অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা সম্প্রতি রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য উপস্থাপনকালে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখিকরণের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য মূলত কয়েকটি পণ্যের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে তৈরি পোশাক সামগ্রী রপ্তানি করে আসছে মোট রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশের মতো। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সুযোগ কাজে লাগাতে হলে রপ্তানি পণ্যের ভিন্নমুখিতার কোন বিকল্প নেই। বাণিজ্য উপদেষ্টা নিশ্চিতভাবেই একটি জটিল সমস্যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি রপ্তানি পণ্য তালিকা ভিন্নমুখিকরণের ক্ষেত্রে ‘ভিয়েতনাম মডেল’ অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন। বাণিজ্য উপদেষ্টা নিজেও দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী। কাজেই তিনি যে মন্তব্য করেছেন তা নিজস্ব অভিজ্ঞতার আলোকেই করেছেন। কিন্তু ভিয়েতনাম মডেল বলতে তিনি কি বুঝিয়েছেন তা স্পষ্ট করে বললে ভালো হতো। বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনাম প্রায় একই সময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ভিয়েতনামকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। তারা প্রায় ১০ বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দখলদার বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করে স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে এনেছেন। বাংলাদেশও স্বাধীনতার জন্য প্রচুর রক্ত দিয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার ভিয়েতনাম অল্প দিনের মধ্যেই উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সামিল হলেও আমরা তা পারিনি।
স্বাধীনতার পর ভিয়েতনাম যোগ্য নেতৃত্বের কারণে অল্প দিনের মধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় একটি দেশ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। আর বাংলাদেশ ‘তলবিহীন ঝুঁড়ি’র খেতাব লাভ করেছিল। স্বাধীনতার পর ধ্বংসপ্রায় দেশের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়নের জন্য জাতীয় সরকার গঠন করাটাই ছিল উত্তম। কিন্তু তা না করে আওয়ামী লীগ এককভাবে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে নেয়। উল্লেখ্য, ১৯৭০ সালের সংসদ নির্বাচনে যারা বিজয়ী হয়েছিলেন তারা ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য। কাজেই তাদের দিয়ে বাংলাদেশ পরিচালনা করা ঠিক একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। ক্ষমতারোহন করেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ব্যাপক মাত্রায় লুটপাট শুরু করে। এ অবস্থায় ১৯৭৪ সালে সংঘটিত হয় ইতিহাসের নির্মমতম দুর্ভিক্ষ। সে দুর্ভিক্ষে লাখ লাখ মানুষ মারা যায়। পরবর্তীতে অর্থনীতিবিদগণ গবেষণা করে দেখিয়েছেন ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের পেছনে খাদ্যভাব যতটা না দায়ী ছিল তার চেয়ে বেশি দায়ী ছিল এক শ্রেণির নেতা-কর্মীর ব্যাপক মাত্রায় লুটপাট। স্বাধীনতা অর্জনের প্রথম দশকেই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সরকারের সে দিকে কোনো দৃষ্টি ছিল না।
বিশেষ করে স্বাধীনতার পরপরই আমাদের রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং এ খাত থেকে জাতীয় অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজন বৃদ্ধির প্রতি গুরুত্ব দেয়া উচিৎ ছিল। পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি ছিল পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি। কিন্তু স্বাধীনতার পর পাট শিল্পকে ধ্বংস করে দেয়া হয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের শিকার হয় আমাদের পাট শিল্প। কোন পণ্যই বিকল্পবিহীন নয়। এক সময় না এক সময় পণ্যের বিকল্প উদ্ভাবিত হয়। বাংলাদেশের পাট শিল্পে বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ বাংলাদেশ মূলত কাঁচা পাট রপ্তানি করতো। সে সময় আমরা যদি নতুন নতুন পাটজাত পণ্য উদ্ভাবন ও রপ্তানি করতে পারতাম তাহলে এ শিল্পে এমন বিপর্যয় সৃষ্টির আশঙ্কা থাকতো না। এক সময় আন্তর্জাতিক বাজারে পাটজাত পণ্যের বিকল্প পণ্য এসে উপস্থিত হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে পাট শিল্প বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়। পরবর্তীতে আশির দশকের শুরুতে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানি শুরু করে। তৈরি পোশাক নিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারে বেশ ভালো অবস্থানে চলে যায়। আমরা তৈরি পোশাক শিল্প নিয়ে গর্ব করি। অনেকেই মনে করেন, বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পের বিস্ময়কর বিকাশের পেছনে রয়েছে সস্তা শ্রমিকের ব্যাপক উপস্থিতি। বাংলাদেশে অত্যন্ত স্বল্প মজুরিতে তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য নারী শ্রমিক পাওয়া যায়। মূলত এ কারণেই তৈরি পোশাক এতটা বিকশিত হয়েছে। এই ধারণা মোটেও ঠিক নয়। কারণ বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে যেসব নারী শ্রমিক কাজ করেন তাদের অধিকাংশই অদক্ষ এবং অপ্রশিক্ষিত শ্রমিক। অদক্ষ এবং অপ্রশিক্ষিত শ্রমিকের মজুরি কম হবে এটাই সঙ্গত।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বিকশিত হবার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেয়া জিএসপি সুবিধা (জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া কোটা সুবিধা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১৯৭৬ সাল থেকে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে জিএসপি সুবিধা দিয়ে আসছে। তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের কোন পণ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৭টি দেশে রপ্তানিকালে কোন শুল্ক প্রদান করতে হয় না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশকে কোটা সুবিধা দিয়ে আসছিল। কোটা সুবিধার আওতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বাংলাদেশি পণ্য ক্রয় করতো। বাংলাদেশ মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নেরর দেয়া জিএসপি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোটা সুবিধা ব্যবহার করেই রপ্তানি বাণিজ্যে ইতিবাচক সাফল্য অর্জন করেছে। অনেক দিন ধরেই বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি পণ্য রপ্তানি করে চলেছে। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এই দু’টি অঞ্চলের সঙ্গে উদ্বৃত্ত রয়েছে। অর্থাৎ যে পরিমাণ পণ্য বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে তার চেয়ে কম পরিমাণ পণ্য আমদানি করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশকে দেয়া কোটা সুবিধা বাতিল করে। পরবর্তীতে সীমিত পরিসরে জিএসপি সুবিধা দিয়েছিল। এক পর্যায়ে তা স্থগিত করা হয়। বাংলাদেশ আগামী বছর থেকে উন্নয়নশীল দেশের চূড়ান্ত তালিকায় উত্তীর্ণ হবার পর জিএসপি সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, তারা বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের চূড়ান্ত তালিকায় উত্তীর্ণ হবার পর আরো তিন বছর অর্থাৎ ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশকে জিএসপি সুবিধা প্রদান করবে। তারপর তারা জিএসপি+ নামে নতুন এক ধরনের বাণিজ্য সুবিধা প্রদান করবে। কিন্তু জিএসপি+ সুবিধা পাবার জন্য যেসব শর্ত পরিপালন করতে হবে বাংলাদেশের পক্ষে তা সম্ভব হবে না। অর্থাৎ ২০২৯ সালে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেয়া জিএসপি সুবিধা হারাবে। তখন ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৭টি দেশে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির জন্য ন্যূনতম ১২ শতাংশ করে ট্যাক্স দিতে হবে। উন্মুক্ত প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্য কতটা টিকতে পারবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। একটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশ ২০২৬ সালে উন্নয়নশীল দেশের চূড়ান্ত তালিকায় উত্তীর্ণ হবার পর প্রতি বছর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অন্তত ৭ থেকে ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হারাবে।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সঠিক পরিকল্পনার উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে না। বাংলাদেশ অন্তত ১৭৫ ধরনের পণ্য রপ্তানি করে থাকে। এর মধ্যে তৈরি পোশাক থেকে আসে মোট রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশ। কিন্তু তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হচ্ছে তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য এবং ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানির মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করতে হয়। ফলে তৈরি পোশাক রপ্তানি করে প্রতি বছর যে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয় তার অন্তত ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য ও ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানি বাবদ পুনরায় বিদেশে চলে যাচ্ছে। ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে এ খাতের মূল্য সংযোজনের হার তুলনামূলকভাবে কম। বাংলাদেশ যদি সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় কাঁচামাল নির্ভর পণ্য রপ্তানি বাড়াতে পারতো তাহলে রপ্তানি আয় এবং জাতীয় অর্থনীতিতে এই খাতের মূল্য সংযোজনের হার অনেকটাই বাড়ানো সম্ভব হতো। পাট, চা, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের মতো আরো অনেক পণ্য আছে যা শতভাগ স্থানীয় কাঁচামাল নির্ভর। এসব পণ্য রপ্তানি বাড়াতে পারলে আমাদের রপ্তানি আয় অনেকটাই বৃদ্ধি পেতো।
বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের আর একটি বড় ধরনের দুর্বলতা হচ্ছে যেসব দেশ থেকে আমরা অধিক পরিমাণে পণ্য আমদানি করি সেসব দেশে আমাদের পণ্য রপ্তানি হয় খুবই কম। যেমন, বাংলাদেশ চীন এবং ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ পণ্য আমদানি করে কিন্তু এ’দুটি দেশের বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির পরিমাণ খুবই কম। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করলেও এ’দুটি অঞ্চল থেকে বাংলাদেশ খুব কম পরিমাণ পণ্য আমদানি করে। বাংলাদেশ ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৭টি দেশে মোট ২২ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অনুকূলে উদ্বৃত্ত ছিল ১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ৯৪ শতাংশ জুড়ে ছিল তৈরি পোশাক। বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৩৬তম বাণিজ্যিক অংশীদার। ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের মোট আমদানি পণ্যের শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বাংলাদেশ থেকে নিযে থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একই সময়ে বাংলাদেশ মোট ১২ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। একই সময়ে বাংলাদেশ-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে আমাদের অনুকূলে বাণিজ্যিক উদ্বৃত্ত ছিল ৬ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অন্য দিকে চীন থেকে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পরিমাণ পণ্য আমদানি করলেও চীনে আমাদের পণ্য রপ্তানির পরিমাণ খুবই কম। ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে বাংলাদেশ মাত্র ১১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য চীনে রপ্তানি করতে সমর্থ হয়েছে। ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির পরিমাণ আরো কম।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে রপ্তানি পণ্য তালিকায় ভিন্নতা আনায়ন করা। একই ধরনের পণ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘ দিন টিকে থাকা সম্ভব নয়। বৈচিত্র্যময় কিন্তু মানসম্পন্ন পণ্য যদি তুলনামূলক স্বল্প মূল্যে বিশ্ববাজারে পৌঁছানো যায় তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভালো করা সম্ভব। একই সঙ্গে আরো একটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাহলো, যাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য করা হবে সেসব দেশ বাংলাদেশের মতো একই ধরনের পণ্য রপ্তানি করে তাহলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জমবে না। যেমন বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য তালিকায় তৈরি পোশাক সবার শীর্ষে রয়েছে। চীনও তৈরি পোশাক রপ্তানি করে। চীন অনেক দিন ধরেই তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশ্ব এক নাম্বার অবস্থানে রয়েছে। এক্ষেত্রে চাইলেই চীন এবং বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানো সম্ভব হবে না। কোন দেশের বাজারে নতুন পণ্য নিয়ে দৃঢ় অবস্থান সৃষ্টি করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যটির চাহিদা সৃষ্টি করতে হবে।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত হচ্ছে রপ্তানি আয়। কিন্তু সে রপ্তানি খাতটি এখনো সুষ্ঠু পরিকল্পনার উপর গড়ে উঠেনি। বাণিজ্য উপদেষ্টা রপ্তানি পণ্যের ভিন্নমুখিতা আনার পরামর্শ দিয়েছেন। এটি অত্যন্ত যৌক্তিক পরামর্শ। কিন্তু পরামর্শ বাস্তবায়ন করবে কে? বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কি এ ব্যাপারে কোন কিছু চিন্তাÑভাবনা করছে?
লেখক : সাবেক ব্যাংকার।