সভ্যতার দার্শনিক ভিত্তি থাকতে হয়। শুধু বিজ্ঞান-প্রযুক্তি দিয়ে সভ্যতা নির্মিত হয় না। বর্তমান সময়ে বিজ্ঞান-প্রযুক্তির চর্চাতো বেশ হচ্ছে, কিন্তু কাক্সিক্ষত সভ্যতা কি গড়ে উঠেছে? মানুষ কি বর্তমান সভ্যতায় খুশি ? প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সভ্যতার দ্বন্দ্বের বিষয়টি পুরানো। কিন্তু পাশ্চাত্য সভ্যতায় কেন চিড় ধরলো? ইউরোপ এবং আমেরিকার দ্বন্দ্বের কারণ কী? বিশ্লেষকরা এখন আটলান্টিকের এপাড় এবং ওপাড় নিয়ে কথা বলছেন। দ্বন্দ্বের কারণ অনেক, তবে বড় কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি কোনো আইন-কানুন, বিধিবিধান মানতে রাজি নন। তিনি যা বলবেন তাই আইন, সেটাই সভ্যতা। মানবিক সভ্যতার জন্য মানবিক আইন প্রয়োজন, যার ভিত্তি হবে ইনসাফ ও বৈচিত্র্য। নবি-রাসুলরা ইনসাফ ও বৈচিত্র্যের বাণী ছড়িয়ে গেছেন। তার ভিত্তিতেই গড়ে উঠেছিল মদিনার জাতিরাষ্ট্র। দাম্ভিক নেতারাতো এখন ঈসা, মুসা এবং মুহাম্মদ (সা.)-এর কথা ভুলে গেছেন। তাঁরা নিজেরাই এখন প্রভু হয়ে উঠেছেন। এসব ক্ষুদ্র প্রভুরা এখন ক্ষুদ্র স্বার্থে বিধান জারি করছেন এবং বিভক্তির মাত্রা বাড়িয়ে চলেছেন। এর উদাহরণ পাশ্চাত্য সভ্যতায় বিভক্তি।
বিভক্তিতো সভ্যতার সংকটের কোনো সমাধান নয়। ফলে আমাদের বিভক্তির কারণ খুঁজতে হবে। প্রথমেই উপলব্ধি করতে হবে যে, দেশে-মহাদেশে-পৃথিবীতে নানা ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার মানুষের বসবাস। এমন বৈচিত্র্যের মধ্যে বসবাস করার পরও সবাই মানুষ এবং মানুষ হওয়ার কারণেই সবার রয়েছে জীবনযাপনের ও বিকশিত হওয়ার সমান অধিকার। অথচ বর্তান সভ্যতায় সেই অধিকার স্বীকার করা হচ্ছে না। ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার কারণে মানুষকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, নিপীড়ন করা হচ্ছে। যে সভ্যতায় মানুষ বঞ্চিত ও নিপীড়িত হয়, সেই সভ্যতা কি মানবিক সভ্যতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে? সভ্যতার এ সংকট শুধু আমেরিকায় নয়, ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও লক্ষ্য করা যায়। প্রসঙ্গত এখানে যুক্তরাজ্যের কথা উল্লেখ করতে হয়।
লন্ডনে মুসলিম বিদ্বেষী ও উগ্র ডানপন্থিদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে দেশটির লাখো মানুষ। শনিবার সেন্ট্রাল লন্ডনের পার্কলেন থেকে শুরু হয় এ বিক্ষোভ মিছিল। এর আগে পার্লামেন্ট ভবনের কাছে হোয়াইট হলে জড়ো হন তারা। ‘টুগেদার অ্যালায়েন্স নামের একটি সংগঠনের ডাকে চরম ডানপন্থী রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক প্রদর্শনে ট্রেড ইউনিয়ন, বর্ণবাদবিরোধী প্রচারক ও মুসলিম প্রতিনিধি সংস্থাসহ প্রায় ৫০০টি গোষ্ঠীর লাখো মানুষ এতে অংশ নেয়। বৃটেনের ইতিহাসে এটিই বৃহত্তম বহু সাংস্কৃতিক মানুষের সমাবেশ। এ সমাবেশে অংশ নিতে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। টুগেদার অ্যালায়েন্সের চেয়ারম্যান কেভিন কোর্টনি বলেন, এ মিছিল সবাইকে মুসলিমবিদ্বেষী ও উগ্র ডানপন্থীদের বিরুদ্ধে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস জোগাবে। আত্মবিশ্বাস মজলুম মানুষদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। উপলব্ধি করা যায়, নানা হাঁকডাকের পরও সভ্যতার শাসকরা মানবিক সভ্যতা নির্মাণে সমর্থ হয়নি। এর মূল কারণ ভ্রান্ত জীবনদর্শন। মহান স্রষ্টাতো এ পৃথিবীকে সবার জন্য মানববান্ধব করে সৃষ্টি করেছেন। এখানে ধর্ম-বর্ণের কারণে কোনো বঞ্চনা নেই। তাহলে দাম্ভিক শাসকরা বিভেদ ও বঞ্চনার পরিবেশ সৃষ্টি করবেন কেন? এটাতো ইনসাফ ও প্রকৃতি বিরোধী। বিষয়টি তাদের উপলব্ধি করতে হবে।