ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া আছে। কর্মের ফল আছে। আর যারা স্রষ্টায় বিশ্বাস করে, তারা পরকালের ফলাফলকেও গুরুত্ব দেয়। এরা ভেবেচিন্তে কাজ করে, পাপ-পুণ্যের হিসাব করে। তবে সব মানুষ একরকম ভাবে না। নবী-রসুলকে মান্য করে সবাই চলে না। তাইতো মানুষের নানারূপ, পৃথিবীর রূপটাও এখন মনের মতো নয়; যেন আলো ঝলমলে একটা জঙ্গল। যার শক্তি বেশি, যার পারমাণবিক দন্ত-নখর আছে, সেসব ছিড়েখুঁড়ে খায়, তার সামনে সবার মাথানত। এমন দানবরাই এখন পৃথিবী শাসন করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পই তো এখন এদের মধ্যে সেরা। নাম ও বিশেষ বিশেষ দিবসের ভাষণ শুনলে মনে হয় তিনি একজন খৃস্টান, ইহুদীদের সাথেও তাঁর লেনদেন ভালো। কিন্তু তাঁর কাজকর্মে কি ঈসা নবী কিংবা মূসা নবীর কোনো আদর্শ খুঁজে পাওয়া যায়? তিনি কি নবী-রসুলদের মান্য করে জীবন চালান, কর্ম সম্পাদন করেন? না করলে তার প্রভু কে? তিনি নিজেই কি প্রভু হয়ে উঠেছেন, নিজেই কি সব বিধিবিধান তৈরি করেন? তার প্রভুত্বে, তার বিধিবিধানে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। মানুষ তাকে অভিশাপ দিচ্ছে। যুদ্ধ থেকে পারমাণবিক মাস্তানি থেকে মানুষ মুক্তি চায়। মানুষ সভ্য শাসক চায়, মানবিক সভ্যতা চায়।

রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও যুক্তরাজ্য, স্পেন, নেদারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের শহরে শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ট্রাম্পের নীতি ও তাঁর প্রশাসনের স্বৈরাচারী আচরণের প্রতিবাদে লাখো মার্কিন নাগরিক রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছেন। ‘নো কিংস’ বা ‘আমাদের কোনো রাজা নেই’ স্লোগান সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের ৩ হাজার ২০০-এর বেশি শহরে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক দিনে সবচেয়ে বড় অহিংস প্রতিবাদের ঘটনা। শনিবার লন্ডনেও অতি ডানপন্থী বিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ট্রাম্পবিরোধী বিভিন্ন ব্যানার ও ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করতে দেখা যায়। উল্লেখ্য, গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণ করে বিচার বিভাগের ওপর ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোতে আমূল পরিবর্তনের প্রতিবাদে ‘নো কিংস’ আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, ট্রাম্প নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে বা রাজা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন, যা মার্কিন সংবিধানের পরিপন্থী।

‘নো কিংস’ স্লোগান দিয়ে গত বছরও যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে দুটি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এই স্লোগান যেন এখন বিক্ষোভ বা আন্দোলনের অপর নামে পরিণত হয়েছে। গত বছরের দুটি বিক্ষোভে লাখ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ‘নো কিংস’ আন্দোলন পরিচালনা করে না। ‘ইন্ডিভিজিবল’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম এ আন্দোলনের মূল উদ্যোক্তা হলেও বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠন, নাগরিক অধিকার ফ্ল্যাটফর্ম এবং যুদ্ধবিরোধী কিছু গোষ্ঠী এই সম্মিলিত আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ আগ্রাসনের প্রতিবাদে এবারের ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। হামলার এক মাস পূর্তির দিনটিকে বিক্ষোভের জন্য বেছে নিয়েছেন আয়োজকরা। তাদের মতে, এই অবৈধ ও বিপর্যয়কর যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে চরম বিপদে ফেলেছে এবং মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। উপলব্ধি করা যায়, শুধু মুসলিম বিশ্বে নয়, নিজ দেশেও ট্রাম্প একজন নিন্দিত শাসক। যে শাসক দেশকে বিপদে ফেলে, অন্যায় যুদ্ধে গিয়ে জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি করে, তেমন শাসকের কোনো প্রয়োজন আছে কী? ট্রাম্প তো জনগণের সেবক না ভেবে নিজেকে কিং বা রাজা ভেবে থাকেন। এমন ভাবনা নাগরিকদের পছন্দ নয়। তাই তো, যুক্তরাষ্ট্রে লক্ষ্য করা যাচ্ছে ‘নো কিংস’ আন্দোলন। এ আন্দোলনের বার্তা ট্রাম্প উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন কী?