গত সপ্তাহের পর
দেশ-বিদেশের পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরানুযায়ী ভারত ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের অনেক পূর্ব থেকেই পূর্ব পাকিস্তান সীমান্তে সেনা বাহিনী মোতায়েন শুরু করেছিল। সীমান্ত এলাকায় তারা জেট ফাইটার ও পরিবহন বিমান সমাগম ঘটিয়েছিল। এছাড়াও নিয়মিত সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পূর্ব পাকিস্তান সীমান্তে বিএসএফ-এর অসংখ্য ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করেছিল। বিএসএফ কর্তৃক ব্যবহৃত জীপ ও যানবাহনসমূহ থেকে তারা বিএসএফ-এর চিহ্ন মুছে দিয়ে বেসামরিক রং লাগিয়েছিল। পত্রপত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী ঐ সময়ে বিএসএফ-এর এ ব্যাটালিয়ানসমূহের অধিকাংশই ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম থেকেই এ প্রদেশের অভ্যন্তরে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংসের কাজে লিপ্ত ছিল। তাদের এ তৎপরতাগুলো সম্পর্কে গোয়েন্দা বাহিনীর বর্ডার্স এন্ড সিকিউরিটিজ শীর্ষক রিপোর্টসমূহে বিস্তারিত তথ্য থাকতো বলে জানা যায়। এসব রিপোর্ট অনুযায়ী বিএসএফ ও ভারতীয় বাহিনী সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত অবস্থান করত এবং সিলেট, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী প্রভৃতি সীমান্ত অতিক্রম করে বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা এবং পুল-কালভার্ট উড়িয়ে দিয়ে পুনরায় ভারত ভূখন্ডে ফেরত যেত। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী থানা, রেলওয়ে লাইন, বৈদ্যুতিক স্টেশন এবং টেলিফোন এক্সচেঞ্জ প্রভৃতি তাদের টার্গেটে ছিল। থানায় হামলা করে তারা রাইফেল ও অস্ত্রশস্ত্র লুট করে নিয়ে যেত। এ সব রিপোর্টে বিধৃত বিবরণী থেকে এও জানা যায় যে, তারা স্থাপনায় পাহারারত রাজাকারদের উপরও সশস্ত্র হামালা চালাত। ভারত সরকার ও ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং সীমান্ত রক্ষীদের এ তৎপরতাকে দক্ষিণপন্থী ও ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলো স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেনি। তারা এবং আওয়ামী লীগের একটি অংশও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠে। বলাবাহুল্য আওয়ামী লীগকে ভারতের তরফ থেকে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলকে স্বাধীন করার জন্য প্রদত্ত সহযোগিতার মূল উদ্দেশ্যটি এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে আরো স্পষ্ট হয়ে উঠে। এ সময়ে ৪ এপ্রিল, ১৯৭১ তারিখে ভারতীয় পার্লামেন্টে সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির উদ্যোগে সর্বসম্মত একটি প্রস্তাব পাস করা হয়। এ প্রস্তাবের পক্ষে পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির পশ্চিম বাংলা ইউনিটের জেনারেল সেক্রেটারি শ্রী কে. কে শুক্লা বলেছিলেন, ‘Sheikh MujiburRahman is fighting India’s war’ ভারতের খ্যাতনামা দৈনিক পত্রিকা এবং লেখক, সাংবাদিকরাও তাদের এ অবস্থানকে আরো সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিলেন। ৩০ মার্চ বোম্বাই থেকে প্রকাশিত Daily India Express পূর্ব পাকিস্তানে ভারতীয় হস্তক্ষেপকে নিম্নোক্ত ভাষায় সমর্থন জানিয়েছিল: “It is a truly historic moment and the time to act is now.” ১৯৭১ সালের ৭ এপ্রিল Indian Institute of Defense Studies এর পরিচালক Mr. Subramania পূর্ব বাংলা পরিস্থিতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘What India must realize is the fact that the break-up of East Pakistan is in our own interests and we have an opportunity, the like of which will never come again.’
ভারতের আরেকটি দৈনিক ডেইলী মাদারল্যান্ড পত্রিকায় ভারতের আরেক জন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মি: সুব্রামানিয়াম স্বামী তার এক নিবন্ধে পাকিস্তান ভাঙার ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকসমূহ বিবেচনা করতে গিয়ে স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে, ‘The territorial integrity of Pakistan is none of our own business. That is Pakistans worry. All we should concern ourselves with is two questions: Is the break- up of Pakistan in our long-term national interest? If so, can we do something about it? And the commentator concluded that the break-up of Pakistan is not only in our external security interest but also in our internal security interests. India should emerge as super power internationally and we have to nationally integrate our citizens for this role. For this the dismemberment of Pakistan is an essential precondition.’
ভারত সরকার, ভারতের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ঐ দেশের পত্রপত্রিকা, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী এবং থিংকট্যাংকসমূহের উপরোক্ত ধারণা এবং পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি উপরোক্ত দৃষ্টিভঙ্গি পাকিস্তান আন্দোলনের শরীক, পাকিস্তানপন্থী এবং মুসলমানদের স্বতন্ত্র আবাস ভূমিতে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলসমূহকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল। তারা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে স্বাধীনতা আন্দোলনে যেমন সন্দেহ পোষণ করতেন তেমনি আওয়ামী লীগও তাদের লক্ষ্য অর্জনে এ সব রাজনৈতিক দলসমূহের নেতৃবৃন্দকে বিশ্বাস করত না। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ বহির্ভূত দলসমূহের ওপর ভারত সরকারেরও আস্থা ছিল না। এর বহু প্রমাণ বাস্তবেও পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগ বহির্ভূত ও তাদের ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বহু রাজনৈতিক দল ২৫ মার্চের আর্মি ক্র্যাকডাউনের পর সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতীয় ভূখন্ড থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনের কর্মকাণ্ড, সংগঠন এবং তাতে অংশগ্রহণের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছিল। ভারত সরকার আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগ কর্তৃক অনুমোদিত সংগঠন ও ব্যক্তি ছাড়া কাউকেই ভারতীয় ভূখণ্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের লক্ষ্যে তৎপরতা চালানো এবং প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য অনুমতি প্রদান করত না। মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যায় খ্যাতনামা রাজনীতিবিদ সেখানে গিয়ে নজরবন্দি অবস্থায় দিন কাটিয়েছেন। অলি আহাদ তার দল জাতীয় লীগের নেতৃবৃন্দ সেখানে গিয়ে ঠাঁই পাননি। সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও ঐসময়ের নিরপেক্ষ ছাত্রনেতা মাহমুদুর রহমান মান্না মুক্তিযুদ্ধ করার লক্ষ্যে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনিও সেখানে গ্রহণযোগ্য হননি। বরং নির্যাতিত হয়ে দেশে ফিরে এসেছিলেন। আওয়ামী ঘরানার বাইরের সাংবাদিক কলামিস্ট মোবায়দুর রহমানের ভাই হওয়া ছিল তার অপরাধ।
আমি আগেই বলেছি, ১৯৭১ সালে শুধু অখণ্ড পাকিস্তানে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলসমূহের নেতাকর্মীরা নন খোদ আওয়ামী লীগের একটি অংশের নেতাকর্মীদের মধ্যেও স্বাধীনতার ব্যাপারে বিভ্রান্তি ছিল, বিশেষ করে ভারতের সহযোগিতায়। ১৯৭১ সালে আগস্ট মাসের দিকে তৎকালীন সামরিক সরকার ড. মালেককে গভর্নর করে পূর্ব পাকিস্তানে একটি বেসামরিক সরকার গঠন করে। এ সরকারের নয় সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রী সভায় আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধিই ছিলেন ৩ জন। এরা হচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক শামসুল হক, ওবায়দুল্লাহ মজুমদার এমএনএ এবং সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব জসিম উদ্দিন। এ মন্ত্রী সভায় জামায়াত, মুসলিম লীগের দুই গ্রুপ এবং নেজামে ইসলাম পার্টি ও কৃষক শ্রমিক পার্টির প্রতিনিধিও ছিলেন। এ মন্ত্রী সভায় যোগদান করা ছাড়াও আওয়ামী লীগে বেশকিছু সংখ্যক এমএনএ এবং এমপিএ স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য সামরিক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে ছাড়পত্র নেয়ার জন্যও চেষ্টা তদবিরে লিপ্ত ছিলেন বলে তখন শোনা গেছে এবং এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭১ সালের ৭ আগস্ট পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য সচিব জেনারেল রোয়েদাদ খান ইসলামাবাদের একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন। এ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ দলীয় ৮৮ জন এমএনএ কে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়। ছাড়পত্র প্রাপ্ত এ আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন। বেগম সাজেদা চৌধুরী, জনাব সালাহউদ্দিন ইউসুফ, জনাব একে ফয়জুল হক, জনাব শওকত আলী, জনাব আসাদুজ্জামান খান, জনাব কফিল উদ্দিন চৌধুরী, জনাব ওবায়দুল্লাহ মজুমদার, জনাব আবদুল মালেক উকিল ও জনাব মোহাম্মদ খালেদ।
রাজাকার বাহিনী ও শান্তি কমিটি : রাজাকার বাহিনী গঠনের ব্যাপারে বিভিন্ন মহলে বেশ কিছু বিভ্রান্তি রয়েছে বলে আমি মনে করি। কোন কোন মহল থেকে রাজাকার বাহিনী গঠন, তার পরিচালনা এবং এ বাহিনীর অপকর্মের সমস্ত দায়দায়িত্ব জামায়াতে ইসলামী এবং দলটির তৎকালীন আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের ওপর চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে। আমার জানা মতে এবং এটি আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, এ বাহিনী গঠনের সাথে অধ্যাপক গোলাম আযম কিংবা জামায়াতে ইসলামী অথবা অন্য কোন রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা ছিল না। আমার স্পষ্ট মনে আছে এ বাহিনীটি তৎকালীন সামরিক সরকারের উদ্যোগে গঠিত হয়েছিল এবং এ তথ্য তৎকালীন সময়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়ও প্রকাশিত হয়েছিল। এ তথ্য অনুযায়ী তৎকালীন নেত্রকোনা মহকুমার পূর্বধলা থানায় মে মাসের শেষের দিকে ময়মনসিংহ এলাকার সামরিক প্রশাসক লে. কর্নেল মো: সারোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি সভায় সর্বপ্রথম রাজাকার নামে একটি স্বেচ্ছা সেবক বাহিনী গঠনের প্রস্তাব উঠেছিল। এ প্রস্তাবটি লে. কর্নেল সারোয়ারই উত্থাপন করেছিলেন। প্রস্তাবিত রাজাকার বাহিনীর গঠন প্রক্রিয়া এবং দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কেও তিনি এ সভায় বিস্তারিত দিক নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। এ সভাতেই সর্বপ্রথম ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যানদের উদ্যোগে প্রতি ইউনিয়নে ৩০ জন রাজাকার গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এ সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের জন্য ঐ মাসেই মহকুমা প্রশাসক সার্কেল অফিসারদের নির্দেশ প্রদান করেন এবং রাজাকার গঠন পূর্বক তাদের তালিকা তার নিকট প্রেরণের নির্দেশও দান করেন, যাতে করে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যায়। এরই কিছুদিন পর জুলাই মাসে প্রাদেশিক ভিত্তিতে সরকারের তরফ থেকে রাজাকার গঠনের বিস্তারিত দিক নির্দেশনাসহ জেলা প্রশাসকদের নিকট পত্র প্রেরণ করা হয়। ১৭ জুলাই ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তান সরকারের স্বরাষ্ট্র (পুলিশ ও আনসার) দপ্তরের সেকশন-৩ থেকে জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে লিখিত এবং উপসচিব কে এম কায়সার স্বাক্ষরিত একটি পরিপত্রে বলা হয় যে সরকার বেশ কিছু কাল ধরেই প্রশাসনিক প্রয়োজনে ১৯৪৮ সালের আনসার আইন বিলুপ্ত করে তার পরিবর্তে ১৯৭১ সালের রাজাকার অধ্যাদেশ নামক একটি অধ্যাদেশ জারির বিষয় বিবেচনা করে দেখেছেন এবং শিগগিরই এ অধ্যাদেশ জারি করা হবে এতে আরো বলা হয় যে বিদ্যমান আনসার বাহিনীর মধ্য থেকে বাছাই করা কর্মকর্তা কর্মচারীদের দিয়ে রাজাকার বাহিনী পরিচালনা করা হবে। এ পরিপত্র অনুযায়ী সারা দেশে ৩৫,০০০ রাজাকার নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যাপারে সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এতে রাজাকার নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং তাদের চাকরির শর্তাবলী সম্পর্কে যে সব দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল :
১. নিয়োগ যোগ্য রাজাকারদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। প্রশিক্ষণ কালে রাজাকাররা মাথাপিছু দৈনিক ১.৫০ টাকা এবং প্রশিক্ষণ শেষে নিয়োগ প্রাপ্তির পর দৈনিক ৩.০০ টাকা হারে ভাতা পাবে। এছাড়া প্রত্যেক রাজাকার জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল থেকে দৈনিক এক পাউন্ড (প্রায় আধাসের) চাল/গম পাবে। তাদের নিয়োগ প্রাথমিকভাবে ৬ মাসের জন্য হবে।
২. শান্তি কমিটি ও ইউনিয়ন কাউন্সিলের সাথে পরামর্শ করে রাজাকার নিয়োগ করতে হবে। তাদের নিয়োগের মূল মানদণ্ড হবে পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য এবং শারীরিক যোগ্যতা ও সামর্থ্য। জেলার বেসামরিক কর্তৃপক্ষ তাদের সদাচারণের জন্য দায়ী থাকবেন। অবিলম্বে রাজাকার নিয়োগ শুরু করতে হবে এবং অবশ্যই তা জুলাই, ১৯৭১ এর মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
৩. জেলা, সাব সেক্টর ও থানা পর্যায়ে রাজাকারদের প্রশিক্ষণ সামরিক আইন কর্তৃপক্ষের উপর ন্যস্ত থাকবে। ৫০টি ব্যাচে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এ প্রশিক্ষণ হবে ১০ দিনের এবং প্রত্যেক প্রশিক্ষণ টিমে আর্মি/মুজাহিদ, ভলানটিয়ার, স্টাফ/পূর্ব পাকিস্তান সিভিল আর্মড ফোর্স এর নন কমিশন অফিসাররা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। বাহিনী পর্যায়ের সাথে সঙ্গতি রেখে টিমের সংখ্যা ও প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের স্থান নির্ধারণ করা হবে। (চলবে)