আল জাজিরা, এএফপি,সামা টিভি : গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেছেন, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রীনল্যান্ড নিয়ে যে একটি ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ চুক্তির কথা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্যই জানেন না। এছাড়া গ্রিনল্যান্ডকে বাদ দিয়ে কোনো চুক্তি সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প ওই ঘোষণাটি দেন। আর তারই প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বললেন নিলসেন।

এক সংবাদ সম্মেলনে নিলসেন বলেন, ‘গ্রীনল্যান্ড সংক্রান্ত কোনো চুক্তি করার এখতিয়ার কেবল গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কেরই রয়েছে। আমাদের কিছু স্পষ্ট সীমারেখা আছে। আমাদের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্ব অবশ্যই সম্মান করতে হবে।’ ট্রাম্প আগের হুমকি থেকে সরে এসে গ্রিনল্যান্ড দখলে বলপ্রয়োগের বিষয়টি নাকচ করেছেন এবং দাবি করেছেন যে একটি ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ চুক্তি হয়েছে। তবে দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের আলোচনায় উঠে আসা এই চুক্তির বিস্তারিত এখনো স্পষ্ট নয়।

নিলসেন বলেন, বলপ্রয়োগের বিষয়টি বাদ পড়ায় স্বস্তি পেয়েছি। তবে তিনি জোর দিয়ে জানান, তিনি আলোচনায় ছিলেন না এবং চুক্তির বিষয়বস্তুও তার অজানা। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক ১৯৫১ সালের গ্রীনল্যান্ড বিষয়ক প্রতিরক্ষা চুক্তি নতুন করে আলোচনায় বসতে পারে।

তবে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বে দেওয়ার কোনো আলোচনা হয়নি। শেষে নিলসেন ডেনমার্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘যদি আমাদের বেছে নিতে হয়, আমরা ডেনমার্ক রাজ্যকে বেছে নেব, আমরা ইইউকে বেছে নেব, আমরা ন্যাটোকেই বেছে নেব।’

এর আগে গ্রিনল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী মুটে এগেদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘোষণার সমালোচনা করে বলেন, ‘আমাদের ভূমি অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের ব্যাপারে তার অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তবে এবার তিনি প্রথমবারের মতো জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই দ্বীপটি জোরপূর্বক দখল করার কোনো পরিকল্পনা করছে না। তার পরিবর্তে তিনি শুল্কভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড অর্জনের কৌশল গ্রহণ করতে চান।

ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীনের মধ্যকার কৌশলগত অবস্থানের কারণেই গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই সম্মেলনে গ্রিনল্যান্ডের ইতিহাস বর্ণনা করতে গিয়ে ট্রাম্প এমন কিছু দাবি করেছেন যা ঐতিহাসিক তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বক্তব্য চলাকালে ট্রাম্প দাবি করেন যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডকে ডেনমার্কের কাছে ‘ফিরিয়ে দিয়েছিল’। ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে ইতিহাসবিদ ও ফ্যাক্ট-চেকাররা ভুল বলে প্রমাণিত করেছেন।

যদিও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি ডেনমার্ক আক্রমণ করার পর যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব নিয়েছিল এবং সেখানে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছিল, কিন্তু দেশটি কখনোই গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌম মালিক ছিল না। ফলে ‘ফিরিয়ে দেওয়ার’ প্রশ্নটি অবান্তর।