২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে জাতির বহু আকাক্সিক্ষত এই গণভোট ও সাধারণ নির্বাচন আসন্ন। নির্বাচনে গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী এবং সমর্থনদাতা দলগুলোই অংশ নিচ্ছে। সবার প্রত্যাশা অবাধ ও নিরেপক্ষভাবে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। আর গণভোটে সংস্কারের পক্ষে হ্যাঁ এর জয়যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে নতুন ফ্যাসিবাদ তৈরির পথ চিরতরে বন্ধ হবে। ভোটে রিগিং, কেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদানের পথ রুদ্ধ হবে। শত আশাবাদের মধ্যেও কিছু কিছু অনিয়ম চলছে বলে অভিযোগ, কোন কোন সংস্থা, বিভাগ এসব অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে পত্রিকান্তরে। তবে এর মধ্যে আশার কথা হলো ভোটের মাঠে দায়িত্ব পালনরত সেনা বাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট ঘোষণা দেয়া হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক প্রস্তুত।
সম্প্রতি পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়াম সংলগ্ন রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। সামরিক অপারেশন্স পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এর আগে জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়ামে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের আওতায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর কার্যক্রম পরিদর্শন ও অসামরিক প্রশাসনের সাথে মতবিনিময় করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। প্রেস ব্রিফিংয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, ব্রিফিংয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি, মোতায়েন এবং চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে গণমাধ্যমকে সুস্পষ্ট ধারণা দেয়া।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মনজুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, অন্যান্য নির্বাচনের চেয়ে এ নির্বাচনে বেশি সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাপ্রধানের দিকনির্দেশনায় অসামরিক প্রশাসন ও জনগণকে সাহায্যের জন্য অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সেনাবাহিনী সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। কেউ ভোটকেন্দ্র দখল করতে চাইলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো জানান, সেনাবাহিনী ১০ হাজার ১৫২টি অস্ত্র এখন পর্যন্ত উদ্ধার করেছে। অসামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল তৈরি করেছে সেনাবাহিনী। নির্বাচনের পরে সেনাবাহিনী কত দিন মাঠে থাকবে, এটা একান্তই সরকারের সিদ্ধান্ত। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মনজুরুল ইসলাম জানান, সেনাপ্রধান জনগণের মনে আস্থার বার্তা দিয়েছেন। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যা যা করা প্রয়োজন, অসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী আইনের মধ্যে থেকে সব করবে। নির্বাচনকেন্দ্রিক যেকোনো নাশকতা প্রতিরোধে সেনাবাহিনী প্রস্তুত। সোশ্যাল মিডিয়া এবং অপপ্রচার এই নির্বাচনে প্রধান হুমকি। সাইবার নজরদারি অব্যাহত আছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সেনাবাহিনীর প্রধান নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। এ মতবিনিময়ের মাধ্যমে দু’টি বিষয় স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমত, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আশ্বস্ত করা যে, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে যেকোনো প্রয়োজনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। দ্বিতীয়ত, সাধারণ জনগণের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আস্থা সৃষ্টি করা এবং একটি সুস্পষ্ট বার্তা দেয়া যে, সরকার, নির্বাচন কমিশন, অসামরিক প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনী সমন্বিতভাবে একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে বদ্ধপরিকর। আমরা সেনা বাহিনীর এই বক্তব্যে আশ্বস্ত হতে চাই। ৫ আগস্টের বিপ্লবে সেনাবাহিনী যে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেছে তা ম্মরণে রেখে আমরা বলতে চাই, সেনা বাহিনীর সহযোগিতায় আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট সফল হবে। আমরা কেন্দ্র দখলের পুরনো দিনগুলো আর দেখতে চাই না। সেনা বাহিনী বলেছে কেউ ভোটকেন্দ্র দখল করতে চাইলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে, আমরা সে কথার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চাই। আমরা মনে করি যেকোন মূল্যে ভোটকেন্দ্র দখলের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে এ ব্যাপারে সহযোগিতামূলক আচরণের জন্যও আহ্বান জানাই।