ইদানিং নানা জায়গায় একটা কথা হরহামেশাই শুনি। অনেকেই বলেন যে, ইসলামপন্থীরা ক্ষমতায় আসলে তারা টিকতে পারবে না: তাদেরকে দেশ পরিচালনার সুযোগই দেয়া হবে না। এ অভিমত প্রদানের সময় এর সমর্থনে তারা বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা আমাদের সামনে পেশ করেন। বিশেষ করে মিশরের গণতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট শহীদ ডক্টর মোহাম্মাদ মুরসি সরকারের পতনের অভিজ্ঞতা কিংবা তিউনিশিয়ায় আন নাহদা পার্টির তিক্ত অভিজ্ঞতাগুলো তারা রেফারেন্স হিসেবে পেশ করেন। আমার কাছে কথাগুলো শুনতে বেশ অবাক লাগে। আমরা খুব সহজে, সাবলীলভাবে বলে ফেলছি যে, অমুক আসলে তাকে কাজই করতে দেয়া হবে না। বিশেষ করে ধর্মীয় দলকে কাজ করতে দেয়া হবে না কিংবা ডানপন্থী কোনো সরকার যদি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় চলেও আসে তাহলেও তারা কয়েক মাসের মধ্যে পড়ে যাবে। আর এ বয়ানের উপসংহার হলো- যেহেতু ডানপন্থী বা ধর্মীয় কোনো দল ক্ষমতায় থাকতে পারবে না; তাই দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখার স্বার্থেই মধ্যমপন্থী একটি দলকে বিজয়ী করতে হবে বা ক্ষমতায় আনতে হবে।
বিভিন্ন সময়ে নানাজনের বক্তব্যে কিংবা টকশোতে এ আলাপ শুনলেও কিন্তু আমরা কেউ এ প্রশ্নটি তুলছি না যে একটি দল সে যে পন্থীই হোক না কেন কিংবা যে কোনো মতবাদ বা আদর্শেরই ধারক হোক না কেন- যদি তারা জনগণের ভোট পেয়ে সরকার গঠন করতে পারে; তাহলে তাদেরকে কেন কাজ করতে দেয়া হবে না? কে কাজ করতে দেবে না? নির্বাচিত কাউকে কাজ করতে দেয়া বা না দেওয়ার কোনো সুযোগ বা ক্ষমতা কি অন্য কারো আছে? জনগণের স্পষ্ট মতামত বা পছন্দের ওপর খবরদারি করার কর্তৃত্ব কীভাবে অন্য কেউ পেতে পারে? এ প্রশ্নগুলো জিজ্ঞাসিত না হওয়ায় হয়তো অমিমাংসিতই রয়ে যাবে।
দু’সপ্তাহ আগে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সেনাবাহিনীর ডেলটা ফোর্সের মাধ্যমে তুলে নেওয়ার ঘটনা বিষয়ে দৈনিক সংগ্রামেই একটি কলাম লিখেছিলাম। প্রেসিডেন্ট মাদুরো কিন্তু মুসলমান নন, ইসলামপন্থীও নন। তারপরও তাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা হয়েছে। তিনি মূলত বামপন্থী আদর্শের ধারক। তিনি একাই নন; তার পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজসহ বিগত কয়েক দশকে যে নেতারা ভেনেজুয়েলাকে নেতৃত্ব দিয়েছেন; তারা সবাই বাম ঘরানার। এটি একটি সর্বজনবিদিত বিষয় এবং বিগত কয়েক দশকে যারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তারাও বিষয়টি জানতেন এবং এ বাস্তবতা মেনে নিয়েই তারা ভেনিজুয়েলার সাথে সম্পর্ক অব্যহত রেখেছিলেন। কিন্তু বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পূর্বসূরীদের মতো করে ভেনিজুয়েলাকে নিয়ে ভাবতে চাননি। তারা মাদুরোকে ক্ষমতায় রেখে কোনো আপসও করতে চাননি। এ কারণেই এবার বিশেষ এলিট ফোর্স পাঠিয়ে ভেনিজুয়েলার মতো একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের প্রেসিডেন্ট ও ফাস্টলেডিকে প্রকাশ্য দিবালোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হলো। এই যে আমেরিকা ভেনিজুয়েলার সার্বভৌমত্বকে লঙ্ঘন করে অর্থাৎ একটি ভিন্ন দেশের নিরাপত্তা কাঠামো বা সাংবিধানিক পদ্ধতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সে দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে গেল-তা নিয়ে জাতিসংঘ বা পশ্চিমা বলয়ের কোনো দেশ বা আন্তর্জাতিক কোনো ফোরামের তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া আমরা দেখিনি। বিশেষত জাতিসংঘের ভূমিকা খুবই হতাশাব্যাঞ্জক। মার্কিন কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই তারা স্পষ্ট কোনো পদক্ষেপ দেখাতে পারছে না। ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ থাকার পরও কিংবা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত থেকে ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু কিংবা সাবেক ইসরাইলী প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি থাকার পরও যুক্তরাষ্ট্র দিনের পর দিন ইসরাইলকে মারণাস্ত্র, আর্থিক ও সামরিক সহায়তা প্রদান করেছে। কিন্তু জাতিসংঘ এক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রকে সংযত রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
কয়েক বছর আগে পাকিস্তানের এ্যাবোটাবাদে আমেরিকা ঠিক একই রকম একটি অভিযান পরিচালনা করে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করেছিল। ওসামা বিন লাদেনকে আমেরিকা সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করে এসেছে বরাবরই। এই লাদেনকে তারা নাইন এলিভেনের সন্ত্রাসী হামলা ও টুইনটাওয়ার ধ্বংসের জন্যও দায়ী করতো। আর এ কারণেই পাকিস্তানের মতো একটি স্বাধীন দেশের আকাশসীমা ও সার্বভৌমত্বকে লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র লাদেনকে পাকড়াও করতে পেরেছিল। কিন্তু নিকোলাস মাদুরো তো সন্ত্রাসী নন। তাহলে তার বেলায় এভাবে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নেপথ্যে কোনো যুক্তি কি আমেরিকা দিতে পারবে?
মাদুরোর অনেক সমালোচনা থাকতে পারে। তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগও থাকতে পারে। কিন্তু এর থেকে অনেক বেশি অনৈতিক কাজ তো খোদ মার্কিন প্রশাসনই করে ফেললো। তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায্য কাজের সমালোচনা না করে শুধুমাত্র মাদুরোর সমালোচনা করলে কি তা ন্যায়নিষ্ঠ হবে? যারা শাসক হন কিংবা একটি দেশ পরিচালনা করার সুযোগ পান-তাদের সবার বিরুদ্ধেই কম বেশি অভিযোগ থাকে। কিন্তু সেগুলো নিরসনের পথ আছে; নির্বাচনের মাধ্যমে পরাজিত করার সুযোগ আছে এমনকি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে উৎখাত করারও সুযোগ আছে। কিন্তু যেভাবে আমেরিকা গণবিধ্বংস অস্ত্র থাকার অজুহাতে ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করল তা কি নৈতিক কোনো সিদ্ধান্ত বা কার্যক্রম ছিল? সাদ্দাম হোসেনকে হত্যার পর এত বছর চলে গেল; আমেরিকা এবং তার সকল অন্যায় কাজের অংশীদার যুক্তরাজ্য আজ পর্যন্ত একটিও গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার প্রমাণ দেখাতে পারল না। এই যে, একটি অভিযোগ করে সরকারকে হটানো হলো অথচ সেই অভিযোগের কোনো সত্যতাই মিললো না; সেজন্য আমেরিকাকে কি আমরা জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পেরেছি?
আমরা এক সময়ে খুব স্বস্তি নিয়ে বলতাম মিশরের গণতান্ত্রিক পন্থায় প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডক্টর মোহাম্মাদ মুরসি। তার আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন হোসনী মোবারক। যিনি একনায়কতন্ত্র ও নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায়ে ২০ বছরের বেশি সময় মিশরে জরুরি অবস্থা জারি করে রেখেছিলেন এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক একটি শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করেছিলেন। এরপর আরব বসন্ত হল; দেশটিতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হল এবং সে নির্বাচনে জনগণের নিয়ে ফ্রিডম এন্ড জাস্টিস পার্টি ক্ষমতায় আসলো। এরপর দেশটির প্রেসিডেন্ট হলেন এই মুরসি। এ পরিস্থিতিতে দেশটির প্রতিটি দল এবং সংশ্লিষ্ট মহলের উচিত ছিল গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত সরকারকে নির্ভিগ্নে কাজ করতে দেওয়া। অথচ চক্রান্ত ও অপকৌশলের মাধ্যমে তাকে উৎখাত করা হলো। দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতা হলো, মুরসিকে ফেলে দেওয়ার বিষয়টি আমরা ব্যাপকভাবে আলোচনা করি। কিন্তু কেন তাকে ফেলে দেওয়া হল অথবা কারা তাকে কাজ করতে দিল না-এ বিষয়টি নিয়ে আমরা মোটেও আলোচনা করি না। গাজায় চূড়ান্ত মাত্রার ধ্বংসযজ্ঞ, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং চলমান ভেনিজুয়েলা ও ইরান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আমার মনে হয় যে, এখন সময় এসেছে, জাতিসংঘসহ প্রত্যেকটি আন্তর্জাতিক ফোরামকে জবাবদিহিতায় আওতায় নিয়ে আসার এবং একইসঙ্গে বিদ্যমান গ্লোবাল অর্ডার সম্পর্কে প্রশ্ন তোলার।
প্রত্যেকটি নাগরিকের তার চিন্তা ও আদর্শের আলোকে রাজনীতি করার পূণ্য অধিকার আছে এবং এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। একটি বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নানা ধরনের দল থাকবে। কোনো দল হবে ডানপন্থী, কোনোটা বামপন্থী, কিছু দল হয়তো মধ্যমপন্থী হবে আবার কোনো কোনো দলের সুনির্দিষ্ট মতাদর্শ থাকবে বা থাকতে পারে। আবার কিছু দল এমনও থাকবে যারা আদর্শকে কেন্দ্র করে নয়; বরং ব্যক্তিতন্ত্র বা পরিবারতন্ত্রকে ঘিরে অগ্রসর হবে। এই দলগুলোর প্রতিটি সারা বছর রাজনীতি করবে; বিভিন্ন ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবে আর নির্বাচনের সময় আসলে নিজ নিজ আদর্শ ও চিন্তাধারার আলোকে জনগণের সামনে নিজেদের প্রতিশ্রুতি ও ইশতেহার তুলে ধরবে। এটিই স্বাভাবিক রাজনৈতিক রীতি হওয়া উচিত।
জনগণ নির্মোহ ও বস্তুনিষ্ঠভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি ও ইশতেহার বিবেচনা করবে। এরপর তারা পছন্দসই প্রার্থীকে ভোট দেবে এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগে স্বাধীনতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, এটিও নিশ্চিত করতে হবে যে, জনগণ যে দলকেই পছন্দ করবে তারা যে পন্থীই হোক না কেন- তাদেরকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। বিজয়ী দল দায়িত্ব নেয়ার পর ইতোপূর্বে দেয়া ইশতেহার এবং প্রতিশ্রুতির আলোকে দেশ পরিচালনা করবেন। যদি সংশ্লিষ্ট দল তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হন অথবা জনগণ যদি মনে করেন যে, ক্ষমতাসীনদের কথা ও কাজে মিল নেই তাহলে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। প্রত্যাখান করার জন্য জনগণ পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে আবার ততটা বিলম্ব সংগত মনে করলে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে তাদেরকে ক্ষমতা থেকে সরিয়েও দিতে পারে। কিন্তু শুধুমাত্র একটি বিশেষপন্থী হওয়ার কারণে অথবা আদর্শ ধারণ করার কারণে একটি দলকে নির্বাচনের সুযোগ দেয়া হবে না কিংবা জনগণের কাছে যেতে দেওয়া হবে না অথবা উক্ত দলকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে সরিয়ে রাখা হবে- এমনটি কাম্য নয়। অথবা যদি কোনো দল কোনোভাবে নির্বাচিত হয়েও যায় তাহলেও শুধুমাত্র মতাদর্শগত ভিন্নতার কারণে দলটিকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা হবে অথবা তার কাজ করার পথে নানা ধরনের বিঘ্ন ঘটানো হবে অথবা ইরাক, মিশর বা ভেনিজুয়েলার মতো কোনো একটি বিভ্রান্তিকর অভিযোগ তুলে তাকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করা হবে-পরাশক্তি নির্ভর এই প্রক্রিয়াটি স্থিতিশীল বিশ্বের জন্য মারাত্মকভাবে হুমকিস্বরূপ।
বিদ্যমান গ্লোবাল অর্ডার অমুকপন্থী বা ইসলামপন্থীদের কাজ করতে দেবে না-এ জুজুর ভয় থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা দরকার। সকলে মিলে একটি সমন্বিত অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। যে আদর্শের ধারক দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন তা যদি আমার অপছন্দের দলও হয় কিন্তু মানুষ যদি তাকে চায় তাহলে সংশ্লিষ্ট দলকে কাজ করতে দেওয়া উচিত। অবশ্যই দলটির গঠনমূলক সমালোচনা করার অধিকার থাকবে এবং সে অধিকার সংরক্ষণ করাও উচিত। কিন্তু তাই বলে অমুক নেতা বা অমুক দল আমার বিপরীত আদর্শ লালন করেন বলে তাকে রাজনীতি ও নির্বাচনের প্রক্রিয়া থেকে সরিয়ে রাখতে হবে-এ দৃষ্টিভঙ্গি সঠিক নয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যাপক রক্তপাতের পর লীগ অব নেশনসকে বিলুপ্ত করে যখন জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা করা হয় তখন এর মূল উদ্দেশ্যই ছিল অন্তত যুদ্ধ এবং সহিংসতা থেকে বিশ্বকে মুক্ত করা; উপনিবেশের যন্ত্রণা থেকে মানুষকে পরিত্রাণ দেয়া। উপনিবেশ এখন নেই কিন্তু তার পরিবর্তে মার্কিন নেতৃত্ব বা পশ্চিমা বলয় যেভাবে এখন কাজ করছে তা উপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা থেকেও আরো জঘন্য। এমতাবস্থায় এ বৈশ্বিক অর্ডারকে একপেশেভাবে সমর্থন না করে বরং ছোট দেশগুলোর উচিত নিজেদের জনমতের প্রতিফলন যেন নিশ্চিত হয় সে লক্ষ্যে কাজ করা। প্রতিটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশেরই নিজেদের মতো করে টিকে থাকার অধিকার রয়েছে। একইসাথে প্রতিটি দেশের জনগণেরও এ অধিকার আছে যে, তারা তাদের পছন্দের নেতৃত্বের মাধ্যমে পরিচালিত হবে অথবা কাউকে পছন্দ না হলে তারাই তাকে সরিয়ে দেবে।
এমন বাস্তবতায় আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর উচিত নিজেদের অবস্থানের বিষয় সচেতন ও সক্রিয় হওয়া। দেশের নিরাপত্তা নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক হওয়া এবং দেশের রাজনীতি এবং সার্বিক কার্যক্রম যেন নিজেদের হাতে থাকে এবং কোনোভাবেই পরাশক্তির হাতে যেন না চলে যায় তা নিশ্চিত করা। আমি আশা করি প্রতিটি সচেতন মহল এ সচেতন অবস্থান লালন করবেন। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার আগেই কোনো একটি দলকে পরাশক্তি কাজ করতে দেবে না এরকম বয়াণ আমরা যদি দিতে শুরু করি-তাহলে তা হবে নিজেদের রাজনীতিকেই পরাশক্তির হাতে তুলে দেয়ারই নামান্তর। বাংলাদেশের এমন কোনো পরিণতি হোক-তা সচেতন কোনো দেশপ্রেমিক নাগরিকের চাওয়া হতে পারে না।