার (যারা বিএনপিকে পছন্দ করেন না) এই ভোটারদের একটি বড় অংশ জামায়াতের দিকে ঝুঁকেছে। বিশেষ করে ধর্মীয় ভোটব্যাংকের ভোটারদের একটি অংশ জামায়াত জোটের দিকে ঝুঁকেছে। যা বিএনপির ভোট সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট তথা জামায়াত হিন্দু সংখ্যালঘু প্রার্থীকে তাদের দল থেকে মনোনয়ন দিয়েছে এবং দলীয় কাঠামোতে সংখ্যালঘুদের অন্তর্ভুক্ত করেছে। সে হিসেবে জামায়াত এবার নির্বাচনে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ভোটারদের একটি বড় সংখ্যক ভোট পাবে। জামায়াতের ২৬ দফা নির্বাচনী ইশতেহার গত ৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করেছে, যেখানে ‘ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ’ এবং একটি ‘নিরাপদ বাংলাদেশ’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ভোটারদের একটি অংশ জামায়াতের প্রতি ঝুঁকেছে তাদের দলের ভেতরে “দুর্নীতিমুক্ত ও সুশৃঙ্খল” ইমেজের কারণে। এবং ঋণখেলাপী না থাকার কারণে।

পরিশেষে, জামায়াত অনেক আসনেই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ফলে ভোটের বিভাজন বিএনপির জন্য আসন হারানোর একটি বড় কারণ হতে পারে, বিশেষ করে সেই সব জায়গায় যেখানে রক্ষণশীল ভোটগুলো দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাবে। “ভোট তো আমরাই পাব” বিএনপির এমন ধারণা থেকে সাধারণ ভোটারদের কাছে যাওয়ার চেয়ে নিজেদের মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে ব্যস্ততা পরাজয়ের কারণ হতে পারে। ডোর-টু-ডোর ক্যাম্পেইনে জামায়াতের কর্মীরা প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে ভোটারদের সাথে ব্যক্তিগত যোগাযোগ করছে। তাদের এই সুশৃঙ্খল সাংগঠনিক শক্তি ভোটের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে। জরিপে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও জামায়াতের ক্যাডারভিত্তিক শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি এবং ডিসিপ্লিন ভোটের দিন বড় পার্থক্যে বিজয় দিতে পারে। জামায়াত থেমে নাই। তাদের আগামী ৩ দিনে কোন ভোটারদের টানতে হবে সেটা নিয়েও তাদের হোমওয়ার্ক করা আছে। তারা সেটা করবে। আর বিএনপি এই ৩ দিনে আরো কিছু গালভরা কথা বলবে, তৃণমূলে প্রতিদিন কয়েকশো ব্লান্ডার করবে, আর শেষমেশ ইলেকশনে হেরে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর অভিযোগ দিবে। মিলিয়ে নিয়েন। কিন্তু, নিজেদের ওভার কনফিডেন্সের কারণে পূর্ণ প্রস্তুতিসম্পন্ন প্রতিপক্ষকে কীভাবে হারাতে হবে এই স্ট্র‍্যাটেজি তৈরি না করার কারণে আত্মসমালোচনা করবে না। জামায়াতের ভাইরাল গান ফেসবুক, টিকটক এবং ইউটিউ সহ সবখানেই এখন সুরের মূর্ছনা। “দেখে দেখে কেটে গেল বেলা, বদলে যাচ্ছে দেখো খেলা / ভালো লোকে হোক এবার পাল্লা, মানুষের বুকে দাঁড়িপাল্লা...” গানের শেষের দিকের একটি লাইন বেশ চর্চিত-“কার পাশা গেছে কার টেবিলে, খেলা যে চলছে কোন লেভেলে...”।