হামলা হয়েই গেল, যৌথ হামলা। পরমাণু নিয়ে আলোচনার মধ্যেই ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির অন্তত ২৪ শহরে যৌথ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার এসব হামলা চালানো হয়। উল্লেখ্য, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তৃতীয় দফা বৈঠক হয়। বৈঠক যে সফল হয়নি, তার প্রমাণ যৌথ হামলা। হামলায় ইরানের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক স্থাপনাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইরানের রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, যৌথ হামলায় ইরানের ২০১ জন নিহত এবং ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে মিনার শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে, সেখানে অন্তত ৮৫ জন নিহত হয়েছে। এসব প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক খবর। সময়ের সাথে সাথে ধ্বংসলীলার আরও খবর আসছে। উপলব্ধি করা যাচ্ছে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু চেয়েছেন ইরানের ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামরিক ও প্রশাসনিক নেতৃত্ব নিশ্চিহ্ন করে দিতে। তারা সফলও হয়েছেন। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। নিহত হয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরাও। শীর্ষ সামরিক নেতারাও প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানে সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া পালিত হবে চল্লিশ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক। এমন কর্মসূচি থেকেই উপলব্ধি করা যায়, রাষ্ট্র হিসেবে ইরান কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কতটা আহত হয়েছে। এর একটা প্রতিক্রিয়া তো হবেই। যুদ্ধ তো যুদ্ধই ডেকে আনবে। ইরানও যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। কম আর বেশি ক্ষতি হচ্ছে উভয় পক্ষেরই।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের পর গঠিত হয়েছিল জাতিসংঘ, যেন আর যুদ্ধ না হয়। না, জাতিসংঘ সফল হতে পারেনি। এর কারণ পরাশক্তিমন্ডলী। তারা লাল, সাদা, যে পতাকাই ওড়ান না কেন, মানবজাতির নেতা হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে পারেননি। ক্ষুদ্র স্বার্থ, দম্ভ-অহংকার ও ভ্রান্ত নীতির কারণে বিশ্ব নেতারা ক্রমেই প্রিয় পৃথিবীটাকে মানুষের বসবাসের অনুপযোগী করে তুলছেন। এর বড় প্রমাণ ফিলিস্তিন, ইউক্রেন এবং চলমান ইরান যুদ্ধ। বর্তমান ভূরাজনীতি বিশ্ববাসীর জন্য এক আপদ। এ জিনিসটা মানবজাতিকে রেখেছে এক আতংকের মধ্যে, বিশেষ করে দুর্বল রাষ্ট্রগুলোকে। আর বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় ভূরাজনীতির বড় শিকার মধ্যপ্রাচ্য। এখানে এসে আমাদের থমকে যেতে হয়। ভূরাজনীতি মধ্যপ্রাচ্যে এক জটিল রূপ ধারণ করেছে। এখানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের আগ্রাসী ও মাস্তানি রূপ সর্বপ্রকার বিবেচনাবোধের বাইরে। ভাবতে গেলে সুস্থ মানুষের মাথাও ঠিক থাকার কথা নয়। ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু কেমন করে এমনভাবে ভাবেন এবং কাজ করেন। বিশ্ববাসী কি অসুস্থ ও পাগল নাবিকদের জাহাজে উঠে বসেছে? ডুবে মরা ছাড়া কি আর কোনো উপায় নেই? মধ্যপ্রাচ্যে ইরানও কোনো সরল রাষ্ট্রের নাম নয়। ইরানের ধর্মভাবনা ও রাজনৈকি পরিকল্পনা নিয়ে অনেক কথা আছে। ইতিহাস ইরানকে নিয়ে সতর্ক থাকার বার্তা দেয় আমাদের। তবে আজ এসব নিয়ে কথা নয়, কথা হবে যুদ্ধ নিয়ে। আমরা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। সংকটের সমাধান হতে হবে আলোচনার টেবিলে। যুদ্ধ বা পারমাণবিক অস্ত্রে মানবিক সমাধান নেই, তবে ধ্বংসের বার্তা অবশ্যই আছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ যুদ্ধের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করতে পারে। তেমন সামর্থ্য তাদের আছে কী?