জুলাই বিপ্লবের বীর সেনানী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে এক আততায়ী। হাদির অবস্থা সংকটাপন্ন। উল্লেখ্য, ক্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসীল ঘোষণার পরদিনই তার ওপর ভয়াবহ এ হামলা চালানো হয়। শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের পর রাজধানীর পল্টন-বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণার সময় হামলার ঘটনা ঘটে। ভারত ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সোচ্চার এ তরুণ রাজনীতিককে হত্যার চেষ্টাকে অনেকে নির্বাচন বানচাল ও দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। এদিকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এ হামলা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ওপর সুপরিকল্পিত আঘাত। এর মাধ্যমে পরাজিত শক্তি দেশের অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখিয়েছে। শুক্রবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্য এবং আইন-শৃংখলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

হাদির ওপর হামলার পদ্ধতির কারণে নিরাপত্তা ও আইন-শৃংখলা বাহিনীর একাধিক সূত্র এটিকে ভারত ও তাদের মদদপুষ্ট চক্রের কাজ বলে মনে করছেন। পূর্বপরিকল্পিত এ হত্যাচেষ্টার নেপথ্যে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সরাসরি সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে দেশের নিরাপত্তা বাহিনী। গণমাধ্যমে তদন্ত সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে আরো বলা হয়, হাদির ওপর এ হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং বিদেশী চক্রান্তের অংশ। পলাতক ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার পতনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনা এবং ভারতের ‘দাদাগিরি’ বন্ধে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে দিল্লি ক্ষুব্ধ। হাদি ভারতীয় আগ্রাসন ও শেখ হাসিনার দেশবিরোধী সব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ছিলেন প্রতিবাদ মুখর। এ কারণে তিনি ভারত ও দেশের ফ্যাসিস্ট চক্রের টার্গেটে পরিণত হন। যার উদাহরণ হলো, হাদিকে হত্যা প্রচেষ্টা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সারাদেশের প্রার্থীদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। প্রার্থীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। তারা বলছেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পূর্বশর্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। কিন্তু পরপর দু’জন প্রার্থীর ওপর সন্ত্রাসীদের গুলির ঘটনায় প্রার্থী ও ভোটারসহ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে সরকারের কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। হাদি এখন মৃত্যু ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা তার আশু আরোগ্য কামনা করছি। জুলাই বিপ্লবের বিপক্ষশক্তি দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা গাড়িতে আগুন লাগাচ্ছে, ঝটিকা মিছিল করছে এবং জুলাই-যোদ্ধাদের টার্গেট করেছে। এরকম তো হওয়ার কথা ছিল না। জুলাই বিপ্লবের সপক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধ ও দোষারোপের পুরানো রাজনীতি এখন ফ্যাসিস্টদের কথা বলার এবং নিজেদের জন্য জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে।

ভারতপন্থী বুদ্ধিজীবীরা ধীরে ধীরে মাথা তুলে দাঁড়াবার চেষ্টা করছেন। কোনো কোনো টেলিভিশনের কর্তা ও উপস্থাপক-উপস্থাপিকারা তাদের কথা বলার সুযোগও করে দিচ্ছেন। নানা কৌশলে এ অপশক্তি জুলাই বিপ্লব ও বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে কুৎসা রচনার চেষ্টা করছেন, কিছুদিন আগেও তারা এসব করার সাহস পেতেন না। ফলে বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন প্রয়োজন ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তির ইস্পাত-দৃঢ় ঐক্য। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দলগুলো উপলব্ধি করলেই মঙ্গল।