মহাবিশ্বের ছোট্ট একটি গ্রহে আমাদের বসবাস, যার নাম পৃথিবী। আরো নির্দিষ্ট করে প্রশ্ন করা যায়, পৃথিবীর কোথায় আমাদের বসবাস? বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমরা বলতে পারি, হিমালয় অঞ্চলে আমাদের বসবাস। এ যে, হিমালয়, এর পরিচয় কেমন? একটি পাহাড় নয়, পর্বতমালার নাম হিমালয়। এভারেস্ট যার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। হিমালয়কে ঘিরে আছে নানা দেশÑতিব্বত, নেপাল, ভারত, ভুটান, পাকিস্তান একটু দূরে বাংলাদেশ। হিমালয়ের সাথে একটা প্রাকৃতিক সম্পর্ক রয়েছে আমাদের। হিমালয়ের পাদদেশে গড়ে উঠেছে মানববসতি, বুকেও। তবে হিমালয়ের আবহাওয়াকে সমীহ করে চলতে হয় সবাইকে। হিম-এর তথা তুষারের বসবাস যে সেখানে-তাই তো হিমালয়। হিমালয় আমাদের নদী দিয়েছে, নদীর দু’পাশে গড়ে উঠেছে বিশাল মানববসতি। নির্মিত হয়েছে তত্ত্বÑ জমি, জল, জন। অর্থাৎ মানব সভ্যতায় মাটি, মানুষ ও পানি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানবের বিকাশও বেঁচে থাকার স্বার্থে এখানে কারো হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। তবে হস্তক্ষেপতো হয়। উজানের শক্তিমানরা আন্তর্জাতিক নদীতে বাঁধ দেয়, এতে ভাটির দেশের মানুষের কষ্ট হয়। যেমন ভারতের ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের মানুষের কষ্ট হচ্ছে। নদীর দু’পারের মানুষের জীবন-জীবিকায় সৃষ্টি হয়েছে প্রতিবন্ধকতা, জীববৈচিত্র্যে নেমে এসেছে ধস। এ কারণেই হয়তো বিদ্বজনরা বলে থাকেন, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কারণে একটি অঞ্চলকে নানা দেশে বিভক্ত করা গেলেও প্রকৃতিকে বিভক্ত করা যায় না। ক্ষুদ্র স্বার্থে প্রকৃতিকে ভাগ করা হলে তার মন্দ প্রভাব অনিবার্য। ফারাক্কা বাঁধের মন্দ প্রভাব শুধু বাংলাদেশে নয়, ভারতেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখানে বলার মতো আর একটি বিষয় হলো, নানা দেশের নাগরিক হলেও আমাদের বসবাস কিন্তু একই আকাশের নিচে।

শুধু আঞ্চলিক রাজনীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তই আমাদের স্পর্শ করে না, বিশ্ব রাজনীতি তথা ভূরাজনীতিও আমাদের ভাবায়। তাই বাংলাদেশের নাগরিকদের দৃষ্টি থাকে ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য বড় দেশের প্রতি। ভারতের রাজনীতিটা এখন কেমন, আরো স্পষ্ট করে বলতে গেলে বিজেপির রাজনীতি? জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের মানুষ বেশ ভালোভাবেই উপলব্ধি করেছে ভারতের রাজনীতিটা এখন কেমন। রাজনীতি তো দেশের মানুষের ওপরও কার্যকর হয়, ভূরাজনীতির প্রসঙ্গটিও এখানে এসে যায়। ভারতের মানুষরা কি ভারতের রাজনৈতিক পরিবেশে সুখে আছে? এ নিয়ে অনেক কথা হয়, বিশেষ করে দলীয় পরিমণ্ডলেÑ সেখানে আকৃষ্ট হওয়ার মতো তেমন বিষয় নেই। তবে সব দেশেই, সব সমাজেই প্রাগ্রসর কিছু মানুষ থাকেন; যারা বিশেষ সময়ে বসবাস করেও আগামীর কথা ভবেন, মানুষকে পথ দেখাবার চেষ্টা করেন। ভারতেও আছেন তেমন মানুষ। তারা ভারতের রাজনৈতিক প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করছেন, তত্ত্বসমূহ বিশ্লেষণ করছেন এবং দ্বান্দ্বিক পরিস্থির অবসানে সমন্বয়ের মাধ্যমে নতুন পথ-নকশা আঁকার চেষ্টা করছেন। বিষয়টি চিন্তাশীলদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতীয় বোদ্ধাদের বিবেচনায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির রাজনৈতিক পরিমণ্ডল দু’মেরুর টানাটানিতে ক্লান্ত। একদিকে রয়েছে নিউ লেফট বা নতুন বামপন্থী ভাবনা। অন্যদিকে রয়েছে ডানপন্থী সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ, যার মূল সুর হিন্দুত্ব, সভ্যতার গৌরব ও সংস্কৃতিনির্ভর জাতিসত্তা। দু’দিকেই রয়েছে প্রবল বয়ান ও জোরালো যুক্তি। এখানে ভারতীয় বোদ্ধাদের প্রশ্ন-ভারত কি অনন্তকাল এ দু’চরমের দোলাচলে দুলতেই থাকবে? নাকি তৃতীয় এমন কোনো পথ আছে, যা দু’দিকের চরমপন্থী শক্তিকে সংযত করে তাদের সীমালঙ্ঘন থেকে মুক্ত একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গির দিকে নিয়ে যেতে পারে? তাদের কেউ কেউ ভাবছেন, সে পথ হলো ‘র‌্যাডিকেল সেন্ট্রিজম’ বা ‘কট্টর মধ্যপন্থা’। এর ব্যাখ্যায় তারা বলছেন, র‌্যাডিকেল সেন্ট্রিজম কোন কুসুম কোমল আপসনীতি নয়; বরং এটি সাহসী এক পুনঃকল্পনা। এটি এমন এক রাজনীতি, যা বহুত্ববাদকে ধারণ করে। কোনো কিছুর পরিচয় মুছে দেয় না, বরং তার উন্নয়ন চায়, তবে সমতা বিসর্জন দেয় না। এ মতাদর্শ সভ্যতার ঐতিহ্যকে সম্মান করে, কিন্তু বিশ্বজনীনতার দরজা বন্ধ করে না। এটি ঐক্য চায়, কিন্তু এক রূপের মোহে পড়ে না।

ভারতীয় বোদ্ধারা দেশটির বর্তমান দু’মেরুর রাজনীতিতে সন্তুষ্ট নন। নিউ লেফট ও ডানপন্থী সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের বদলে এখন তারা নতুন এক মতাদর্শে চলতে চান, যার নাম দিয়েছেন ‘র‌্যাডিকেল সেন্ট্রিজম’ বা ‘কট্টর মধ্যন্থা’। নতুন মতাদর্শের বিশদ ব্যাখ্যাও তারা দিয়েছে। শুনতে মন্দ নয়, ‘র‌্যাডিকেল সেন্ট্রিজম’। ভারতে বিরাজমান দু’মেরুর রাজনীতি তো দেশটির মানুষের কাছে পরিচিত। এ রাজনীতির চর্চায় এবং বিরাজমান বাস্তবতায় তারা ক্লান্ত। তারা মুক্তি চায়, নতুন কিছু চায়। সে নতুনের কেতন উড়িয়েছে নতুন মতাদর্শ ‘র‌্যাডিকেল সেন্ট্রিজম’ তথা ‘কট্টর মধ্যপন্থা’। এ মতাদর্শের বয়ানে ভারতে বিরাজমান বাম ও ডান মেরুর রাজনীতির ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা তুলে ধরা হয়েছে, ব্যক্ত করা হয়েছে নতুন রাজনীতির উজ্জ্বল রূপরেখা ও প্রাগ্রসরতা। তবে এখানে বলে রাখা ভালো যে, ‘র‌্যাডিকেল সেন্ট্রিজম’ এখনো একটি কাগুজে বয়ান মাত্র। এর বাস্তবায়নে প্রয়োজন হবে সময়োপযোগী কর্মসূচি এবং সঙ্গত মানুষ। এসব আসলেই চ্যালেঞ্জের বিষয়। ইচ্ছার, ভাবনার প্রকাশই সবকিছু নয়। বাম ও ডান ঘরানার ব্যর্থতার পর ‘র‌্যাডিকেল সেন্ট্রিজম’ ভারতের রাজনীতিতে কী সাফল্য আনে, তা দেখার অপেক্ষায় আছি আমরা। তবে আমরা বাংলাদেশীরা কিন্তু আমাদের বঞ্চনার কথা ভুলিনি, আমরা এখানে বাঁধের বাদরামি ও পানি-বঞ্চনার কথা বলছি। আর ভারতের সংখ্যালঘু ও দরিদ্র নাগরিকরাও চাইবে তাদের বঞ্চনার অবসান। এসবের সমাধানে ভারতের রাজনীতিতে প্রয়োজন গুণগত পরিবর্তন।

লেখার শুরুতে আমরা হিমলায়ের কথা বলেছিলাম, প্রকৃতির কথা বলেছিলাম। মহান স্রষ্টা কিন্তু মাববান্ধব করেই প্রকৃতিকে, পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন। ধর্ম, বর্ণ, ভাষা নির্বিশেষে সবাই স্রষ্টার নিয়ামত ভোগ করতে পারছেন। কিন্তু এখানে বাধা সৃষ্টি করেছে দাম্ভিক মানুষ, অথচ সে প্রকৃতি ও পৃথিবীর সৃষ্টা নয়, ভোক্তা মাত্র। এ দাম্ভিক ও বৃহৎ ভোক্তারাই নদীতে বাঁধ দেয়, উৎপাদন ও বন্টনের বৈষম্য ঘটায়। পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু সংকটেও তাদের অবদান শীর্ষে। এরা নিজেদের শাসক ভাবেন, কেউবা সভ্যতার শাসক! আমরা আঞ্চলিক আগ্রাসনের রূপ দেখেছি। বৈশ্বিক আগ্রাসনেরও রূপ আছে। ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলো তার ভুক্তভোগী। সাম্প্রদায়িকতা ও বর্ণবাদের নিষ্ঠুর শিকার হয়েছে গাজাবাসী। বড় বড় ঝলমলে রাষ্ট্রে চলছে বর্ণবাদ ও সাম্প্রদাযিক ভাবনার নিষ্ঠুর নির্যাতন। যারা এসব করেন, তারাই আবার বিশ্বশান্তি ও উন্নত সভ্যতার বয়ান ছড়ান। পর্যবেক্ষকরা এসব দেখতে দেখতে ক্লান্ত। তাদের কাছে ভূরাজনীতি, যুদ্ধ, শান্তি চুক্তি যেন এক ধরনের প্রহসন, কখনো কখনো ড্রামা, এমন কি মেলোড্রামাও। প্রতারণাপূর্ণ এমন বিশ্বব্যবস্থা মানুষ এর আগে কখনো দেখেনি।

‘নাইন-ইলেভেন’ নিয়ে এখন কথা কম হয়। তবে এ দিনটি ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে নানা কারণে। প্রথমত ওইদিনের ঘটনা ছিল অবিশ্বাস্য। দ্বিতীয়ত বিমান হামলা নিয়ে যে বয়ান প্রচার করা হয়েছে, তা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। তৃতীয়ত এরপর লক্ষ্য করা গেছে মুসলিম বিরোধী প্রোপাগাণ্ডা ও প্রতিশোধমূলক হামলার উগ্র তৎপরতা। সব মিলিয়ে নাইন-ইলেভেন ঘটনার ধোঁয়াশা এবং পরবর্তী আগ্রাসী আচরণ বর্তমান সভ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে মারাত্মকভাবে। সম্প্রতি দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে বড় প্রভাব ফেলেছিল ২০০১ সালের নাইন-ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলা। ছড়িয়ে পড়েছিল এক ধরনের ইসলাম ফোবিয়া। সে ইসলামভীতির আবহে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছেন নিউইয়র্কের মুসলিমরা। তাদের এ সাফল্যের সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রতিফলন নিউইয়র্ক শহরের ডেমোক্রেট মেয়রপ্রার্থী জোহরান মামদানি। নাইন-ইলেভেনের ঘটনার পর আরব ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন প্রতিশোধমূলক হামলার ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছিল নগরজুড়ে-এমনকি পুরো যুক্তরাষ্ট্রেও। আজকের নির্মম ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসের অভিযানের পূর্বাভাস যেন সে সময়েই পাওয়া গিয়েছিল। অবৈধ অভিবাসনের অভিযোগে শতশত মুসলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং তাদের অনেকেই অমানবিক অবস্থায় আটক ছিলেন। মুসলিমদের নাগরিক অধিকারকেও পদদলিত করা হয়েছিল।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৪ বছর পর নিউইয়র্কের চিত্র এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় এই নগরী প্রথম মুসলিম মেয়র নির্বাচিত করার জন্য প্রস্তুত। ৪ নবেম্বর ঐতিহাসিক সে ঘটনা ঘটতে পারে। ৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন জিতে মেয়র প্রার্থী হয়েছেন। প্রশ্ন হলো, গভীর এ পরিবর্তনের পেছনে কোন বিষয় কাজ করেছে? জোহরানের এ অপ্রতিরোধ্য উত্থানের পেছনে কাজ করেছে তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও অসাধারণ বাগ্মিতা। মার্কিন রাজনীতিবিদ আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্তেজসহ অনেকে বলেছেন, ‘এক প্রজন্মে একবার পাওয়া যায় এমন নেতা।’ উল্লেখ্য, মামদানির সাফল্যের গল্প কেবল ব্যক্তিগত নয়- এটি বড় এক ইতিহাসের অংশ, যেখানে ৯/১১-এর পর কঠিন পরিস্থিতিতে পড়া তরুণ মুসলিম নিউইয়র্কবাসী সংগঠিত হয়ে নতুনভাবে নিজেদের গড়ে তুলেছেন। ইসলাম ভীতির উত্থানের বিপরীতে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজন থেকেই জন্ম নেয় এ তরুণ মুসলিমদের রাজনৈতিক জাগরণ। বছরের পর বছর ধরে তারা শহরে রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলেছেন, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন। তারা এমন এক নতুন ধারা গড়ে তলেছেন, যা নতুন পরিচয়কে গ্রহণ করে এবং সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে। এ আন্দোলন নীরবে এবং ধারাবাহিকভাবে বেড়ে উঠেছে বহু বছর ধরে। জোহরান মামদানি আজ সে আন্দোলনের সবচেয়ে সফল ও পরিপূর্ণ প্রতিফলন। নিউইয়র্কের মুসলিমরা যেমন সংগঠিত হচ্ছেন, তেমনি তাদের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে এখন কোনো প্রার্থীই মুসলিম ভোটারদের উপেক্ষা করে জেতার আশা করতে পারেন না।

উপলব্ধির বিষয় হলো, নাইন-ইলেভেনকে কেন্দ্র করে যেভাবে ইসলাম ফোবিয়া ছড়ানো হয়েছে, মুসলমানদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে-তা তাদের পরাভূত করতে পারেনি বরং এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুসলিম তরুণরা নীরবে সংগঠিত হয়েছেন, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, কৌশলে এগিয়ে গেছেন। যার ফসল জোহরান মামদানি। মুসলিম তরুণরা সাম্প্রদায়িক ও বর্ণবাদী প্রচারণার বিরুদ্ধে কথা বলছেন। মন্দ রাজনীতির জবাব দিচ্ছেন উত্তম রাজনীতি দিয়ে। ফলে মজলুম মুসলিম নাগরিকরা আজ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হয়ে উঠেছেন নিউইয়র্কে। জোহরান মামদানি ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন জিতে তার স্বাক্ষর রেখেছেন। ৪ নবেম্বরের মেয়র নির্বাচনে তিনি হয়তো জিতেই যাবেন। ভিন্নকিছু হলেও ক্ষতি নেই। কারণ নাইন-ইলেভেনের প্রোপাগাণ্ডার শিকার মজলুম মুসলিম নাগরিকরা এখন রাজনীতির ময়দানে একটি শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের অবজ্ঞা করে নিউইয়র্কে রাজনীতি করা এখন একটি অবাস্তব বিষয়। আমেরিকা বলি কিংবা ভারত; সাম্প্রদায়িকতা, বর্ণবাদ কিংবা বঞ্চনা-এসব দিয়ে দেশ গড়া যায় না, সভ্যতাও নয়। শাসকরা বিষয়টি উপলব্ধি করলেই মঙ্গল।