আওয়ামী লীগ এমনই এক শক্তি যারা সরকারে থেকেও ষড়যন্ত্র করে সরকারের বাইরে থাকলেও ষড়যন্ত্র করে। এরা ক্ষমতার বাইরে থাকতে প্রাদেশিক পরিষদের স্পিকার শাহেদ আলীকে চেয়ার দিয়ে পিটিয়ে হাউজেই হত্যা করেছিল। আবার ক্ষমতায় থেকেই কমরেড সিরাজ শিকদার সহ ৩০ হাজার ভিন্ন মতাবলম্বীকে হত্যা করে দেশকে এক রক্তাক্ত ও আতঙ্কের জনপদে পরিণত করেছিলো। এরাই বিরোধী দলে থাকাকালে কথিত আন্দোলনের নামে যাত্রীবাহী বাসে গান পাউডার দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছিলো। আবার ক্ষমতায় থাকাকালে বাস আগুন দিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে নির্মম জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর অবৈধভাবে জাতির ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসেছিলো।
দৃশ্যত আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দলের নাম হলেও এ দলে কখনো রাজনৈতিক বা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চা লক্ষ্য করা যায়নি বরং তারা যতবারই ক্ষমতায় এসেছে ততবারই দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র করেছে। ইতিহাসের গতিধারায় বারবার প্রমাণিত হয়েছে, আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদী, অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক শক্তি। যার অস্থি-মজ্জায় লুকিয়ে আছে এসব নেতিবাচক অনুসঙ্গ। তাই আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল ও গণতান্ত্রিক শক্তি মনে করার কোন কারণ নেই। মূলত, এটি এক অনস্বীকার্য বাস্তবতা।
দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর সাজানো, পতানো, তামাশা ও ভাঁওতাবাজীর নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকার পর এক অনিবার্য বাস্তবতায় জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের লজ্জাজনক পতন হয়েছে। গণরোষ থেকে বাঁচার জন্য দলের শীর্ষনেতা সহ অধিকাংশ মন্ত্রী-এমপি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। যারা পালাতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা দেশেই আত্মগোপনে রয়েছেন। ক্ষমতা হারানোর এমন গণপলায়নের ঘটনা ইতিহাসে দ্বিতীয়টি দেখা যায়নি। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ বিশ্ব রেকর্ড করেছে বলে ধরে নেওয়া যায়।
আওয়ামী লীগের পতনের পর মনে করা হয়েছিলো যে, অতীত ভুলের জন্য তাদের মধ্যে অনুশোচনার সৃষ্টি হবে এবং তারা দেশ ও জাতির কাছে ক্ষমা চাবে। কিন্তু এক্ষেত্রে সবাইকে হতাশই হতে হয়েছে। কারণ, তারা অতীতের অপশাসন-দুঃশাসন, জুলুম-নির্যাতন ও গণহত্যার জন্য ক্ষমা তো চায়ই নি বরং অন্তর্বর্তী সরকার ও জুলাই বিপ্লবকে ব্যর্থ করতে নানাবিধ ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে এখনো। তারা কথিত সংখ্যালঘু নির্যাতন; আনসার বিদ্রোহ, শ্রমিক বিদ্রোহ ও অকৃতকার্য শিক্ষার্থী সহ নানাবিধ বিদ্রোহে উস্কানী দিয়ে ব্যর্থ হয়ে এখন নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র করছে। তারা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভণ্ডুল করে দেশকে অস্থিতিশীল করার নগ্ন খেলায় মেতে উঠেছে। কিন্তু তাদের কোন ষড়যন্ত্র সফল ও স্বার্থক হয়নি।
তবে তারা থেমে নেই বরং বৃহৎ প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সহযোগিতায় তাদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাঞ্চাল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এরই মধ্যে তারা নির্বাচন পণ্ড করতে হত্যাকাণ্ডসহ নাশকতার কাজে অস্ত্র ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিয়েছে। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের প্রচারণায় ছদ্মবেশে নাশকতাসহ বিভিন্ন ধরনের হামলা চালাতে পারে বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ধারণা করছে। যা আগামী নির্বাচনের জন্য রীতিমত উদ্বেগের।
গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা বাংলাদেশে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছে ভোট চাইছে। এ সুযোগ তারা কাজে লাগাতে বিদেশে পলাতক থাকা নেতাকর্মীদের কাছে ‘ধানমণ্ডি ৩২’ টেলিগ্রাম ও ওয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে পরামর্শ নিচ্ছে। নেতাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা কাজ করছে এবং তারা দেশে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টির ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। সূত্রমতে, যেসব পলাতক নেতাকর্মীরা অস্ত্রের লাইসেন্স নিয়েছিলেন তারা কেউ তা ফেরত দেয়নি। আসন্ন নির্বাচনে সেসব অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবার অনেকেই নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ এবং নানা ধরনের মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। এমনকি নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতা হবে বলে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। এভাবে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টির একটি পথ খুঁজছে পতিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। অনেকে ছদ্মবেশে কু-পরামর্শ দিয়ে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দেয়ার জন্য ভোটকেন্দ্রে না যেতে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে।
সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ এগিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে একদিকে রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়াচ্ছে, অন্যদিকে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে নানাভাবে। দেশের কোথাও না কোথাও প্রতিনিয়ত পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। আর এসব ঘটনা মুহর্তের মধ্যে পতিত সরকারের নামে-বেনামে একদল সমর্থকগোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে দেশে একটি অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। নির্বাচন বানচালের ছক বাস্তবায়নে চূড়ান্তরূপে মরিয়া হয়ে উঠেছে পতিত আওয়ামী লীগ। এক সূত্রে জানা গেছে যেকোনো মূল্যে নির্বাচন পণ্ড করার জন্য টার্গেট কিলিংয়ের মতো মিশনের কথা ভাবছে পতিত দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। এ টার্গেটের শিকার হতে পারেন জুলাই অভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার দলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ নেতা, এমপি প্রার্থী ও যুক্তিতর্ক দিয়ে গণমাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন এমন ব্যক্তিরা। সরকারি-বেসরকারি সংস্থার একাধিক সূত্র থেকে পতিত আওয়ামী লীগের টার্গেট কিলিংয়ের বিষয় সম্পর্কে জানা গেছে। শহীদ ওসমান হাদী ও শেরপুরের শ্রীবর্দি উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম হত্যা সে কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদী ঢাকা-৮ আসনের এমপি প্রার্থী ছিলেন। তার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এ দেশে একটি বড় বলয় তৈরি হয়েছিল। তার জনপ্রিয়তা যখন আকাশচুম্বি ঠিক তখনি পরিকল্পিতভাবে খুব কাছ থেকেই হাদীকে গত ডিসেম্বরে গুলি চালিয়ে হত্যা করে আদাবর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান এবং তাকে সহযোগিতা করে আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী আলমগীর হোসেন শেখ। যদিও এর পেছনের মূল পরিকল্পনায় পতিত দলটির শীর্ষ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, ইলিয়াস মোল্লা এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পীর জড়িত থাকার জোরালো অভিযোগ উঠেছে। হাদী গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ফেসবুকে উল্লাস করেন অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনের মতো ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগীরা। শাওনের ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন- ‘ব্রেইনসাফ’। গত ৮ জানুয়ারি রাতে একইভাবে মোটরবাইকে তেজগাঁওয়ের তেজতুরী বাজারে স্টার কাবাবের পেছনের গলিতে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান ওরফে মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। নির্বাচন সামনে রেখে জুলাই অভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার দলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ নেতা, এমপি প্রার্থী ও যুক্তিতর্ক দিয়ে নির্বাচনের পক্ষে গণমাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন এমন ব্যক্তিরা টার্গেট কিলিং হতে পারেন- এমন আশঙ্কা রয়েছে। সে হুমকিও দিয়ে রেখেছেন পতিত সরকারের একাধিক এমপি। পতিত দল আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ফেসবুকে সম্প্রতি এক পোস্টে লিখেন- ‘নো বোট, নো ভোট’। যা নির্বাচন পণ্ডে আওয়ামী লীগের গভীর ষড়যন্ত্রের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির জন্য মাদকাসক্ত, ভবঘুরে, ফুটপাথের টোকাই, ছিনতাইকারী, রিকশাচালকসহ বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উসকে দিয়ে রাজপথ উত্তপ্ত করার চিন্তা রয়েছে মহল বিশেষের। এর নেপথ্যে থাকবে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগসহ পতিত সরকারের দেশে অবস্থান করা শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সে ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের একটি বড় অংশ রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের এলাকায় নিরাপদে অবস্থান করছেন এবং তারা পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে নানামুখী ছদ্মবেশ ধারণ করে তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। পতিত আওয়ামী লীগের মধ্যম সারির নেতাদের আলাপ-আলোচনায়ও এমনটি উঠে এসেছে।
আওয়ামী সূত্রের বরাতে জানা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগ ছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম ভোট হতে যাচ্ছে। যে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থাকবে না সে নির্বাচন কিভাবে হয়-সেটা কিছুদিন পরেই টের পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট নেতার আলাপে নির্বাচন ঠেকাতে সব ধরনের প্রচেষ্টার কথা উঠে এসেছে। যা রীতিমত আতঙ্ক ও উদ্বেগের।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট-পরবর্তী আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মী পালিয়ে ভারতে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগ বর্তমানে গোপন বৈঠক করছে। এ ছাড়া অনলাইনে নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগসহ নানা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানি দেয়াসহ ধর্মীয় অপপ্রচার চালিয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করার পরিকল্পনা করছে। এ ছাড়া আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে ডিপ ফেক ভিডিও, মিথ্যা ভাষণ বা নকল বার্তা তৈরি করে অসত্য তথ্য প্রচার করতে পারে। গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও পাবনা জেলার ১০টি আসনে চরমপন্থীদের তৎপরতা আছে। পার্বত্য জেলার তিন আসনে রয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, স্বার্থান্বেষী মহল ও আওয়ামী লীগ এসব চরমপন্থী গ্রুপ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে পারে আওয়ামী লীগ।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে পাঁচ হাজার ৭৬৩টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র লুট হয়। এর মধ্যে চার হাজার ৪২৩টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এখনো উদ্ধার হয়নি এক হাজার ৩৪০টি অস্ত্র। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন ধরনের ১০ হাজার ৫০৬টি অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া হয়। এগুলোর মধ্যে ৬৫৭টি অস্ত্র এখনো জমা পড়েনি। ধারণা করা হচ্ছে, এসব অস্ত্রের একটি বড় অংশ দলীয় ক্যাডার, সন্ত্রাসী, ডাকাত, ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি এবং কিশোর গ্যাংয়ের হাতে চলে গেছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এসব অস্ত্র ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের ওপর আক্রমণ চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেয়া এবং থানা ঘেরাওসহ নানা কারণে পুলিশের মধ্যে এখনো ভীতি কাজ করছে। পুলিশের মনোবল দ্রুত চাঙা ও সক্রিয় করা না গেলে নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ৫ আগস্টের পর যেসব শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিন পেয়েছে তারা চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে স্বার্থান্বেষী মহল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা চালাতে পারে।
সূত্রমতে, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, মাগুরা, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিরাজগঞ্জসহ কয়েকটি জেলার ২৬টি আসনে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থানে। দলটির কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে ওইসব এলাকাসহ সারা দেশে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দলের প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটাতে পারে তারা। পাশাপাশি ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়া, ভয়ভীতি দেখানো এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালানো হতে পারে। পুলিশ সূত্র জানাচ্ছে বলেন, পতিত সরকারের নেতাকর্মীরা এখনো দেশে থাকলেও পুলিশ তাদের নজরদারিতে রেখেছে। পুলিশের গোয়েন্দা ইউনিটগুলো সার্বক্ষণিক তাদের গতিবিধি অনুসরণ করছে। তারা আশা করছে, এ নির্বাচনে কোনো ধরনের অঘটন ঘটবে না। পুলিশের সবগুলো ইউনিটের পাশাপাশি র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মাঠে কাজ করছে। সূত্র আরো বলছে, নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীরা বিদেশে বসে অনেক ধরনের নির্দেশনা দিয়ে থাকতে পারে। তবে তাদের সক্ষমতা নেই নির্বাচন বানচালের।
তবে পুলিশের এসব কথায় পুরোপুরি আশ্বস্ত হওয়ার কোন সুযোগ নেই। কারণ, আওয়ামী লীগের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, দলটি রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি ‘অঘটন ঘটন পটিয়সী’। ২৮ অক্টোবরের পল্টন হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে তারা একটি সাংবিধানিক কেয়ারটেকার সরকারের পতনের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিলো। প্রায় ১৬ বছর ধরে তারা দেশকে বধ্যভূমি ও আতঙ্কের জনপদে পরিণত বানিয়েছিলো। ২০১৩ সালে শাপলা চত্তরে তারা নির্মম গণহত্যা চালিয়ে দেশের পবিত্র মানচিত্রকে কলঙ্কিত করছিলো।
তাই আসন্ন নির্বাচন বাঞ্চালে আওয়ামী লীগের যেকোন ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। সরকার সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিতে হবে সতর্ক পদক্ষেপ। একই সাথে অতিসতর্কতা অবলম্বন করতে হবে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ সহ দেশের আত্মসচেতন মানুষকে। যেকোনো মূল্যে রূখতে হবে নির্বাচন বাঞ্চালের ষড়যন্ত্র। অন্যথায় আমাদের সকল অর্জনই হুমকির মুখে পড়বে।
www.syedmasud.com