যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। বেশকিছু দিন থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার আগাম বার্তা ফলাও করে প্রচার করলেও তা কথার কথা মনে করা হয়েছিলো। কিন্তু সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরাইল যৌথ হামলা চালিয়েছে। শুধু তাই নয়, হামলার শুধুতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনীসহ তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। মূলত, পুরো ইরান জুড়েই ব্যাপক তাণ্ডব চালাচ্ছে মার্কিন-ইসরাইল যৌথ বাহিনী। ইরানও বসে থাকেনি বরং মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালিয়ে বিশ্বপরাশক্তিকে একেবারে হতবাক করে দিয়েছে। এখানেই শেষ নয় বরং ইরানের সামরিক বাহিনী জায়নবাদী কথিত রাষ্ট্র ইসরাইলের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়ে বড় ধরনের সাফল্য অর্জনে দাবি করেছে। নিরপেক্ষ সূত্র থেকে বলা হচ্ছে, ইরানী হামলায় ইসরাইলের বিভিন্ন শহর এখন রীতিমত ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। তবে ইসরাইল বলছে ভিন্নকথা। দখলদাররা বিষয়টি নিয়ে লুকোচুরির আশ্রয় নিচ্ছে।

সম্প্রতি ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইসরাইল রাষ্ট্রের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের জবাবে’ তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। সেনাবাহিনীর হোম ফ্রন্ট কমান্ড জানায়, বন্দরনগরী হাইফাসহ উত্তর ইসরাইলের বিস্তীর্ণ এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্র বা নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। পরে সতর্কতা তুলে নেয়া হয়। সামরিক বাহিনী জানায়, ‘দেশের সব এলাকায় এখন সুরক্ষিত স্থান থেকে বের হওয়া অনুমোদিত।’ ইসরাইলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। এর অন্তত বেশিরভাগই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ভূপাতিত করা হয়েছে। এ যুদ্ধের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এখন পর্যন্ত ইসরাইলে ১০ জন নিহত হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে এ যুদ্ধের সূচনা হয়। ইসরাইলী কর্তৃপক্ষের যুদ্ধের এ সরল বর্ণনা দেওয়া হলেও বাস্তবতা সম্পূর্ণ আলাদা। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ইরানী হামলায় ইতোমধ্যেই প্রভূত সংখ্যক ইসরাইলীরা জীবনরক্ষার জন্য বাংকারে আশ্রয় নিয়েছেন। আক্রান্ত হয়েছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। ফলে পুরো ইসরাইল জুড়েই চলছে আর্তনাদ-আহাজারী। কিন্তু গণমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের কারণে এসব খবর অজানাই থেকে যাচ্ছে।

ইরান-মার্কিন-ইসরাইল ত্রিমুখী লড়াইয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো বিশ্বেই বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। এ থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতিও আলাদা নয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আমদানি করা পেট্রোলিয়াম পণ্য ও এলএনজির দাম বাড়ার বড় ধরনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাঁচামালের সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। একথা কারো অজানা নয় যে, মধ্যপ্রাচ্যই হলো বাংলাদেশের প্রধান আমদানি উৎস। আমাদের দেশের বিপুল সংখ্যক শ্রমিক এসব দেশে কাজ করেন। আর এদের অর্জিত রেমিট্যান্সই আমাদের দেশের অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য উৎস। তাই এ যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলো বাংলাদেশীরা যেমন কর্মচ্যুত হবেন, ঠিক তেমনিভাবে রেমিট্যান্সেও পড়বে ভাটির টান। শুধু তাই নয় বরং দেশের জন্য জ্বালানির দাম ও সরবরাহ অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য (ব্যালান্স অব পেমেন্ট) ও রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এশিয়া ও ইউরোপ এবং আংশিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠানোর প্রধান নৌপথ সুয়েজ খাল ইরানের খুব কাছাকাছি। সেখানে এ যুদ্ধের প্রভাব পড়লে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য পরিবহন ব্যাহত হবে। যা আমদানী-রপ্তানীতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মূলত, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোই বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজার। সুতরাং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পরিস্থিতি সেখানে নতুন শ্রমিক নিয়োগে অনাগ্রহ সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ বাংলাদেশের পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। এছাড়া ইতোমধ্যে হুতি হামলার কারণে লোহিত সাগর দিয়ে পণ্য পরিবহন কমিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হবে বাংলাদেশের অর্থনীতি। আর এ ধকল কাটিয়ে ওঠা আমাদের ভঙ্গুর অর্থনীতির জন্য খুব একটা সহজসাধ্য হবে না। এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে। একই সময়ে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার কারণে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়েছে। সঙ্গত কারণেই ইতোমধ্যেই আমদানির চাপও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতি একসাথে ঘটলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারো চাপে পড়তে পারে এবং ডলার সঙ্কট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছেন। যা আমাদের অর্থনীতির জন্য মোটেই সুখবর নয়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে গত দেড় বছরে কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছিলো। প্রায় প্রতি মাসেই দেশে তিন বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি রেমিট্যান্স এসেছে। ফলে দীর্ঘদিনের চাপ কাটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারো ৩০ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। কিন্তু নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় আবারো অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে ধাক্কা লাগতে পারে। একই সময়ে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে, যার ফলে আমদানির চাপও বাড়বে। এ ধরণের পরিস্থিতি একসাথে ঘটলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারো চাপে পড়তে পারে এবং ডলার সঙ্কট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস হলো প্রবাসী আয়। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রায় এক কোটির মতো বাংলাদেশী কর্মরত আছেন। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান এবং বাহরাইনসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত শ্রমিকরা প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে পাঠান। গত ১৮ মাসে এ রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রণোদনা, হুন্ডি দমনে কঠোরতা এবং ডলারের উচ্চমূল্যের কারণে প্রবাসীরা আনুষ্ঠানিক চ্যানেল ব্যবহার করে বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন। ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরেই প্রতিমাসে তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। এ ধারাবাহিক প্রবাহ দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য কিছুটা স্থিতিশীল করতে সাহায্য করেছে। ডলার বাজারেও কিছুটা স্থিতি ফিরেছিল। আমদানিকারকরা আগের তুলনায় সহজে ডলার সংগ্রহ করতে পারছিলেন এবং ব্যাংকগুলোতেও ডলারের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছিল। ফলে রিজার্ভ ফের ৩০ বিলিয়ন ডলার আতিক্রম করে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে এ ইতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে সরাসরি সংঘাতে রূপ নেয়ার এ আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং অন্যান্য দেশ এতে জড়িয়ে পড়লে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি অস্থির হয়ে উঠতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে, যা বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে প্রথমে তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়। অনেক সময় নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতে কাজ কমে যায়। এসব খাতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী শ্রমিক কর্মরত থাকায় তাদের কর্মসংস্থানের ওপরও প্রভাব পড়ে। যদি বড় আকারে কাজ কমে যায় বা শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেয়া হয়, তাহলে তাদের আয় কমে যাবে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়বে রেমিট্যান্স প্রবাহে।

রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে গেলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারো দ্রুত কমে যেতে পারে। কারণ দেশের আমদানি চাহিদা এখনো অনেক বেশি। জ্বালানি, খাদ্যশস্য, শিল্পের কাঁচামাল, ভোগ্যপণ্যসহ নানা ধরনের পণ্য আমদানির জন্য বিপুল পরিমাণ ডলার প্রয়োজন হয়। গত কয়েক বছরে ডলার সঙ্কটের কারণে অনেক আমদানি সীমিত রাখা হয়েছিল। কিন্তু নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আবারও গতি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিল্পকারখানার উৎপাদন বাড়াতে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে, অবকাঠামো প্রকল্পগুলোতে আবারো গতি আসবে এবং ভোগ্যপণ্যের আমদানিও বাড়তে পারে। এর ফলে আগামী মাসগুলোতে আমদানি ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমদানি বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়বে। যদি একই সময়ে রেমিট্যান্স কমে যায়, তাহলে এ চাপ আরো তীব্র হয়ে উঠবে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ডলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্যাংকগুলোর মধ্যে ডলার লেনদেনের জন্য নতুন বিনিময় হার কাঠামো চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায়ও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় বা বিলাসী পণ্যের আমদানি নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার সাথে সাথে আমদানির চাহিদা বাড়বে, যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। ডলার সঙ্কটের সময় অতীতে দেখা গেছে, ব্যাংকগুলো অনেক সময় আমদানিকারকদের প্রয়োজনীয় ডলার দিতে পারে না। ফলে এলসি খোলার ক্ষেত্রে বিলম্ব এবং অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান কাঁচামালের অভাবে উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এতে সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলায় আগেভাগেই নীতিনির্ধারকদের সতর্ক হতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে হলে রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে কোন শৈথল্য প্রদর্শনের কোন সুযোগ নেই। এজন্য প্রবাসী আয় আরো বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। নতুন শ্রমবাজার খোঁজা, দক্ষ কর্মী পাঠানো এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি হুন্ডি বা অবৈধ পথে অর্থ পাঠানো বন্ধে কঠোর নজরদারি চালিয়ে যেতে হবে। একই সাথে আমদানি ব্যবস্থাপনাতেও সতর্কতা দরকার। অপ্রয়োজনীয় আমদানি কমিয়ে উৎপাদনমুখী আমদানিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিল্পের কাঁচামাল, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আমদানি চালু রাখতে হবে, কিন্তু বিলাসী পণ্য আমদানির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যদি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে না। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তখন আবারো ডলার সঙ্কট তীব্র হতে পারে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যেতে পারে। সার্বিকভাবে বলা যায়, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা পরিস্থিতি বর্তমানে কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও সামনে বেশ কিছু ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, সম্ভাব্য রেমিট্যান্স হ্রাস এবং বাড়তি আমদানির চাপ-এ তিনটি বিষয় একসাথে প্রভাব ফেললে অর্থনীতি আবারো ডলার সঙ্কটে পড়তে পারে। তাই আগাম পরিকল্পনা ও সতর্ক নীতিমালা গ্রহণের মাধ্যমে এ ঝুঁকি মোকাবেলা করা এখন সময়ের দাবি। তাই সরকারকে অবিলম্বে এ বিষয়ে কার্যকর ও যুতসই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে, যাতে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব সফল ও স্বার্থকভাবে মোকাবেলা করা যায়।

প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিলো যে এ যুদ্ধ খুব সীমিত পরিসরে হবে এবং খুবই শীঘ্রই এর অবসান ঘটবে। কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে ততই যুদ্ধ পরিস্থিতির বিস্তৃতি ঘটছে। যা বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির জন্য গোঁদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে দেখা দিতে পারে। মূলত, যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে ঢাকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিমান চলাচলেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। অনেক প্রবাসী বাংলাদেশী গন্তব্য নিজ দেশে যেতে পারছেন না, আবার অনেকে বিদেশে আটকা পড়েছেন। এমতাবস্থায় আটকে পড়া যাত্রীদের ফিরিয়ে আনতে ঢাকা-দুবাই-ঢাকা রুটে দু’টি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। কিন্তু তবুও পরিস্থিতির আহামরি কোন উন্নতি হয়নি। সংস্থাটির পক্ষে জানানো হয়েছে, মানবিক বিবেচনায় এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আবুধাবি এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ ইউএস-বাংলা, ইত্তিহাদসহ কয়েকটি এয়ারলাইন্সকে বিশেষ অনুমতি দিয়েছে বলে জানা গেছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রবাসীরা বলছেন, যুদ্ধ দ্রুত বন্ধ না হলে তাদের জীবন-জীবিকা ও দেশের অর্থনীতির ওপর এর গভীর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতি।

www.syedmasud.com