এডভোকেট সাবিকুন্নাহার
“বল বীর, বল উন্নত মম শির! /শির নেহারি আমারি,
নত শির ওই শিখর হিমাদ্রির! /বল বীর, বল উন্নত মম শির!”
বিদ্রোহী কবিতার যোগ্য নায়ক হলেন শরীফ ওসমান হাদী : শরীফ ওসমান হাদী বাংলাদেশের আযাদীর সংগ্রামের ইউনিক একটি নাম, একটি প্রতিষ্ঠান।
সময়টা ছিল ঠিক এক জুমআ থেকে আরেক জুমআ। এক জুমআর নামাজ পড়ে গুলীবিদ্ধ হয়ে আরেক জুমআর চাঁদের শুরুতে শাহাদাত বরণ করেন জুলাই বিপ্লবের অকুতোভয় আপসহীন সন্মুখ যোদ্ধা ও ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদী (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ক্ষমতার লোভ নয়, বরং মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে হাদী ছিলেন আপসহীন, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এক বজ্রকণ্ঠ। তার এই ত্যাগী দর্শনই তাকে সবার চেয়ে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর তিনি জুমআর নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ওসমান হাদীকে গুলী করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাদীকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ওই রাতেই সেখান থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর সোমবার সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। ১৮ ডিসেম্বর তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। জুমআর নামাজ শেষে মোনাজাতে মানুষের কান্না এবং দোয়া- সবটাই ছিল হাদীকে ঘিরে। একজন মানুষের জন্য-প্রতিটা মসজিদে, প্রতিটা হৃদয়েÑ এত ভালোবাসা, এত অশ্রু। অথচ মাত্র ৩৩ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবন। অন্যায়ের বিপক্ষে, ইনসাফের পক্ষে অবিচল থেকেছেন কম বয়সী এ মানুষটি। তার চারিত্রিক বলিষ্ঠতার এই সাক্ষ্য মানুষ দিয়েছে কান্নার ভাষায়। তার জানাযায় বিশাল জনসমুদ্র প্রমাণ করে তিনি গণ-মানুষের কতটা প্রিয় ছিলেন। মহান আল্লাহ তাকে শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন।
হাদীর উপর কাপুরোষিত হামলা বা আঘাত
জুলাই চেতনার উপর আঘাত॥
হাদীর উপর এ আক্রমন
গোটা বাংলাদেশের উপর আক্রমন।
হাদীর জন্ম ও শিক্ষা জীবন : হাদী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। শরিফ ওসমান হাদী ১৯৯৩ সালে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা একজন মাদরাসা শিক্ষক, মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপ্যাল ছিলেন, যার আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষা হাদীর জীবন গঠনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ।
ওসমান হাদীর শিক্ষা জীবনের ভিত্তি গড়ে ওঠে ঝালকাঠির বিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদরাসায়। সেখান থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা কৃতিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করে তিনি উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান ঢাকায়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত এই প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অনার্স মাস্টাস করেন। শহীদ ওসমান হাদী শৈশবকাল থেকেই পড়াশোনায় মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। আবার এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিজেও তিনি সেরা ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার আগেই তিনি অন্তত ৫ বার বিভিন্ন বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার পেয়েছিলেন। ক্লাস ফাইভে ও এইটে বৃত্তি পেয়েছিলেন। দাখিল, আলিমেও স্ট্যান্ড করেছিলেন। ওসমান হাদী একজন কুরআনের হাফেজ ছিলেন এবং তার পুরো পরিবারও আলেম পরিবার। ছাত্রজীবন শেষ করার পর হাদী জ্ঞান বিতরণের মহান পেশা শিক্ষকতাকে বেছে নেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি একটি স্বনামধন্য কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করেন, যেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এরপর তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। শাহাদাতের পূর্ব পর্যন্ত তিনি শিক্ষকতা পেশায় ছিলেন।
ওসমান হাদীর নামের স্বার্থকতা : ওসমান নামের অর্থ- জ্ঞানী বা সবচেয়ে শক্তিশালী আর হাদী নামের অর্থ পথ প্রদর্শক। এটি মহান আল্লাহর একটি গুনবাচক নাম। সুন্দর একটি নামের অধিকারী শরীফ ওসমান হাদী- সবচেয়ে শক্তিশালী / জ্ঞানী, সম্মানিত পথ নির্দেশক। যে বীরের রক্তে বাংলার এ সবুজ জমিন রঞ্জিত হলো, মহান আল্লাহ আজাদীর সংগ্রামের এ মহা নায়কের শাহাদাতকে কবুল করে নিন, তার শোক সন্তপ্ত পরিবার বিশেষ করে তার শোকার্ত মা, স্ত্রী এবং নিষ্পাপ অবুঝ সন্তানকে রহমতের চাঁদরে ঢেকে রাখুন। আমরা আর কোন দেশপ্রেমিক অকুতোভয় যোদ্ধাকে হারাতে চাইনা। আততায়ীকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দ্রুত দেশে এনে শাস্তির আওতায় আনা হোক। হাদীর রক্তের বিনিময়ে মহান আল্লাহ্ বাংলাদেশকে আধিপত্যবাদ মুক্ত দেশ হিসেবে কবুল করুন। হাদী বলেছে-
‘যুগ হতে যুগান্তরে আজাদির সন্তানেরা স্বাধীনতার পতাকা সমুন্নত রাখবেই। মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমরা তো শাহাদাতের জন্যই মায়ের উদর হতে পৃথিবীতে পা রেখেছি।’
শহীদ শরীফ উসমান বিন হাদীর পুত্রের বিপ্লবী নাম : শহীদ ওসমান বিন হাদীর পুত্র সন্তান হলে তার নাম একটি মিনিংফুল বিপ্লবী নাম রাখতে বলেছিলেন তার বড় ভাইকে। তার ভাই একজন বড় আলেম। তিনি শিশুটির নাম রাখেন ‘ফিরনাস’।
ফিরনাস (Firnas) একটি আরবি নাম, যার অর্থ ‘শক্তিশালী’, ‘সাহসী’ এবং ‘মোটা ঘাড়ের সিংহ’ বা ‘বলিষ্ঠ’, যা শক্তি, সাহস ও বীরত্ব বুঝায়। এটি ছেলেদের নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব আব্বাস ইবনে ফিরনাসের সাথে সম্পর্কিত, যিনি একজন বিখ্যাত উদ্ভাবক ও উড্ডয়ন বিশারদ ছিলেন।
অর্থ: শক্তিশালী, সাহসী, বলিষ্ঠ, মোটা ঘাড়ের সিংহ।
লিঙ্গ: ছেলে।
উৎপত্তি: আরবি/ভারতীয় (ইসলামিক প্রেক্ষাপট থেকে)।
ঐতিহাসিক সংযোগ : আব্বাস ইবনে ফিরনাস (৮১০-৮৮৭ খ্রিষ্টাব্দ), একজন বিখ্যাত আন্দালুসীয় বহুশাস্ত্রবিশারদ ও উদ্ভাবক, যিনি উড্ডয়নের প্রচেষ্টার জন্য পরিচিত ছিলেন। ৮ মাসের বাচ্চাটিকে রেখে হাদী চলে গেছে জান্নাতি পাখি হয়ে। মহান আল্লাহ তার প্রিয় উত্তরাধিকার সন্তানটিকে রহমতের চাদরে ঢেকে রাখুন, উত্তম অভিভাবক হয়ে যান, আর আগামীর রাহবার হিসেবে কবুল করুন।
শরীফ হাদী নিজেই শুধু বিপ্লবী ছিলেন না, তিনি একটি বিপ্লবী জেনারেশান গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন।
হাদীর শহীদী আত্মা আল কোরআনের ভাষায় কথা বলছে : (লোকেরা তাকে হত্যা করে ফেললে আল্লাহর পক্ষ থেকে) তাকে বলা হল- জান্নাতে প্রবেশ কর। (তখন) সে বলল- হায়! আমার জাতির লোকেরা যদি জানত, কি কারণে আমার প্রতিপালক আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানিত লোকদের দলভুক্ত করেছেন। (সূরা ইয়াসিন : ২৬-২৭)
শাহাদাতের মর্যাদা লাভের পর তাকে যখন সসম্মানে বলা হল, তুমি জান্নাতে প্রবেশ করো। সে যখন জান্নাতে প্রবেশ করলো এবং সেখানে সে বিদ্যমান নিয়ামতসমূহ দর্শন করলো এবং আকাক্সক্ষাভরে বলে উঠল, হায়! আমার সম্প্রদায় যারা আমাকে অবিশ্বাস করে হত্যা করেছে, তারা যদি আমার প্রতিপালক কর্তৃক আমার পাপ মার্জনা করে আমাকে পুরস্কৃত করার কথা জানত, তাহলে তারা আমার মত ঈমান এনে আমার মত প্রতিদান লাভ করতে পারত। রবের পক্ষ থেকে কতটা নিয়ামত ভোগ করতে পারতো।
শহীদের মৃত্যুর কষ্ট কেবল পিঁপড়ার কামড়ের মতো : আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “একজন শহীদ নিহত হওয়ার সময় ঠিক ততটুকুই কষ্ট পায়, যতটুকু তোমাদের কেউ পিঁপড়ার কামড়ে কষ্ট পায়।”
আমরা ভাবি তলোয়ার বা গুলীর আঘাতে মৃত্যু কত যন্ত্রণাদায়ক! কিন্তু আল্লাহ তার প্রিয় বান্দাদের জন্য মৃত্যুকে সহজ করে দেন। শহীদের কাছে সেই ভয়ানক মৃত্যুটি কেবল একটি ছোট্ট চিমটি বা পিঁপড়ার কামড়ের মতো মনে হয়। (রেফারেন্স: ami` at- Tirmidhi 1668; Sunan An-Nasa’i 3161)
সহজ মৃত্যু-আল্লাহ শহীদের কষ্ট নিজের দায়িত্বে কমিয়ে দেন। অনুভূতি-দৃশ্যত রক্তাক্ত মনে হলেও, শহীদের অনুভূতি ভিন্ন থাকে। রহমত- আল্লাহর বিশেষ রহমত যে, তিনি তার পথের পথিকদের কষ্ট দেন না। ভয় দূর- মৃত্যুর কষ্টের ভয়ে জিহাদ বা হক কথা বলা থেকে পিছিয়ে না আসা। (তাফহীমুল কুরআন)
যেভাবেই বা যত কষ্ট দিয়ে মারা হোক না কেন শহীদেরা কোন মৃত্যু কষ্ট অনুভব করেন না।
শহীদের রক্ত কখনো বিফলে যায় না : হাদী তার শাহাদাতের মধ্যদিয়ে বিপ্লবের যে মশাল জ্বালিয়ে দিয়ে গেছেন, ইনশাআল্লাহ তা সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়বে। শহীদ হাদী যে আইডোলজী লালন করতো সে আইডোলোজির কখনো কোন মৃত্যু নেই। আজ এক হাদী থেকে লক্ষ কোটি হাদীর যে জোয়ারে বাংলার জমিন ফুঁসে উঠেছে, তা রুধিবে সাধ্য কার? শহীদের রক্ত ভেজা উর্বর ভূমিতে আজাদীর আজন্ম লালিত স্বপ্নের যে বীজ রোপিত হয়েছে তা সকল অপশক্তির আগাছাকে পুড়িয়ে নিশ্চিহ্ন করে বিষাক্ত সাপের বিষদাঁত উপড়ে ফেলবে শীঘ্রই ইনশাআল্লাহ্।
মহান রবের কথায় সান্ত্বনা খুঁজে নিতে হবে আমাদের সকল শোকাহত হৃদয়ে-“আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বুঝ না।” (সূরা বাকারাহ্: ১৫৪)
সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এক বিপ্লবী লড়াকু সৈনিক ছিলেন ওসমান হাদী : ভারতীয় আধিপত্যবাদ, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন মোকাবিলা করে আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করা, জুলাই চেতনায় বাংলাদেশী সংস্কৃতির ধারা তৈরি করা; চলমান কালচারাল ফ্যাসিজমের যত ন্যারেটিভ, সব ভেঙে দিয়ে জুলাইয়ের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যকে সমুন্নত রাখা। এইসব সব স্বপ্ন নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করেছিলেন।
পৃথিবীর ইতিহাস বলছে বীরেরা কখনো মরেনা। হাদী বলেছিলেন- “মৃত্যুর ফয়সালা জমিনে না, আসমানে হয়। আমি চলে গেলে আমার সন্তান লড়বে, তার সন্তান লড়বে।”
যারা পরিবর্তনের জন্য নেতৃত্ব দেন তারা দীর্ঘকাল মানুষের অন্তরে বেঁচে থাকেন।
বাংলাদেশে জুলাই’২৪ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরিবর্তনের যে যাত্রা শুরু হয়েছে তা আর থামতে দেয়া যাবেনা। এ পরিবর্তনের অন্যতম নায়ক শহীদ হাদীর রক্ত আবারো সকল বিভেদের ফাটল রোধে তারুণ্য শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে নতুনভাবে উদ্দীপ্ত করবে।
আধিপত্যবাদ ও ফ্যসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে শহীদ হাদীর রক্তের বদলা নিতে হবে ইনশাআল্লাহ। শহীদ ওসমান হাদী ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে দেখা করার পর, শহীদ হাদীর সম্মাণিত স্ত্রীর একমাত্র কথা ছিল-তোমাদের ভাইয়ের কাজ বোন হিসেবে তোমাদের করে যেতে হবে।
এক হাদী লোকান্তরে, /লক্ষ হাদী ঘরে ঘরে।
আমাকে শহীদ করে সেই মিছিলে শামিল করে নিও : শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও ভাষা সৈনিক অধ্যাপক গোলাম আযম (রা.) পর এত বিশাল জনসমুদ্রের জানাযা সম্ভবত আর দেখা যায়নি। শহীদ ওসমান হাদী মাত্র ৩৩ বছর বয়সে যে বিরল সম্মানের অধিকারী হয়েছেন তা অবিস্মরণীয়।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এরকম জানাযা আর হয়েছে কি না জানি না। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তার এ মর্যাদা- তার সততা, প্রতিবাদী, সাহসী ভূমিকার জন্য, নির্ভেজাল দেশপ্রেমের জন্য, সকল চাটুকারিতার উর্ধ্বে উঠে নির্লোভ ডেডিকেশানের জন্য। কাপুরোষিত গুপ্তহত্যা তাকে এতটুকু ম্লান করতে পারেনি বরং করেছে অম্লান, চীর দিপ্তিময়, বিশ্বময়। জীবিত হাদীর চেয়ে শহীদ হাদী অনেক বেশী শক্তিশালী হয়েছে।
আল কুরআনের ভাষ্য মতে- শহীদ হাদী ছিলেন, হাদী আছেন, হাদী থাকবেন আমাদের মাঝে চীরঅম্লান হয়ে, ন্যায় ইনসাফের প্রতীক হয়ে, প্রতিবাদী কন্ঠস্বর হয়ে।
আমরা আশাকরি, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার পক্ষে, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে হাদীদের এ লড়াই চলছে চলবেই।
বাংলার দ্বিতীয় বাঘ শহীদ ওসমান হাদী।
শের-ই-বাংলার যোগ্য উত্তরসূরী।
তুমি জাগিয়ে দিয়েছো ঘুমন্ত আত্মবিস্মৃত তরুণ সমাজকে।
হে বিপ্লবী বীর-
প্রিয় রাসূল (সা.) বলেছেন- যাকে যে ভালোবাসে তার সাথে তার হাশর হবে।
হাদী বিদ্রোহী চিরবিপ্লবী কবি নজরুলের সাথী হয়ে, তার দর্শনকে ধারণ করে,
শহীদ আবু সাঈদ মুগ্ধের মত এক বুক সাহস নিয়ে শহীদ আবরারের মত আধিপত্যবাদ বিরোধী দেশপ্রেমিক হয়ে জাগিয়ে তুলেছে তারুণ্যকে বারুদসম রক্ত শপথে, সময় এখন ঝাঁপিয়ে পড়ার কর্তব্যকর্মে!