কবিরাজ দুলু মিয়া! দেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা জয়পুরহাটের ফুটপাতে নিজস্ব উদ্ভাবনীর ওষুধ বিক্রেতা। স্থানীয় লোকজনদের কাছে হকার হিসাবে পরিচিত হলেও তিনি নিজেই নিজের পরিচয় দিয়ে বলতেন, ‘মিয়া ভাই! কবিরাজ দুলু মিয়া আমার নাম’। তিনি বিভিন্ন চটকদার পদ্ধতিতে লোকজন জমায়েত করে নানা ধরনের ওষুধ বিক্রি করতেন। তিনি তার উদ্ভাবিত ও আবিষ্কৃত ওষুধকে অব্যর্থ ও অদ্বিতীয় বলেই চালাতেন প্রচার-প্রচারণা। মূলত, তার প্রচার-প্রচারণা এবং বিপনন যৌন রোগ কেন্দ্রীক ওষুধ হলেও শিরোপীড়া, উদর পীড়া, শীরো ঘুর্ণন, আমাশয়, কৃমি; একই সাথে মেহ-প্রমেহ, সিফিলিস-গনোরিয়া থেকে শুরু করে নানাবিধ রোগের মহৌষধ বিক্রি করতেন। এমনকি যাবতীয় স্ত্রী রোগের অব্যর্থ ওষুধের আবিষ্কারক ও একমাত্র পরিবেশক ছিলেন তিনি। তিনি বেশ প্রত্যয়ের সাথেই বলতেন, ‘বিফলে মূল্য ফেরৎ’। যা তার মজমার বিশেষ আকর্ষণ।

কবিরাজের জমায়েত কৌশল ছিল নানাবিধ চটুল, হাস্যরসাত্মক ও অশ্লীল-অশালীন কথাবার্তার সমাহার। উঠতি বয়সের তরুণদের আকৃষ্ট করতেই তার এমন মহাকৌশল। বিশেষ করে যাদের বিয়ের বয়স হয়েছে বা হতে চলেছে; এখনো বিয়ে করেন নি, তাদের মধ্যে একটা অনাকাক্সিক্ষত ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টির নানা ধরনের কলা-কৌশল অবলম্বন করেন তিনি। তার বক্তব্য শুনলে যে কেউ মনে করবেন, বিয়ে মানেই হলো একটা যুদ্ধ ক্ষেত্রে পদার্পন; দাম্পত্য জীবন মানেই এক মহাযুদ্ধ। তাকে সারাজীবন যুদ্ধ করেই বাঁচতে হবে। কোন ভাবেই পিছপা হওয়া যাবে না। পরাজিত হওয়ার কোন সুযোগ নেই। যেকোন ভাবেই হোক বিজয়ী হতে হবে। তাহলে তার জীবন সুন্দর, সাবলীল ও সুখময় হয়ে উঠবে।

এছাড়াও বিভিন্ন বয়সী ও রুচীর মানুষদের আকৃষ্ট করতে থাকতো ভিন্নতর আয়োজন। গায়ক ওসমান গনী ও সুধীর চন্দ্র তার গান পরিবেশনের মাধ্যমে জমায়েতকে আনন্দমুখর ও উপভোগ্য করে তুলতেন। বেশ দরাজ কন্ঠ শিল্পিদের। তাই সঙ্গীত প্রিয় মানুষরা আকৃষ্ট হতেন সহজেই। এছাড়াও ওসমান গনী এবং সুধীর চন্দ্র শরীয়ত-মারেফত নিয়ে বাহাস করতেন। যা দুলু মিয়ার জমায়েতের অন্যতম আকর্ষণ। গানের সুর লহরী আর একতারা সহ বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে বাউল শিল্পি ওসমান গনী মারেফতের পক্ষে শরীয়তের বিপক্ষে নিজের পাণ্ডিত্য-ইলম জাহির করতেন। আলেম-উলামা ও ধর্মীয় স্কলারদের নিয়ে করতেন বিষোদগার ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য। তার ভাষায়, এরা কিছু জানেন না; সকল ইলম ও জ্ঞানের মহাসমুদ্র গায়ক ওসমান গনি। একইভাবে শরীয়তের পক্ষে মারেফতের কথিত ভ্রান্তির জবাব দিতেন অন্ধশিল্পি সুধীর চন্দ্র। ওসমান গনি তার সাথে খুব একটা সুবিধা করতে পারতেন না বলেই শ্রোতাদের অভিব্যক্তি। এতে প্রমাণ হয়, অমুসলিম সুধীর বাবু শরীয়তের বড় ধরনের কথিত বিদগ্ধজন ও প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন।

মূলত, গানে গানে; একই সাথে একতারার আর ঢোল-তবলার মোহনীয় ও যাদুকরী আকর্ষণে লোকজন সেখানে জমায়েত হলেও শিল্পিদের ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান ছিলো একেবারে শূণ্যের কোটায়। ‘বিসমিল্লাহ’ ঠিক বলতে পারেন বলে মনে হয় না। মূলত, চটুল, হাস্যকর, অশ্লীল ও বিনোদনমূলক কথাবার্তা এবং আপত্তিকর অঙ্গ-ভঙ্গিই শরীয়ত-মারেফতের রহস্য বলে চালিয়ে দেওয়া হতো। মাঝে মাঝে জলিলুল ক্বদর সাহাবী ও আহলে বায়েতদের নিয়ে নানাবিধ কল্পকাহিনী প্রচার করে সাধারণ মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়। তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান গনি (রা.) এবং খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতেমা (রা.)-এর জারি শুনে বৃদ্ধরা দাড়ি ভিজে ফেলতেন এ ভেবে যে, ধনাঢ্য হযরত ওসমান গনি (রা.) হযরত ফাতেমা (রা.) প্রতি অমানবিক, তাচ্ছিল্য ও অন্যায় আচরণ করেছেন (নাউজুবিল্লাহ)। অথচ বাস্তবতার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। এভাবেই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিকিৎসা নামে অপচিকিৎসার মাধ্যমে মানুষের পকেট কাটা হতো।

এসবের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষ ধরে রাখা এবং সুকৌশলে সরল বিশ্বাসী মানুষদের দুলু মিয়ার আবিষ্কৃত ও পরিবেশিত কথিত ওষুধের প্রতি মানুষকে আকৃষ্ট করা। মূলত, ফুটপাতের ওষুধের প্রতি সকল শ্রেণির মানুষের আস্থা খুবই কম। কিন্তু চটকদার উপস্থাপনার মাধ্যমে এসব হকাররা মানুষের সাথে প্রতারণা করতেন অবলীলায়। দুলু মিয়ার বক্তব্য ছিলো খুবই আকর্ষণীয় ও চমকপ্রদ। তিনি তার বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে বলতেন, ‘বিশ্বাসে বস্তু মেলে তর্কে বহুদূর’। এর মানে হচ্ছে, তার ওষুধের ওপর আস্থা বা বিশ্বাস রাখলে সুফল একেবারে অনিবার্য।

বিশ্বাসে বস্তু মেলে একথা পুরোপুরি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কারণ, ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের মধ্যে প্রধান ও অন্যতম স্তম্ভ হচ্ছে ঈমান বা বিশ্বাস। তবে সে বিশ্বাসের সকল ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয় বরং স্থান-কাল-পাত্রভেদ রয়েছে। এ বিষয়ে একটি চমকপ্রদ ঘটনার কথা উল্লেখ করা যায়।

আমি তখন সেভেনের ছাত্র। মাদরাসায় পড়তাম। প্রতিবেশী আনোয়ারা বেগম আনো নামের এক বয়স্কা মহিলা এসেছিলেন তার লাউ গাছের ফুল ঝরা বন্ধে আমার কাছে পানি পড়া নেওয়ার জন্য। আমি তো একেবারে হতভম্ব। আমি যতটুকু মাদরাসায় পড়াশোনা করেছি এর মধ্যে লাউ গাছে ফুল ঝরা রোধে পানি পড়ার কোন অধ্যায় বা চাপ্টার পাইনি। কোন স্যার-ওসতাদও এ বিষয়ে কোন ধারণা দিয়েছেন বলে জানা নেই আমার। আমার বিব্রত অবস্থা দেখে মা আমাকে ঘরে ডেকে বললেন, ‘বিশ্বাস করে এসেছে। কুরআনের কোন আয়াত পড়ে ফুঁ দিয়ে দাও। আল্লাহ চাইলে উপকার পাবে’। মা’র কথায় আস্থা রাখতে না পারলেও নির্দেশটা ঠিকই পালন করেছিলাম।

বেশ কয়েক দিন পর আনো উচ্চসিত হয়েই জানালেন, পানি পড়া ফলপ্রসূ হয়েছে। তার লাউ গাছের একটা ফুলও নষ্ট হয়নি। এরপর থেকে যেকোন সমস্যা হলেই তিনি আমার কাছ থেকে পানি পড়া নিয়ে যেতেন। যথারীতি কাজও হতো বলে আত্মস্বীকৃতি পেয়েছি আনো বেগমের। তার অনুগামী হয়েছিলেন আরো দু’এক জন। আমি ওদের কাছে পরিণত হয়েছিলাম রীতিমত হুজুর কেবলায়; ঝাড়-ফুঁক ও পানি পড়ার বিশেষজ্ঞ।

শেষ জীবনে কবিরাজ দুলু মিয়া ফুটপাতে কার্যক্রম বন্ধ করে জয়পুরহাট হকার্স মার্কেটে বনাজি ঔষধালয়, প্রোপাইটার-কবিরাজ দুলু মিয়া নাম দিয়ে স্থায়ি কবিরাজী ওষুধের দোকান পরিচালনা করতেন। দোকানে একটা মাইক টাঙিয়ে সারাক্ষণ তিনি তার উৎপাদিত পণ্যের প্রচার-প্রচারণা চালাতেন। বয়সের ভারে নুব্জ হওয়ায় অশ্লীল কথাবার্তা অনেটা কমে এসেছিলো। তবে বাকপটুতা, চটুলতা ও হাস্যরসের কমতি ছিলো না জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত।

জয়পুরহাটে আরো দু’জন বিখ্যাত হকার ছিলেন। এদের একজন আব্দুর রহমান ও জিএম চৌধুরী। প্রথম জন ফুটপাতে দুলু মিয়ার আদলে মজমা দিয়ে শুধুমাত্র যৌন রোগেরই ওষুধ বিক্রি করতেন। উঠতি বয়সের ছেলেদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য তারও কোন জুড়ি ছিলো না। লোকজন ধরে রাখার জন্য অশ্লীলতাকেই মোক্ষম হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করতেন। বিশেষ ব্যবস্থা হিসাবে গায়কদেরও ব্যবস্থা থাকতো। গায়কদের গানের মধ্যেও থাকতো অশ্লীলতার উপাদান। এভাবেই নতুন প্রজন্মকে মোহাবিষ্ট করে বিপনন করা হতো কথিত যৌন রোগের ওষুধ।

দ্বিতীয় জন ছিলেন জিএম চৌধুরী। তার নাম সম্ভবত গোলাম মোস্তফা চৌধুরী। একেবারে ভিআইপি হকার। তিনি কখনো মাটিতে পা রাখতেন না বরং রিক্সার ওপর বসেই প্রচার-প্রচারণা চালাতেন তার আবিষ্কৃত পণ্যের। পোশাক-আশাকে বেশ কেতাদুরস্ত। একেবারে বাবুয়ানা স্টাইলে সার্ট-প্যান্ট-ইন হলেও লম্বা সফেদ দাড়ি আর মাথায় সুন্নতি টুপি। বিক্রি করতেন শুধুই যৌন রোগের ওষুধ। তার বিপননের কৌশলও ছিলে অশ্লীলতা ও চটুল কথাবার্তায় পরিপূর্ণ। মাঝে মঝে রিক্সা থেকেই চিৎকার দিয়ে বলতেন, ‘সিলাজুত পাহাড়ের ঘাম’। এ নামে কোন পাহাড় আছে তা আমি কোন কিতাবে পাইনি। প্রথম শুনেছি জিএম চৌধুরীর মুখেই। যাহোক, সিলাজুত পাহাড়ের ঘাম নাকি যৌন রোগের অব্যর্থ ও অদ্বিতীয় ওষুধ সে কথায় তিনি তার বাককৌশলে ও চাতুরতায় মানুষের কাছে প্রচার করতেন।

মূলত, শিলাজিৎ (Shilajit) হলো একটি প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত খনিজ রজন (Mineral resin), যা হিমালয় ও হিন্দুকুশ পর্বতমালার পাথরের ফাটল থেকে হাজার বছর ধরে পচে যাওয়া উদ্ভিদ ও জৈব পদার্থ থেকে তৈরি হয়। এটি মূলত আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভেষজ বা সম্পূরক হিসেবে পরিচিত। এটি শরীরের ক্লান্তি দূর করে এনার্জি ও স্ট্যামিনা বাড়াতে সাহায্য করে। শিলাজিৎ প্রাকৃতিক টেস্টোস্টেরন বুস্টার হিসেবে কাজ করে, উর্বরতা বৃদ্ধি করে এবং লিবিডো বা যৌন আকাক্সক্ষা বাড়াতে সাহায্য করে। একই সাথে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ বৃদ্ধি এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এতে ফুলভিক অ্যাসিড (Fulvicacid) এবং খনিজ পদার্থ থাকে, যা শরীরের পুষ্টি শোষণ ক্ষমতা বাড়ায়। এটি হার্টের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে এবং পেশী তৈরিতেও সাহায্য করে। অথচ ওষুধ বিক্রেতা এ খনিজ পদার্থকে পাহাড় বানিয়ে বোকা মানুষকে রীতিমত ধোঁকা দিয়ে গেছেন। সারাজীবন। তার বিপননকৃত ওষুধের মধ্যে সিলাজিতের কোন উপাদান আছে বলে মনে করার কোন কারণ নেই।

জীবনে যত হকার দেখেছি; যারা ওষুধ বিক্রি করেন তারা সকলের ধ্যান-জ্ঞানই যৌনরোগ। এরা প্রত্যেকেই বলতে চান যে, তাদের মত চিকিৎসক বা কবিরাজের আবির্ভাব না হলে সভ্যতায় এতোদিনে মাটির সাথে মিশে যেতো; শেষ রক্ষা হতো না সৃষ্টিকূলের। এসব হকাররা উঠতি বয়সের ছেলেদের একথায় বোঝানোর চেষ্টা করতেন যে, বিয়ে করা মানেই হচ্ছে গজমতি হাতি বা মানবীরূপী রাক্ষসী কেনা। আর এ সর্বভূক রাক্ষসীর উদরপূর্তির জন্য কলাগাছ থেকে শুরু করে সকল প্রকার ফলদ, বনজ, ওষুধী, অপুষ্পক ও সপুষ্পক সহ নানা প্রকার গুল্মলতা একেবারে অপরিহার্য। ব্যর্থতায় তাকে কোন ভাবেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে না। অথচ নরনারীর দাম্পত্য সম্পর্কের ভিত্তিটা প্রীতি, ভালাবাসা, পারস্পরিক বোঝাপড়া, বিশ্বাস ও আস্থার ওপরই সুপ্রতিষ্ঠিত। আমরা দেখেছি স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বিধবা হওয়ার পর স্বামীর স্মৃতি ধারণ করেই সারাটা জীবন কাটিয়ে দিতে। আর ঘটনা খুবই ব্যতিক্রমী নয়। নবাব সিরাজের স্ত্রী লুৎফুন্নিসা জীবনের শেষ ত্রিশ বছর খোশবাগে স্বামীর কবরেই কাটিয়ে দিয়েছেন। মোঘল প্রিন্সেস জাহানারা ও জেবুন্নেসা ছিলেন চিরকুমারী।

ফুটপাত যেসব পণ্য বিক্রি হয়, তা প্রায় ক্ষেত্রেই হয় নিম্নমানের। কিন্তু ওষুধ হয় পুরোপুরি মানহীন। প্রায় ক্ষেত্রেই কিছু কেমিক্যালের ব্যবহার করা হয়; যেগুলো রোগ সারাতে মোটেই সহায়ক নয় বরং ক্ষেত্র বিশেষে মারাত্মকভাবেই ক্ষতিকর। হকারদের সাথে অন্তরঙ্গ কথা-বার্তায় এসব অভিযোগের আত্মস্বীকৃতিও পাওয়া যায়। এ বিষয়ে একটা ঘটনার অবতারণা করলে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে যাবে।

একদিন ফুটপাতে ঘা-এর ওষুধ বিক্রি করছিলেন একজন হকার। তিনি ক্ষতস্থানে ওষুধ লাগিয়ে বুদ বুদ সৃষ্টি করে দাবি করছিলেন তার ওষুধ তাৎক্ষণিকভাবেই ক্রিয়াশীল। কিন্তু হকারের ব্যাগের কাছে দেখা গেলো এক বিশাল আকারের হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের বোতল। মূলত, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড হলো পানির সাথে একটি অতিরিক্ত অক্সিজেন অণু যুক্ত হয়ে গঠিত অত্যন্ত শক্তিশালী একটি রাসায়নিক যৌগ। এটি ক্ষতস্থানে বা ময়লার সংস্পর্শে এলে এটি অক্সিজেন ও পানিতে ভেঙে যায়, যা বুদবুদ বা ফেনার সৃষ্টি করে ময়লা ও মৃত কোষ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। বস্তুত, এ যৌগ কোন রোগ সারাতে সক্ষম নয় বরং ক্ষতস্থান পরিস্কার করতে সহায়ক।

মানুষের সাথে হকারদের প্রতারণা একেবারে নতুন কিছু নয় বরং সে আবহমানকাল থেকে চলে আসা আমাদের সমাজের এক দুষ্টক্ষত। বিষয়টি নিয়ে কারো তেমন কোন দ্বিমত না থাকলেও ব্যাপকভিত্তিক গণসচেতনতার অভাবেই এরা মানুষের সাথে প্রতিনিয়ত প্রতারণা করার সুযোগ পাচ্ছেন। এ বিষয়ে মূল ধারার গণমাধ্যম সহ সামাজিক মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা রয়েছে। এমনকি এ বিষয় নিয়ে ‘৯০-এর দশকে ‘দায়ি কে ?’ শিরোনামে একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। চলচ্চিত্রে ‘ডাক্তার কমদ আলী (ডিগ্রি নাই)’ চরিত্রের মাধ্যমে কাহিনীকার হকারদের জীবনযাত্রা ও মানুষের সাথে প্রতারণার বিষয়টি দর্শকদের কাছে প্রাণবন্ত করে উপস্থাপন করতে সক্ষম হন। কিন্তু কথিত যৌন চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা এখনো বন্ধ হয়নি।

এসব হকাররা অতি দরিদ্র শ্রেণির মানুষ। এরা সরাসরি চুরি-ডাকাতি না করে মানুষ ঠকিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে একবিংশ শতাব্দীতে এসে এ ব্যবসা আর এদের একেচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে নেই বরং ভাগ বসিয়েছেন একশ্রেণির ভিআইপি। যাদের কোন অভাব-অভিযোগ নেই। এরাই এখন যৌন রোগের ওষুধের ব্যবসা রীতিমত জমজমাট করে তুলেছেন। এ ব্যবসার সাথে যুক্ত হয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণির উচ্চবিত্তের পোশাজীবিরা। এদের মধ্যে রয়েছেন একশ্রেণির প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক, পুষ্টিবিদ; এমনকি স্কলাররাও; যাদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে সুনাম ও সুখ্যাতি রয়েছে। একই সাথে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশায় প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরাও। তারা নিজেদের প্রভাব-প্রতিপত্তি ও সামাজিক মর্যাদার অপব্যবহার করে চালিয়ে যাচ্ছেন অনৈতিক ব্যবসা। তাদের প্রচার-প্রচারণায় ঠিক হকারদের মতই চটুল, মনোরঞ্জিকা, অসামাজিক, শ্রবণ অযোগ্য ও অশ্লীল কথাবার্তা বলে যাচ্ছেন অবলীলায়। মানহীন পণ্য বাজারজাত করার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধেও। সকল কিছু দিয়ে উদরপূর্তিতে ব্যর্থ হয়ে তারা এখন রীতিমত দুলু মিয়া, আব্দুর রহমান ও জিএম চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

www.syedmasud.com