দৈনিক প্রথম আলোর উদ্যোগে প্রকাশিত হয়েছে ‘জাতীয় জনমত জরিপ-২০২৫’। গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে জরিপ করা হয়েছে। জরিপকারী প্রতিষ্ঠানের নাম কিমেকারস কনসাল্টিং লিমিটেড। ৮ ডিসেম্বর প্রকাশিত এ জনমত জরিপে অভিমত কলামে অংশগ্রহণ করেছেন যোগাযোগ পেশাজীবী ও শিক্ষক খান মো. রবিউল আলম। তিনি লিখেছেন, জনমত জরিপে প্রায় ৬৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ইসলামি আইন প্রবর্তন করলে এর ফল ভালো হবে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, সমাজে এমন মনোভঙ্গি তৈরি হয়েছে যে ইসলামি আইনে মুক্তি নিহিত। জনমানসের এ পরিবর্তন একক কারণে ঘটেনি। এর পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো গণতন্ত্রহীনতা, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শাসনের অভাব। বিদ্যমান রাজনীতির ভেতর মানুষ শুভ বা কল্যাণের ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছে না, যা মানুষের ভেতর আশাহীনতা তৈরি করে। মানুষ জাগতিক ব্যবস্থার চেয়ে পারলৌকিক ব্যবস্থায় মুক্তি খুঁজতে চাইছে। মোদ্দাকথা, দুর্বল রাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থা ইসলামি আইনের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।

রবিউল আলম আরও লিখেছেন, বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান সুদৃঢ় হচ্ছে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রতি জনগণের সমর্থন বাড়ছে। এ জরিপে দেখা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী প্রায় ৭৪ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, রাজনীতিতে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর প্রভাব বেড়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করার কারণে অনেক রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী-সমর্থক জেল ও জুলুমের শিকার হয়েছেন। শেখ হাসিনার নিপীড়নমূলক শাসনের প্রতিক্রিয়ায় ধর্মীয় বোধ ও ধর্মসংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংযুক্তি বেড়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মাদরাসা এবং সমাজে ধর্মীয় কার্যক্রমের পরিধি বেড়েছে। ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্বাসের নেটওয়ার্ক ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা, জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক তৎপরতা অবারিত না হওয়া এবং ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষ সুযোগ পাচ্ছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর অপশাসন ও ব্যর্থতা মানুষের ভেতর ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বিষয়ে সম্মতি উৎপাদন করছে।

প্রথম আলোর উদ্যোগে পরিচালিত জাতীয় জনমত জরিপে আমরা সমাজের মনোভঙ্গি সম্পর্কে জানতে পারলাম। মানুষ মনে করছে, ইসলামী আইন প্রবর্তন করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। এ কারণে ধর্মভিত্তিক রাজনৈকি দলগুলোর প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে দেশে। সেক্যুলার রাজনৈতিক দলগুলোর অপশাসন ও ব্যর্থতায় ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি মানুষের সমর্থন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রসঙ্গত জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান সুদৃঢ় হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। এর সঙ্গত কারণও উপলব্ধি করা যায়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জামায়াতের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের ওপর নিষ্ঠুর জুলুম ও নির্যাতন চালানো হয়েছে। তারপরও দল এবং আদর্শের সাথে তারা নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ছিলেন। এতে জনমনে তাদের ভাবমর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিষয়টি স্পষ্ট যে সমাজের, মানুষের মনোভঙ্গিতে পরিবর্তন সূচিত হয়েছে।