বিশ্বের বিভিন্ন শহরে দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণ। দীর্ঘদিন ধরে মেগাসিটি ঢাকাও বায়ুদূষণের কবলে। গণমাধ্যমের খবর হলো, গত মঙ্গলবার সকালে আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, ২৮৭ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। বায়ুমানের এ স্কোর ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

খবরে বলা হয়, একই সময়ে ২৬৩ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি শহর। এছাড়া ২১৯ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর শহর, ২০৪ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটি, পঞ্চম অবস্থানে থাকা ভারতের কলকাতা শহরের স্কোর ১৯৭।

একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়। ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। এ ছাড়া ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

আমরা মসজিদের নগরী ঢাকা বলে যতই গর্ব করি না কেন দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র বায়ুদূষণের কবলে রয়েছে মেগাসিটি আমাদের এই ঢাকা। বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় নিয়মিতভাবে শীর্ষের দিকে অবস্থান করছে বাংলাদেশের রাজধানী। এটা খুবই দুঃখজনক বলে আমরা মনে করি।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ার নিয়মিত বায়ুমানের পরিসংখ্যান দিয়ে বিভিন্ন শহরেরর তথ্য দেয় আর নগরগুলোকে সতর্ক করে। কথা হচ্ছে সে সকতর্কতা আমরা বুঝতে পারছি কি না সেটাই বিচার্য। বায়ুমান খাারাপ হলে জনগণের স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। শ্বাসকষ্ট থেকে শুরু করে বহু রোগের কারণ এই দূষিত বাতাস। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। আর এ মৃত্যু হারের মধ্যে বাংলাদেশের একটি বড় সংখ্যা রয়েছে তা বলাই বাহুল্য। বায়ুদূষণে প্রধানত স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যানসার ও শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ থেকে মৃত্যুর হার বাড়ে। মান খারাপ তা ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠী’র (অসুস্থ বা শিশু-বৃদ্ধ) জন্য অস্বাস্থ্যকর ধরা হয়।

ফলে আমাদের এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। দেশে বায়ুদূষণ মোকাবিলায় বিভিন্ন সময় প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এখনো নানা উদ্যোগ-কথাবার্তা শোনা যায়; কিন্তু বায়ুদূষণ পরিস্থিতি দিন দিন খারাপই হচ্ছে। বায়ুদূষণ থেকে সুরক্ষায় নগরবাসীরও করণীয় রয়েছে। আইকিউএয়ারের পরামর্শ হচ্ছে ঢাকায় বায়ুর যে মান, তাতে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। বাড়ির বাইরে গিয়ে ব্যায়াম না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আর ঘরের জানালাগুলো যতটা সম্ভব বন্ধ রাখতেও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এগুলো মেনে চলাও দরকার।

আমরা পরিবেশ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে বায়ুমানের বিষয়টির ওপর গভীর দৃষ্টি দেয়ার অনুরোধ জানাই। অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে আমাদের আহবান থাকবে বিষয়টির ওপর যেন বিশেষ দৃষ্টি দেয়া হয়। আমরা মনে করি এসব বিবেচনায় বায়ুমান উন্নত করতে গাছ লাগানো, পরিবেশ উন্নতি করা ও রাস্তা থেকে ধূলাবালি দূর করার কোন বিকল্প নেই।