ইবনে হাসান
সাম্প্রতিক বিশ্ব এক বিভীষিকাময় অবস্থার মধ্যদিয়ে চলছে। যাকে কেবল জাহেলী যুগের সাথে তুলনা করা চলে। বর্তমান সভ্যতা আধুনিক সভ্যতা বলেই খ্যাত। আধুনিকও বটেই। কারণ জ্ঞান বিজ্ঞান প্রযুক্তির এতটা উৎকর্ষ সাধিত হয়েছে যে সব কিছুই চমকপ্রদ ও অবাক করার মত। শিল্প-সাহিত্য, শিক্ষা চিকিৎসা যোগাযোগ, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি সবকিছুই এত অগ্রগতি লাভ করেছে যে, কয়েক বছর আগেও মানুষ এটা ভাবতে পারেনি। এত উন্নয়ন ও অগ্রগতির পরও মানুষ মানুষ হতে পারেনি। বরং মনে হয় যেন বর্বর যুগেই ফিরে গেছে। ইতিহাসে আমরা দেখি যখন সভ্যতার বিকাশ ঘটেনি তখন মানুষ আর পশুর মধ্যে তফাৎ ছিল না। ছিল হিংসা বিদ্বেষ হানাহানি মারামারি। জংলী আইনের ভয়াবহ চর্চ্চাহত। বেঁচে থাকার লড়াইয়ে একে অন্যের ওপর হিংস্র হায়েনার মত ঝাপিয়ে পড়ত। অবলিলায় একে অন্যকে নির্মম-নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে তার গোশত চিবিয়ে খেত, রক্ত পান করত। জোর যার মুল্লুক তার এ অলিখিত বিধানই প্রতিষ্ঠিত ছিল। স্নেহ মায়ামমতা ভালবাসা সহমর্মিতা সৌহার্দ্য সম্প্রীতি বলে কিছু ছিল না। প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ ও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই সংগ্রামে বেঁচে থাকার তাগিদে প্রতিনিয়ত তাদের ব্যতি ব্যস্ত থাকতে হত।
এখনকার বাস্তবতা কী? দুনিয়াব্যাপী মানুষে মানুষের দেশে দেশে সংঘাত সংঘর্ষ এক ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। প্রাচীনকালের লাঠিসোটা পাথর বা লোহার তৈরি ভোতা অস্ত্রশস্ত্রই ছিলো যুদ্ধের প্রধান হাতিয়ার। কিন্তু এখনকার আবিষ্কৃত অস্ত্রশস্ত্র ভয়াবহ ভয়ংকর। পরমাণু অস্ত্র থেকে শুরু করে আবিষ্কৃত সব মারাণাস্ত্র গোটা পৃথিবীকেই ধ্বংসের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে ভুলক্রমে একটি বাটনে। টিপ লাগলে মুহূতেই ঘটে যাবে প্রলয় কাণ্ড। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আণবিক বোমার ধ্বংসলিলার বিভৎস রূপ প্রত্যক্ষ করেছে বিশ্ব। বৃহৎ শক্তিগুলো সাম্রাজ্যবাদী লিপ্সা ও আধিপত্য বিস্তারের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। ১ম ও ২য় যুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসলীলা ও জানমালের অপূরণীয় ক্ষতি প্রত্যক্ষ করার পরও তারা নিবৃত্ত হচ্ছে না। পরস্পরের বিরুদ্ধে অস্ত্র প্রতিযোগিতা প্রকট রূপ ধারণ করেছে। ফলে এমন সব অস্ত্রশস্ত্র আবিষ্কার হচ্ছে যা মুহূর্তের মধ্যে পৃথিবীটাকে তামা করে দিতে পারে। পরমাণু শক্তিধর দেশগুলো কেউ কারো তোয়াক্কা করছে না। স্বীয় প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার নেশায় উন্মত্ত। এদের সামরিক খাতে ব্যয় বরাদ্দ পিলাই চমকে দেয়ার মত। এ খাতের বাজেট বরাদ্দ দিয়ে পৃথিবীটাকে সুন্দর করে সাজানো যেত। শান্তি সুখের নীড় রচনা করা যেত। পরিবর্তে পৃথিবীটাকে সমূলে ধ্বংস করার যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন করা হচ্ছে। অস্ত্র প্রতিযোগিতার সাথে পুরো দমে চলছে অস্ত্র ব্যবসা প্রাধান্য বিস্তার ও জাতীয় স্বার্থের কথা বলে ছোট বড় অন্যান্য দেশগুলোও অস্ত্র কেনা ও মওজুদের প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। ফলে কারণে অকারণে দেশে দেশে লড়াই যুদ্ধ সংঘাত সংঘর্ষ লেগেই আছে। এতে শক্তিধর দেশগুলো অস্ত্র বিক্রি করে কেবল লাভবানই হচ্ছে না, তাদের অস্ত্রের ক্ষমতা ও কার্যকারিতাও পরীক্ষা হচ্ছে। লাভবান হচ্ছে দু’দিক থেকেই।
রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে আমরা তার নজির দেখতে পাচ্ছি। রাশিয়া উদ্ভাবিত নব নব সমরাস্ত্র ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। অপরদিকে আমেরিকা ইউক্রেনকে দেদারসে তার তৈরি অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করছে। এ যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় অঘোরে প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে সম্পদের যুদ্ধ চলছেত চলছেই, থামার কোন লক্ষণ নেই। আসলে যুদ্ধকে জিইয়ে রাখা হচ্ছে। যুদ্ধের উস্কানিদাতারাত যুদ্ধ বন্ধ হোক, চায় না। কারণ তাহলে অস্ত্র ব্যবসা চলবে না, মোড়লগিরি স্থায়ী হবে না। যুদ্ধ যতদিন চলবে তাতেই লাভ। বন্ধের কিছু তর্জন গর্জন বা আস্ফালন দেখা গেছেও বাস্তবে কোন প্রতিফলন নেই। কবে এ যুদ্ধ বন্ধ হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই।
বিশ্বে আর একটি উত্তপ্ত স্পট মধ্যপ্রাচ্য। নানামুখী সংঘাত সংঘর্ষে ক্ষতবিক্ষত এ অঞ্চলটি। দীর্ঘকাল ধরেই এখানে অশান্তির আগুন দাউ দাউ করে জ¦লছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিস্ফোরা ইসরাইল। বৃহৎ শক্তিবর্গ দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর ফিলিস্তিনী ভূখন্ডে ইসরাইল নামক এ অবৈধ রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠা করে। আমেরিকা তথা পাশ্চাত্যের অকৃপণ মদদের ফলে ফেঁপে এক দুর্নিবার শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ইসরাইলের কুৎসীত দণ্ড নখরের থাবায় গোটা মধ্যপ্রাচ্য আজ যেন জাহান্নামের খাদ্যে পরিণত হয়েছে। সারাবিশ্ব থেকে ইহুদীদের ধরে এনে ইসরাইলে পুনর্বাসিত করা হয়। ফিলিস্তিনীদের জায়গা-জমি দখল করে একের পর এক ইহুদী বসতি গড়ে তোলা হয়। লাখ লাখ ফিলিস্তিনী উদ্বাস্তু হয়ে আশেপাশের দেশগুলোতে ও আশ্রয় শিবিরে। সহায় সম্বল স্বাধীনতা হারিয়ে তার বেঁচে আছে মৃত্যু যন্ত্রণা নিয়ে। নিজ ভূখণ্ডেই আজ ফিলিস্তিনীরা পরবাসী। এখানেই শেষ নয়। ফিলিস্তিনীদের ওপর অত্যাচারের স্টীম রোলার চালায় ইহুদী ইসরাইল। হত্যা ধর্ষণ অপহরণ জেল-জুলুম এটাই যেন ফিলিস্তিনীদের ভাগ্য লিপি। গাজা ও পশ্চিম তীরের যে জায়গাটুকু আছে তার প্রতিও ইসরাইলের শকুনী দৃষ্টি। এটাও তারা কবজা করতে উদ্ব্যত। তাই গাজা ভূখন্ড কব্জায় নিতে যুদ্ধ চাপিয়ে দেয় স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনীদের ওপর।
ফিলিস্তিনীরা ইসলামী সংগঠন হামাসের নেতৃত্বে শক্তিধর ইসরাইলী আগ্রাসন বীরবিক্রমে প্রতিহত করে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়। আমেরিকা ও তার দোসরদের অব্যাহত মদদ সত্ত্বেও ফিলিস্তিনীদের পরাভূত করতে পারেনি ইসরাইল। তবে নির্বিচারে বোমাবর্ষণ করে ফিলিস্তিনীদের ঘরবাড়ি, স্কুল-কলেজ, মসজিদ সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। গোটা গাজাকে মনে হয় ভয়াবহ ভূমিকম্পের তাণ্ডবলিলার প্রতিচ্ছবি। ঘরবাড়িসহ আশ্রয় হারিয়ে লাখ লাখ ফিলিস্তিনী এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। ইসরাইলী সেনাদের হাতে প্রাণ হারিয়েছে লাখ লাখ নারী-শিশু, আবাল বৃদ্ধ বণিতা। ফিলিস্তিনী ইস্পাত কঠিন প্রতিরোধের মুখে ইসরাইল শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছে। তবে গোটা গাজা অঞ্চলে মানবতার যে বিপর্যয় ঘটেছে বিশ্ব কোনোদিন তা প্রত্যক্ষা করেছে কিনা বলা মুশকিল। খাদ্য, পানি, ওষুধসহ জীবনধারণের কোনো সামগ্রী নেই। ধুঁকে ধুঁকে মরছে গাজার অভুক্ত অসুস্থ সহায়সম্বলহীন বিপন্ন মানুষ। যৎসামান্য ত্রাণে তাদের জীবন চলছে না এটাতো উত্তপ্ত কড়াইয়ে এক ফোঁটা পানি ছিটার মতো। এখ যুদ্ধবিরতি চলছে, তবে এটা কতদিন টিকবে তা নিশ্চিত নয়। কারণ উদ্ধত ইসরাইল কারো কোনো পরোয়া করে না। বিশ্বে এতগুলো মুসলিম রাষ্ট্র থাকা সত্ত্বেও বিপন্ন ফিলিস্তিনীদের সাহায্যে তেমনভাবে কেউ এগিয়ে আসেনি। কেউ কেউ মৌখিক সমর্থন ও সহানুভূতি জানিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছে। এমন ভয়াবহ বিপদের সময় তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে কেবল তুরস্ক, ইরান, হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুথিরা। এখন তো ফিলিস্তিন পুনর্গঠনের সময়। এ সময় অন্তত মুসলিম বিশ্ব সমস্ত সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে ফিলিস্তিনীদের প্রতি হাত বাড়িয়ে দিতে পারে।
এদিকে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ইরান-আমেরিকা-ইসরাইলের মধ্যে। এর আগে ইসরাইল-আমেরিকা ইরানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। কয়েকজন শীর্ষ জেনারেলকেও হত্যা করে। পাল্টা হামলা চালিয়ে ইরান ইসরাইলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। ফলে ইসরাইল হুমকি দিয়েও পাল্টা হামলা চালাতে বিরত থাকে। তবে নতুন করে ট্রাম্পের হুমকিতে ফের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে তা কতদূর গড়াবে বলা যায় না। ইরানও পাল্টা আঘাত হানার হুশিয়ারি দিয়েছে। ফের ইরান-ইসরাইল-আমেরিকা যুদ্ধ শুরু হলে ফলাফর হবে ভয়াবহ। সৌদি জোট ও ইয়েমেনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা যুদ্ধ এখন স্তিমিত। হামলা-পাল্টা হামলায় পরস্পরের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। মূলত ইরানের মদদ ও উসকানিতে সৌদির সাথে ইয়েমেনের সংঘাত চলছে বলে মনে করা হয়। বর্তমানে সৌদি-ইরান সম্পর্ক তিক্ততার পর্যায়ে নেই। ফলে ইয়েমেন যুদ্ধ আর প্রলম্বিত নাও হতে পারে।
এছাড়া সিরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলা গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটেছে। এতে প্রাণ হারিয়েছে লাখ লাখ মানুষ। স্বৈরশসাক হাফিজ আসাদের পতনের পর বিপ্লবী সরকার দেশ চালাচ্ছে। সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সংঘাত চলছে লিবিয়া, সুদান, সোমালিয়ায়। পারস্পরিক হানাহানি লড়াই যুদ্ধে নির্বিচারে প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। কিন্তু এসব বিবাদ অবসানের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। এসব দেশে মানবতা ধুঁকে ধুঁকে মরছে। মুসলিম বিম্ব কি এসব দেখেও দেখছে না। তাহলে ওআইসির কাজটা কি শুধু বক্তৃতা আর বিবৃতি দিয়ে দায়িত্ব শেষ ও মুসলিম বিশ্বের জন্য আরো একটি যন্ত্রণার কারণ রোহিঙ্গা সমস্যা ও কাশ্মীর সমস্যা। ভারত কাশ্মীর দখল করে রেখেছে। কাশ্মীর মুসলমানরা যেন বন্দীশালায় বসবাস করছে। গোটা কাশ্মীরই যেন একটি দুর্ভেদ্য কারাগার। মোদি লাখ লাখ সৈন্য দিয়ে কাশ্মীরকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। কাশ্মীর নিয়ে কয়েকটি যুদ্ধ হয়েছে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে। পাকিস্তান ও ভারতের স্বাধীনতার পর গণভোটের মাধ্যমে কাশ্মীরীদের ভাগ্য নির্ধারণের কথা ছিল জাতিসংঘ প্রস্তাবে, কিন্তু ভারত তা ভণ্ডুল করে দিয়ে কাশ্মীর দখল করে নেয়। কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী মানুষ এভাবেই বন্ধিত্বের নিগড়ে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। ভারতীয় বাহিনী সেখানে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন-নিপীড়ন চালাচ্ছে। বিশ্বের আর এক ট্র্যাজেডির নাম রোহিঙ্গা ট্র্যাজেডি। রোহিঙ্গারা মুসলমান এটাই তাদের বড় অপরাধ। তথাকথিত অহিংসার বাণী প্রচারে নিবেদিত বৌদ্ধরা যে কতটা সহিংস ও নৃশংস হতে পারে তার প্রমাণ তারা দিয়েছে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ চালিয়ে। মিয়ানমারের বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা রোহিঙ্গাদের ওপর যে ভয়াবহ নিধনযজ্ঞ চালায় ইতিহাসে তা এক কলঙ্কজনক অধ্যায়।
শান্তিপ্রিয় রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে যুগ যুগ ধরে শান্তিতেই ছিল। জায়গা-জমি, ঘরবাড়ি, সহায়-সম্পদ সবই তাদের ছিল। কিন্তু তাদের সে সুখ সম্পদের প্রতি কুনজর পড়ে হিংসুক বৌদ্ধদের। তারা রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞে মেতে ওঠে। নির্বিচারে হত্যা করে তাদের। নারী-শিশু, যুবা, বৃদ্ধ কেউ রেহাই পায়নি। ঘরবাড়ি সব জ¦ালিয়ে পুড়িয়ে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। প্রাণ বাঁচাতে বিপন্ন রোহিঙ্গারা সীমান্ত পার হয়ে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশে। প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছে। কঠিন অবস্থায় পড়েছে বাংলাদেশ এদের সামাল দিতে। সমাজ-সভ্যতা থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা আজ বিচ্ছিন্ন। থাকা-খাওয়া ত্রাণ সাহায্যের ওপর কোনো রকমে চললেও শিক্ষা, চিকিৎসা এত অপ্রতুল যে গোটা জনগোষ্ঠী যেন অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে। তাদের নিজ ভিটায় ফিরে যাওয়ার কোনো আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। কথাবার্তা হয়, আলোচনা চলে কিন্তু কোনো অগ্রগতি ছাড়াই। সুতরাং প্রত্যাবর্তন পুনর্বাসন ও প্রতিষ্ঠা এখন যেন সোনার হরিণ। এটা পরিষ্কার গোটা বিম্ব আজ বিপন্ন মজলুম অসহায় নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের আর্তনাদে প্রকম্পিত। এ অবস্থার অবসান না হলে মহাবিপর্যয় ঘটবে। যার করুণ পরিণতি সবাইকে ভোগ করতে হবে। এজন্য বিশ্ব মোড়ল তথা শক্তিধর দেশগুলোয় ইতিবাচক ধারায় ফিরে আসতে হবে। নিজেদেরও সংযত হতে হবে এবং যারা বাড়াবাড়ি করবে তাদের লাগাম টেনে ধরতে হবে।
এজন্য সর্বপ্রথম বিশ্ব সংস্থা জাতিসংঘকে এককভাবে শক্তিশালী করতে হবে। নেপথ্যে থেকে বা প্রকাশ্যে জাতিসংঘের ওপর সকল খবরদারি বা স্বীয় স্বার্থে ব্যবহারের অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে। যে কেউ বাড়াবাড়ি করলে বা অশান্তির কারণ ঘটালে জাতিসংঘ যাতে এ্যাকশনে যেতে পারে তার ব্যবস্থা নিতে হবে। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সদিচ্ছা। তাই ছোট-বড় সকল দেশকেই শান্তির লক্ষ্যে সদিচ্ছা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে এবং আলোচনার টেবিলে বসে সকল বিবাদ সংঘাতের মীংমাংসা করতে হবে।