ডাকসুসহ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পর হলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচন। আমরা বিজয়ী সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। আমরা মনে করি এ নির্বাচনে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের রায়ের প্রতিফলন ঘটেছে। ঘোষিত ফলাফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে জকসুর প্রথম নির্বাচনে শীর্ষ তিন পদে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে জয় পেয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থীরা। বাকি ১৮ পদের মধ্যে বেশিরভাগ পদেই শিবির সমর্থিত প্রার্থীদের জয়জয়কার। এছাড়া ১১টি সম্পাদকীয় পদের মধ্যে ৩টি ছাত্রদল ও বাকি ৮টি পদে শিবির জয়লাভ করেছেন। একইসাথে ৭ জন সদস্যদের মধ্যে ২টি ছাত্রদল, ৪টি শিবির ও ১টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।

পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে শিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ৫ হাজার ৫৬৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভিক জবিয়ান’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী এ কেএম রাকিব পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট। তাদের দু’জনের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ৮৮০। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে শিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের আব্দুল আলিম আরিফ পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৭০ ভোট। তার নিকটতম ছাত্রদল সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নির্ভিক জবিয়ান প্যানেলের জিএস প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ২ হাজার ২০৩ ভোট। ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী থেকে ৩ হাজার ২৬৭ ভোট বেশি পেয়েছেন শিবির সমর্থিত প্রার্থী।

অপরদিকে এজিএস পদে শিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের মাসুদ রানা পেয়েছেন ৫ হাজার ০০২ ভোট। তার নিকটতম ছাত্রদল সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নির্ভিক জবিয়ান প্যানেলের এজিএস প্রার্থী বিএম আতিকুর তানজিল পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৬৮ ভোট। বুধবার রাত ১টায় কেন্দ্রীয় সংসদের ৩৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৮টির কেন্দ্রেরই ফলাফল ঘোষণা করেন জকসু’র প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান। মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক পদে মো. নূরনবী ৫৪০০ ভোট (শিবির), শিক্ষা ও গবেষণা পদে ইব্রাহিম খলিল ৫৫২৪ ভোট (শিবির), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পদে মোছা. সুখীমন খাতুন ৪৪৮৬ ভোট (শিবির), স্বাস্থ্য ও পরিবেশ পদে নূর মোহাম্মদ ৪৪৭০ ভোট (শিবির), আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক পদে হাবিব মো. ফারুক আজম ৪৬৫৪ ভোট (শিবির), আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে নওশীন নওয়ার জয়া ৪৫০১ ভোট (শিবির), সাহিত্য ও সংস্কৃতি পদে মো. তাকরিম আহমেদ ৫৩৮৫ ভোট (ছাত্রদল), ক্রীড়া সম্পাদক পদে মো. জর্জিস আনওয়ার ৩৯৬৩ ভোট (শিবির), পরিবহন সম্পাদক পদে মো. মাহিদ হোসেন ৪০২৩ ভোট (শিবির), সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী বিষয়ক সম্পাদক পদে মুস্তাফিজুর রহমান ৩৪৮৬ ভোট (শিবির), পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে রিয়াসাল রাকিব ৪৬৯৮ ভোট (ছাত্রদল) পেয়ে বিজয় লাভ করেছেন।

এছাড়া ৭ জন সদস্যের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছেন (শিবিরের) প্রার্থী ফাতেমা আক্তার অওরিন (৩৮৫১), দ্বিতীয় হয়েছেন (স্বতন্ত্র) প্রার্থী মো. আকিব হাসান (৩৫৮৮), তৃতীয় হয়েছেন (শিবিরের) প্রার্থী শান্তা আক্তার (৩৫৫৪), চতুর্থ হয়েছেন (ছাত্রদলের) প্রার্থী মো. সাদমান সাম্য (৩৩০৭), পঞ্চম হয়েছেন (শিবিরের) প্রার্থী জাহিদ হাসান (৩১২৪), ষষ্ঠ হয়েছেন (শিবিরের) প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুক (২৯১৭) এবং সপ্তম হয়েছেন (ছাত্রদলের) প্রার্থী ইমরান হাসান ইমন (২৬৩৬) ভোট পেয়ে। এদিকে একমাত্র ছাত্রী হল ‘নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী’ হল সংসদের শীর্ষ তিন পদেই শিবির সমর্থিত প্যানেলের জয়লাভ করেছেন। হল শিক্ষার্থী সংসদে ১৩ পদের মধ্যে শিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলে ভিপি হয়েছেন জান্নাতুল উম্মি তারিন, জিএস হয়েছেন সুমাইয়া তাবাসসুম ও এজিএস পদে নির্বাচিত রেদওয়ানা দুই দশকের বেশি সময় পর এবারই প্রথম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল ‘নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী’ হল সংসদের নির্বাচনও হয়। এটা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের একটি ফসল। কারণ অতীতে এসব নির্বাচন বন্ধ ছিল। শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের জন্য আমরা জবি প্রশাসন ও আইনশৃক্সক্ষলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই। এখানে প্রতিটি দল ও পরিষদ যে পরমতসহিষ্ণুতা দেখিয়েছে তা প্রসংশনীয়। আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোকেও সাধুবাদ জানাই। নির্বাচনে কেউ জিতবে কেউ হারবে এটাই নিয়ম। কিন্তু সৌহার্দের যায়গাটা অটুট থাকবে বলে আমরা আশা করি। আমরা মনে করি যারা বিজয়ী হয়েছেন তাদের দায়িত্ব আরো বেড়ে গেল। তারা সেই দায়িত্ব পালনে ব্রতী হবেন সে আশাই করি।