বেগম খালেদা জিয়ার বিদায়ে একজন মমতাময়ী অভিভাবককে হারালো বাংলাদেশ। এ জাতির জন্য তিনি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তিনি নিজের পরিবার ও সন্তানের চেয়ে বেশী আপন করে নিয়েছিলেন দেশের মানুষকে। আওয়ামী লীগের নির্যাতন, জেল-জুলুম ও মামলা হামলাকে সহ্য করেছেন। তবু দেশের মানুষকে ছেড়ে দেশের বাইরে যেতে চাননি। বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির সম্পদই ছিলেন না, তিনি গোটা জাতির অভিভাবক হিসেবে আস্থা ও সম্মান অর্জন করেছিলেন। বিশেষ করে ৫ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের পর বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের মানুষ সর্বোচ্চ সম্মানের আসনে আসীন করেছেন। সরকার, বিভিন্ন বাহিনী, সকল রাজনৈতিক দল, সরকারি ও বেসরকারী সকল প্রতিষ্ঠান তাকে সর্বোচ্চ সম্মানের স্থানে রেখেছেন। রাজনৈতিক মতানৈক্য তৈরী হলে তার সিদ্ধান্ত সবাই একবাক্যে মেনে নিতেন। গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে খালেদা জিয়া ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন এক দৃঢ়চেতা, সাহসী নেত্রী। তিনি বিপদে-দুর্যোগে বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছিলেন। আর শেষ জীবনে তিনি হয়ে ওঠেন জাতির ‘ঐক্যের প্রতীক’। তার মৃত্যুতে জাতির এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো।

গৃহবধু থেকে জাতির অভিভাবক : বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গৃহবধূ। শহীদ জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর সাত মাস পর এক বিশেষ পরিস্থিতিতে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। রাজনীতিতে আসার ১০ বছরের কম সময়ের মধ্যে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হন। প্রায় ৪৩ বছর তাঁর রাজনৈতিক জীবন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে শহীদ হন। এমন পরিস্থিতিতে ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি খালেদা জিয়া বিএনপিতে যোগ দেন। খালেদা জিয়া প্রথমে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, পরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আর শেষে চেয়ারপারসন হন। তখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশের নিচে। মূলত স্বৈরশাসক এরশাদবিরোধী আন্দোলন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বকে একটি শক্ত ভিত্তি দেয়। পরবর্তীতে তিনি ধীরে ধীরে রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে সমর্থ হোন। শেষ জীবনে এসে তিনি দল-মতনির্বিশেষে সবার কাছে সম্মান ও ঐক্যের প্রতীক হয়ে ওঠেন।

ক্ষমা নয় নির্দোষ প্রমাণ হয়ে খালাস পেয়েছিলেন খালেদা জিয়া : গত বছরের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর মুক্তি পান খালেদা জিয়া। তবে তিনি রাষ্ট্রপতির ক্ষমা নেননি, আইনি লড়াইয়ে মুক্ত হয়েছেন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাত বছরের দ- এবং জিয়া অরফ্যানেজ ট্রাস্ট মামলায় ১০ বছরের দ- মওকুফ করেছিলেন রাষ্ট্রপতি। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ক্ষমা নিয়ে মুক্ত হননি, দুটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই করে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করেছিলেন। পেয়েছেন বেকসুর খালাস। তার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও কায়সার কামাল তখন বলেছিলেন, এ মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের দ- মওকুফ করা হয়েছে। তারপরও আপিল শুনানি কেন? আমরা বলেছি, তিনি (খালেদা জিয়া) আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। রাষ্ট্রপতি মওকুফ করেছেন। সেখানে ক্ষমার কথা আছে। খালেদা জিয়া ক্ষমার প্রতি বিশ্বাসী না। তিনি অপরাধ করেননি। তিনি ক্ষমাও চাননি। তাই এটা আইনগতভাবে মোকাবিলা করতে আইনজীবীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা : ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা করা হয়। ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শেষ হলে দুদকের পক্ষে এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর রায় ঘোষণা করা হয়। পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের সাত নম্বর কক্ষে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের কারাদ- দেন। একইসঙ্গে তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদ- দেওয়া হয়। একই সাজা হয়েছে মামলার অপর তিন আসামীরও। ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ আপিল শুনানি শেষে রায় দেন। রায়ে খালেদা জিয়াসহ সবাই খালাস পান। এ মামলায় হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) দায়ের করে। সে আবেদন ৩ মার্চ খারিজ করেন আপিল বিভাগ।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট : ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদ- দেন। পরে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ওই বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া আপিল করেন। একই বছরের ২৮ মার্চ খালেদার সাজা বৃদ্ধি চেয়ে দুদকের করা আবেদনে রুল দেন হাইকোর্ট। সাজা বৃদ্ধিতে দুদকের আবেদনে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়ার সাজা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করেন। গত বছরের ১১ নভেম্বর খালেদা জিয়াকে আপিলের অনুমতি দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া সাজার রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেছিলেন আপিল বিভাগ। পরে খালেদা জিয়া আপিল করেন। গত ১৫ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ সর্বসম্মতিক্রমে খালাস দিয়ে ওই রায় দিয়েছিলেন।

রায়ের পর ১৫ জানুয়ারি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, যে মামলায় কিছুই ছিল না। সে মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ ৫ বছর থেকে ১০ বছর করেছেন। এটা খুবই দুঃখজনক। সেই মামলার মধ্যে কোনো সারবত্তাই ছিল না। অর্থাৎ বিচার ব্যবস্থা বলে কিছু ছিল না। ফ্যাসিস্ট সরকার যেভাবে বলতো সেভাবে রায় হতো। আজকে মনে হয়েছে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করেছে।

আপসহীন নেত্রী : ১৯৮২ সালে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ১৯৮৩ সালে স্বৈরশাসক এরশাদবিরোধী আন্দোলনে নামেন খালেদা জিয়া। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত হয় ৭ দলীয় ঐক্যজোট। মূলত তাঁর নেতৃত্বই এরশাদের পতনে মুখ্য ভূমিকা রাখে। দীর্ঘ ৯ বছরের আন্দোলনে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’র পরিচিতি পান। ’৯০-এর গণ-আন্দোলনের পর ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অভাবনীয় জনসমর্থন পেয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। খালেদা জিয়া দেশের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। পরে আরও দুবার তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসনব্যবস্থা থেকে ১৯৯১ সালে সংসদীয় পদ্ধতির শাসনব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তন খালেদা জিয়ার মাধ্যমেই হয়েছিল।

আন্দোলন-সংগ্রামে খালেদা জিয়াকে আপসহীন ভূমিকায় দেখা গেলেও রাজনীতিতে ‘সংলাপ-সমঝোতার’ চিন্তাকে তিনি কখনো একেবারে নাকচ করে দেননি। প্রয়োজনে তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসতে পারতেন। যেমন নির্বাচনকালীন নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এমনটা দেখা যায়। এর সঙ্গে প্রথমে একমত ছিল না বিএনপি। পরবর্তী সময় জনদাবি মেনে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে যুক্ত করেন।

বাংলাদেশে জোটভিত্তিক গণ-আন্দোলনের রাজনীতির যে প্রচলন, তার সফল পরিণতি হয় ১৯৯০ সালে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে। তখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ৮ দলীয় জোট, বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট ও বাম ঘরানার দলগুলোর সমন্বয়ে ৫ দলীয় জোট রাজপথে সমন্বিত ভূমিকা পালন করে। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ৭ দলীয় ঐক্যজোটের নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া অনবদ্য ভূমিকা পালন করেন। এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। ’৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি হেরে যায়। ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। ১৯৯৯ সালে জাতীয় পার্টির তৎকালীন চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ, জামায়াতের তৎকালীন আমীর গোলাম আযম ও ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান শায়খুল হাদিস আজিজুল হককে নিয়ে ৪ দলীয় জোট গঠন করেন খালেদা জিয়া। একপর্যায়ে এ জোট থেকে এরশাদের জাতীয় পার্টি বের হয়ে যায়। তবে নাজিউর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির একাংশ জোটে থেকে যায়। এই জোট ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়। কিন্তু এ জোট সরকারের বিদায় সুখকর ছিল না।

নানা ঘটনাপ্রবাহে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। এরপর ২০০৮ সালে নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। বিএনপি বিরোধী দলে বসে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি আবার জোটবদ্ধ হয়ে আন্দোলন শুরু করে। একপর্যায়ে ৪ দলীয় জোট ১৮-দলীয় জোট হয়। পরে তা ২০ দলীয় জোটে রূপ নেয়। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দী হওয়ার আগপর্যন্ত খালেদা জিয়া এই জোটের নেতৃত্ব দেন।

চরম সংকটেও অটল : খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবারের ওপর বড় ঝড় আসে ২০০৭ সালের এক-এগারোর পর। সে সময় সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার জরুরি অবস্থা জারি করে। খালেদা জিয়া, তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমান, ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় বিএনপিকে ভাঙার, খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার নানা চেষ্টা করা হয়। এমন একটি পটভূমিতে ২০০৭ সালে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে কানাঘুষা শোনা যাচ্ছিল যে খালেদা জিয়া দেশত্যাগ করবেন, সৌদি আরবে যাবেন। এর আগে ৮ মার্চ তারেক রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি মুষড়ে পড়েন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের অনেকে গা ঢাকা দেন। ২২ এপ্রিল রাতে বিএনপির তৎকালীন কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার আ স ম হান্নান শাহ সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানিয়ে দেন যে খালেদা জিয়া সৌদি আরবে যাবে না। তিনি যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে প্রস্তুত, তবু দেশ ছাড়বেন না। পরে খালেদা জিয়া নিজেই বলেন, ‘ দেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নাই, এটাই (বাংলাদেশ) আমার ঠিকানা। এই দেশ, এই দেশের মাটি-মানুষই আমার সবকিছু। কাজেই আমি দেশের বাইরে যাব না।’

সেনা সমর্থিত এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ একটি দুর্নীতির মামলায় তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হন আরাফাত রহমান কোকো। একই দিন গ্রেপ্তার করা হয় খালেদা জিয়াকে। পরে তারেক রহমানকে লন্ডনে আর আরাফাত রহমানকে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে পাঠানো হয়। কারাগারে থাকাকালে খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি রাজি হননি।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। ওই বাড়িতে তিনি ২৮ বছর ধরে বসবাস করছিলেন। খালেদা জিয়া ওঠেন গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য়। ২০১৩ সালে তুমুল আন্দোলন দানা বাঁধলে এই বাসার সামনে রাস্তার ওপরে ব্যারিকেড দিয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর ২০১৫ সালে আবার আন্দোলন দানা বাঁধলে খালেদা জিয়াকে গুলশানের কার্যালয়ের সামনের সড়কে ১৪টি ট্রাক ও ভ্যান দিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল।

এ ঘটনাগুলো খালেদা জিয়ার জীবনে এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। এর মধ্যে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান মারা যান। তখন খালেদা জিয়া তাঁর গুলশানের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ।

তবু চরম সংকটের সময়েও খালেদা জিয়া আস্থা রেখেছিলেন দেশবাসীর ওপর। ওই সময় ঘটনাগুলোর উল্লেখ করে খালেদা জিয়া এক আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছিলেন আনুষ্ঠানিক এক সংবাদ সম্মেলনে। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কম বয়সে স্বামী (জিয়াউর রহমান) হারিয়েছি। কারাগারে থাকতে আমি আমার মাকে হারিয়েছি। অফিসে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় আমি একটি সন্তান (আরাফাত রহমান) হারিয়েছি। আরেকটি সন্তান (তারেক রহমান) নির্যাতনে পঙ্গু হয়ে দূরদেশে এখনো চিকিৎসাধীন। আমার এ স্বজনহীন জীবনেও দেশবাসীই আমার স্বজন।’

বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে দেশের স্বার্থে অসংখ্য সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দেশের জন্য ও দেশের মানুষের জন্য তিনি যেভাবে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন, ঠিক তেমনি দেশের মানুষও তাকে সম্মান ও ভালোবাসা দিয়েছেন। তার বিদায়ে শোকাহত গোটা জাতি। দেশের মানুষ খালেদা জিয়াকে হারিয়ে যেন নিজের পরিবারের একজনকে হারালো। তেমন ভালোবাসা ও সম্মান দেখিয়েছে তার প্রতি। তিনি যেন পরপারেও শান্তিতে থাকেন। এই দোয়াই করছেন দেশবাসী।

লেখক : সদস্য সচিব, জার্নালিস্ট কমিউনিটি অব বাংলাদেশ।