আজ ১২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। দেশে ১২ কোটি বা তার বেশি ভোটার থাকবেন। তারা তাদের প্রজাতন্ত্রী ক্ষমতা ব্যবহার করে ভোট দেবেন। তারপর তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। এর মাধ্যমে দেশ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ও সমৃদ্ধ জাতিতে পরিণত হবে। আমরা বলি যে এই নির্বাচন একটি ঐক্যবদ্ধ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। ঐক্য ও সমৃদ্ধির পথের দিকে তাকালে, আমরা অতীতে অনেক নির্বাচন দেখেছি। ২০০৮ সালের পর যে নির্বাচনগুলো হয়েছে, তাদের জনগণের ক্ষমতার প্রতিফলন ছিল না। আক্ষরিক অর্থে সেগুলো ভোটই ছিল না।

ফলশ্রুতিতে যে সরকার গঠন করা হয় সেগুলো হয়ে ছিল অনেকটাই পরনির্ভরশীল এবং গত ১৫ বছর অনেকগুলো নির্বাচন আমরা দেখেছি কোনটা রাতের ভোটের নির্বাচন কোনটা অন্যান্য বিভিন্ন মেকানিজমের নির্বাচন এবং বলাই বাহুল্য যে এগুলোতে বিদেশীদের প্রভাব ছিল।

আমরা দেখেছি যে বিনা সিক্রির প্রভাবে কিভাবে এরশাদকে হাসপাতালে রাখার নাটক সাজিয়ে তারপর তাকে নির্দেশ দিয়ে আমাদের প্রতিবেশী একটা রাষ্ট্রের ইচ্ছার যে সরকার গঠিত হয়। তারাই ১৫ বছর দেশটা সে দিকে নিয়েছে। তার ফলশ্রুতিতে একটা স্বৈরতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী সরকার ছিল সুদীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে। সেখানে হত্যা লুটতরাজ, মানি লন্ডারিং হয়েছে। লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে।

তাই জনগণ ওই ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী সরকারকে হটিয়ে যখন এই নতুন অন্তর্বর্তীকালীন ডক্টর ইউনুসের সরকারকে ক্ষমতায় আনে এবং তার মাধ্যমে আজকে দেড় বছর পরে এই নির্বাচন হতে চলেছে। আশা করা যাচ্ছে এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা একটা সুষ্ঠু সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশ পাব এ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয় যা আমরা আশা করি।

যে সরকার আসবে তা জনগণের সরকার হিসেবেই পরিগণিত হতে পারবে এবং জনগণের আশা আকাক্সক্ষা প্রতিফলন ঘটাতে পারবে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে অক্ষুন্ন রাখতে পারবে এবং দেশের অর্থনৈতিক সামাজিক রাজনৈতিক অগ্রগতি সাধনে সারা জাতিকে নিয়ে একটা সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারবে।

সুতরাং এই নির্বাচন জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশ স্বাধীন সার্বভৌম জনগণের একটা দেশ একটা সরকার থাকবে কিনা এই দেশের কপালে গোলামির জিঞ্জির গলায় থাকবে কিনা সেটাই নির্ধারিত হবে আজকের নির্বাচনের উপর।

এখন পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে ছোটখাটো কিছু ঘটনা ছাড়া দেশের সবার মধ্যে একটা উৎসবের পরিবেশ আছে। কিন্তু একই সাথে চারপাশে একটা আশঙ্কা বিরাজ করছে।

সুতরাং এই নির্বাচন সুষ্ঠু সুন্দর নিরপেক্ষভাবে যদি অনুষ্ঠিত হয়। তবে ইউনুস সরকার অর্থাৎ বর্তমানের যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তারা বাংলাদেশের ইতিহাসে স্থান করে নেবে একটা নিরপেক্ষ এবং দেশপ্রেমিক সরকার হিসেবে।

যদি কোন কারণে আর এই নির্বাচন কলঙ্কিত হয়, প্রশ্নবিদ্ধ হয় এবং যদি সরকারের অথবা বহিঃশক্তির কোন ইঙ্গিতে কোন ধরনের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ভোট হয় তবে সেই কলঙ্কজনক অধ্যায়ের জন্য ইতিহাসে তারা চিহ্নিত হয়ে থাকবে। সুতরাং দেশের প্রশাসন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো এবং সর্বোপরি সরকারের সদিচ্ছা জনগণের দৃঢ় প্রত্যয় এবং সজাগ দৃষ্টিতে তারা যেকোনো ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে দিয়ে একটা জাতির জন্য কাক্সিক্ষত সুষ্ঠু নিরপেক্ষ অংশগ্রহণমূলক এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আয়োজন করবে। আজ জাতি অনেক অধীর অপেক্ষায় অপেক্ষমান।

আমরা সবাই আশা করছি সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করবে। যে কোন মূল্যে আজকের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক দলগুলি জনগণের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হবে এবং সর্বোপরি জনগণকে সম্মান করা হবে এবং তাদের দায়িত্ব পালন করবে। আমরা আশা করি, জনগণ সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সতর্ক থাকবে।

যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র যেকোনো ধরনের এই অন্যায় এবং চক্রান্তকে নস্যাত করে দিতে যেন চোখ কান খোলা রাখেন। বিদেশীরা এই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছেন, অধিক প্রতিক্ষায় এবং তারা প্রস্তুতিমূলক তার আগের দিনগুলোতে মাসগুলোতে দেখেছি, সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তারা চাইবে বাংলাদেশের জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। যে সরকার অফ দ্যা পিপল বাই দ্যা পিপল ফর দ্যা কান্ট্রি হয়। এরকম একটা নির্বাচন হবে তার মাধ্যমে যে সরকার হবে সেটাও প্রকৃত জনগণের সরকার হবে, দেশপ্রেমিক সরকার হবে এবং তারা যে সরকার গঠন করবে আগামী পাঁচ বছরে দেশে যে অনেক ক্ষত সৃষ্টি হয়ে সেগুলো উপসমের জন্য কাজ করবে জাতিকে নিয়ে।

আমরা আশান্বিত সুন্দর গণতান্ত্রিক শৃঙ্খলাপূর্ণ একটা নির্বাচনের জন্য। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করছি এই নির্বাচন যেন সফল হয়। এবং জাতি যেন সন্তুষ্ট হয় একটা এরকম সুন্দর সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন যাতে জাতি দেখতে পায়।

ভিসি

মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি