আনন্দ উদ্দীপনায় ১৭ বছর পর বাংলাদেশে ইতিহাস সৃষ্টিকারী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গতকাল। একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কারে গণভোট হয়েছে। এ যেন ভোটের উৎসব, গণতন্ত্রের বিশাল বিজয়। এমন একটি দিনের অপেক্ষায় ছিলেন দেশবাসী ১৭টি বছর। বাংলাদেশে প্রথমবার একইদিনে জাতীয় ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলো। এ এক নতুন অভিজ্ঞতা ও পরীক্ষা ভোটারদের ও নির্বাচন কমিশনের। সে পরীক্ষায় এবার উত্তীর্ণ হবার পালা।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মানুষ উৎসবের আমেজে ভোট প্রদান করতে গিয়ে উৎসবের পাশাপাশি আতঙ্কও বিরাজ করছিল অনেকের মাঝে। সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ করে সঠিক ফলাফল ঘোষণা করা ইসির জন্য আজ এক মহা চ্যালেঞ্জ। তবে পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। নিরাপদে ভোট কেন্দ্রে এসে ভোট দেয়ার জন্য ভোটারদের আহ্বান জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। ইসি জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০।

গতকাল ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হেেয়ছে। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। এটি পরবর্তীতে নতুন তফসিল অনুযায়ী সম্পন্ন হবে। ইসি জানায়, ৫ আগস্টের আন্দোলনের পর সংবিধান সংস্কারের জন্য গোলাপী ব্যালটে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ভোটে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য এক লাখ তিন হাজার, নৌবাহিনীর উপকূলীয় পাঁচ জেলায় ১৭ আসনে ৫ হাজার এবং বিমানবাহিনীর সাড়ে ৩ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। বিজিবি ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্টগার্ড ৩ হাজার ৫৮৫ জন, পুলিশ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন, র‌্যাব ৯ হাজার ৩৪৯ জন, আনসার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন এবং বিএনসিসি ১ হাজার ৯২২ জন সদস্য দিয়ে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন।

প্রথমবারের মতো এবার নির্বাচনে ড্রোন, বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও ব্যাপক সিসিটিভি নজরদারি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন স্থানে হামলা ভাংচুরের খবরও দিয়েছে সংবাদপত্রের অনলাইন এডিশনগুলো। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সত্ত্বেও বাগেরহাট, মুন্সিগঞ্জ, যশোর, বগুড়া, শেরপুর কুড়িগ্রাম থেকে হামলা, জালভোট দেয়ার চেষ্টা, অগ্নিসংযোগ এবং নারীদের ভোটদানে বাধা দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনা দুঃখজনক ও অনাকাক্সিক্ষত। আমরা মনে করি সেনা বাহিনিসহ সব নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে এসব হামলা অগ্নিসংযোগ তথা ভোটে অনিয়মের খবর কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

আমরা মনে করি, এসব ঘটনা স্বৈারাচারী আমলের মানসিকতা, যা হয়তো অনেকে ছাড়তে পারেনি। আমরা প্রতিটি ঘটনার স্ষ্ঠুু তদন্তের আহ্বান জানাই। সুষ্টু নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোন ব্যত্যয় হচ্ছে কি না তা দেখা যেমন তাদের দায়িত্ব তেমনি ভোট সুষ্ঠু হয়েছে কি না তার দায়ও তাদের। আমরা মনে করি এর মধ্য দিয়ে উৎসবের ভোটকে কালিমামুক্ত করা সম্ভব।