মো: মিয়া হোসেন
দু’টি জানাযা গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। তরুণ প্রজন্মের ত্যাগী নেতা শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদী ও আপসহীন দেশনেত্রী মমতাময়ী অভিভাবক বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণকালের বৃহৎ জানাযায় দলমত নির্বিশেষে দেশের আপামর জনগণের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থে পরষ্পর বিরোধী আক্রমণাত্বক বক্তব্য দিয়ে জাতিকে বিভক্ত করার অপচেষ্টা চলছিল। কিন্তু ফ্যাসিস্ট শক্তির সন্ত্রাসীর গুলিতে শহীদ হওয়া ওসমান বিন হাদীর জানাযার নামাযে দলমত নির্বিশেষে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতির মাধ্যমে গোটা জাতি নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হয়। জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী শক্তিগুলোর মধ্যে মনোমালিণ্য দূর করে নতুন করে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্টি হয়। তার কিছুদিন পরই চিরবিদায় নেন আপসহীন নেত্রী বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাযায় মহাজনসমুদ্র প্রমাণ করেছে গোটা বাংলাদেশ যেন একটি পরিবার। দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের মানুষ যেভাবে সম্মান জানিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদায় দিয়েছেন তা ইতিহাসে বিরল। শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসে নয়, এশিয়া মহাদেশের ইতিহাসেও এটি একটি বড় ঘটনা হিসেবে স্থান করে নেবে। এ জানাযাকে কেন্দ্র করে দেশের মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দেশের সীমানা পেরিয়ে গেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এ নজীরবিহীন দৃশ্য দেখেছে।
শহীদ ওসমান বিন হাদীর জানাযা : ২০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয় শরীফ ওসমান হাদীর জানাযা। সেখানে রাষ্ট্রপ্রধানসহ রাজনৈতিক সকল দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তার হত্যার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সকল রাজনৈতিক দল। সে সাথে হত্যাকারীর বিচারও চেয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ওসমান হাদীর জানাযায় সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। তিনি হাদীকে “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অসমাপ্ত স্বপ্নের মূর্তপ্রতীক” হিসেবে অভিহিত করেন। শোকবার্তায় তিনি বলেন, “হাদীকে হত্যা করা গেলেও তাঁর আদর্শকে হত্যা করা অসম্ভব।” তিনি ওসমান হাদীর স্ত্রী ও সন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণাও দেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান নিজে জানাযায় উপস্থিত থেকে হাদীর শাহাদাতকে “বিপ্লবের নতুন প্রেরণা” হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, হাদীর রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না এবং ইনসাফ কায়েমের আন্দোলন আরও বেগবান হবে। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ নেতৃবৃন্দ জানাযায় উপস্থিত ছিলেন এবং দাফন কাফনেও শরিক ছিলেন। সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং ইনকিলাব মঞ্চের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ হাদীর মৃত্যুকে “ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ের এক নতুন অধ্যায়” বলে আখ্যা দেন। তাঁরা এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারা দেশের ছাত্র-জনতাকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন। লন্ডন থেকে তারেক রহমান এক শোকবার্তায় এ হত্যাকাণ্ডকে “জাতীয় অপূরণীয় ক্ষতি” হিসেবে উল্লেখ করেন। সে সাথে দেশে এসে প্রথম বক্তব্যেই স্মরণ করেছেন এবং তার কবর জিয়ারত করেছেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা জানাযায় অংশ নেন। বিএনপি নেতারা বলেন, ওসমান হাদী কোনো বিশেষ দলের ছিলেন না, তিনি ছিলেন ইনসাফ কায়েমের লড়াইয়ের এক নির্ভীক সেনানী।
দেশের সকল গণমাধ্যম ওসমান হাদীর জানাযা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। সে সাথে বিশ্লেষকগণও বিভিন্ন প্রবন্ধ নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। শরীফ ওসমান হাদীর জানাযা কেবল একজন মানুষের শেষ বিদায় নয়; সেটা ছিল এক ধরনের নীরব গণভোট। যে ভোটে ব্যালট ছিল না, কিন্তু ছিল জনমনের উচ্চারণ। এ জানাযায় যে লোকসমাগম হয়েছে তা শুধু অবিশ্বাস্যই নয় অভূতপূর্ব বটে। এ জনসমাগমে তরুণদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। বহু দূর-দূরান্ত থেকে লোক এসেছিল এ জানাযায়। তরুণদের সঙ্গে মধ্যবয়স্ক মানুষদের সংখ্যাও ছিল চোখে পড়ার মত। এ উপস্থিতির বড় দিক এটা ছিল স্বতঃস্ফূর্ত স্বেচ্ছাকৃত মানুষের জনসমাগম। মানুষ স্বেচ্ছায় নিজ উদ্যোগে আগ্রহভরে এখানে সমবেত হয়েছে।
জানাযায় জনমানুষের নিজস্ব উপস্থিতিকে তাতিয়ে রেখেছিল বেশ কিছু স্লোগান। বিশেষ করে, ‘গোলামি না আজাদি, আজাদি আজাদি’ স্লোগান যেমন ছিল তেমনি ছিল, ‘দিল্লী না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’ স্লোগান। এ জানাযায় উপস্থিত জনসমাগমের অন্তরে ছিল একটা রাজনৈতিক প্রণোদনা। যেটা ওসমান বিন হাদীর মধ্যে তারা পেয়েছিলেন। ওসমান বিন হাদীর সোশাল মিডিয়ায় উপিস্থিতির বড় জায়গা ছিল তার ‘ইনসাফ প্রতিষ্ঠার ডাক’। সম্ভবত সেটাই তার প্রতি জনমানুষের আকর্ষণের বড় দিক। খুব সহজ সরলভাবে, সাফ দিলে, অনাড়ম্বরভাবে ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদের’ বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রত্যয়ই সম্ভবত তার প্রতি জনআকর্ষণের একটা বড় কারণ। নানা ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক কথা, কাজ ও আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ স্বল্পায়ু জীবনকে জনআকর্ষণের দিকে আনতে পেরেছিলেন হাদী। যেখানে সাধারণ সচেতন জনসমাজ বিশেষত তরুণরা নিজেদের ভেতরের চাওয়াটাকে দেখতে পেয়েছিলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যে স্পিরিট, ওসমান বিন হাদী ছিলেন, সে স্পিরিট ধারণ করা সবচাইতে সচল-সপ্রাণ সত্তার জীবন্ত প্রতিনিধি। যিনি প্রচলিত রাজনৈতিক ফর্মের বাইরে যেয়ে কথা বলতেন, ফর্ম ভাঙ্গা কার্যক্রম করতেন। জনমানুষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে রাজনীতি ও জীবনকে দেখতে চেয়েছিল, আমাদের ছাত্র-জনতার রাজনৈতিক অংশ, রাজনৈতিক ক্ষমতাবান ব্যক্তিবর্গ তা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। ক্ষমতার মধ্যে ঢুকে যাওয়া ছাত্রদের যে অংশকে একসময় মাথায় তুলে বৈষম্য পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিল জনআকাক্সক্ষা, তা ব্যর্থ হবার পরও, ওসমান বিন হাদী সেখানে একটা ক্ষীণ আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছিলেন একেবারে নিজস্ব প্রচেষ্টায়, নিজের ঘরানায়। যার কারণে ওসমান বিন হাদী দলমত নির্বিশেষের সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। আর তার মৃত্যুকে কেউ মেনে নিতে পারেনি। তার জানাযায় সকলে সমবেত হয়ে দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।
বেগম খালেদা জিয়ার জানাযা: শহীদ ওসমান বিন হাদীর বিদায়ের দশ দিন পর বিদায় দিতে হয়েছে দেশের শীর্ষ অভিভাবক বেগম খালেদা জিয়াকে। ওসমান বিন হাদীর জানাযা অনুষ্ঠিত হয় ২০ ডিসেম্বর আর ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তিকাল করেন বেগম খালেদা জিয়া। পরদিন জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় একইস্থানে জানাযা হয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার। সেখানে দল মত নির্বিশেষে লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে তার জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। সকল রাজনৈতিক দলের প্রধানসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মী অংশ গ্রহণ করেছে। সে সাথে সকল বাহিনীর প্রধানসহ সরকারের প্রায় সবাই অংশ নিয়েছিল। ওই দিন বিকেলেই তাকে জিয়া উদ্যানে তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়। বেগম জিয়ার মৃত্যুতে সারাদেশে শোক নেমে আসে। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে সরকার। সমাহিত হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর কবর জিয়ারতের জন্য জিয়া উদ্যানে জড়ো হচ্ছেন।
বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তিকালে তার জানাযায় দলমত নির্বিশেষে সবার উপস্থিতি প্রমাণ দিয়েছে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও বিভেদ ও মণোমালিন্য দূর হয়েছে। সকল দলের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুতে শোক জানানো হয়েছে। সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়েছে। গণমাধ্যমে বিশেষ কাভারেজ দিয়েছে। বিশেষ প্রবন্ধ নিবন্ধ প্রকাশ করেছে।
বৃহৎ জানাযার মাধ্যমে খালেদা জিয়ার বিদায় সর্ম্পকে জামায়াতে ইসলামী আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মানুষ আবেগ ও চোখের পানি দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন। সবার কপালে এমন বিদায় জোটে না।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করি, তিনি যেন তার বান্দির প্রতি রহম করেন। তাকে যেন জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করেন। তিনি ইতিহাসের একটি বিরল সম্মান নিয়ে চলে গেছেন। শেষ বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে জানাযায়। মানুষ আবেগ দিয়ে, চোখের পানি দিয়ে তাকে বিদায় দিয়েছে। এটা তার পাওনা ছিল। জাতির জন্য যে অবদান রেখেছেন তিনি তার পাওনা আল্লাহর কাছ থেকে পেয়েছেন। তিনি বলেন, তাকে (খালেদা জিয়া) দেখে আমরাও অনুপ্রাণিত হয়েছি। আমরাও যদি মানুষের জন্য কাজ করি তাহলে মানুষও আমাদের হয়তো চোখের পানি দিয়ে বিদায় দেবে। এটা সবার কপালে জোটে না। খালেদা জিয়ার জীবন সংগ্রামী ও আপসহীন জীবন। জামায়াত আমীর বলেন, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি আজীবন লড়াই করেছেন। তার সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে। অসুস্থতা আমলে নেওয়ার পরিবর্তে উল্টো উপহাস করেছিল বিগত সরকার। খালেদা জিয়ার তৈরি করা পাটাতনের ওপর দাঁড়িয়ে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে বিএনপি-জামায়াত একসঙ্গে কাজ করবে। সুন্দর দেশ গড়তে মিলেমিশে কাজ করতে আমরা অঙ্গীকারবন্ধ।
খালেদা জিয়া সর্ম্পকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসে, গণতন্ত্রের সংগ্রামে, সার্বভৌমত্বের সংগ্রামে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত ওনার আপসহীন মনোভাব, দৃঢ়তা দেশের মুক্তিকামী মানুষকে অনুপ্রেরণা জাগিয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার লড়াইকে ধারণ করে আমরা বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করব, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করব। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
খালেদা জিয়ার জানাযায় উপস্থিতি ও তার প্রতি সর্বস্তরের জনতার শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানোর কারণে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পোস্টে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার উপদেষ্টা পরিষদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, তাদের নেতৃত্ব ও দ্রুত সমন্বয়ের কারণেই স্বল্প সময়ের মধ্যে এই বিরল ও সম্মানজনক অন্তিম আয়োজন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি লিখেছেন, আমি আবারও কৃতজ্ঞতা জানাই সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসন ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি সদস্যকে। মায়ের শেষ বিদায়ে আপনাদের দায়িত্ববোধ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি জিয়া পরিবারকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।
তারেক রহমান লিখেছেন, এ শোকের দিনগুলো যেন মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে সম্পন্ন হয়, সে জন্য যারা ভূমিকা রেখেছেন, তাদের সবার প্রতিই আমরা কৃতজ্ঞ। বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে। তাদের সম্মানসূচক গার্ড অব অনার ও শেষ সালাম আমার মায়ের জীবন ও অবদানের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। তাকে সমাধিতে পৌঁছে দিয়ে তারা জাতির শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন এবং অন্তিম যাত্রাকে প্রাপ্য সম্মানে আলোকিত করেছেন।
উল্লেখিত দুটি জানাযাকে কেন্দ্র করে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। রাজনৈতিকদলগুলোর মধ্যে তৈরি হওয়া বিভেদগুলো দূর হয়েছে। পরষ্পরের মধ্যে তৈর হয়েছে ভ্রাতৃত্ববোধ ও দেশ প্রেম। একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শনের মাধ্যমে রাজনৈতিক বন্ধন আরো মজবুত হয়েছে। আশাকরি আগামী নির্বাচনে প্রতিযোগিতামূলক প্রচারণায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ ঐক্য অটুট থাকবে। পরষ্পরের প্রতি আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে বা বেআইনি কাজের মাধ্যমে কোন ধরনের বিভেদ তৈরি করবে না। এক্ষেত্রে মূল দায়িত্ব নিতে হবে প্রধান বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলোকে। তারা যদি সহনশীলতার পরিচয় দিতে পারে তাহলেই ঐক্য অটুট থাকবে। বেগম খালেদা জিয়া আমৃত্যু সহনশীলতার পথে ছিলেন এবং যে কোন মূল্যে ঐক্য অটুট রেখেছিলেন। কেউ যদি ক্ষমতার নেশায় ন্যায় অন্যায়ের দিকে তোয়াক্কা না করে, বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে ঐক্য বিনষ্ট করার কাজ করে তাহলে আখেরে তার ভালো ফল বয়ে আনবে না। দু’জন ব্যক্তির জানাযায় যেভাবে দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনতার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার নির্দশন দেখা গেছে। আগামীতে দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করা সকল ব্যক্তির জানাযায় যেন তাদের মতোই সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা ও দোয়া পাওয়া যায় সে প্রত্যাশাই রইলো।
লেখক : সদস্য সচিব, জার্নালিস্ট কমিউনিটি অব বাংলাদেশ।