ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বহু প্রত্যাশিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তারপর আমরা একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার পেতে যাচ্ছি। রাজনৈতিক দলগুলো প্রচারণা চালানোর সময় নানামুখি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। বিশেষ করে তারা নির্বাচিত হলে জনগণের জন্য কী করবেন তার বিস্তারিত জনগণের নিকট উপস্থাপন করছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে অর্থনৈতিক ইস্যুতে তেমন কিছু বলছেন না। নির্বাচিত হলে তারা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কী কী পরিবর্তন/সংস্কার সাধন করবেন সে সম্পর্কে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা খুবই প্রয়োজন। দেশের অর্থনীতি বর্তমানে চরম বিপর্যয়ের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঠিক পরিকল্পনা থাকা একান্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে ব্যাংকিং সেক্টর নিয়ে নতুন সরকার কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন তা জনগণের নিকট প্রকাশ করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সম্প্রতি দেশে বিদ্যমান ব্যাংকের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোও একীভূতকরণ করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন মোতাবেক, এই সেক্টরে খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ হচ্ছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। এটা মোট ছাড়কৃত ঋণের ২৭ শতাংশ। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণের যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে তা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। কারণ এ হিসাবের মধ্যে এক ধরনের ফাঁকি রয়ে গেছে। বিগত সরকার আমলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে হাজার হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ লুকিয়ে রাখা হয়েছে তার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ৫০০ কোটি টাকা ও তদূর্ধ্ব খেলাপি ঋণ হিসাব অবলোপন, ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে এক বছরের ডাউন পেমেন্ট দিয়ে খেলাপি ঋণ হিসাব পুনর্গঠনের সুযোগদান, ঋণ হিসাব অবলোপনের নীতিমালা সহজীকরণ, মামলাধীন প্রকল্পের নিকট পাওনা ঋণের দাবি যোগ করা হলে খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ ১০ লাখ কোটি টাকা অতিক্রম করে যেতে পারে। এখানে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে তাহলো, বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ খেলাপিদের প্রতি বড়ই উদার। তারা নানা অজুহাতে ঋণ খেলাপিদের বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে থাকেন। কিন্তু যারা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধ করে চলেছেন তাদের জন্য কোন দৃশ্যমান সুবিধা দেয়া হয় না।

ব্যাংকের মূল পুঁজি হচ্ছে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা এখনো সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি। ব্যাংকিং ব্যবসা দেশের অন্য সব ব্যবসায়ের মতো নয়। সাধারণ ব্যবসায়িরা নিজস্ব পুঁজি নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকেন। আর ব্যাংকের যারা মালিক তারা নিজস্ব অর্থ দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন না। ব্যাংকের মোট পুঁজির অন্তত ৯০ শতাংশই আসে সাধারণ আমানতকারিদের নিকট থেকে। যেহেতু ব্যাংক সাধারণ আমানতকারিদের অর্থের উপর নির্ভর করে পরিচালিত হয় তাই এ ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। বিগত সরকার আমলে অর্থনীতির যে খাতটি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা হলো ব্যাংকিং। দলীয় বিবেচনায় একের পর এক ব্যাংক স্থাপনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব ব্যাংক এখন আর স্বাভাবিকভাবে চলতে পারছে না। বিশ্বব্যাংক সম্প্রতি বিশ্ব ব্যাংকিং ব্যবস্থার দুরবস্থা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার শোচনীয় অবস্থা ফুটে উঠেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বে ১৩০ কোটি প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের কোন ব্যাংক হিসাব (ব্যাংক অ্যাকাউন্ট) নেই। অর্থাৎ এ বিপুল সংখ্যক মানুষ ব্যাংকিং কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত নেই। এর মধ্যে ৬৫ কোটি বা ৫৩ শতাংশ মানুষ আটটি দেশে বাস করে। বাংলাদেশ এই ৮টি দেশের অন্যতম। ২০১১ সালে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষের ব্যাংক হিসাব ছিল না। বিশ্বে ব্যাংক হিসাব হীন ১৩০ কোটি মানুষের মধ্যে ৭০ কোটি বা ৫৫ শতাংশ হচ্ছেন নারী। ২০২১ সালে এসে এর হার ২৬ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ ১০ বছরের ব্যবধানে বিশ্বে ব্যাংক হিসাববিহীন মানুষের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক কমেছে। কিন্তু বাংলাদেশ সেই শ্রোতধারার সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পারেনি। বাংলাদেশ ইনষ্ট্রিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) এর অধ্যাপক ড. আহসান হাবিব বলেন, বাংলাদেশে কত সংখ্যক নাগরিকের ব্যাংক হিসাব নেই তার প্রকৃত সংখ্যা আমরা এখনো জানতে পারছি না। কারণ এ সংক্রান্ত কোন সঠিক পরিসংখ্যান আমাদের হাতে নেই।

বিগত সরকার আমলে বাংলাদেশে সর্বশেষ যে ৯টি নতুন ব্যাংক অনুমোদন দেয়া হয়েছিল সে সময় তৎকালীন অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, এ মুহূর্তে দেশে নতুন ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। কিন্তু তা সত্বেও রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন ব্যাংক স্থাপনের অনুমোদন দেয়া হলো। রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন ব্যাংক স্থাপনের অনুমোদন দিলে তার পরিণতি কি হয় তা আমরা প্রত্যক্ষ করছি। ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, গত সরকার আমলে দেশে দু’টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছিল। এর মধ্যে একটি হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক যাকে আমরা সবাই চিনি। আর একটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। মূলত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কয়েক ব্যক্তি দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার উপর পুরো খবরদারি চালাতো। এই বিশেষ গোষ্ঠী ছিল অত্যন্ত ক্ষমতাবান। তারা তাদের ইচ্ছে মতো যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারতো। বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে যে সব সমস্যা এবং চ্যালেঞ্জ প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে তার অধিকাংশই এ গোষ্ঠীর স্বার্থে তৈরি করা। বাংলাদেশ ব্যাংক শুধু এই চক্রের আজ্ঞাবহ হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতো। ইউক্রেন যুদ্ধের সময় বিশ্বব্যাপী উচ্চ মূল্যস্ফীতি প্রবণতা মারাত্মক আকার ধারন করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির হার ৪০ বছরের রেকর্ড অতিক্রম করে ৯ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হয়। সেই সময় ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব আমেরিক(ফেড) পলিসি রেট (কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিডিউল ব্যাংককে ঋণদানের ক্ষেত্রে যে সুদ চার্জ করে) বৃদ্ধি করতে থাকে। পলিসি রেট বৃদ্ধি করা হলে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়। কারণ আগের তুলনায় উচ্চ সুদের আনা ঋণের অর্থ উদ্যোক্তা এবং সাধারণ ঋণ গ্রহীতা পর্যায়ে বিতরণের সময় সিডিউল ব্যাংকগুলো তুলনামূলক ভাবে সুদের হার বাড়িয়ে দেয়। ব্যাংক ঋণের সুদের হার(ব্যাংক গ্রাহক পর্যায়ে ঋণদানের ক্ষেত্রে যে সুদ চার্জ করে) বেড়ে যায়। এতে বাজারে অর্থ সরবরাহ কমে যায়,যা চূড়ান্তভাবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। বিশ্বের অন্তত ৭৭টি দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুকরণে পলিসি রেট বাড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকও পলিসি রেট একাধিকবার বাড়িয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক পলিসি রেট বাড়ালেও ব্যাংক ঋণের সুদের সর্বোচ্চ হার অনেক দিন পর্যন্ত ৯ শতাংশ ফিক্সড করে রাখে। ব্যাংকগুলো ক্ষতির ঝুঁকি এড়ানোর লক্ষ্যে ঋণ সংকোচন নীতি গ্রহণ করে। কিন্তু সরকার সমর্থিত একটি প্রভাবশালি গোষ্ঠী স্বীয় প্রভাব বিস্তার করে ব্যাংক থেকে নানাভাবে ঋণের নামে অর্থ বের করে নেয়। এ অর্থ তারা উদ্দীষ্ট কাজে ব্যবহার না করে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে। এমনকি তারা এ অর্থ বিদেশে পাচার করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ১১০ টাকা ফিক্সড করে দেয়। এতে বাজারে মার্কিন ডলারের চাহিদা বেড়ে যায়। ব্যাংকিং চ্যানেল এবং কার্ব মার্কেটে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ১০ থেকে ১২ টাকা ব্যবধান সৃষ্টি হয়। সরকার সমর্থক ব্যবসায়ি গোষ্ঠীকে তুলনামূলক কম মূল্যে মার্কিন ডলার যোগান দেবার লক্ষ্যেই মূলত এভাবে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণ করে রাখা হয়েছিল। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ব্যাংক ঋণের সর্বোচ্চ সুদ হার এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ফিক্সড করে রাখার কোন সুযোগ নেই। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ফিক্সড করে রাখার কারণে প্রবাসী বাংলাদেশীরা ব্যাংকিং চ্যানেলের পরিবর্তে হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স দেশে প্রেরণ করতে থাকে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ গঠনে অসুবিধা হয়।

পলিসি রেট বৃদ্ধির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল অর্থনীতির একটি সাধারণ সূত্র। তবে সেটা দীর্ঘ দেয়াদি হওয়া উচিৎ নয়। কারণ দীর্ঘ মেয়াদে পলিসি রেট বৃদ্ধি করে রাখা হলে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশে আমরা ঠিক সেটাই প্রত্যক্ষ করেছি। পলিসি রেট দীর্ঘ দিন ধরে উচ্চ মাত্রায় রাখার ফলে স্থানীয় শিল্প-কারখানার উৎপাদন এবং উৎপাদনশীলতা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে তুলনামূলক স্বল্প মূল্যে পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

একটি বড় রাজনৈতিক দল,যারা আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবার জন্য স্বপ্ন দেখছে তারা বলছে সরকার গঠন করতে পারলে তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কিন্তু তাদের এ বক্তব্য সাধারণ মানুষের নিকট গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে না। কারণ অতীতে ক্ষমতায় থাকাকালে তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এর আমীর ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা ঋণ খেলাপিদের নির্বাচনে মনোনয়ন দেন তাদের দ্বারা দুর্নীতি দমন করা সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, যে দলটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলছেন তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য অন্তত ৩৯জন ঋণ খেলাপিকে মনোনয়ন দিয়েছেন। ঋণ খেলাপিরা দেশ ও জাতির শত্রু। কাজেই জাতির শত্রুকে নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ কোনভাবে সম্ভব নয়। কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ খেলাপিদের ২ শতাংশ নগদ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ২ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের জন্য খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলিকরণের সুযোগ দিয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে ঋণ খেলাপিদের এমন অনৈতিক সুবিধা কেন দেয়া হলো? বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর একজন স্বজ্জন ব্যক্তি। যতটুকু জানি তিনি কোনভাবেই ঋণ খেলাপিদের অনৈতিক সুবিধা ইচ্ছুক নন। তাহলে তিনি কেন বা কার চাপে ঋণ খেলাপিদের এমন সুবিধা দিলেন? এ ঋণ খেলাপিরা যদি নির্বাচিত হয়ে আসতে পারেন তারা কি ব্যাংকিং সেক্টরের ভালো চাইবেন? একজন নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, তারা মনে কষ্ট নিয়ে ঋণ খেলাপিদের নির্বাচনে বৈধতা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন এতটা অসহায় কেন? তারা মনে কষ্ট নিয়ে ঋণ খেলাপিদের নির্বাচনে বৈধতা দেবার পরিবর্তে যদি পদত্যাগ করতেন সেটাই হতো যুক্তি সঙ্গত। নির্বাচন কমিশন যদি আন্তরিকভাবে চাইতেন তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ খেলাপিদের দায়মুক্তি দিলেও নির্বাচন কমিশন তাদের আটকে দিতে পারতেন।

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের মাঝে একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটা সত্যি উদ্বেগজনক। কারণ যারা নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা চাইলে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করে তুলতে পারেন। আমাদের দেশের এক শ্রেণির কর্মকর্তা আছেন যারা নির্বাচনে সম্ভাব্য বিজয়ী দলের প্রতি অনুগত হয়ে দায়িত্ব পালনকালে পক্ষপাতিত্ব করেন। আগামী নির্বাচনে যারা রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন তারা যাতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করেন তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিতর্কিত হয়ে থাকবে।

লেখক : সাবেক ব্যাংকার।