॥ মুন্সী আবু আহনাফ ॥

ঢাকা থেকে ১৪২ কিলোমিটার দূরের উপজেলা কুমিল্লার লাঙ্গলকোট। সেই উপজেলার পেরিয়া ইউনিয়ন বাজারের সাধারণ দোকানদার আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং দুর্যোগকালীন সময়ে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের দলের অঙ্গ-সংগঠনগুলোর ব্যাপক সামাজিক কর্মকা- অনেক সাধারণ মানুষের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে তাদের চ্যারিটি বা দাতব্য কাজ ভোটারদের আকৃষ্ট করার অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, অন্যান্য বড় রাজনৈতিক দলগুলোর তুলনায় জামায়াতের নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলনামূলক কম। স্বচ্ছ ইমেজ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রতিশ্রুতি ভোটারদের একটি অংশকে টানবে এবারের ভোটে। গত সাড়ে ১৫ বছর এই দলটি অনেক জুলুম নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও জামায়াতে ইসলামী-ছাত্রশিবির ধ্বংসস্তূপ থেকে মাথা উঁচু করে জেগে উঠেছে। বিএনপি ও অন্যান্য দলের ৪৫ জন ঋণখেলাপী প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে যাদের ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। এতো বড় অংকের টাকায় ঋণ খেলাপী হয়েও যদি ভোট করতে পারে তাহলে তারা নির্বাচিত হলে কি করবে প্রশ্ন আব্দুর রাজ্জাকের। তিনি বলেন, অথচ জামায়াতের একজন প্রার্থীও ঋণখেলাপি নেই। যার ফলে এবারের নির্বাচনে জামায়তের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। এবারের নির্বাচনে বিজয়ী হলে পুনরায় উঠে দাঁড়াবে জামায়াত। আব্দুর রাজ্জাকের কথার যৌক্তিকতা খুঁজতে আমরা কথা বলি আরও কয়েকজন সাধারণ ভোটারের সাথে। তারা বলেন, এবার আমরা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিব কারণ জামায়াতের প্রার্থী উচ্চশিক্ষিত, সৎ ও যোগ্য।

এবার আসি কুমিল্লার লাঙ্গলকোট থেকে সারাদেশের ভোটের হালহাকিকত দেখতে। সারাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার বেশ গতি পেয়েছে। নির্বাচনি প্রচার শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই জমজমাট হয়ে উঠেছে নির্বাচনের ভোটের মাঠ। রাজনৈতিক অঙ্গনে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। গত ৭ দিনে নির্বাচন ও গণভোটের পক্ষে সারাদেশে উৎসবমুখর গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে তাদের মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনি এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। ভোটের সময় যত এগিয়ে আসবে এই প্রচারের গতি তত বাড়বে। তারা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে নিজ প্রতীকে ভোট চাইছেন। তবে, ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে চলমান প্রচারে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বাগ্‌যুদ্ধও চলছে।

পরস্পরের মধ্যে কিছুটা কাদা ছোড়াছুড়িও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কয়েকটি জায়গায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের খবরও এসেছে। বিশেষ করে জামায়াতের নারী কর্মীরা ভোট চাইতে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের দ্ধারা হামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কোন কোন ক্ষেত্রে মারধরেরও শিকার হচ্ছেন। এদিকে গণভোটের হ্যাঁ ভোটের পক্ষে জামায়াতের নেতাকর্মীরা যতটা সক্রিয়, সেক্ষত্রে ততটা সক্রিয়তা চোখে পড়েনি অন্যান্য দলের। এতেও জামায়াতের নির্বাচনে জিতার পাল্লা ভারি হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ দেশের মানুষ একটা পরিবর্তন চায়, তাই জনগণ গণভোটে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে।

যদি একটু পিছনে ফিরে তাকাই, খ্যাতিমান সাংবাদিক ও ইসলামী চিন্তাবিদ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদীর (র.) উদ্যোগে ১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতে জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠিত হয়। তার মতে, মুসলমান শুধু সাধারণ একটা জাতি নয়, বরং একটি বিপ্লবী ও মিশনারি দল, যারা বিশ্বব্যাপী ইসলামী আদর্শ প্রচারের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। পাশাপাশি একটি ইসলামী আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় মুসলমানরা কাজ করবে। তাই দেখা যায় বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যান্য ইসলামী দলগুলোর মধ্যে, কারণ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবচেয়ে বেশি জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ২০১৩-১৪ সালের দিকে একে একে জামায়াতের সব শীর্ষ নেতাকে জেলে ঢোকানো হয়। জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, অধ্যাপক গোলাম আজম, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা, মীর কাসেম আলী, এটিএম আজহার, মাওলানা আব্দুস সোবহান, মাওলানা এ কে এম ইউসুফ সবগুলোই বড় নাম। সবাই জামায়াতের প্রথম সারির নেতা। শাহবাগে তথাকথিত গণজাগরণ মঞ্চে মব ট্রায়াল শুরু হয়। ইতিহাসের কুখ্যাত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ট্রাইবুনাল বানায়, ইচ্ছামত আইন বানায়, সাক্ষীদের গুম করে, মিথ্যা সাক্ষী সাজায়, ইচ্ছামত রায় দেয়। একে একে ফাঁসি হয়ে যায় জামায়াতের সর্বোচ্চ নেতাদের। এর প্রতিবাদে মাঠে নিয়মিত জীবন দিতে থাকে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। মাওলানা সাঈদী সাহেবের রায়ের দিন একদিনেই শহীদ হয় ৮০ জনের বেশি মানুষ, এই নিহতের সংখ্যা গিয়ে ঠেকে ২৬৭ জনে। আহত হয় কয়েক হাজার জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। জামায়াত-ছাত্রশিবির দেখামাত্র গুলির নির্দেশ ছিল তখন। পাইকারি দরে জেলে ঢুকানো হয়, জেলে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয় জামায়াত-ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের। তাদেরকে হত্যা করা বৈধ সার্টিফাই করা হয় তথাকথিত গণজাগরণ মঞ্চ থেকে। এরপর থেকে তাদের আর মানবাধিকার ছিলো না, তখন জামায়াত-শিবির মানেই একজন অপরাধী, এ ট্যাগ দিয়ে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়সহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীসহ শিবির সন্দেহে সাধারণ শিক্ষার্থীকে নির্মম-নির্যাতন ও হত্যা করা হয়। যার উদাহরণ বিশ^জিৎ, আবরার ফাহাদ। সেই কঠিন ধ্বংসস্তূপ থেকে জামায়াত-ছাত্রশিবির উঠে দাঁড়াবে এমনটা কেউ কল্পনাও করেনি। আবার ভোটের মাঠে বিএনপির মতো বড় দলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হবে? যাদের সব টপ লিডার শেষ করে দেয় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার। বাকি নেতাকর্মীরাও বছরের পর বছর জেলে থেকে, গুম-খুনে বিধ্বস্ত। জামায়াতের ফাইনান্সিয়াল প্রতিষ্ঠানগুলোকেও দখল করে ধ্বংস করা হয়। জামায়াত-ছাত্রশিবির অনেক কুরবানি করেছেন, অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন, হাজার হাজার নেতাকর্মী ব্যবসা, চাকরি, হাত-পা ও চোখ হারিয়েছেন। ধরেই নেয়া হয়েছিল জামায়াতের চ্যাপ্টার বাংলাদেশে ক্লোজড। তাই এবারের নির্বাচনে বিএনপিও আশাবাদী হয়েছিল যে তারাই সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। কিন্তু না ভোটের মাঠে নেমে দেখে সব হিসাব-নিকাশ উল্টো। যে কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরা জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিশেষ করে নারী নেতাকর্মীদের ওপরে হামলা চালাচ্ছে এবং ভোটের প্রচারণায় বাঁধা দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আসন্ন নির্বাচন নিয়ে কৌশলে পা ফেলছে জামায়াত। রাজপথে আন্দোলন তাদের নির্বাচনি কৌশলের অংশ। সরকার ও ‘বিশেষ’ একটি দলের ওপর চাপ রেখে ভোটের মাঠ সাজাচ্ছে জামায়াতের দায়িত্বশীলরা। ডাকসু-জাকসুসহ বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে নির্বাচনে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। তাই ছাত্রসংসদ নির্বাচনের প্রতিফলন যদি জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে ঘটে তাতে অবাক হওয়ার কিছুই নেই। এ পরিস্থিতিতে দলটি কোনোভাবেই জাতীয় নির্বাচনে ভালো করার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছে না। সেই লক্ষ্যে জামায়াত ৩০০ আসনেই দাঁড়িপাল্লা ও জামায়াত জোটের শরিক প্রার্থীরা যাতে বিজয়ী হয়ে আসতে পারে সেই জন্য বিরামহীন কাজ করছে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। তাই এবার নির্বাচনে জামায়াত বিজয়ী হলে উপমহাদের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ে সূচনা হবে।

নির্বাচনের কৌশল নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের ভাষ্য, বেশ আগে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা করা হয়েছে। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। অংশ নিচ্ছেন সামাজিক কর্মসূচিসহ নানা অনুষ্ঠানে। গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা এবং উন্নয়ন ইস্যু নিয়ে জনগণের কাছে নিজেদের (প্রার্থী) তুলে ধরছেন। জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করছেন। শিক্ষিত-তরুণ ভোটারদের কাছে টানার প্রাণান্ত চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে নারী ভোটারদের জন্য প্রার্থীদের বাইরে কাজ করছেন জামায়াতের নারী কর্মী। তারা নারী ভোটারদের ঘরে ঘরে যাচ্ছেন। করছেন উঠান বৈঠক। পাশাপাশি দিচ্ছে কুরআন শিক্ষার তালিম। এ সব কর্মকা-ে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে তারা বাধা পাচ্ছেন। একটি বড় দলের (বিএনপি’র দিকে) ইঙ্গিত করে জামায়াত কর্মীরা বলছেন, তাদের প্রচারণায় ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি-ধামকি আসছে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়ি পাল্লার প্রার্থীদের জয়ী করতে সারাদেশে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে এগুচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তারা ভোটার ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কাছে যাচ্ছেন অনেকটা নীরবেই। তাদের কর্মীরাও ভোটের আলাপ করছেন জনগণের সাথে এবং দাঁড়িপাল্লাসহ জোটের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছেন। জামায়াতের পুরুষ ও নারী কর্মীরা পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ভোট প্রার্থনা করছেন। নারী কর্মীরা পাড়া-মহল্লার অলিতেগলিতে বাসা বাড়ির নারীদের কাছে ভোট চাইছেন। পাশাপাশি গণভোটের হ্যাঁ ভোট দিতে বলছেন জনগণকে। বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার প্রাপ্ত তথ্য মতে, নির্বাচনে জামায়াতের ভিশন-মিশন ও ভোট পরবর্তী সহাবস্থানের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন তাদের প্রার্থী ও কর্মীরা। গত কয়েকদিন ঢাকার কয়েকটি এলাকায় জামায়াত কর্মীদের প্রচারণা এবং তাদের কর্মীদের ভোটের কৌশল পর্যবেক্ষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। প্রথমে দেখে নেয়া যাক ভোটের মাঠে জামায়াতের সুবিধাজনক অবস্থান কী। ১. জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের দৃঢ় আদর্শিক চেতনাসম্পন্ন ও প্রশিক্ষিত একটি বিরাট জনশক্তি রয়েছে। যা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে নেই। ২. শুধু সমর্থক ও কর্মীসংখ্যা বৃদ্ধি নয়, তারা সবাই একটি যূথবদ্ধ সাংগঠনিক কাঠামোতে দৃঢ়ভাবে সম্পৃক্ত। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত একটি চেইন অব কমান্ড রক্ষাকারী বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করে। ৩. দলটির কর্মী ও সমর্থকরা দলীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্যশীল। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যা ব্যতিক্রমধর্মী। ৪. জামায়াতের নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো নজির নেই। ফলে জনমনে দলটির নেতৃত্বের সততা সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ভাবমর্যাদা গড়ে উঠেছে। ৫. জামায়াত দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে সক্রিয়ভাবে সংযুক্ত রয়েছে। ৬. দলটি সমাজের সর্বস্তরে একটি শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ জনশক্তি গড়ে তুলেছে। ৭. রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনে দলটির যোগ্যতাসম্পন্ন সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে। ৮. বিষয়টি শুধু দেশে নয়, বিদেশেও বিরাট সংখক নেতাকর্মী রয়েছে যারা পোস্টাল ভোটে জামায়াত জোট প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছে।

এরপর আসে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দিক। তরুণ কিশোর ছাত্র-জনতা আবাবিলের মত এসে অকাতরে জীবন দিয়ে আমাদের মাতৃভূমিকে নতুন করে স্বাধীন করে। দানব ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন হয়। আর ধ্বংসস্তূপ থেকে মাথা উঁচু করে বেরিয়ে আসে জামায়াত-ছাত্রশিবির। তখনও এটা স্পষ্ট ছিলো না জামায়াত কতটা শক্তিশালী হয়ে ব্যাক করেছে। গণঅভ্যুত্থানের দেড় বছর পর এসে আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি জামায়াত ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। জনপ্রিয়তার শীর্ষে ওঠে একের পর এক ছাত্র সংসদে শিবির ভূমিধস বিজয় পেয়েছে। জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে শোনা যাচ্ছে, ‘এবার জামায়াতকে চাই’, সব দেখা শেষ, এবার জামায়াতের বাংলাদেশ। জামায়াত-ছাত্রশিবিরের এই উত্থানের নেপথ্যে কী? ফাঁসির মঞ্চে নিজেদের বিলিয়ে দেয়া শহীদ নেতাদের কুরবানি। মাঠে রক্ত দেয়া শত শত শহীদের কুরবানি। বছরের পর বছর নির্যাতন আর গুমের শিকার হওয়া কর্মীদের কুরবানি। কুরবানির মূল্য অনেক। আল্লাহর নবী হযরত ইউসুফ (আ.) মিথ্যা অপবাদে বছরের পর বছর কারানির্যাতিত হয়েছেন। পরে আল্লাহ তাকে রাজত্ব দান করেছেন। কুরবানির অনেক মাহাত্ম্য। জামায়াত-ছাত্রশিবির যেন কোনোদিন ভুলে না যায় ঐসব মানুষদের, যাদের কুরবানির বদৌলতে আল্লাহ এমন দিন তাদেরকে দেখালেন। লেখক : প্রাবন্ধিক।