জাতীয় নির্বাচন ও জাতীয় সনদের ওপর গণভোট আসন্ন। সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছে সুষ্ঠু একটি ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন এবং গণভোটের রায়ের মাধ্যমে সাংবিধানিক সংস্কারের জন্য। প্রচার প্রচারণাও চলমান। এরই মাঝে একটি দুঃখজনক ঘটনা সকলকে ব্যথিত করেছে। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, একটি দলের হামলায় শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা মোহাম্মদ রেজাউল করিম (৪২) নিহত হয়েছেন। আমরা এ হামলা ও হত্যাকা-ের তীব্র নিন্দা জানাই।

খবরে বলা হয়েছে, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জানুয়ারি দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে শেরপুর-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আমন্ত্রণে ঝিনাইগাতী স্টেডিয়াম মাঠে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেন ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল আলম রাসেল। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হন মাওলানা মোহাম্মদ রেজাউল করিম। হামলার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি ইন্তিকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। এ ঘটনায় শেরপুর জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

নির্বাচনের প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি হত্যার পর এ নিয়ে প্রশাসন, রাষ্ট্রযন্ত্র, আইনশৃংক্ষলা বাহিনীর প্রতি সকল পর্যায় থেকে আবেদন আহ্বান জানানো হয়েছে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার। হাদির রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। অথচ জুলাই বিপ্লবে পাশাপাশি থেকে যারা সংগ্রাম করেছেন তারাই এখন আরেকজনের গায়ে হাত তুলতে, হত্যা করতে দ্বিধা করছে না। আমরা মনে করি, এটা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশের ইঙ্গিত দেয় না। একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার চোখের সামনে নিরাপত্তায় নিযুক্ত বিভিন্ন বাহিনীর উপস্থিতিতে ঝিনাইগাতিতে কেন এটা ঘটলো তা নির্র্ণিত হওয়া আবশ্যক। নির্বাচনে ভিন্ন দল ও মতের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব থাকবেই। থাকবে সমালোচনা পাল্টা সমালোচনা। কিন্তু এ ধরনের সংঘর্ষ ও হামলা নির্যাতন কোনমতেই কাম্য নয়। আমরা অবিলম্বে এ ঘটনার প্রশানিক ও বিচার বিভাগীয় তদন্তের আহ্বান জানাই এবং জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনারও আহ্বান জানাই।

এর আগে নির্বাচনী প্রচারণায় নারীদের হেনস্তার খবরও সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। নির্বাচন কেবল একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়; এটি গণতন্ত্রের চরিত্র, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং সামাজিক সহনশীলতারও একটি বড় পরীক্ষা। সে পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ে যাচ্ছে আমাদের আচরণ। নারীদের ওপর হামলার ঘটনা ও তাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করার প্রবণতা কোন ভাল খবর নয়। মনে রাখতে হবে স্বৈারাচার বিরোধী আন্দোলনে ও জুলাই সংগ্রামে নারীরা সমানভাবে অংশ গ্রহণ করেছেন।

সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রচার প্রচারণায় কোন ব্যত্যয় হচ্ছে কি না তা দেখা তাদের দায়িত্ব। তাদের শৈথিল্য জীবনহানির কারণ হয়ে উঠলে স্বৈরাচারমুক্ত পরিবেশে এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। আমরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আহ্বান জানাই। আমরা মনে করি আসন্ন গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন সফল করতে তাদের তৎপরতা আরো জোরদার হওয়া উচিত। আমরা সে সাথে রাজনৈতিক দলগুলোকেও ভোটের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দলীয় নেতা-কর্মীদের ক্ষতিকর কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানাই।