মাহবুবুল হক
সময়ের ওপর মানুষের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সমস্ত নিয়ন্ত্রণ পরম করুণাময় দয়াময় মহান আল্লাহর হাতে। তিনি বলেছেন তোমরা সময় নিয়ে সমালোচনা করো না (ভাবার্থক) আমিই সময়। অনেক বড় কথা। মহান
আল্লাহ একটি সময় নিজেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা স্বতঃপ্রণোদিতভাবে নিজে নিজেই উদ্ভাসিত হয়েছেন। সে কারণেই তিনি বলেছেন আমিই সময়। কারণ কারো দ্বারা নির্দেশিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়ে তিনি উদ্ভাসিত হননি। উদ্ভাসিত হওয়ার জন্য কারো দ্বারা কোনো দিনক্ষণ কেউ সিডিউল করে দেয়নি। সুতরাং ত্রয়োদশ এ নির্বাচনের ক্ষণে কখন কী হবে আমরা কেউ বলতে পারি না বা জানি না। যেমন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে একটি দেশের তথাকথিত একচ্ছত্র মালিক হঠাৎ করে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন। থাক সেসব।
পুরোনো কথায় আমরা আজ আর জাবর-কাটবো না। এখনও নির্বাচনের জোট ভাঙা-গড়ার এপিসোড চলছে। এ নির্বাচনের সবচেয়ে বড় উচ্চকিত ও সমুজ্জ্বল বিষয় হলো দেশবাসী উচ্চকণ্ঠে দ্বিধাহীনভাবে বলছে আমরা সব সরকারকে ক্ষমতায় দেখেছি। জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতায় দেখিনি। এ ধরনের সোজা-সাপটা বাক্য ব্যবহার করছেন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষেরা। আরবান মানুষেরা একটু সতর্ক হয়ে বলছেন আমরা বহুদলকে ক্ষমতায় দেখেছি কিন্তু ইসলামী দলগুলোকে ক্ষমতায় দেখেনি। এবার আমরা ইসলামী দলগুলোকে ক্ষমতায় দেখতে চাই। সব ধরনের মিডিয়ায় বিভিন্নভাবে এ বোলচালগুলি এখন অনবরত বিচ্ছুরিত হচ্ছে।
দেশে-বিদেশে নানারকম পরিসংখ্যান চলছে। একে গড় করলে দেখা যায় ইসলামী জোট বেশিরভাগ সময় অগ্রগামী হয়ে আছে। ইসলামী দলগুলোর সাথে সম্পৃক্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে যে ঐক্যজোট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্বাভাবিকভাবেই তারা এসব প্রচার ও প্রোপাগান্ডায় ঢেউ তুলছে। এ ঢেউয়ের মধ্যে নানারকম জোয়ার-ভাটা আছে। তিলকে তাল করা আবার তালকে তিল করা। গত মাসগুলোতে দেশবাসী একজন সদ্য শহীদ ওসমান বিন হাদী ও বিএনপির চেয়ারম্যান বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তিকালকে নিয়ে দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে মশগুল ছিলো। হাদীর শাহাদাত ইসলামী জোটকে উজ্জিবিত করেছে। মনে হয় ইকবালের সেই বানী (ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায় হর কারবালাকো বাদ)।
খালেদা জিয়ার ইন্তিকালে জোয়ার এসেছিলো দেশের বর্তমান দু’টি জোটের মধ্যে। বিষয়টা বিএনপি অনুমান বা আঁচ করতে পারলেও এর ক্যাশ যে ইসলামী জোটের দিকেও বেশির ভাগ গিয়েছে তা তারা বলতে চায়নি। এটাই স্বাভাবিক। রাজনীতিতে সব সময় সত্য ও বাস্তবতা সমানতালে অগ্রসর হয় না। পূর্বে রাজনীতি সচেতন অধিকাংশ মানুষ উপলব্ধি করতো শহীদ বেগম খালেদা জিয়ার চেয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান অধিক জনপ্রিয়। কিন্তু তাঁর ইন্তিকালের পর যে ঢেউ আমরা প্রত্যক্ষ করলাম তাতে নিঃসন্দেহে বলা যায় জনপ্রিয়তার দিক থেকে খালেদা জিয়া এগিয়ে আছেন। যে মুহূর্তে বিএনপি সরাসরি ইসলামী জোট ভাঙার জন্য বা ছোট করার জন্য অবিরাম ঐক্যের দেয়াল ভাঙার চেষ্টা করছে। সে মুহূর্তেও ইসলামী জোটের সাথে সম্পৃক্ত সাধারণ মানুষ, নেতা ও কর্মী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য চোখের পানি ফেলেছে। অসুস্থ খালেদা জিয়াকে দেখার জন্য বা তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য অবারিতভাবে হাসপাতালের চারপাশে ভিড় জমিয়েছে তার সম্পর্কে উন্নত, সমৃদ্ধ ও সমুজ্জ্বল বাণী উচ্চকিত করেছে। এটা ইতিহাসে বাহুকাল জ্বলন্ত থাকবে। ডানপন্থী, মধ্যপন্থী ও ইসলামপন্থী মানুষ প্রাণ খুলে খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করেছে। অনেকে উচ্চারণ করেছেন শহীদ জিয়াউর রহমান মুসলিমলীগ, নেজামে ইসলামসহ প্রায় সকল ডানপন্থী, মধ্যপন্থী ও ইসলামপন্থী দলগুলোর সাথে সম্পৃক্ত বা সংযোগ রক্ষা করলেও জামায়াতে ইসলামীর সাথে সবসময় খোলামনে সংযোগ রক্ষা করেননি। এ বিষয়ে তাঁর নিজের মধ্যেই বড়ধরনের জোয়ার-ভাটা ছিলো। শাহাদাত বরণের পূর্বেও পরোক্ষভাবে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জামায়াতের সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিসহ যেকোনো কারণে হোক জামায়াতে ইসলামকে খুব বেশি অবজ্ঞা বা অবহেলা করেন নি।
আন্দোলন, সংগ্রাম, সরকার ও রাষ্ট্র গঠন সর্ববিষয়ে সবসময় সংযোগ রক্ষা করেছেন। বিষয়টি জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামপন্থী জনগণ যথেষ্ট কৃতজ্ঞতার সাথে সবসময় স্মরণ করেছে। তাঁর ইন্তিকালের পর শুধু রাজনৈতিক মহল নয় প্রায় সকল মহল থেকে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা, ভক্তি, শুভেচ্ছা, দোয়া ও প্রার্থনা করেছে। বিষয়টি নির্বাচনের জন্য পজেটিভ জোয়ার বয়ে এনেছে।
এবার যে নির্বাচন হচ্ছে তাতে দারুনভাবে লক্ষ্য করা গেছে যে, মুসলিম ছাড়াও অন্যান্য ধর্মের মানুষ, উপজাতি, নৃগোষ্ঠীর মানুষ গত প্রায় ৮০ বছরের মধ্যে এ প্রথমবার সেকুলার দলছাড়া ইসলামপন্থী দলগুলোকে ভোট দিবে বলে অপ্রকাশ্যে ঘোষণা প্রদান করেছে। গত প্রায় বছরখানিক ধরে এ পজেটিভ প্রণোদনা ও প্রচারণা আমরা বিশেষভাবে লক্ষ্য করছি। এটা হুজুগেপনা নয়। কোনো সার্কাস নয়। কোনো আবেগীপনা নয়।
প্রত্যন্ত অঞ্চলের অমুসলিম বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎকার, মিডিয়ায় উপস্থিতি এবং কিছু লেখালেখি দেখে সত্যি সত্যি এবার বিশ্বাস করেছে অন্যান্য ধর্মের মানুষ এবার ইসলামপন্থী দলগুলোকে বিশেষ করে ইসলামী জোটকে ভোটের সময় বিপুলভাবে সমর্থনসহ হ্যাঁ ভোটে অংশগ্রহণ করবে। আমাদের রাজনৈতিক প্লাটফর্মে এ বিষয়টি ছিলো বিস্ময়কর কিন্তু এর পিছনে উদ্যোগটা ছিলো জামায়াতে ইসলামীর। বিশেষ করে সে দলের প্রধানের সর্বাত্মক উদ্যোগ। ২০২৪ সালের বিপ্লবের শুরু থেকে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির তাদের প্রতি বিশেষভাবে নজর দিয়েছে। ইতিপূর্বেও তারা নজর দেয়নি তা’নয়। কিন্তু সে সময়টায় তারা আন্দাজ অনুমান করেছিলো এদেশে যারা ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মের লোক বসবাস করে তাদের খয়ের খাঁ হয়ে সুযোগ বুঝে তাদের জানমালের ওপর গোপনে অত্যাচার চালায়। ফলশ্রুতিতে স্বাভাবিকভাবেই দোষ পড়ে যায় ইসলামপন্থীদের ওপর। বিপ্লবের সময় একটা এলোমেলো অবস্থায় মুসলিম ছাড়া অন্য সম্প্রদায়ের ওপর কে কখন কি উদ্দেশ্যে আক্রমণ করবে তা’ কারো জানা নেই। কিন্তু সমুদয় দোষটা চাপানো হবে এদেশের ইসলামপন্থী মানুষের ওপর। সে কারণে জামায়াতসহ প্রায় সকল ইসলামী দল ও গোষ্ঠী সনাতন ধর্মের সবচেয়ে বড় পুজার সময় তাদের মন্দির ও বসবাসের স্থানগুলোতে শক্তিশালী পাহারার ব্যবস্থা করে। এর ফলে বড় কোন ধরনের সাম্প্রদায়িক দুর্ঘটনা পরিলক্ষিত হয়নি। পরবর্তীতে বন্যার সময়ও উপর্যুক্ত মহল সনাতন ধর্মের লোকদের পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি সহযোগিতা প্রদান করে। যেমন নতুন ঘরবাড়ি তৈরি, ছোট খাট ব্যবসা, রিকশা, ভ্যান, গরু-ছাগল-হাঁস-মুরগির খামার প্রদান, ব্যবসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা সহ প্রয়োজনীয় সকল ধরনের সহযোগিতা প্রদান করে। এসব তৎপরতা সনাতন ধর্মের মানুষকে বিপুলভাবে প্রভাবিত করে। অন্য সময় বিপদকালীন সময় ছাড়া এ ধরনের সহযোগিতা কখনো তেমন দেখা যায়নি। কিন্তু এবার দেখা গেছে সহযোগিতার বিষয়টি দীর্ঘসময় পর্যন্ত প্রবাহিত ছিলো। বিষয়গুলো এমন ছিলোনা যে সাহায্য সামগ্রী একদল লোক প্রদান করে, চলে এসেছে বরং সহযোগিতা প্রদানকারী ও গ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলি নির্ধারণ করে উপযুক্ত কর্মপ্রয়াস গ্রহণ করা হয়। এ দীর্ঘ যোগাযোগের ফলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যার ফলে সবার মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক জোরদার হয়।
শুধু যে সনাতন ধর্মের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি প্রদান করা হয়েছে এমন নয়। বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও উপজাতিদের প্রতিও পরম্পরাভাবে সহযোগিতার হস্ত সম্প্রসারিত হয়েছে। নির্বাচনের কর্মকান্ডের শুরু থেকেই দেখা যায় বাংলাদেশের অমুসলিম সম্প্রদায় ডান, মধ্য ও ইসলামপন্থীদের প্রতি স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনের সহযোগিতার কথা প্রকাশ করতে থাকে। বিষয়টা অভিনব ও শুভ। সাধারণত নির্বাচনের বিষয়টি থাকে গোপন। এক্ষেত্রে নির্বাচনের সংস্কৃতিতে এই বিষয়টি নতুনভাবে সংযোজিত হয়েছে। আশাকরা যায় এই বন্ধুত্ববোধ ইনশাআল্লাহ অব্যাহত থাকবে।
এবারকার নির্বাচনে আরও যে প্রধান প্রধান বিষয় সংযোজিত হয়েছে তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পোস্টাল ভোট। ইতিপূর্বে পোস্টাল ভোটের রেওয়াজ আমাদের দেশে ছিলো না। অভিবাসী, প্রবাসীসহ বিভিন্ন কারণে বহুশ্রেণীর মানুষের ভোটাধিকার আমরা রক্ষা করতে পারিনি। এটা ছিলো মৌলিক অধিকারের একটি অংশ। আল্লাহর রহমতে এ বিষয়টি এবার অনেকাংশে সম্পন্ন হয়েছে। পোস্টাল সার্ভিসের মাধ্যমে। এ গুরুত্বপূর্ণ কাজটি যে করা সম্ভব, এবার বিশেষভাবে তা প্রমাণিত হয়েছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে আমরা ধন্যবাদ জানাই। শুরুর বছরে কোনো বিষয় পূর্ণাঙ্গ আকার দেয়া যায় না। গবেষণার মাধ্যমে ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে হয়। এবারের মতো ভবিষ্যতের সরকার ও নির্বাচন কমিশন যদি সতর্ক থাকে তাহলে এই মহান কাজটির ব্যাপ্তি ইনশাআল্লাহ আরও প্রসারিত হবে।
গত ১৫/১৬ বছর দেশের ভোটাররা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলো। জাল ভোটের মাধ্যমে তথাকথিত ভোট সম্পাদিত হওয়ায় এই মানবাধিকার থেকে আমাদের দেশের ভোটাররা বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম (যাদের বয়স ১৮ বছর থেকে প্রায় ৩৪ বছর) তারা ভোট বলতে সত্যিকার অর্থে কি বোঝায় তা তারা জানে না। একটি দেশের সত্যিকার নাগরিকদেরকে কত নিষ্ঠুরভাবে বঞ্চিত রাখা হয়েছে তা একটু চিন্তা করলেই দুঃসহ ও দুর্বহ বলে মনে হবে। আল্লাহর রহমতে এখন এই শ্রেণীর যুবকরা শুধু ভোটদাতা নয়, ভোট প্রার্থীও হতে পারবে। বিষয়টা সত্যি সত্যি একটা বড় মিরাকল। এদের সংখ্যা প্রায় চার সাড়ে ৪ কোটি।
এবার আসি আমরা নারী ভোটের বিষয়ে। আমাদের দেশে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ২৮ লাখ। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক। এ বিষয়ে আমাদেরকে একটু পিছনের দিকে ফিরে তাকাতে হবে। আমাদের ধর্ম ও কৃষ্টির কারণে পূর্বে নারীরা ভোটার হতো না। এবং সত্যিকার অর্থে তাদেরকে ভোটার করাও হতো না। এটা ছিলো এক ধরনের কু-সংস্কার। প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশে বিরাজিত কোনো ধর্মেই এ বিষয়টি বাধাগ্রস্ত ছিলো না। কিন্তু নানা রসম-রেওয়াজের সুযোগে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ এ বিষয়টিকে অন্ধকারে ফেলে রেখেছিলো। যদিও এখন আমরা বলছি বাংলাদেশ কখনও পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ছিলো না। সবসময় ছিলো মাতৃতান্ত্রিক। তারপরও বুজ দেয়া হতো তোমরা সরকারের কি বোঝ। রাষ্ট্রের কী বোঝ। না বোঝে কোনো কাজ করাইতো ঠিক নয়। তাছাড়া ঘর থেকে বের হলেই কাপড়-চোপড়, সেন্ডেল-জুতা, যাতায়াত খরচ, পর্দা-পুসিদার খরচ, সব মিলিয়ে প্রচুর টাকার প্রয়োজন হয়। গরীব দেশের অল্পআয়ের মানুষের কাছে সেই অর্থের সংগতি কোথায়। সেটাও যখন কিছু কিছু এসে গেল এবং শিক্ষার হার বাড়তে লাগলো তখন সবচেয়ে বাধা সৃষ্টি হলো পর্দা-পুসিদার ক্ষেত্রে।
নারী এবং পুরুষ উভয় ক্ষেত্রেই বেপর্দার দিকে ঝোঁক প্রবণ হওয়ায় কোনো কোনো সময় এসব নিয়ে বিপত্তি ঘটায় তুলনামূলকভাবে বিষয়টি দায় সারা গোছের হয়ে গেল। দেখা গেল ভোটার হওয়ার পরও নারীদের মধ্যে শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ, ভোট কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে অনীহা প্রকাশ করে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে নারীদের মধ্যে ধর্মের বিকাশ-প্রকাশ এবং প্রচার-প্রপাগান্ডা বেড়ে যাওয়ায় ভোট প্রদানকারীর সংখ্যা ধীরে ধীরে অনেক বেড়েছে। শহরে জীবন বাদ দিলে গ্রামাঞ্চলের নারীরা পূর্বের তুলনায় এখন অনেক বেশি পর্দানশীন হয়েছে। আমাদের সমাজ কাঠামো এবং কৃষ্টি ও সংস্কৃতির জন্য এটা একটি অনেক বড় বিষয়। এবার আমরা দেখছি নারীরা শুধু ভোট প্রদান করার জন্য তৈরি হয়নি। তারা ভোট গ্রহণ করার জন্য তৈরি হয়েছে। তারা শুধু প্রার্থী হয়নি। ভোটের বিষয়ে যত রকম কাজকর্ম রয়েছে সবতাতেই তারা বিপুল উৎসাহ ও উদ্দিপনা নিয়ে অংশগ্রহণ করছে। তারা সম্মিলিতভাবে বা এককভাবে ভোট প্রাপ্তির জন্য মিছিল মিটিং করছে। তারা এখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটের বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছে।
এখানে এসে আমরা বড় ধরনের বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছি। যে নারীদেরকে এক সময় অনেক তোয়াজ করে ভোটার করা হতো। ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসা হতো। সে নারীরা যখন কারো অনুরোধ, উপরোধ ও তোয়াজ ছাড়া নিজেরাই সক্রিয় হয়েছে। সেখানে একদিকে পুরুষের লোভাতুর দৃষ্টিভংগি অপরদিকে কিংবা বিরোধী পক্ষের নারীদের সংগে গায়ে পড়ে ঝগড়া-ঝাটি লাগানোর বিষয়গুলি ন্যক্কারজনকভাবে সমাজ ও রাষ্ট্রের সামনে এসে গেছে। এর সংগে সংযুক্ত হয়েছে অতি পুরানো নারী বিদ্বেষ। নারীরা ভোটার হবে, ভোট প্রার্থী হবে, ভোট ক্যাম্পেইন করবে একশ্রেণীর মানুষ এসব একদম চায় না। তারাই নানারকম বিপত্তি ঘটাচ্ছে। অশান্তির সৃষ্টি করছে। ঝগড়া থেকে মারামারি, ফাটাফাটি, মল্লযুদ্ধ, অশ্লীল গালাগালি, লাথালাথি এবং হতাহতের বিষয় সংগঠিত হচ্ছে। বিষয়টি সীমা অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশের এমন কোনো জায়গা বা স্থান নেই যেখানে এখন নারীনিগ্রহ হচ্ছে না। সবকিছু সামলানো গেলেও একশ্রেণীর নারী ও পুরুষ, নারী নির্যাতনের বিষয়টিকে নিকৃষ্ট পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এটা এখনই বন্ধ করা দরকার। সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে শক্ত ও কঠিন ভূমিকা পালন করতে হবে।
যে মুহূর্তে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে বিশ্বব্যাপী নবতর দৃষ্টিভঙ্গির সূত্রপাত হয়েছে সে মুহূর্তে আমরা কন্যা-জায়া-জননীদেরকে অপমান, লাঞ্ছনা, গঞ্জনাসহ নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে নারী নিগ্রহ নিয়ে তোলপাড় করছি। যা দেশে ও বিদেশে আমাদের সম্মান ও মর্যাদাকে ভুলণ্ঠিত করছে। বাইরের বিশ্বে একটি অশনীবার্তা বিপুলভাবে ছড়িয়ে যাচ্ছে। আমাদের ধর্ম, জীবনবিধান, কৃষ্টি, সভ্যতা ও সংস্কৃতি কোনটাই নারী বিদ্বেষী নয়। কিন্তু একদল সেকুলার রাজনীতিক এই বিষয়টিকে নানাভাবে চিত্রায়িত করছে। নিজেরাই নারী সংঘর্ষ বাধাচ্ছে। অপরদিকে নিজেরাই বলছে এসব হলো জঙ্গীপনা অর্থাৎ ইসলামোফোবিয়া বলে সারা বিশ্বে সে আতংক সৃষ্টি করা আছে তাতে এ শ্রেণীর মানুষগুলো ঘি ঢালছে। সরকার, জনগণ ও নির্বাচন কমিশনকে এই আপরিণামদর্শী কার্যক্রমকে বন্ধ করার মানসে অতিতৎপর হতে হবে। তাহলে ইনশাআল্লাহ আমরা একটা মৌলিক, স্বাতন্ত্র ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ নির্বাচন ইনশাআল্লাহ জাতিকে উপহার দিতে পারবো। আসুন আমরা সবাই মিলে ২০২৬ সালের এই নির্বাচনকে সমুজ্জ্বল ও মহিমান্বিত করি।
লেখক : সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সংগঠক।