বর্তমান সভ্যতায় এমন অসভ্য কাজও হতে পারে? স্ত্রীসহ প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে তুলে নিয়ে গেলো সভ্যতার শ্রেষ্ঠ দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কাজটা অনেকটা পাড়ার অশিক্ষিত মাস্তানদের মতো হয়ে গেলো না? যদি ধরে নেওয়া হয়, মাদুরো খুবই খারাপ লোক, তারপরও তো তিনি সার্বভৌম একটি দেশের প্রেসিডেন্ট, তাকে কি স্ত্রীসহ এভাবে তুলে নেওয়া যায়? তিনি যদি সুনির্দিষ্ট কোনো অপরাধ করে থাকেন, তবে তার প্রতিবিধানে কি কোনো আন্তর্জতাকি আইন নেই, জাতিসংঘের কি করণীয় কিছু নেই? মাদুরোকে তুলে নেওয়ার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে উদাহরণ সৃষ্টি করলেন, তা বিশ্বকে কী বার্তা দিল? আগ্রাসনের এমন বার্তা পৃথিবীকে আরো অস্থির করে তুলতে পারে।

স্ত্রীসহ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেওয়ার ঘটনাটি বিশ্বের গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তর্জন-গর্জনের মধ্যে দেশটির সেনারা ভেনেজুয়েলায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। বিস্ফোরণের গগনবিদারী আওয়াজে যখন কারাকাস কাঁপছিলো, তখন মার্কিন সেনারা ঘটালো এক বিরল ঘটনা। তারা ধরে নিয়ে গেল দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে। মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও কারাকাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মার্কিন এ হামলা তেল ও খনিজসম্পদ দখলের চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। মার্কিন হামলার পর দেশজুড়ে ঘোষণা করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। এদিকে যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তারা এ হামলার সঙ্গে জড়িত নয়। আর মার্কিন সামরিক হামলার নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। বিরল এ ঘটনার ব্যাপারে ফ্লোরিডায় স্থানীয় সময় দুপুর ১১টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন; নিরাপদ, সঠিক ও বিচক্ষণ একটি রাজনৈতিক রূপান্তর সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে। এ সময় ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে যুক্তরাষ্ট্র শক্ত অবস্থান নিয়ে সক্রিয় থাকবে বলে মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

মার্কিন হামলার পর ভেনেজুয়েলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ভেনেজুয়েলা তার ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সরকারের অত্যন্ত গুরুতর সামরিক আগ্রাসনকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে প্রত্যাখ্যান করছে এবং নিন্দা জানাচ্ছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, কারাকাসে হামলার লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার কৌশলগত সম্পদ, বিশেষ করে এর তেল ও খনিজ সম্পদ দখল এবং জোরপূর্বক দেশটির রাজনৈতিক স্বাধীনতা ধ্বংস করা। বিবৃতিতে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যথাযথ সময়ে এবং উপযুক্ত পরিস্থিতিতে সব জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। দেশের সব সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তিকে একত্রীকরণ প্রক্রিয়া সক্রিয় করা এবং সাম্রাজ্যবাদী আক্রমণের নিন্দা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এরপর প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাৎক্ষণিক দেশজুড়ে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দেন। স্প্যানিশ ভাষায় একটি ভিডিও ভাষণে ভøাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ আগ্রাসনের মুখে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলা মাদুরোর নির্দেশ অনুসরণ করছে এবং সব সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হবে। তারা আমাদের আক্রমণ করেছে কিন্তু তারা আমাদের দমন করতে পারবে না। আমরা ভেনেজুয়েলা সরকারের অবস্থানের কথা জানলাম, ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বানের কথা জানলাম। যে তরিকায় যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় হামলা চালোলো এবং স্ত্রীসহ প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে গেল, তা শুধু সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন নয়, অমার্জনীয় অপরাধও বটে। বিভিন্ন দেশ এর বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছে, নিন্দা জানিয়েছে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিও। আর জাতিসংঘ মহাসচিবের নিন্দা ও প্রতিবাদকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কতটা গুরুত্ব দেন, সেটাও দেখার মত বিষয় হবে। ট্রাম্পের মন্দ উদাহরণটি আর কেউ যেন অনুসরণ না করেন সেই নিবেদনও রইলো।